📄 একাগ্রতা, স্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ রোগ-ব্যাধি
অধিকাংশ মানুষ দুনিয়ার ভোগ সামগ্রীর সাথে জড়িত হয়ে উহার ফাঁদে পড়ে বসেছে। যে পরিমাণ দুনিয়ার ফাঁদে পড়েছে, ঠিক সেই পরিমাণ অশান্তি ও অস্থিরতায় ভুগছে। এখন শান্তির অন্বেষণে বেশি পরিমাণ দুনিয়া অর্জন করছে। ফলে আর বেশি পরিমাণে ফাঁদে পড়ছে।
মাছি মিষ্টির উপর এসে বসল। কিছু খেল, কিন্তু পরক্ষণেই ফাঁদে ফসকে পড়ে গেল। এবার বের হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু যত চেষ্টা করে তত বেশি ফসকে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত রেশমপোকার মতো মরে গেলে। মানুষের অবস্থাও তদ্রুপ। এর একমাত্র চিকিৎসা নামায। এ নামাযই শান্তির ফয়সালা করতে পারে। তবে কোন ধরনের নামায এ ভূমিকা পালন করবে? আমার ও আপনার খুশু-খুযু বিহীন নামায? না, কখনো না বরং ওই নামায, যার মধ্যে খুশু ও খুযু রয়েছে।
খুশু আভ্যন্তরীণ প্রশান্তি, ধ্যান ও একাগ্রতার নাম। আর খুযু বাহ্যিক ধারাবাহিকতা ও মনোযোগের নাম। এ দুটি জিনিসই টেলিপেথি, হিপ্লাটিযম ও যোগশাস্ত্রে কাঙ্ক্ষিত আর এগুলোর সমষ্টিই মানবদেহের চিকিৎসা হিসেবে পরিগণিত।
মনোবিজ্ঞানে পারদর্শীগণ এ ব্যাপারে একমত যে, নামায একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশান্তির নাম। বর্তমানে আভ্যন্তরীণ রোগগ্রস্থদেরকে একাগ্রচিত্তে নামায পড়তে উৎসাহ প্রদান করা হয়।
জনৈক মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ বলেন: যদি কোনো মানুষ জানত যে, খুশু ও খুযুর মধ্যে কি উপকার রয়েছে, তা হলে দুনিয়াবী সব কিছু ভুলে যেত।
তিনি আরও বলেন, আমার নিকট জনৈক রোগী আসলে আমি তাকে যাবতীয় ঔষধ সেবন করালাম। কিন্তু কোনো ফল না হওয়ায় তাকে বললাম, আমি তোমাকে তাহাজ্জুদ থেকে আরম্ভ করে আওয়াবীন পর্যন্ত যত প্রকার ফরয ও নফল নামায রয়েছে, সর্বপ্রকার নামায একাগ্রতার সাথে আদায় করার পরামর্শ দিচ্ছি। কিছু দিন পর সেই রোগী আমাকে বলল, আমার ১/৩ অংশ রোগ ভাল হয়ে গিয়েছে।
📄 আহয্যার ইচ্ছা হ্রাস
ফ্রান্সের কমপোর্ট সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী যারা আত্মহত্যার ইচ্ছা পোষণ করে, তাদেরকে এমন মুরাকাবায় লিপ্ত করা প্রয়োজন, যা শুধু নামাযের দ্বারা হাসিল হয় না বরং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় তাদেরকে ধ্যানে লিপ্ত রাখতে হবে। তাদের দৃষ্টি আমলের প্রতি এমনভাবে নিবিষ্ট করতে হবে যাতে তাদের মধ্যে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও ধ্যান সৃষ্টি হয়ে যায়। এতে রোগী নিজে নিজে আত্মহত্যাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে।
ডা. আলেকজাণ্ডার বলেছেন, আমরা ইসলামে আত্মহত্যা কম দেখি। গবেষণা করে দেখা গেল, অযু নামায এবং বিশেষ করে ধ্যানওয়ালা নামাযের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রতি ঝুঁকি কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
📄 স্যার উইলিয়াম ফ্রাঙ্কের গবেষণা
ইউরোপে জনৈক আধ্যাত্মিক রোগ বিশেষজ্ঞ দ্যা রিসার্চ ইন দ্যা ফিনোমেনন অফ স্প্রিচালিজম নামক বইয়ে লিখেছেন- লোভলালসা মিথ্যা, কার্পণ্য, হিংসা-বিদ্বেষ প্রতিশোধ স্পৃহা প্রভৃতি এমন নিম্নমানের ব্যাধি যার কারণে মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, যা থেকে বের হওয়া দুষ্কর। এ থেকে রক্ষা পেতে জীবন বাজি রাখতে হয়। কিন্তু এ লোকটিই যদি মুসলমানদের নামায একাগ্রচিত্তে পড়া শুরু করে দেয়, তাহলে অতি শীঘ্রই উক্ত ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। প্রসিদ্ধ প্রাচ্যবিদ ওয়াইস এডমিরাল তার পুস্তকে লিখেছেন, ধ্যান ও মনোনিবেশ নামাযের অংশ নয় বরং স্থিরতার অংশ। তিনি আরও বলেন, আধ্যাত্মিক জগতের গভীরে পৌঁছতে চাইলে নামায পড়, নামায পড়, নামায পড়।