📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের রহস্য
প্রায় প্রতিটি ধর্মমতের অনুসারীগণই একথা স্বীকার করে যে, মানুষ দেহ ও আত্মা, এ দু'য়ের সমষ্টির নাম। ভূমি থেকে উৎপন্ন দ্রব্যাদি হচ্ছে দেহের খাদ্য। পক্ষান্তরে আত্মার খাদ্য হচ্ছে নামায। ইসলামে দেহ এবং রূহ উভয়ের খাদ্যব্যবস্থা রয়েছে। সকালবেলা নাস্তা করে শরীরকে খাদ্য দেওয়া হয় আর নামায পড়ে আত্মিক শক্তির যোগান দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে দুপুর বেলা খানা খেয়ে শরীরে শক্তির সঞ্চার করা হয় আর যোহরের নামায হয় আত্মার খোরাক নামাযী ব্যক্তির জন্যে আছরের নামাযের পুরো সময়টুকু আত্মায় শক্তি সঞ্চারিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। সন্ধ্যার পর অনেক লোক প্রচুর পরিমাণে খানা খেয়ে থাকে। এ কারণে এশার নামাযে রাকাতের সংখ্যা বেশি রাখা হয়েছে।
📄 অন্তরের রোগ থেকে মুক্তি
মনোবিজ্ঞানে পারদর্শী ডাক্তারগণ দীর্ঘ কয়েক বছর প্রচেষ্টা ও গবেষণা করে এমন একটি শারীরিক ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে অন্তরের ব্যাধি অনেকটা হ্রাস পায়। আর সে ব্যায়ামটি নামাযের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আমরা যখন দণ্ডায়মান হই তখন আমাদের শরীরের নিম্নভাগে রক্তের চাপ বেশি থাকে। আবার যখন রুকুতে যাই, তখন শরীরের মধ্যভাগের উপকার হয়। এমনিভাবে যখন আমরা সিজদায় যাই, তখন উপরিভাগে রক্তের চাপ বেশি থাকে।
নামাযের মধ্যে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে পরিমাণ মতো রক্ত আসা যাওয়া করতে পারে এ কারণে কোনো কোনো রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে অন্তরের ব্যাধি। বস্তুত আবেদগণ সাধারণত হালকা পাতলা হয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের অন্তর অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে তারা অন্তরের ব্যাধিতে খুব কমই আক্রান্ত হন।
📄 নামায হাই ব্লাড প্রেসার রোগের চিকিৎসা স্বরূপ
নামাযের জন্য সর্বপ্রথম আমরা অজু করে থাকি। অজু চলাকালীন আমরা যখন নিজেদের চেহারা, কনুই পর্যন্ত হাত ও পা ধৌত করি এবং মাথা মাসাহ করি। তখন আমাদের দেহের চলমান রক্ত এক নবজীবন লাভ করে, যার মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি লাভ হয়। ফলে আমাদের শিরা উপশিরার কর্মধারা প্রভাবান্বিত হয়। এদিকে শিরা ও স্নায়ুর স্থিরতায় মস্তিষ্ক আরাম পায়। আর প্রধান প্রধান অঙ্গসমূহ অর্থাৎ মাথা, ফুসফুস, অন্তর, কলিজা ইত্যাদির কর্ম স্ব-স্ব অবস্থায় চলতে থাকে। তাছাড়া রক্তের উচ্চচাপ কমে গিয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসে। চেহারায় উজ্জ্বলতা, সৌন্দর্য ও কমনীয়তা পরিলক্ষিত হয়। অযুর দ্বারা স্নায়ুর শিথিলতা বিদূরিত হয়, চোখ আকর্ষণীয় হয় ও 'অলসতা দূর হয়। আপনি কখনো পরীক্ষামূলকভাবে হাই প্রেসারের রোগীকে অজু করালে দেখতে পাবেন যে, তার রক্তচাপ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।
📄 দাঁড়িয়ে নামায পড়া গিটের ব্যথার উপশম ঘটায়
নামাযের মাধ্যমে শরীরের সংযোগ অংশের চিকিৎসা সম্ভব। অযু করার পর যখন আমরা নামাযে দণ্ডায়মান হই, তখন প্রথমে আমাদের শরীর ঢিলা হয়ে যায়। কিন্তু নামাযের নিয়ত বাঁধার জন্য যখন আমরা হাত উত্তোলন করি, তখন কুদরতীভাবে দেহে একপ্রকার রূহানী শক্তির সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় মানুষের মধ্যকার আলস্যভাব কেটে যায়। আর হৃৎপিণ্ড থেকে রক্তের চাপ মেরুদণ্ডের দিকে ধাবিত হয়ে প্রতিটি পেশীতে ছড়িয়ে পড়ে। সকলেই জানেন দৈহিক সুস্থতার জন্য মেরুদণ্ডের ভূমিকা অনন্য। পরিপূর্ণ সুস্থতার ভিত্তি মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতার ওপর। নামাযে দণ্ডায়মান হওয়া গিট, টাখনু, পায়ের গোছা, পাঞ্জা ও হাতের জোড়া শক্তিশালী করে। গিটের ব্যথা বিলুপ্ত করে। তবে শর্ত হল, দেহ সোজা থাকা ও পায়ের নলায় বক্রতা সৃষ্টি না হওয়া।