📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 পাকস্থলীর বিকৃতি ও মানসিক দুর্বলতার কারণ

📄 পাকস্থলীর বিকৃতি ও মানসিক দুর্বলতার কারণ


পাকস্থলীর বিকৃতি যেমন জ্বালাপোড়া, দাস্ত, মোচড়ানো, আমাশয় ইত্যাদির চিকিৎসার সঠিক কারণগুলো ব্যাখ্যার প্রয়োজন। সাধারণত এসব ব্যাধি খাদ্য স্বল্পতা, অতিভোজন ও সমতা না রেখে খাওয়ার কারণে হয়। তদ্রুপ নেশা ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহারে ক্লান্তি ও দুর্বলতা আসে। এসবের উপযুক্ত চিকিৎসা ও প্রতিকার হল, নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস তৈরি করা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা। উল্লেখ্য যে, শুধু ওই সব বাহ্যিক কারণে পাকাশয় নষ্ট হওয়া সর্বদা জরুরি নয় বরং অনেক সময় কোনো লোক হয়তো খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও পাকস্থলীর দুর্বলতা ও বিকৃতির শিকার হতে দেখা যায়।
এমতাবস্থায় যৌক্তিকভাবে এ জাতীয় রোগ-ব্যাধি সতর্কতাজনিত রোগ ব্যাধি থেকে অধিক হবে না। কিন্তু নেহায়েত কমও হবে না। পাকস্থলী নষ্ট হওয়ার যদি মৌলিক কারণ না-ই থাকে, তবে চিকিৎসককে মনে করতে হবে, এর পিছনে কিছু না কিছু মানসিক কারণ কাজ করছে। এমতাবস্থায় চিকিৎসা ও সাবধানতা অবলম্বন করার পরিবর্তে মানসিক তৎপরতা ও মস্তিষ্কের উত্তেজনাকে সমান্তরাল পর্যায়ে আনার চেষ্টা চালাতে হবে। তা না হলে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তেমন উপকার হবে না। যেসব মানসিক কারণে পাকস্থলীর রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হয়, নিচে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করা হল।
রবার্ট নামের একজন লোক ছিল, তার শরীর স্বাস্থ্য বেশ ভালো ছিল। একবার তার খুব ক্ষুধা পেল। সে পাঠ কক্ষ থেকে ঘরের ভিতরে চলে গেল। সেখানে ভালো ভালো খাদ্য রান্না করা ছিল। সেদিন তার দুজন সম্মানিত মেহমানও ছিল। এজন্য তাদের সাথে বসে একত্রে খাদ্য গ্রহণ করায় আরও আনন্দিত হল। সুতরাং ভালো স্বাস্থ্য, যথেষ্ট ক্ষুধা, উত্তম খাদ্য, অন্তরঙ্গ সহচর, মধুর আলাপ -এত কিছুর অপূর্ব সমন্বয়ের স্বাভাবিক চাহিদা ছিল তার পরিপাকের উপর ভালো প্রভাব ফেলা। কিন্তু তা হয় নি।
কারণ, খাওয়া শেষ করতে না করতেই একটি শোকপত্র পেল। পত্র পাঠ করতেই তার উচ্ছ্বাস বিলীন হল। মন ভেঙে গেল। কথা বলার শক্তিই যেন নিঃশেষ হয়ে গেল। চেহারায় দুঃখ ও শোকতাপ ছেয়ে গেল। এমতাবস্থায় রাতের খাওয়া হল না। তার ক্ষুধা লাগল না। আস্তে আস্তে তার পাকস্থলীর উত্তেজনা হ্রাস পেয়ে নিস্তেজ হয়ে গেল। সকালে নির্ধারিত সময়ে পায়খানা হল না। দুপুরের খাওয়া হল; কিন্তু অভ্যাসমত সহজ পন্থায় হল না বরং অতিকষ্টে কোনো রকম খাওয়া হল। অবশেষে তৃতীয় দিন আমাশয় হয়ে গেল।
উপরের ঘটনায় গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে দুই শ্রেণীর লোক পাওয়া যায়। একশেণীর লোক হবে কঠোর মনের অধিকারী। তারা ছোট ছোট বালা মসিবত ও দূর্ঘটনায় দুঃখিত ও শোকাভিভূত হবে না। স্বাচ্ছন্দ্যে প্রশান্তির মধ্যে জীবনযাপন করবে। দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক হচ্ছে, যারা স্বভাব ও প্রকৃতির সামান্য ব্যতিক্রম ঘটলে অস্থির ও পেরেশান হয়ে যায়। এভাবে অতি সামান্য ব্যাপারে তাদের দেহাভ্যন্তরে শিহরণ ও কম্পন সৃষ্টি হয়।
