📄 যোহরের নামায
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোকজন কামাই রোজগারে ব্যস্ত থাকে। ফলে এ সময় তাদের শরীরে ধুলাবালি, মাটি প্রভৃতি লাগতে থাকে। কোনো কোনো সময় বাতাসের মাধ্যমেও উড়ে এসে এরূপ বিষাক্ত পদার্থ দেহের খোলা অংশে, চেহারা ও হাতে লেগে যায়। যদি তা অধিক সময় দেহের সাথে লেগে থাকে, তবে মানুষের ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় যদি মানুষ ওযু করে, তাহলে এর দ্বারা যাবতীয় বিষাক্ত পদার্থ, ময়লা ও ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং সে নব উদ্যমে কর্ম সম্পাদনের মতো এক নতুন ও আনন্দময় জীবন লাভ করে।
সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে যখন সূর্যের প্রখর উত্তাপ কমতে থাকে, তখন ভূ-পৃষ্ঠ থেকে একপ্রকার গ্যাস নির্গত হয়। এ গ্যাস খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে। যদি মানব দেহ তাতে প্রভাবিত হয়, তা হলে সে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের সুস্থতা এমনভাবে বিঘ্নিত হয় যে, তখন তাকে পাগলের মতো মনে হয়। সুতরাং এ সময় যদি কোনো লোক একাগ্রচিত্তে মহাপ্রভুর ইবাদত তথা নামাযে মশগুল হয়ে পড়ে, তাহলে নামাযের কারণে নির্গত নূরানী ও আলোকোজ্জ্বল রশ্মিগুলো ওই ভয়ানক ও ক্ষতিকর গ্যাস থেকে তাকে হেফাযত করে। উক্ত গ্যাস তার কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করতে পারে না।
📄 আছরের নামায
ভূ-পৃষ্ঠ স্থির নয় বরং সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সর্বদ সে চলছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার এ চলা অব্যাহত থাকবে। ভূ-পৃষ্ঠ দু'ভাবে পরিভ্রমণ করছে। চক্রাকারে এবং লম্বালম্বিভাবে। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর ভূ-পৃষ্ঠের চক্রাকারে পরিভ্রমণে কমতি আসে এবং ক্রমান্বয়ে তা আরও বেশি কমে যায়। এমনকি আছরের সময় কমার পরিমাণ এত অল্প হয়ে যায় যে, দেহের ইন্দ্রিয়গুলোতে এর প্রভাব পড়ে।
মানুষ, জীবজন্তু, পশু-পাখি সকলের উদ্যম ও অনুভূতি শক্তিও তখন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। প্রত্যেক অনুভূতি সম্পন্ন মানুষই টের পায় যে, আছরের সময় তাদের ক্লান্তি, অস্থিরতা ও অলসতা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। সুতরাং যখন মানুষ আছরের নামায আদায় করে, তখন এর দ্বারা যাবতীয় ক্লান্তি ও অলসতা দূর হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে কোনো খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না। শুধু তাই নয়, ওযু এবং আছরের নামায আদায়কারী ব্যক্তির অনুভূতিতে এমন এক নতুন শক্তির সঞ্চার হয়, যা দ্বারা যাবতীয় ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার সাথে সাথে আত্মিক শক্তিও বৃদ্ধি পায় এবং মন-মস্তিষ্কে প্রবল কর্মস্পৃহা জাগ্রত হয়।
📄 দরূদ শরীফের আশ্চর্য ফল
একদা আমার নিকট একজন নেতৃস্থানীয় লোক চিকিৎসার জন্য আগমন করে। তার রোগ ছিল আছরের সময় মস্তিষ্কের চাপ, অস্থিরতা ও অশান্তি লাগা এবং ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পাওয়া। এভাবে কিছু সময় থাকার পর মাগরিবের পরে তা আবার ভাল হয়ে যেত। আমি তাকে চিকিৎসাস্বরূপ কিছু ঔষধ প্রদান করি আর বেশি বেশি দরূদ শরীফ পড়ার নির্দেশ দিই। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই উক্ত রোগী বিস্ময়করভাবে মুক্তি লাভ করে।
📄 আছরের নামাযের পর অযীফা পড়ার কারণ
আছরের নামাযের পর কিছুক্ষণ তাসবীহ-তাহলীল ও যিকির-আযকার করা এবং এরপর দু'আ করা শরি'অতের নির্দেশ। এ যিকির ও অযীফার কারণে আগত নুরানী রশ্মিগুলো জমীনের নড়াচড়া করে। ফলে ওই নির্গত গ্যাসের ভয়ানক প্রতিক্রিয়া থেকে মানুষ রক্ষা পায়।
আল্লাহওয়ালা ও বুযুর্গ লোকদের দেখা যায়, তারা আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বিভিন্ন যিকির-আযকারে ও অযীফা আদায়ে মশগুল থাকেন। এর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি হল, তারা এসব অযীফা ও যিকির-আযকারের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের চক্রাকারে ও লম্বালম্বি ঘুরপাকের ফলে সৃষ্ট যাবতীয় ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেন।