📄 খাদ্য কিভাবে গ্রহণ করা উচিত
খাদ্যদ্রব্য সর্বদা ধীরে ধীরে উত্তমরূপে চর্বন করে খাওয়া উচিত। ফে প্রতিটি লোকমা মুখের লালা মিশ্রিত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়, তা হলে খাদ অতি সহজে পরিপাক হয়ে যাবে। মুখের লালা খাদ্য দ্রুত পরিপাক করতে সহায়তা করে। তদ্রুপ চিবিয়ে খেলে বদহজমও দূর হয়। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, Drink your meals and your water- এর মর্মার্থ হ খাদ্যদ্রব্য এমনভাবে চিবিয়ে খাবে, যেন সিক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় গলার মধে ঢুকে যায়। খাদ্য ধীরে ধীরে খাবে। এক ইউরোপীয় চিকিৎসক বলেছেন যদি কেউ আমাকে পরিপাকের ব্যাপারে কোনো বিষয়ে কিছু বলতে বলে তবে আমি নিঃসন্দেহে বলে দিব, খাদ্যকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাও। যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য চর্বণ করে ভক্ষণ করলে উত্তমভাবে খাদ্য পরিপাক হয়ে দেহের অংশ গঠনে সহায়তা করবে। পরিপাকের মধ্যে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটবে না। এতদ্ব্যতীত খাদ্য চর্বণ করে খেলে পরিমাণে অল্প লাগে।
আমাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, যারা বড় বড় লোকমা দিয়ে তা তাড়াতাড়ি গিলে ফেলে। মূলত খাদ্যের আধিক্য উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি করে। জীবনকে দীর্ঘ ও সুন্দর করার জন্য খাদ্য স্বল্প পরিমাণ খাওয়া জরুরি। খাওয়ার জিনিস বেশি গরম বা ঠাণ্ডা হওয়া ঠিক নয়। বেশি গরম জাতীয় কিছু গ্রহণ করলে পাকস্থলী ঢিলা হয়ে যায় এবং শক্তি হ্রাস পায়। আবার খাদ্য অধিক ঠাণ্ডা হলে তাকে পরিপাক করার জন্য পাকস্থলীকে অধিক শক্তি ও তাপ প্রয়োগ করতে হয়।
সেজন্য খাওয়ার সাথে সাথে অধিক ঠাণ্ডা পানি পান করাও বেশ ক্ষতিকারক। কেননা পানির শৈথিল্য ও তীব্রতা উভয়ই পাকস্থলীকে বিকৃত করে ও হজমে বিঘ্নতা ঘটায়।
📄 খাদ্যগ্রহণের পর খিলাল করা
প্রকাশ থাকে যে, হাদীস শরীফের বিভিন্ন কিতাবপত্রের মধ্যে খাদ্য গ্রহণের পর দাঁত খিলাল করার ব্যাপারে অধিক মাত্রায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দান করা হয়েছে। আধুনিক সভ্য সমাজে হোটেলে বা ঘরে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবারের সাথে খিলাল অতি যত্ন সহকারে সরবারাহ করা হয়। এটা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সর্বোত্তম তরীকা। খাদ্য ভক্ষণের পর খাদ্যকণা সাধারণত দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে আটকে যায়। সুতরাং তা খিলাল ব্যতীত রেখে দিলে প্রথমে পচন শুরু হয় ও পরে ক্ষত (প্লাজমা) দেখা দেয়। এভাবে মাড়ী ফুলে উঠে এবং মাড়ীর গোস্ত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দাঁত মাড়ীর গোস্ত থেকে ধীরে ধীরে পৃথক হয়ে পড়ে। পরিশেষে অকালে দাঁত পড়ে যায়।
সুতরাং খাদ্যকণাগুলো খিলাল করে পরিষ্কার না করলে পাইওরিয়া বা মাসখেরিয়ার ন্যায় কঠিন রোগ দেখা দেয়। অসাবধানতা বশত মাড়ীর পুঁজ যখন লালার সাথে পাকস্থলীতে চলে যায় তখন সেখানে ধ্বংসকারী রোগ পয়দা হয়ে যায়। বিশেষ করে আলসার ও পাকস্থলীতে এসিড সৃষ্টি হওয়ায় মারাত্মক বিপদ দেখা দেয়।
📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা
ফিকাহ বিশেষজ্ঞগণ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন : যেসব খাদ্যকণা খিলাল ব্যতীত বের হয়, তা গিলে ফেলা শ্রেয়। আর যা খিলাল করে বের করা হয় তা ফেলে দেওয়া উচিত। পরিতাপের বিষয় হল, ইসলাম মানুষের জীবনকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার জন্যে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেই শিক্ষা থেকে মানুষ যোজন যোজন দূরে সরে পড়েছে। ফলে আমাদের কাছে দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও হতাশা আর অশান্তি আমাদের জীবনকে গ্রাস করছে। তাই যখন কারও কাছে এ শিক্ষা এবং দীনী জীবন পেশ করা হয়, তখন সে বিস্ময়কর ভঙ্গিতে বলে, “দীন কি এতই বিস্তৃত এবং ইসলাম কি এটাও আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে ?” ইত্যাদি।
খিলাল ব্যতীত যে খাদ্যকণা বের হয়, তা অন্যান্য খাদ্যবস্তুর মতো। সুতরাং তা খাওয়া প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তবে খিলাল দ্বারা যা বের করা হয়, তা গিলে ফেলা ঠিক নয়। কারণ, সতর্কের বিষয় হচ্ছে অনেক সময় দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে পুঁজ বা জীবাণু জন্মে।
সুতরাং এসব কণার সাথে ওই পুঁজ বা জীবাণু যদি মিশে যায় এবং পেটের ভিতরে চলে যায়, তবে সেখানেও ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং খিলাল দ্বারা নির্গত খাদ্যকণা উপকারী নয় বরং অপকারী ও মারাত্মক ক্ষতিকারক।
📄 খাওয়ার পর হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা
ইসলামী শরী'আতের বিধান হল খাওয়া-দাওয়ার পর হাত ধৌত করবে এবং কাপড়ে হাত মুছবে। হাদীস শরীফে আছে-
"কেউ রাতে খাদ্য গ্রহণের পর হাত না ধৌত করলে এবং কোনো পোকা মাকড় তাকে কামড়ালে (ক্ষতি করলে) আমাদের কোনো জিম্মাদারী নেই”।
অর্থাৎ হাতে তরকারি বা মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকলে এবং ইঁদুর ছুঁছা ইত্যাদি কামড়ালে হাত জখম হয়ে যাবে। এর ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্টের শিকার হতে হবে।
খাদ্য গ্রহণের পর হাতে খাদ্যের কিছু অংশ লেগে থাকে। তাই তা ধৌত না করলে যেখানে যেখানে লাগবে, সেখানে ওই খাদ্যবস্তু মিশে যাবে। ফলে ওই সব স্থানে পঁচা-গলা শুরু হবে এবং অসংখ্য রোগব্যাধি বিস্তার লাভ করবে।
কাপড় দিয়ে হাত মুছতে বলা হয়েছে এজন্য যে, হাতের মধ্যে অনেক সময় মসলা ও তৈল জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে। কাপড় দ্বারা মুছলে এসব পরিষ্কার হয়ে যায়। মোটকথা, দীন (ইসলাম) হল ধারাবাহিক সতর্কতা ও উপকার লাভের একটি মাধ্যম।