📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাদ্যগ্রহণের পর খিলাল করা

📄 খাদ্যগ্রহণের পর খিলাল করা


প্রকাশ থাকে যে, হাদীস শরীফের বিভিন্ন কিতাবপত্রের মধ্যে খাদ্য গ্রহণের পর দাঁত খিলাল করার ব্যাপারে অধিক মাত্রায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দান করা হয়েছে। আধুনিক সভ্য সমাজে হোটেলে বা ঘরে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবারের সাথে খিলাল অতি যত্ন সহকারে সরবারাহ করা হয়। এটা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সর্বোত্তম তরীকা। খাদ্য ভক্ষণের পর খাদ্যকণা সাধারণত দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে আটকে যায়। সুতরাং তা খিলাল ব্যতীত রেখে দিলে প্রথমে পচন শুরু হয় ও পরে ক্ষত (প্লাজমা) দেখা দেয়। এভাবে মাড়ী ফুলে উঠে এবং মাড়ীর গোস্ত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দাঁত মাড়ীর গোস্ত থেকে ধীরে ধীরে পৃথক হয়ে পড়ে। পরিশেষে অকালে দাঁত পড়ে যায়।
সুতরাং খাদ্যকণাগুলো খিলাল করে পরিষ্কার না করলে পাইওরিয়া বা মাসখেরিয়ার ন্যায় কঠিন রোগ দেখা দেয়। অসাবধানতা বশত মাড়ীর পুঁজ যখন লালার সাথে পাকস্থলীতে চলে যায় তখন সেখানে ধ্বংসকারী রোগ পয়দা হয়ে যায়। বিশেষ করে আলসার ও পাকস্থলীতে এসিড সৃষ্টি হওয়ায় মারাত্মক বিপদ দেখা দেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা

📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা


ফিকাহ বিশেষজ্ঞগণ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন : যেসব খাদ্যকণা খিলাল ব্যতীত বের হয়, তা গিলে ফেলা শ্রেয়। আর যা খিলাল করে বের করা হয় তা ফেলে দেওয়া উচিত। পরিতাপের বিষয় হল, ইসলাম মানুষের জীবনকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার জন্যে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেই শিক্ষা থেকে মানুষ যোজন যোজন দূরে সরে পড়েছে। ফলে আমাদের কাছে দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও হতাশা আর অশান্তি আমাদের জীবনকে গ্রাস করছে। তাই যখন কারও কাছে এ শিক্ষা এবং দীনী জীবন পেশ করা হয়, তখন সে বিস্ময়কর ভঙ্গিতে বলে, “দীন কি এতই বিস্তৃত এবং ইসলাম কি এটাও আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে ?” ইত্যাদি।
খিলাল ব্যতীত যে খাদ্যকণা বের হয়, তা অন্যান্য খাদ্যবস্তুর মতো। সুতরাং তা খাওয়া প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তবে খিলাল দ্বারা যা বের করা হয়, তা গিলে ফেলা ঠিক নয়। কারণ, সতর্কের বিষয় হচ্ছে অনেক সময় দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে পুঁজ বা জীবাণু জন্মে।
সুতরাং এসব কণার সাথে ওই পুঁজ বা জীবাণু যদি মিশে যায় এবং পেটের ভিতরে চলে যায়, তবে সেখানেও ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং খিলাল দ্বারা নির্গত খাদ্যকণা উপকারী নয় বরং অপকারী ও মারাত্মক ক্ষতিকারক।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাওয়ার পর হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা

📄 খাওয়ার পর হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা


ইসলামী শরী'আতের বিধান হল খাওয়া-দাওয়ার পর হাত ধৌত করবে এবং কাপড়ে হাত মুছবে। হাদীস শরীফে আছে-
"কেউ রাতে খাদ্য গ্রহণের পর হাত না ধৌত করলে এবং কোনো পোকা মাকড় তাকে কামড়ালে (ক্ষতি করলে) আমাদের কোনো জিম্মাদারী নেই”।
অর্থাৎ হাতে তরকারি বা মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকলে এবং ইঁদুর ছুঁছা ইত্যাদি কামড়ালে হাত জখম হয়ে যাবে। এর ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্টের শিকার হতে হবে।
খাদ্য গ্রহণের পর হাতে খাদ্যের কিছু অংশ লেগে থাকে। তাই তা ধৌত না করলে যেখানে যেখানে লাগবে, সেখানে ওই খাদ্যবস্তু মিশে যাবে। ফলে ওই সব স্থানে পঁচা-গলা শুরু হবে এবং অসংখ্য রোগব্যাধি বিস্তার লাভ করবে।
কাপড় দিয়ে হাত মুছতে বলা হয়েছে এজন্য যে, হাতের মধ্যে অনেক সময় মসলা ও তৈল জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে। কাপড় দ্বারা মুছলে এসব পরিষ্কার হয়ে যায়। মোটকথা, দীন (ইসলাম) হল ধারাবাহিক সতর্কতা ও উপকার লাভের একটি মাধ্যম।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাদ্যগ্রহণের পরপরই পানি পান না করা

📄 খাদ্যগ্রহণের পরপরই পানি পান না করা


রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাওয়ার পরপরই পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (মাদারিজুন্ নবুওয়াত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00