এখন বলুন! এমন শ্রেণীর লোক কি শূন্য কক্ষে বসে পড়াশোনা করবে? যদি সেখানে রক্ষিত চেরাগদানীর উপর কয়েকটি চড়ুই পাখি বসে কিচির মিচির করে বা চেয়ারে বসে, তা হলে বাস্তবিক সে এসব অবস্থা থেকে সঙ্কীর্ণতা অনুভব করবে। সুতরাং এমন স্বভাবপ্রবণ লোকেরা যদি ২/৪ দিন ওই অবস্থায় থাকে, তবে তাদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত আসবে এবং একসময় রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বে। তাহলে এ দাবি করা অত্যুক্তি হবে না যে, এত কিছুর চাপ তার পাকস্থলীর উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। আর পাকস্থলী অসুস্থ হলে তো সমস্ত শরীরই অকেজো হয়ে যায়।
নিউইয়র্কের ডা. জি. বি. রাইস তার এক গ্রন্থে একজন রোগিনীর সমালোচনা করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, তার রোগ হল, তার পাকস্থলীতে সর্বদা একটা না একটা অসুবিধা থাকে। তাই তিনি অত্যাধুনিক এক্সরে এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি দ্বারা তাকে পরীক্ষা করলেন। কিন্তু কোনো রোগ বা কারণ নির্ণয় করতে পারলেন না। রোগিনী খাদ্য বন্ধ করে দিল। তাতেও কাজ হল না। সর্বদা বমি করতে লাগল এবং দুর্বল হতে থাকল। রোগের কোনো উপশম হল না। তবে সৌভাগ্যক্রমে ডা. সাহেব শুধু চিকিৎসকই ছিলেন না; তিনি একজন মনোবিজ্ঞানীও ছিলেন। সুতরাং রোগিনীর পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কয়েক মিনিট প্রশ্ন করে তিনি রোগের প্রকৃত কারণ আবিষ্কার করে ফেললেন।
তার স্বামী ছিল একজন পেশাদার জল্লাদ। সে মারাত্মক অপরাধীদের জবাই করে হত্যা করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। এসব তার একটুও পছন্দ হত না। এভাবে লোকদের যবাই করার কারণে মহিলার মনের মধ্যে আঘাত লাগত। ইতোমধ্যে সে তার স্বামীকে কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করতে দেখে অন্তরে আরও বেশি আঘাত পেল। এতে তার মন আরও খারাপ হল। অবশেষে সমস্ত মানসিক চাপ তার পাকস্থলীর উপর পড়ল। ফলে সে পাকস্থলীর দুর্বলতা জনিত রোগে ভুগতে থাকল।
ডা. সাহেব লিখেন, দুনিয়ার কোনো ঔষধ তার উপকার আসছিল না। কারণ, সে ছিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। ফলে তার স্বাস্থ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে ডা. সাহেবের পরামর্শে যখন তার স্বামীকে জল্লাদির কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, তখন সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠল।
এখন চিন্তা করে দেখা যাক, মানুষের মনের মধ্যে কেন এমন প্রভাব পড়ে। দেহ বিশেষজ্ঞ বলেন, খাদ্য পাকস্থলীতে জমা হওয়ার সাথে সাথে এর পরিপাক কর্মে সহায়তা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সেখানে জমা হয়। রক্ত সেখানে একপ্রকার আর্দ্রতা সৃষ্টি করে। সে আর্দ্রতাই খাদ্য থেকে নির্যাস সংগ্রহ করে রক্ত তৈরি করার উপযোগী করে দেয় এবং অপ্রয়োজীয় দ্রব্য নাড়ীভুঁড়ির দিকে ঠেলে দেয়।
