📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 সময়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

📄 সময়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য


মানুষকে প্রাকৃতিকভাবেই নড়াচড়া করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানবদেহ যাবতীয় স্থবির ও জড় দেহের বিপরীত। মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নড়াচড়ার মধ্যেই নিহিত। আর বারবার এ নড়াচড়াই হচ্ছে নামায। আল্লাহ্ তা'আলা মানবজীবনের যাবতীয় কার্যাবলী সম্পর্কে সম্যক অবগত। বিধায় তিনি তার জন্য নামাযের সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ফজরের নামায

📄 ফজরের নামায


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাতের শেষ লগ্নে ফজরের নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় মানুষ রাতের আরাম শেষে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের নিয়ম হল, যে কোনো ব্যায়াম করার নিমিত্তে খুব ধীরে ধীরে অঙ্গ সঞ্চালন করতে হয় এবং পরে আস্তে আস্তে তা বাড়াতে হয়। এমনকি দৌড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রথমে আস্তে আস্তে তারপর আরেকটু জোরে তারপর আরও জোরে অর্থাৎ ধীরে ধীরে দৌড়ের গতিবেগ বৃদ্ধি করা হয়। সুতরাং মানুষ যদি ঘুম থেকে উঠেই সতের রাকাত নামায পড়ে, তাহলে তার দৈহিক শক্তি অতি তাড়াতাড়ি লোপ পেয়ে যাবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
তাছাড়া একদিকে সারারাত নিদ্রা যাওয়ার পর ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় পেট খাদ্যশূন্য থাকে। অপরদিকে দেহের যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাতভর কর্মহীন নিশ্চল থাকে। সুতরাং এমতাবস্থায় ঘুম থেকে উঠার পর পরই যদি এগুলোকে হঠাৎ বেশি পরিমাণে নাড়াচাড়া করা হয়, তাহলে অবশ্যই দেহের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা ফজরের নামাযকে খুবই সংক্ষিপ্ত রেখেছেন।
ফজরের নামাযের মূল উদ্দেশ্য হল মুসলমানদেরকে পাক-পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে আকৃষ্ট করা। সুতরাং যদি তারা নামাযের জন্য অযু ও মিস্তয়াক না করে এবং এ অবস্থায় সকালের নাস্তা খেয়ে নেয় তাহলে রাতের বেলায় ঘুমের সময় মুখে সৃষ্ট বিশেষ এক শ্রেণীর ব্যাকটেরিয়া খাবার ও পানির সাথে ভিতরে প্রবেশ করে। ফলে পাকস্থলি ফুলে যাওয়া, নাড়ি ভুড়িতে জ্বালা ধরা এবং আলসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দেয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 যোহরের নামায

📄 যোহরের নামায


সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোকজন কামাই রোজগারে ব্যস্ত থাকে। ফলে এ সময় তাদের শরীরে ধুলাবালি, মাটি প্রভৃতি লাগতে থাকে। কোনো কোনো সময় বাতাসের মাধ্যমেও উড়ে এসে এরূপ বিষাক্ত পদার্থ দেহের খোলা অংশে, চেহারা ও হাতে লেগে যায়। যদি তা অধিক সময় দেহের সাথে লেগে থাকে, তবে মানুষের ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় যদি মানুষ ওযু করে, তাহলে এর দ্বারা যাবতীয় বিষাক্ত পদার্থ, ময়লা ও ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং সে নব উদ্যমে কর্ম সম্পাদনের মতো এক নতুন ও আনন্দময় জীবন লাভ করে।
সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে যখন সূর্যের প্রখর উত্তাপ কমতে থাকে, তখন ভূ-পৃষ্ঠ থেকে একপ্রকার গ্যাস নির্গত হয়। এ গ্যাস খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে। যদি মানব দেহ তাতে প্রভাবিত হয়, তা হলে সে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের সুস্থতা এমনভাবে বিঘ্নিত হয় যে, তখন তাকে পাগলের মতো মনে হয়। সুতরাং এ সময় যদি কোনো লোক একাগ্রচিত্তে মহাপ্রভুর ইবাদত তথা নামাযে মশগুল হয়ে পড়ে, তাহলে নামাযের কারণে নির্গত নূরানী ও আলোকোজ্জ্বল রশ্মিগুলো ওই ভয়ানক ও ক্ষতিকর গ্যাস থেকে তাকে হেফাযত করে। উক্ত গ্যাস তার কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করতে পারে না।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আছরের নামায

📄 আছরের নামায


ভূ-পৃষ্ঠ স্থির নয় বরং সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সর্বদ সে চলছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার এ চলা অব্যাহত থাকবে। ভূ-পৃষ্ঠ দু'ভাবে পরিভ্রমণ করছে। চক্রাকারে এবং লম্বালম্বিভাবে। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর ভূ-পৃষ্ঠের চক্রাকারে পরিভ্রমণে কমতি আসে এবং ক্রমান্বয়ে তা আরও বেশি কমে যায়। এমনকি আছরের সময় কমার পরিমাণ এত অল্প হয়ে যায় যে, দেহের ইন্দ্রিয়গুলোতে এর প্রভাব পড়ে।
মানুষ, জীবজন্তু, পশু-পাখি সকলের উদ্যম ও অনুভূতি শক্তিও তখন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। প্রত্যেক অনুভূতি সম্পন্ন মানুষই টের পায় যে, আছরের সময় তাদের ক্লান্তি, অস্থিরতা ও অলসতা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। সুতরাং যখন মানুষ আছরের নামায আদায় করে, তখন এর দ্বারা যাবতীয় ক্লান্তি ও অলসতা দূর হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে কোনো খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না। শুধু তাই নয়, ওযু এবং আছরের নামায আদায়কারী ব্যক্তির অনুভূতিতে এমন এক নতুন শক্তির সঞ্চার হয়, যা দ্বারা যাবতীয় ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার সাথে সাথে আত্মিক শক্তিও বৃদ্ধি পায় এবং মন-মস্তিষ্কে প্রবল কর্মস্পৃহা জাগ্রত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00