📄 ঠেস দিয়ে বসে খাওয়া উচিত নয়
ইসলাম হেলান দিয়ে বসে খানা খেতে নিষেধ করেছে। কেননা ঠেস দিয়ে বসে খাদ্য গ্রহণের মধ্যে তিনটি অপকারিতা রয়েছেঃ
১। সঠিকভাবে খাবার চিবানো যায় না। ফলে যে পরিমাণ লালা খাদ্যের সাথে মিশ্রিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয় না। যার কারণে পাকস্থলীতে মাড় বিশিষ্ট খাবার (Carbohydrates) হজম হয় না, ফলে হজম প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২। ঠেস দিয়ে বসলে পাকস্থলী প্রশস্ত হয়ে যায়। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার পেটে চলে যাবে এবং হজম প্রক্রিয়াতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
৩। ঠেস দিয়ে খাবারের ফলে অস্ত্র এবং যকৃতের (Liver) কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ কথা অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত।
📄 খানার সময় আঙ্গুল চালনায় সতর্কতা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, খানার মধ্যে আঙ্গুল চালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। খাবারের মধ্যে আঙ্গুল রাখার সময় পূর্ণ আঙ্গুল খানার মধ্যে ডুবিয়ে দিবে না। (উসওয়াহ)
বস্তুত খাবারের পর আঙ্গুল চেটে খাওয়া জরুরি। খানার পর যদি আঙ্গুল চেটে না খাওয়া হয়, তাহলে এ উপকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে। তাছাড়া গোড়া পর্যন্ত আঙ্গুল চেটে খাওয়া সম্ভব নয়। তদুপরি কখনো আঙ্গুলের গোঁড়ায় ও দুই আঙ্গুলের গোঁড়ায় ও দুই আঙ্গুলের মধ্যে জীবাণু লেগে থাকে। তাই যদি কেউ সম্পূর্ণ আঙ্গুল খাবারের মধ্যে ডুবিয়ে দেয়, তাহলে খাবারের সাথে রোগ জীবাণু মিলিত হয়ে যায়।
📄 বাদশাহ হারুনুর রশীদের শিক্ষণীয় ঘটনা
বাদশাহ হারুনুর রশীদ একবার চারজন অভিজ্ঞ ডাক্তারকে একত্রিত করলেন। তন্মধ্যে একজন ছিল হিন্দুস্তানী, দ্বিতীয় জন রোমীয় (ইংরেজী), তৃতীয়জন ইরাকী এবং চতুর্থজন সওয়াদী। তারপর চারজনকেই সম্বোধন করে বললেন, আপনারা এমন একটি ঔষধের নাম বলুন, যা কোনো কিছুর জন্যই ক্ষতিকর নয়। হিন্দুস্তানী ডাক্তার বলল, আমার মতে সেই জিনিস হল হালীলাহ সিয়াহ বা কাল হালীলাহ। ইরাকী ডাক্তার বলল, আমার মতে সেই জিনিস হল হুববুর রালাদ। রোমীয় ডাক্তার বলল, যে ঔষধ কোনো কিছুর জন্যই ক্ষতিকর নয়, তা হল গরম পানি।
সর্বশেষে সওয়াদী ডাক্তারের পালা এলে সে বলল, উপরিউক্ত সকল মন্তব্য ভুল। কেননা কাল হালীলাহ পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি করে আর গরম পানি পাকস্থলীকে করে দেয় শিথিল। তারপর সকল হাকীম মিলে বলল, তা হলে এবার আপনি বলুন, যে ঔষধটা কোনো কিছুর জন্যই ক্ষতিকর নয়? তখন সওয়াদী হাকীম বলল, তা হল অধিক আগ্রহ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আহার না করা এবং খানার কিছু চাহিদা থাকা অবস্থায় খana ত্যাগ করা। এ কথার উপর সকল ডাক্তারই একমত পোষণ করেন।