পাকস্থলীতে খাদ্য জমা হওয়ার পর যখন পর্যাপ্ত রক্ত জমা হওয়ার কথা তখন যদি কোনো মানুষ বিষণ্ণ-ব্যথিত হয়, দুঃখ-কষ্ট ও আঘাত পায়, তখন রক্তের স্বাভাবিক গতি পাকস্থলীর দিকে ধাবিত হয় না বরং মস্তিষ্কের দিকে ধাবিত হয়। কারণ, উক্ত অবস্থানগুলো মস্তিষ্কের কাজ এবং তা সংগঠিত হওয়ার জন্য মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তের প্রয়োজন হয়। এমন দোটানা অবস্থার কুফলে পাকস্থলী পরিপাকের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না। কারণ, সেখানে পর্যাপ্ত রক্ত আসে না। সামান্য আসলেও আর্দ্রতা পয়দা হয় না। হলেও পর্যাপ্ত হয় না। ফলে খাদ্য হজম করতে সক্ষম হয় না।
আমরা জানি, চিকিৎসকগণ কখনও খাওয়ার পর গোসল করার অনুমতি দান করেন না। কারণ, গোসলের সময় রক্ত চামড়ার দিকে যায়। তদ্রূপ খাদ্যের পর অধ্যয়ন বা অন্য কোনো চিন্তামূলক কাজ করা থেকে নিষেধ করা হয়। কারণ, রক্ত তখন পাকস্থলীতে যাওয়ার পরিবর্তে মস্তিকে যায়। অনুরূপ খাদ্যের পর ব্যায়াম করাকেও ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রেও রক্ত মূল কাজ বাদ দিয়ে অন্য দিকে ধাবিত হয়। সাধারণত খাদ্য খাওয়ার আগে পরে বা মধ্যে দৈহিক ও মানসিক স্থিরতা অতীব জরুরি মনে করা হয়। পাকস্থলী যেন উত্তম পন্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তার কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতে পারে। দৈহিক ও বাহ্যিক কারণে যেমন পাকস্থলী নষ্ট হয়, ঠিক তেমনি মানসিক বিড়ম্বনা এবং জটিলতাও এর উপর তীব্র প্রভাব বিস্তার থাকে।
প্রকাশ থাকে যে, মানবজীবনে রোগ-ব্যাধি আসা স্বাভাবিক। তবে তা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আসতে পারে। কখনো ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামার কারণে ধাক্কা আসে। কখনো বিবি-বাচ্চাদের রোগশোক মস্তিষ্ককে প্রশান্তি থেকে ক্লান্তিতে নিক্ষেপ করে। কখনো বেকার বা উপার্জন বিহীন জীবনের আতংক আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আবার কখনো বা সাংসারিক জীবনের দুঃখ-দুর্দশা মনের প্রশান্তিকে বিলীন করে দেয়। মোটকথা, কোনো না কোনো দুঃখ-নৈরাশ্য আমাদের মস্তিষ্কে ও মানসিক শান্তিতে আঘাত হানে। এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের পাকস্থলী যদি স্বাভাবিকভাবে ভালো থাকে, তবে আশ্চর্যের কিছু নেই বরং তা হবে বিরাট এক হতাশাব্যঞ্জক জীবনের উপর আল্লাহ পাকের খাস রহমত। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা জটিল মানসিক অবস্থা সমূহকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম নই।
মনোবিজ্ঞানীরা এমন কিছু পন্থা বের করেছেন, যা মেনে চললে পাকস্থলীর সব সমস্যা থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা যায়। তন্মধ্যে সুন্নতে রাসূল-১+২ ফর্মা-৮ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হল, অহেতুক মনের মধ্যে ভয়-ভীতি চাপিয়ে না দেওয়া, যথাসম্ভব সমস্যাগুলোর ব্যাপারে পূর্বেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
