📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হাত দিয়ে খাওয়া ও আঙ্গুল চাটা

📄 হাত দিয়ে খাওয়া ও আঙ্গুল চাটা


আমার জনৈক আত্মীয় একবার সফর থেকে ফিরে এসে বলতে লাগল-কানাডার শহর টরেন্টোতে এক ব্যক্তি আমার মেহমানদারি করল। আমি হাত দ্বারা খেতে শুরু করলে সে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। খবার শেষ হলে সে বলল, আপনার হাত আমি চেটে খাব।
আমি শুনে তো হতবাক –এ আবার কেমন কথা! সে বলল, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষ যখন খাবার ইচ্ছা করে তখন Pitutary Gland থেকে স্নায়ুবিক প্রভাব সমৃদ্ধ হজমকারী আর্দ্র পদার্থ আঙ্গুলের মাধ্যমে বের হয়ে থাকে। খাদ্যের সাথে যুক্ত হয়ে খাদ্যকে হজম করতে সাহায্য করে এবং নিম্ন বর্ণিত আর্দ্রতার কারণ হয়: হযমকারী সেই আর্দ্র পদার্থের (Digestive Secretion) প্রভাব আঠাযুক্ত (Carbogydrates) পদার্থের উপর পড়ে। তদুপরি সেই আর্দ্রতার প্রভাব পড়ে এমন আঠাযুক্ত পদার্থের উপর যার দ্বারা ডায়াবেটিস রোগীর উপকার সাধিত হয় এবং দেহের ইনসুলিন (Insulin) হ্রাস পায় না। তাছাড়া আঙ্গুল চেটে খাওয়ার দ্বারা সেই হযমকারী আর্দ্রপদার্থ (Disestive Secretion) যা আঙ্গুলের সাথে লেগে থাকে, তার কিছু তো খাবারের সাথে ভেতরে চলে যায় আর অবশিষ্টগুলি আঙ্গুল চেটে খাওয়ার দ্বারা মুখে চলে যায়।
আশ্চার্যজনক Physiology হল, যতই খাবারে স্বাদ অনুভূত হয়, তত ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় আর ওই গতিতেই সেই আর্দ্র পদার্থ অধিক পরিমাণে বের হয়ে খাদ্যের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এবার যদি আঙ্গুল চেটে খাওয়া হয় তাহলে চক্ষু, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীতে এর গভীর প্রভাব পড়ে।
জনৈক ফিজিশিয়ান বলেছেন: আমার গবেষণা অনুযায়ী খাবারের পর আঙ্গুল চাটা হৃদরোগ, পেটের পীড়া ও মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য খুবই উপকারী।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা

📄 ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা


ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণ আমেরিকানদের খাদ্য গ্রহণ করার বিজ্ঞানসম্মত নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেগুলি আমরা গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে তাতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যাবতীয় সুন্নত ও আদবসমূহ স্পস্ট হয়ে যাবে। নিম্নে ইউরোপী বিশেষজ্ঞগণের গবেষণাকর্মের কিছু নমুনা পেশ করা হল:

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাবারের সঠিক পদ্ধতি

📄 খাবারের সঠিক পদ্ধতি


খাদ্য মানবদেহের এমন এক অত্যাবশ্যকীয় বস্তু, যা ব্যতীত মানুষ জীবিত থাকতে পারে না কিন্তু আমরা যা কিছু পানাহার করি তা নিজে নিজেই হজম হয়ে যায় না বরং তাকে হজম করে শরীরের উপযোগী বানাতে এবং গোশত ও চামড়ার আকৃতিতে রূপান্তরিত করতে যথেষ্ট দৈহিক পরিশ্রম করতে হয়। তাই খাদ্য দেহের বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনের বেশি গ্রহণ করলে বা খাদ্য নির্বাচনে এবং বিন্যাসে দেহের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি না দিলে সেই খাদ্যই দেহকে দুর্বল করে দিয়ে দেহের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। মানুষ যত রোগেই আক্রান্ত হয় তন্মধ্যে অধিকাংশই খাবারের আধিক্য, বিশৃঙ্খলা, বার বার খাওয়া এবং হজম হওয়ার পূর্বেই পুনরায় খাওয়া -এ সবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া মাত্র।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাবার কখন খাওয়া উচিত

📄 খাবার কখন খাওয়া উচিত


সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য গ্রহণ করার সময়সূচি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। সুতরাং দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণের একটি নির্ধারিত সময়সূচি থাকা বাঞ্ছনীয়। নির্ধারিত সময়ে খাদ্য গ্রহণ করার পর দুনিয়ার যত বড় নেয়ামত সামনে আসুক না কেন তা খাওয়া উচিত নয়।
অধিকাংশ লোক খাদ্য গ্রহণের বেলায় সময়সূচির প্রতি লক্ষ্য রাখে না। তারা দুইবার খাদ্য গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে কিছু না কিছু খেতে থাকে।
তবে খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে যে, খাদ্যদ্রব্য যতই ভালো, বলবর্ধক ও শক্তিশালী হোক, যদি পরিমাণ ও সময়-সীমার প্রতি লক্ষ্য না করা যায়, তবে শরীরের উপকার তো দূরের কথা বরং উল্টো ক্ষতি হতে পারে। হজমশক্তি ক্লান্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে এবং বিভিন্ন প্রকার মারাত্মক রোগ-ব্যাধি পয়দা হয়ে দেহকে বরবাদ করে দিতে পারে এভাবে খাদ্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের উন্নতির মাধ্যম হওয়ার পরিবর্তে তা বিষ স্বরূপ হতে পারে। অতএব স্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখার জন্য খাদ্যের পরিমাণ ও সময়সূচির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখা একান্ত প্রয়োজন।
জনৈক আরবদেশীয় চিকিৎসক বলেছিলেন, “যখন ক্ষুধা লাগে তখন খাদ্য খাও”। অপর চিকিৎসক বলেছিলেন, “কোনো কোনো সময় অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ এমন ক্ষতিকারক হয় যেমন বিষ ক্ষতিকারক।” সুতরাং যতক্ষণ ক্ষুধা লাগবে না, ততক্ষণ বিন্দু মাত্র খাদ্য গ্রহণ করবে না। অল্প ক্ষুধা থাকলে খাদ্য গ্রহণ করা ত্যাগ করবে।
মানুষের উচিত অসময়ে, অনিয়মিত ও অনির্ধারিত খাদ্য গ্রহণের কু-অভ্যাস পরিত্যাগ করা। এভাবে খাদ্য গ্রহণ করলে তা পুরোপুরি পরিপাক ও শরীর গঠনে সহায়ক হয় না। পক্ষান্তরে প্রকৃত ক্ষুধা থেকে এমন শক্তি আসে, যদ্বারা ভুক্ত খাদ্যদ্রব্য সুন্দররূপে পরিপাক হয়ে যায়। ফলে শরীরের ক্ষয় পূরণ হয় এবং রক্ত ও গোস্তের বৃদ্ধি সাধন করে সুন্দর স্বাস্থ্য গঠিত করে। তাই খাদ্য গ্রহণের সময়সূচি থাকা একান্ত প্রয়োজন। সময়-অসময় খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00