📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খাবারের মাঝে আনন্দদায়ক কথাবার্তা

📄 খাবারের মাঝে আনন্দদায়ক কথাবার্তা


ইসলামি শরী'আতের দৃষ্টিতে খানার সময় দুঃখজনক ও বিষাদময় কথাবার্তা বলা উচিৎ নয়। আধুনিক বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কি বলে, তা আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরা হল। প্রখ্যাত ইউরোপিয়ান ডাক্তার কি ফন একজন এক্সরে বিশেষজ্ঞ। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেন যে, এক্সের মাধ্যমে আমি পাকস্থলী, কিডনী এবং অন্ত্রের বিভিন্ন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, দুঃখ-কষ্ট ও ক্রোধের অবস্থায় হজম শক্তির উপর এমন কিছু স্নায়ুবিক প্রভাব পড়ে যদ্বারা তা অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে। আর আনন্দ, উৎফুল্লতা ও খুশীর প্রভাব এমন পড়ে যে, পাকস্থলীর মাংসপেশী ও স্নায়ুসমূহ ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠে। আধুনিক বিজ্ঞানের অনুসন্ধান অনুযায়ী যারা খাবার গ্রহণের সময় দুঃখিত ও বিষণ্ণতার কথা-বার্তা বলে এবং ক্রোধের শিকার হয়, এমন লোক শীঘ্রই পাকস্থলীর আলসার (stomach ulcer) এবং অন্ত্র শীর্ণতায় (T.B. of Intestines) আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের কথা হল, খানা তখনই খেতে হবে যখন মানুষ দৈহিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই সুস্থ থাকবে। হেকিম জালিনুস বলেন, আনন্দ ও খুশি খাদ্যকে হজম করে এবং শরীরের অঙ্গ গঠনে সহায়তা করে। আর দুঃখ-দুর্দশা খাবারকে শরীরের অঙ্গ গঠনে অসহযোগিতা করে।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 খানা খাওয়ার পর মুখের উপর হাত মালিশ করা

📄 খানা খাওয়ার পর মুখের উপর হাত মালিশ করা


খাবারের পর তৈলাক্ত হাত মুখ, পায়ের গোছা ইত্যাদিতে মালিশ করে হাত পরিষ্কার করার কথা বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেহেতু খাবারের সময় হাতের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের আর্দ্রতা আঙ্গুল থেকে বের হয়, যা দেহের জন্য উপকারি, তাই সেই তৈলাক্ত পদার্থ শরীরের বাহ্যিক অংশে মালিশ করা চর্ম রোগের (Skin Diseases) জন্য খুবই উপকারী।
চামড়ার ভিতরে থাকে একপ্রকার Sebeceous Gland যা হতে বের হয় এক প্রকার Sebom নামীয় আর্দ্র পদার্থ, যা অধিক হারে দেহের পানি নির্গত হওয়া এবং শুষ্ক আবহাওয়া দ্বারা হ্রাস পায়। তাই ইসলামি শরী'অত নির্দেশ দিয়েছে, হাতের উপর লেগে থাকা তৈলাক্ত পদার্থ চেহারা, হাত ও পায়ের উপর মুছে ফেলবে, তাতে উক্ত হ্রাস পাওয়া পদার্থের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে এবং চামড়া ফাটা ও চর্ম খসে যাওয়া রোগ নির্মূল হবে।
এ তৈলাক্ত পদার্থ শরীরে মোছার দ্বারা চামড়া সুন্দর হয়। এমনকি তার প্রভাব শরীরের জোড়ায় জোড়ায়, মাংসপেশী, স্নায়ু (Nerves and Muscles) ইত্যাদির উপর পড়ে। স্নায়ুবিক ব্যথা (Nerves Pain), পেশী টান, (Muscle Strech) জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা ও কোমর (Backache) ব্যথা রাগীদের জন্যও এটা খুবই উপকারী। তাছাড়া আঙ্গুলের করসমূহ হতে জীবাণু আকর্ষণকারী একপ্রকার পদার্থ বের হয়, যা সমস্ত রোগজীবাণুকে নির্মূল করে দেয়। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সেই পদার্থগুলি পাকস্থলীতে প্রবেশ করা একান্ত জরুরী।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 হাত দিয়ে খাওয়া ও আঙ্গুল চাটা

📄 হাত দিয়ে খাওয়া ও আঙ্গুল চাটা


আমার জনৈক আত্মীয় একবার সফর থেকে ফিরে এসে বলতে লাগল-কানাডার শহর টরেন্টোতে এক ব্যক্তি আমার মেহমানদারি করল। আমি হাত দ্বারা খেতে শুরু করলে সে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। খবার শেষ হলে সে বলল, আপনার হাত আমি চেটে খাব।
আমি শুনে তো হতবাক –এ আবার কেমন কথা! সে বলল, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষ যখন খাবার ইচ্ছা করে তখন Pitutary Gland থেকে স্নায়ুবিক প্রভাব সমৃদ্ধ হজমকারী আর্দ্র পদার্থ আঙ্গুলের মাধ্যমে বের হয়ে থাকে। খাদ্যের সাথে যুক্ত হয়ে খাদ্যকে হজম করতে সাহায্য করে এবং নিম্ন বর্ণিত আর্দ্রতার কারণ হয়: হযমকারী সেই আর্দ্র পদার্থের (Digestive Secretion) প্রভাব আঠাযুক্ত (Carbogydrates) পদার্থের উপর পড়ে। তদুপরি সেই আর্দ্রতার প্রভাব পড়ে এমন আঠাযুক্ত পদার্থের উপর যার দ্বারা ডায়াবেটিস রোগীর উপকার সাধিত হয় এবং দেহের ইনসুলিন (Insulin) হ্রাস পায় না। তাছাড়া আঙ্গুল চেটে খাওয়ার দ্বারা সেই হযমকারী আর্দ্রপদার্থ (Disestive Secretion) যা আঙ্গুলের সাথে লেগে থাকে, তার কিছু তো খাবারের সাথে ভেতরে চলে যায় আর অবশিষ্টগুলি আঙ্গুল চেটে খাওয়ার দ্বারা মুখে চলে যায়।
আশ্চার্যজনক Physiology হল, যতই খাবারে স্বাদ অনুভূত হয়, তত ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় আর ওই গতিতেই সেই আর্দ্র পদার্থ অধিক পরিমাণে বের হয়ে খাদ্যের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এবার যদি আঙ্গুল চেটে খাওয়া হয় তাহলে চক্ষু, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীতে এর গভীর প্রভাব পড়ে।
জনৈক ফিজিশিয়ান বলেছেন: আমার গবেষণা অনুযায়ী খাবারের পর আঙ্গুল চাটা হৃদরোগ, পেটের পীড়া ও মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য খুবই উপকারী।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা

📄 ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা


ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞগণ আমেরিকানদের খাদ্য গ্রহণ করার বিজ্ঞানসম্মত নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেগুলি আমরা গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে তাতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যাবতীয় সুন্নত ও আদবসমূহ স্পস্ট হয়ে যাবে। নিম্নে ইউরোপী বিশেষজ্ঞগণের গবেষণাকর্মের কিছু নমুনা পেশ করা হল:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00