📄 তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ইমাম যখন তিলওয়াত করেন আর মুক্তাদীগণ ধ্যান সহকারে তা শুনতে থাকেন, তখন এ পড়া ও শ্রবণ করা উভয়ের মাঝে এক বিশেষ প্রকারের তরঙ্গের সৃষ্টি করে ও উক্ত তরঙ্গ উভয়ের মাঝে আলোকোজ্জ্বল রশ্মি ছড়াতে থাকে। এক্ষেত্রে যদি ইমাম সাহেবের বিজলী শক্তিশালী ও মজবুত হয়, তা হলে সেটি মুক্তাদীদের মাঝে প্রতিফলিত হয়। আর যদি মুক্তাদীদের তরঙ্গশক্তি প্রবল হয়, তা হলে সেটি ইমাম সাহেবের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে।
আধ্যাত্মিক চিকিৎসক লেডবীর লিখেছেন, প্রতিটি শব্দ এক একটি ইউনিট যার থেকে প্রবল আলোক রশ্মি নির্গত হয় যেটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক হয়ে থাকে। কুরআন থেকে নির্গত শব্দ ইতিবাচক। মুক্তাদীদের উপর যখন এর প্রভাব পড়বে, তখন তাদের রোগ দূর হয়ে যাবে। গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, রক্তের লোহিত কণিকা একপ্রকার অদৃশ্য ক্রিয়ার মাধ্যমে নষ্ট হতে থাকে এবং এতে একপর্যায়ে ব্লাড ক্যান্সারের উদ্ভব ঘটে। আর নামাযের মধ্যকার তিলাওয়াতের তরঙ্গ এ রোগ থেকে নিরাপত্তা দান করে। বর্তমানে আভ্যন্তরীণ ব্যাধিসমূহ মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এ রোগ থেকে একমাত্র নিজের মধ্যে উক্ত তরঙ্গ সৃষ্টি করে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
রক্তের নিম্নচাপ, অস্থিরতা ও এ ধরনের রোগ-ব্যাধি নামাযের মাধ্যমে ভালো হয়ে যায়। যদি ধ্যান খেয়াল ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করা হত, তা হলে এ ধরনের ব্যাধি সমূলে ধ্বংস হয়ে যেত। সাধারণ নামাযীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, আস্তে আস্তে তাদের চিন্তাধারা আত্মহত্যা থেকে ফিরে এসে একসময় পরিপূর্ণভাবে ঠিক হয়ে যায়।
📄 নামাযের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে পা ফাঁক করে রাখা
শরী'আত নামাযের মধ্যে যেভাবে পা ফাঁক করে দাঁড়াতে আদেশ রয়েছে নামাযী ব্যক্তি যদি তার চেয়ে কম পরিমাণে পা ফাঁক করে দাঁড়ায় তাহলে শারীরিক দিক দিয়ে সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পা স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সংকীর্ণ করে রাখলে বেশি ক্ষতি হয় শিরা ও মাংসপেশীর। তাছাড়া এতে শরীরের নিম্নভাগ দুর্বল হয়ে যায়। উপরন্তু এতে অণ্ডকোষেরও প্রচুর ক্ষতি হয়। বহিরাংশের চামড়া আক্রান্ত হয়ে পানিজমা ব্যাধির সৃষ্টি হয় আর ভিতরের দিকে দাগ পড়ে যায়, যাতে প্রজনন ক্ষমতা প্রভাবান্বিত হয়ে তা বিনষ্ট হয়ে যায়।
এমনিভাবে যদি পা অধিক পরিমাণে ফাঁক করে রাখা হয় তখনও অণ্ডকোষের ক্ষতি হয়। এতে শরীরের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এ ধরনের লোকের চালচলন নড়বড়ে এবং দেহ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পায়ের জোড়ার উপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে পায়ের গোঁড়ালী ও পৃষ্ঠে চাপ বেড়ে যায়। এ কারণে পায়ের জোড়ার স্বাভাবিক আকৃতির পরিবর্তন হয় এবং গোঁড়ালীর সংযোগস্থলের মোড় ঘুরে যায়।