অভিজ্ঞতা বলে রোগ আস্তে আস্তে বড় হয়। দ্বিতীয় পন্থা হল, দুঃখ বেদনা ও অস্থিরতা ভুলে যাওয়ার জন্য ভালো পরিবেশ খোঁজ করা। যেমন : ভ্রমণ, অনুষ্ঠান, বন্ধুদের সঙ্গ, অধ্যয়ন ইত্যাদি। অর্থাৎ দেহ ও মনকে সর্বদা উৎসাহব্যঞ্জক কাজে লিপ্ত রাখা। এসব পন্থা অবলম্বন করলেই মানসিক দুশ্চিন্তা দূর হবে। মোটকথা, যথাসম্ভব নিঃসঙ্গ ও নিরানন্দ হতে বিরত থেকে হাসি-খুশি থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।
তাছাড়া পাকস্থলীকে মানসিক বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখার জন্য অতি জরুরি হল, খাদ্য গ্রহণের নিয়ম-কানুন পরিপূর্ণরূপে পালন করা এবং শোক-তাপ ও ক্রোধ অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ না করা। খাওয়ার সময় অনর্থক তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে না। কাউকে লজ্জা বা তিরষ্কার করবে না। মর্মান্তিক ও বিব্রতকর ঘটনা থেকে বিরত থাকবে। খাওয়ার সময় প্রথমত কথা খুব কম বলবে। যদি বলতেই হয় তবে এভাবে বলবে, যেন তা সকলের সন্তুষ্টিমূলক হয়।
মনে রাখবেন, মানসিক রোগের চিকিৎসা মানসিকভাবে করতে হয়। যারা এসব রোগের চিকিৎসা ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে করে, তারা যেন কখনও উপকারের প্রত্যাশা না করে। এমনটি করলে অবস্থা আরও জটিল ও কঠিন আকার ধারণ করবে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাদ্য কিভাবে গ্রহণ করা উচিত

📄 খাদ্য কিভাবে গ্রহণ করা উচিত


খাদ্যদ্রব্য সর্বদা ধীরে ধীরে উত্তমরূপে চর্বন করে খাওয়া উচিত। ফে প্রতিটি লোকমা মুখের লালা মিশ্রিত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়, তা হলে খাদ অতি সহজে পরিপাক হয়ে যাবে। মুখের লালা খাদ্য দ্রুত পরিপাক করতে সহায়তা করে। তদ্রুপ চিবিয়ে খেলে বদহজমও দূর হয়। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, Drink your meals and your water- এর মর্মার্থ হ খাদ্যদ্রব্য এমনভাবে চিবিয়ে খাবে, যেন সিক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় গলার মধে ঢুকে যায়। খাদ্য ধীরে ধীরে খাবে। এক ইউরোপীয় চিকিৎসক বলেছেন যদি কেউ আমাকে পরিপাকের ব্যাপারে কোনো বিষয়ে কিছু বলতে বলে তবে আমি নিঃসন্দেহে বলে দিব, খাদ্যকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাও। যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য চর্বণ করে ভক্ষণ করলে উত্তমভাবে খাদ্য পরিপাক হয়ে দেহের অংশ গঠনে সহায়তা করবে। পরিপাকের মধ্যে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটবে না। এতদ্ব্যতীত খাদ্য চর্বণ করে খেলে পরিমাণে অল্প লাগে।
আমাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, যারা বড় বড় লোকমা দিয়ে তা তাড়াতাড়ি গিলে ফেলে। মূলত খাদ্যের আধিক্য উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি করে। জীবনকে দীর্ঘ ও সুন্দর করার জন্য খাদ্য স্বল্প পরিমাণ খাওয়া জরুরি। খাওয়ার জিনিস বেশি গরম বা ঠাণ্ডা হওয়া ঠিক নয়। বেশি গরম জাতীয় কিছু গ্রহণ করলে পাকস্থলী ঢিলা হয়ে যায় এবং শক্তি হ্রাস পায়। আবার খাদ্য অধিক ঠাণ্ডা হলে তাকে পরিপাক করার জন্য পাকস্থলীকে অধিক শক্তি ও তাপ প্রয়োগ করতে হয়।
