📄 ডা. নূরীর বিশ্লেষণ
মুলতান মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. নূর আহমদ নূর সাহেব নামাযের যে বিশ্লেষণ করেছেন, নিম্নে তা প্রদত্ত হল:
📄 তাহাজ্জুদ নামাযের পার্থিব উপকারিতা
পাশ্চাত্যের ডাক্তারগণ হতাশাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসার আরেকটি তত্ত্ব পেশ করেছেন। খাইবার মেডিকেল কলেজের একজন মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ আমাকে এ বিষয়ে অবগত করেছেন। পাশ্চাত্যের ডাক্তারগণ দেখলেন যে, যেসব মুসলমান তাহাজ্জুদের সময় উঠেন, তারা হতাশাজনিত মানসিক রোগে আক্রান্ত হন না। ফলে তাঁরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, তাহাজ্জুদের সময় জাগ্রত হওয়া নৈরাশ্য রোগ আরোগ্যের অন্যতম মাধ্যম। মনোবিশেষজ্ঞগণ (Psychology) হতাশাজনিত রোগীর ক্ষেত্রে বারবার এটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাঁরা এ ধরনের রোগীদেরকে তাহাজ্জুদের সময় জাগ্রত করতে শুরু করেন। রোগীরা জেগে সামান্য সময় নামায পড়ে আবার শয়ন করত। কয়েক মাস পর্যন্ত নিয়মিত এ আমলটি চালু রাখার কারণে রোগীদের অনেক উপকার হল এবং কোনোরূপ ঔষধ ব্যতীত তারা সুস্থ হয়ে উঠল। শেষ পর্যন্ত পাশ্চাত্যের ডাক্তারগণ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, হতাশাজনিত রোগীর অন্যতম চিকিৎসা অর্ধরাতের পর জাগ্রত হওয়া।
📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের রহস্য
প্রায় প্রতিটি ধর্মমতের অনুসারীগণই একথা স্বীকার করে যে, মানুষ দেহ ও আত্মা, এ দু'য়ের সমষ্টির নাম। ভূমি থেকে উৎপন্ন দ্রব্যাদি হচ্ছে দেহের খাদ্য। পক্ষান্তরে আত্মার খাদ্য হচ্ছে নামায। ইসলামে দেহ এবং রূহ উভয়ের খাদ্যব্যবস্থা রয়েছে। সকালবেলা নাস্তা করে শরীরকে খাদ্য দেওয়া হয় আর নামায পড়ে আত্মিক শক্তির যোগান দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে দুপুর বেলা খানা খেয়ে শরীরে শক্তির সঞ্চার করা হয় আর যোহরের নামায হয় আত্মার খোরাক নামাযী ব্যক্তির জন্যে আছরের নামাযের পুরো সময়টুকু আত্মায় শক্তি সঞ্চারিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। সন্ধ্যার পর অনেক লোক প্রচুর পরিমাণে খানা খেয়ে থাকে। এ কারণে এশার নামাযে রাকাতের সংখ্যা বেশি রাখা হয়েছে।
📄 অন্তরের রোগ থেকে মুক্তি
মনোবিজ্ঞানে পারদর্শী ডাক্তারগণ দীর্ঘ কয়েক বছর প্রচেষ্টা ও গবেষণা করে এমন একটি শারীরিক ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে অন্তরের ব্যাধি অনেকটা হ্রাস পায়। আর সে ব্যায়ামটি নামাযের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আমরা যখন দণ্ডায়মান হই তখন আমাদের শরীরের নিম্নভাগে রক্তের চাপ বেশি থাকে। আবার যখন রুকুতে যাই, তখন শরীরের মধ্যভাগের উপকার হয়। এমনিভাবে যখন আমরা সিজদায় যাই, তখন উপরিভাগে রক্তের চাপ বেশি থাকে।
নামাযের মধ্যে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে পরিমাণ মতো রক্ত আসা যাওয়া করতে পারে এ কারণে কোনো কোনো রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে অন্তরের ব্যাধি। বস্তুত আবেদগণ সাধারণত হালকা পাতলা হয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের অন্তর অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে তারা অন্তরের ব্যাধিতে খুব কমই আক্রান্ত হন।