📄 মহিলাদের নামাযের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
মহিলাদের জন্য শরী'অতের নির্দেশ হল, তারা সিজদায় হাতের কনুইসমূহকে ছড়িয়ে রাখবে না বরং কনুই শরীরের সাথে মিলিয়ে রাখবে। এমন করার দ্বারা মহিলাদের স্নায়ু, দুধ সৃষ্টিকারী মাংসপেশী, বক্ষ, স্নায়ু ও মেয়েলী সৌন্দর্যের উপর গভীর প্রভাব পড়ে।
একই অবস্থা সিজদায় উরুদ্বয়কে পৃথক না করার বেলায়। কেননা মহিলারা যদি শরঈ হুকুম মোতাবেক সিজদা করে, তাহলে তারা অগণিত মেয়েলী রোগ থেকে রক্ষা পায়; নতুবা এমন গোপন মেয়েলী রোগ সৃষ্টি হয়, যা জীবনকে আশঙ্কার দিকে ঠেলে দেয়।
📄 তারাবীহ নামায ও আধুনিক বিজ্ঞান
রমাযানুল মোবারক মাস ও তার আমল এর প্রতি গভীর দৃষ্টিতে তাকালে একথা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তাতে তারাবীহ নামাযের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইফতারের সময় হরেক রকমের খাবার সামনে উপস্থিত থাকে। আর এ স্বভাবজাত লোভী মানুষ আহার গ্রহণের সময় এদিকে খেয়াল রাখে না যে, সারাদিন পাকস্থলী খালি ছিল, এখন যদি অধিক খাবার এক সাথে গ্রহণ করে ফেলে, তখন তার অবস্থা কি হতে পারে। অথচ এ বে-খবর মানুষ নিজের উপর একের পর এক জুলুম করেই চলেছে।
মহান রাব্বুল আলামীন হলেন মানুষের পরম বন্ধু আবার ডাক্তার। তার চিকিৎসার ধরন বিভিন্ন প্রকারের ও অন্য সকলের থেকে পৃথক। তিনি মানুষের পাকস্থলীর চিকিৎসা এভাবেই করেছেন যে, তাদেরকে ইশার নামাযের পর এমন ব্যায়াম দিয়েছেন, যাতে সেই ক্ষতিকর প্রভাবগুলি দূর হয়ে যায় এবং তারা পূর্বের মতো হাসি-খুশী ও উৎফুল্ল চিত্তে ঘরে ফিরে।
তারাবীহের নামায না হলে সাহরী খাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ত। আর খেতে পারলেও অসংখ্য রোগ-ব্যাধি এসে শরীরে বাসা বাঁধত। তারাবীর নামায না হলে মানুষ খাওয়ার পর শুয়ে পড়ত। ফলে নিম্নোক্ত ব্যাধিসমূহ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল: হৃদরোগ ও সঙ্কীর্ণতা, হৃদকম্পন বৃদ্ধি ও উচ্চ রক্তচাপ, হৃদকম্পন হ্রাস ও নিম্ন রক্তচাপ, পাকস্থলীতে গ্যাস সৃষ্টি, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব, দাঁতের মাড়ীর রোগ বিশেষত পাইওরিয়া, শ্লৈষ্মিক আর্দ্রতা ও স্থায়ী সর্দি, কাশি, দৈহিক অবসন্নতা ও শুষ্কতা, ডাইরিয়া, অতিসার ইত্যাদি।
আপনি একটু উপরিউক্ত মারাত্মক রোগগুলির প্রতি গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন, তা হলে বুঝতে পারবেন, একটি মাত্র সুন্নত তারাবীহ নামায দ্বারা আমরা কতগুলি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছি।
তারাবীহ হল একপ্রকার হালকা ব্যায়াম, যা আদায়ের পর মনে আসে প্রশান্তি আর আরামের ঘুম। ঘুম হয় না এমন রোগীর জন্য তারাবীহ নামায একটি মহৌষধ স্বরূপ। আর স্বপ্নদোষের রোগীদের জন্য তারাবীহ এক অতি কার্যকরী ঔষধ। জনৈক ফার্মাসিস্ট বলেন- তারাবীহ নামাযের দ্বারা যৌনরোগ নিঃশেষ হয়, স্নায়ুবিক আকর্ষণ ও তাপ হ্রাস পায়। উরু ও পায়ের গোছার অস্থি-মজ্জা (Muscles) মজবুত হয়, পাকস্থলীর সমস্যা ও হৃদরোগ হ্রাস পায়। যেহেতু পবিত্র রমাযান মাসে সন্ধ্যার পর শরীরে চলে আসে অবসন্নতা। আর তার সর্বোত্তম চিকিৎসাই হল তারাবীর নামায।