📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 উপবাস-কারামত

📄 উপবাস-কারামত


হযরত আ. ওয়াহিদ বিন যায়েদ শপথ করে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা ক্ষুধার্ত থাকা ব্যতীত কোনো ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি করেন না। এ আত্মশুদ্ধি দ্বারা সে পানির উপর দিয়ে চলতে ও অতি দ্রুত পথ অতিক্রম করার বিশাল ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। আল্লাহর ওয়ালিগণ খানা-পিনা পরিহার করে উপবাসী থেকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতেন। অন্য কথায়, রিযিক ছেড়ে দিয়ে তারা রিযিকের মালিকের অন্বেষণে ব্যস্ত থাকতেন। সেই উপবাস যাপন দ্বারা তারা আল্লাহর নিকট এত বেশি মর্যাদা অর্জন করেছিলেন, যা বর্তমান জগতের মানুষদের নিকট অবিশ্বাস্য মনে হবে।

মুজাহাদা, সাধনা, (Sacrifices) আত্মত্যাগ এবং প্রবৃত্তির বিরোধিতাই হল নৈকট্যশীলদের আসনে উন্নীত হওয়ার প্রধান সোঁপান। আর সকল সাধনার শ্রেষ্ঠ সাধনা হল, ভোগবিলাসিতা পরিত্যাগ করা। এ কারণেই আউলিয়াগণ দরিদ্রতার জীবন গ্রহণ করেছেন। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান সুন্নতও বটে। এ উপবাস যখন গান্ধীজী পালন করেছিল, তখন হিন্দুরা তার পূজা শুরু করে দিয়েছিল। আর এ উপবাস যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছিলেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য খন্দক ও বদরে পৌঁছে গিয়েছিল। আর উপবাস যাপন করেই সাহাবায়ে কিরাম বিশ্ব বিজয়ে সক্ষম হয়েছিলেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ইসলামি শিক্ষা সোশ্যালিজম

📄 ইসলামি শিক্ষা সোশ্যালিজম


হযরত সালমান ফারসী রাযি.-কে কেউ বলল, দুনিয়ার কোষাগার তো আপনার নিয়ন্ত্রণে, তথাপি আপনি অনাহারে থাকেন কেন? তিনি বললেন, নিজের উদরপূর্তি করে ক্ষুধার্তদের কথা যেন ভুলে না যাই, এ জন্য ক্ষুধার্ত থাকি। তাছাড়া ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকলে কিয়ামতের দিনের ভুক-পিয়াসের স্মরণও জাগরিত হয় এবং আল্লাহ্র শাস্তির ভয়ও সৃষ্টি হয়। ইসলাম ন্যায়-নিষ্ঠা ও শান্তির ধর্ম। দুঃখী জনের সাথে সহানুভূতি প্রদর্শন এবং লাওয়ারিশদের তত্ত্বাবধান করাই হল ইসলামের মূল লক্ষ্য।
স্ট্যালিন ও লেলিন এর মতবাদকেই সোশ্যালিজম ও কমিউনিজম বলা হয়। ভাত-কাপড় ও বাসস্থান এটাই তাদের শ্লোগান। উল্লিখিত সমাজপতিগণ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যত পরিশ্রম করেছিল, ইসলাম মাত্র কয়েকটি শব্দের দ্বারা তার পূর্ণ বিশ্লেষণ করে দিয়েছে। “নিজের গৃহের ধোঁয়া দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দিও না” (অর্থাৎ খানা পাকানোর সময় খাবারের খোশবু প্রতিবেশীর নাকে পৌঁছলে সে যদি তা খেতে না পায়, তা হলে দুঃখিত ও ব্যথিত হবে)।
“নিজের সন্তানদেরকে এমন কোনো খাবার দিও না, যা নিয়ে সে বাইরে গেলে প্রতিবেশীর বাচ্চারা তা দেখে মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারে”। তারপরও কি কেউ বলতে পারবে, ইসলামে ন্যায়-নীতি নেই, সমাজ ও সামাজিক জীবনে নেই শান্তি ও নিরাপত্তা? বস্তুত ইসলাম গরীবদেরও দীন আবার আমীরদেরও দীন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 অতিভোজন ও ইসলামের প্রথম বিদ‘আত

📄 অতিভোজন ও ইসলামের প্রথম বিদ‘আত


• হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর ইসলামে সর্বপ্রথম যে বিদআতের প্রচলন হয়েছিল, তা হল, উদরপূর্তি করে খানা খাওয়া। (ফাযায়েলে সাদাকাত) বস্তুত সাহবায়ে কিরাম রাযী. ও আউলিয়ায়ে কিরাম পেট ভরে খাবার খুব কমই খেয়েছেন। পেট ভরে খানা খেলে রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 প্রফেসর ব্রাউন ও ইসলামি বিশ্ব

📄 প্রফেসর ব্রাউন ও ইসলামি বিশ্ব


প্রফেসর ব্রাউন নিজ Lectures of Prof. Browne গ্রন্থে লিখেছেন, হায়েছ ফালদা আল সাকাফী নামক এক হেকীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে এই বলে অভিযোগ করল যে, আমার নিকট কোনো রোগী কেন আসে না, এদের কি কোনো রোগ-ব্যাধি হয় না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এরা তখন খাবার খায় যখন তীব্র ক্ষুধা পায় আর ক্ষুধা অবশিষ্ট থাকতেই খাবার ত্যাগ করে।” তা হলে আমাদের অধিক খাবার খাওয়াকে বিদআত মনে করা কি অন্যায়? অথচ আধুনিক বিজ্ঞান তো প্রতিটি মানুষের জন্য কে কতটুকু খাবার খেতে পারবে তার পরিমাপ নির্ধারণ করে দিচ্ছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00