📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ওয়াশিংটনের জনৈক ডাক্তার ও নামায

📄 ওয়াশিংটনের জনৈক ডাক্তার ও নামায


ওয়াশিংটনে একবার আমার সাথে এক ডাক্তারের সাক্ষাৎ হল। তিনি বললেন: আমার মনের আকাঙ্ক্ষা হল, সমগ্র বিশ্বে নামায চালু হয়ে যাক। আমি বললাম, কেন জনাব? তিনি বললেন, এতে অবর্ণনীয় হেকমত রয়েছে। তিনি ছিলেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। আমাকে বললেন, আপনি তো ই' ঞ্জনিয়ার। তাই আপনি এ হিকমত বুঝবেন। আমি বললাম, বলুন জনাব তিনি বলতে লাগলেন, মানুষের শরীরের বৃত্তের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মানুষের হৃৎপিণ্ডে এমন একটি পাম্প রয়েছে, যেটি কখনো নিজের মধ্যে রক্ত টেনে নেয় আবার কখনো সমগ্র দেহে ছড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ তা হতে সারা দেহে তাজা রক্ত আসা যাওয়া করে। মানুষ যখন বসা অথবা দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে, তখন তুলনামূলকভাবে শরীরের নিম্নভাগে চাপ পড়ে।
তিনি বলেন, ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য একটি উদাহরণ পেশ করছি। মনে করুন, তিন তলা একটি প্রাসাদের নিচ তলায় একটি স্বল্প ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প বসানো আছে। পাম্পটি নিচ তলায় তো পানি পৌঁছাবে, দ্বিতীয় তলায়ও কিছু পানি পৌঁছাবে। কিন্তু তৃতীয় তলায় মোটেও পানি পৌঁছাতে পারবে না। অথচ ওই পাম্পটিই নিচের তলায় পূর্ণরূপে পানি সরবরাহ করছে। এর কারণ, পানি আছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বস্থানে পানি পৌঁছানোর মতো শক্তি তার নেই।
এ উদাহরণটি সামনে রেখে চিন্তা করুন! মানুষের হৃৎপিণ্ড সর্বদা রক্ত সরবরাহ করে এবং এ রক্ত নিম্নভাগের অঙ্গসমূহে সহজেই পৌঁছে যায়। কিন্তু দেহের উপরিভাগে ঠিকমত পৌঁছে না। যখন এমন কোনো পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে, যার মাধ্যমে মাথা নিচের দিকে চলে যায় এবং হৃৎপিণ্ড উপরের দিকে উঠে যায়, তখন রক্ত পরিপূর্ণভাবে মাথার মধ্যে পৌঁছে যায়।
এছাড়া মানুষ যখন সিজদায় যায়, তখন সে নিজেই অনুভব করে, কেমন যেন তার চেহারা রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সিজদা কিছুটা লম্বা হলে মনে হয়, রক্ত চেহারার চিকন রগসমূহেও পরিপূর্ণ রূপে পৌঁছে গেছে। তারপর তিনি আরও বললেন:
সাধারণত মানুষ বসা, দাঁড়ানো শোয়া অবস্থায় থাকে। এ তিন অবস্থায়ই মানুষের হৃৎপিণ্ড নিচে ও মাথা উপরের দিকে থাকে। একটি অবস্থা ই আছে, যখন মাথা নিচের দিকে ও হৃৎপিণ্ড উপরের দিকে থাকে। আর সেটি হল, সিজদাবস্থা। এতে প্রতিটি পেশী, শিরা ও ধমনীতে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছে যায়।
আরেকটি পদ্ধতি হল, মাথা নিচু করে উল্টিয়ে দাঁড়ানো, তবে এটা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। নামাযী ব্যক্তির চেহারা সর্বদা উজ্জল ও নূরানী থাকে। কেননা নামাযে বারবার সিজদা করার ফলে তার সব ক'টি শিরায় রক্ত পৌঁছে যায়। আর যে ব্যক্তি নামায পড়ে না, সে ব্যক্তির চেহারায় একপ্রকার মলিন প্রকাশ পায়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নামায ও আধুনিক বিজ্ঞান (PRAYERS AND MODERN SCIENCE)

📄 নামায ও আধুনিক বিজ্ঞান (PRAYERS AND MODERN SCIENCE)


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নামায একটি পূর্ণ মুরাকাবা

📄 নামায একটি পূর্ণ মুরাকাবা


মোরাকাবাকে বর্তমানে পাশ্চাত্য জগৎ Meditation বা 'ধ্যান' নামে অভিহিত করে। তথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেডিটেশন ক্লাব। নর-নারী সেখানে ভিড় জমায়। একদিন আমি ফ্লাজলফিয়া ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দিচ্ছিলাম। লোকজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “মেডিটেশন” কি? আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তোমরা এ সম্পর্কে কী জান? তারা বলল, প্রতি মহল্লায় মেডিটেশন সেন্টার খোলা হয়েছে।
নর-নারীরা যেখানে গেলে তাদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয় এবং কখনো বলা হয়, নিজ নিজ নাকের ডগায় মনোনিবেশ কর। আবার কখনো বলা হয়, নাভীর দিকে মনোনিবেশ কর ও অন্য সবকিছু ভুলে যাও। আগত লোকজন আধ-এক ঘণ্টা এভাবে বসে থাকে এবং চলে যাওয়ার সময় কিছু পয়সা দিয়ে যায়। তারা কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলে, আমরা এখানে কিছুটা প্রশান্তি (Relax feel) অনুভব করেছি।
এখন চিন্তা করে দেখুন! বিধর্মীরা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের পথেই ফিরে আসছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করার মধ্যে যে শান্তি রয়েছে, তা অন্য কোনো আমলেই নেই।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নামায বিস্ময়ের সমষ্টির নাম

📄 নামায বিস্ময়ের সমষ্টির নাম


ইউরোপে কিছু ক্লাব রয়েছে, যেখানে পয়সা দিয়ে তারা এমন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে, যেখানে তাদেরকে হাসানো হয় এবং তারা হাসতে হাসতে ক্লান্তিময় জীবন ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যায়। পরে আবার সেই পূর্বের বিষণ্ণ জীবন ও আযাবে ফিরে যেতে হয়।
সেখানে এমন সেন্টারও রয়েছে, যেখানে তাদেরকে কাঁদানো হয়। তারা কাঁদতে কাঁদতে নিজেদের শ্রান্তি দূর করে। কিন্তু পেরেশানী কোথায় যাবে? জ্ঞানের চশমা দিয়ে গভীরভাবে অবলোকন করলে দেখা যাবে, নামাযের মধ্যে খুশি (অর্থাৎ আল্লাহ্র নেয়ামতের ওয়াদা) শান্তি ও কান্না (গুনাহের কারণে অশ্রু) রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার ভালবাসা ও সাক্ষাতের অশ্রু নামাযেই বিসর্জন সম্ভম। বস্তুত নামায খুশি ও দুঃখের সংমিশ্রণে গঠিত অবস্থার নাম। এমন দুঃখ, যার পরে শুধু সুখই সুখ। এরপর দুঃখের কোন বস্তু স্পর্শও করবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00