📄 মাগরিবের নামায ও আধ্যাত্মিক রশি
মানুষ এজন্য আল্লাহ তা'আলার প্রতি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে যে, তিনি তাকে রিযিক দিয়েছেন এবং কায়-কারবারের মাধ্যমে তার ও তার পরিবার-পরিজনদের প্রয়োজনীয় উপকরণাদির সুব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পাশাপাশি সে সীমাহীন আনন্দিতও হয়। ফলে তার মধ্যে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলার ওই সকল গুণাবলীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেগুলো দ্বারা তিনি এ বিশ্ব-ভুমণ্ডলকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ সকল অবস্থা নিয়ে সে যখন মাগরিবের নামায আদায় করে তার পরিবার-পরিজনদের নিকট গমন করে এবং তাদের সাথে বিভিন্ন প্রকার কথাবার্তা বলতে থাকে, তখন তার আভ্যন্তরীণ আলোক রশ্মিগুলো তাদের উপর বিচ্ছুরিত হয় এবং এ রশ্মির প্রভাবে ছেলে-মেয়েদের অন্তরে পিতা-মাতার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ জন্ম লাভ করে। তখন তারা অজান্তেই পিতা-মাতার সদাভ্যাসগুলোও উত্তমরূপে গ্রহণ করে নেয়। তাছাড়া এর ফলে তাদের মনে মা-বাবাকে ভালবাসা ও মহব্বতের তীব্র আগ্রহও সৃষ্টি হয়।
মোটকথা, এহতেমাম ও গুরুত্বের সাথে মাগরিবের নামায আদায়কারী ব্যক্তির সন্তানগণ সৌভাগ্যশীল ও পিতামাতার অনুগত হয়ে থাকে।
📄 ঈশার নামায
মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই লোভী। সে যখন দুনিয়ার কাজকর্ম থেকে অবসর হয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন করে এবং খানা খেতে বসে, তখন মজা ও লোভের বশীভূত হয়ে সে বেশি খেয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় যদি সে খানা খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ে, তা হলে তার নানাবিধ ধ্বংসাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে তাকে এশার নামায পড়ার বিধান দিয়েছেন, যাতে খানা ও শোয়ার মাঝে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তাছাড়া মানুষ যদি গোটা দিনের ক্লান্তিকর মস্তিষ্ক নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে, তা হলে সে আরামে ঘুমাতে পারবে না। সুতরাং নামাযের মধ্যে তার আরাম মিলবে।
অতএব দেখা যাচ্ছে, খানা এবং আরামের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নামাযের মাধ্যমে হয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু ইশার নামায আদায় করে সে যখন ঘুমাল, তখন যেমনিভাবে ভোর বেলা উঠেই ফজর নামাযের মাধ্যমে তার কিছুটা হালকা ব্যায়াম হয়ে যায়, তেমনি ইশার নামাযের পূর্ণ ব্যায়ামও তাকে অনাবিল প্রশান্তিতে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান যুগে ডাক্তারগণ শোয়ার পূর্বে কিছু হালকা ব্যায়ামের প্রতি গুরুত্বারোপ করে থাকেন। অনেকে তো আরোও বলেন, শোয়ার পূর্বে নামাযের চেয়ে উত্তম ও উৎকৃষ্ট কোনো ব্যায়াম নেই।
📄 তাহাজ্জুদ নামায
ধর্মপ্রাণ অভিজ্ঞ ডাক্তারগণ বিভিন্ন গ্রন্থে তাহাজ্জুদ নামাযের নিম্নলিখিত উপকারগুলো বর্ণনা করেছেন-
১। তাহাজ্জুদ নামায অশান্তি ও অনিদ্রার মহৌষধ।
২। মানসিক রোগের জন্য এটা অব্যর্থ ঔষধ।
৩। রগের টানাপোড়েন রোগের জন্যও এটা পরম উপকারী।
৪। মস্তিষ্কের চিকিৎসা বিশেষ করে পাগলদের জন্য এটা সর্বশেষ চিকিৎসা।
৫। দৃষ্টিশক্তির সমস্যাগ্রস্ত লোকদের জন্যও তাহাজ্জুদ নামায উপকারী।
৬। তাহাজ্জুদ নামায মানবদেহে আনন্দ, উৎসাহ, কর্মস্পৃহা ও সীমাহীন শক্তি সঞ্চার করে, যা তাকে গোটা দিন হাসি-খুশি ও উৎফুল্ল রাখে।