সেজন্য খাওয়ার সাথে সাথে অধিক ঠাণ্ডা পানি পান করাও বেশ ক্ষতিকারক। কেননা পানির শৈথিল্য ও তীব্রতা উভয়ই পাকস্থলীকে বিকৃত করে ও হজমে বিঘ্নতা ঘটায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাদ্যগ্রহণের পর খিলাল করা

📄 খাদ্যগ্রহণের পর খিলাল করা


প্রকাশ থাকে যে, হাদীস শরীফের বিভিন্ন কিতাবপত্রের মধ্যে খাদ্য গ্রহণের পর দাঁত খিলাল করার ব্যাপারে অধিক মাত্রায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দান করা হয়েছে। আধুনিক সভ্য সমাজে হোটেলে বা ঘরে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাবারের সাথে খিলাল অতি যত্ন সহকারে সরবারাহ করা হয়। এটা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সর্বোত্তম তরীকা। খাদ্য ভক্ষণের পর খাদ্যকণা সাধারণত দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে আটকে যায়। সুতরাং তা খিলাল ব্যতীত রেখে দিলে প্রথমে পচন শুরু হয় ও পরে ক্ষত (প্লাজমা) দেখা দেয়। এভাবে মাড়ী ফুলে উঠে এবং মাড়ীর গোস্ত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দাঁত মাড়ীর গোস্ত থেকে ধীরে ধীরে পৃথক হয়ে পড়ে। পরিশেষে অকালে দাঁত পড়ে যায়।
সুতরাং খাদ্যকণাগুলো খিলাল করে পরিষ্কার না করলে পাইওরিয়া বা মাসখেরিয়ার ন্যায় কঠিন রোগ দেখা দেয়। অসাবধানতা বশত মাড়ীর পুঁজ যখন লালার সাথে পাকস্থলীতে চলে যায় তখন সেখানে ধ্বংসকারী রোগ পয়দা হয়ে যায়। বিশেষ করে আলসার ও পাকস্থলীতে এসিড সৃষ্টি হওয়ায় মারাত্মক বিপদ দেখা দেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা

📄 খিলালের মধ্যে সতর্কতা


ফিকাহ বিশেষজ্ঞগণ হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন : যেসব খাদ্যকণা খিলাল ব্যতীত বের হয়, তা গিলে ফেলা শ্রেয়। আর যা খিলাল করে বের করা হয় তা ফেলে দেওয়া উচিত। পরিতাপের বিষয় হল, ইসলাম মানুষের জীবনকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার জন্যে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেই শিক্ষা থেকে মানুষ যোজন যোজন দূরে সরে পড়েছে। ফলে আমাদের কাছে দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও হতাশা আর অশান্তি আমাদের জীবনকে গ্রাস করছে। তাই যখন কারও কাছে এ শিক্ষা এবং দীনী জীবন পেশ করা হয়, তখন সে বিস্ময়কর ভঙ্গিতে বলে, “দীন কি এতই বিস্তৃত এবং ইসলাম কি এটাও আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে ?” ইত্যাদি।
খিলাল ব্যতীত যে খাদ্যকণা বের হয়, তা অন্যান্য খাদ্যবস্তুর মতো। সুতরাং তা খাওয়া প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিকারক নয়। তবে খিলাল দ্বারা যা বের করা হয়, তা গিলে ফেলা ঠিক নয়। কারণ, সতর্কের বিষয় হচ্ছে অনেক সময় দাঁত ও মাড়ীর ফাঁকে পুঁজ বা জীবাণু জন্মে।
সুতরাং এসব কণার সাথে ওই পুঁজ বা জীবাণু যদি মিশে যায় এবং পেটের ভিতরে চলে যায়, তবে সেখানেও ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং খিলাল দ্বারা নির্গত খাদ্যকণা উপকারী নয় বরং অপকারী ও মারাত্মক ক্ষতিকারক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00