📄 ফলাফল
| | চার সপ্তাহ চিকিৎসার পর আরোগ্য লাভকারী রোগীর সংখ্যা | আরোগ্যহীন রোগীর সংখ্যা | মোট |
| :--- | :--- | :--- | :--- |
| মুতালাআত জামাত | ২৫ | ০৭ | ৩২ |
| নেগরান জামাত | ০৫ | ২৭ | ৩২ |
| সর্বমোট | ৩০ | ৩৪ | ৬৪ |
উপরিউক্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মুতালাআতী জামাতের ৩২ জন রোগীর মধ্যে ২৫ জন অর্থাৎ শতকরা ৭৮ জন (১৫ জন পুরুষ ও ১০ জন মহিলা) তাদের রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছে এবং অবশিষ্ট ৭ জন রোগীর অবস পরিবর্তন হয় নি।
পক্ষান্তরে নেগরান জামাতের ৩২জন রোগী থেকে মাত্র ৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছে। আর অবশিষ্ট ২৭ জন রোগীই (শতকরা ৮৪ জন ১৬ জন পুরুষ ও ১১ জন মহিলা) সুস্থ হয় নি।
তাহাজ্জুদ নামায মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দীনী আমল। যেমন, আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াতে বলেছেন- "আর রাতের বেলায় আপনি তাহাজ্জুদ নামায পড়বেন (যা) আপনার জন্য অতিরিক্ত।” (বনী ইসরাঈল- ৭৯)
তাহাজ্জুদ নামায রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে সরল ও সোজা পথের মতো পথ প্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, বিশ্বাস ও মহব্বতের সাথে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে, তা হলে অবশ্যই সে সুখময় জীবন লাভ করবে এবং তার দেহে বিভিন্ন রোগের প্রতিক্রিয়াও কম হবে। কেননা এসব লোক যিকরে ইলাহীর মাধ্যমে অন্তরের এক অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করে।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর আমি কুরআনের মধ্যে এমন সব জিনিস অবতীর্ণ করেছি, যেগুলো ঈমানদার লোকদের জন্য শিফা ও রহমত।”
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। তা হচ্ছে, মুসলমানগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, রোগ-শোক, বালা-মসিবত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই আসে। আমরা যখন খাঁটি দিলে খালেছ নিয়তে যাবতীয় ভুলত্রুটি স্বীকার করে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং পরিপূর্ণ সুস্থ্যতার জন্য কায়মনোবাক্যে দু'আ করব, তখন আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তিনি তাঁর সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের যাবতীয় সমস্যা ও কষ্ট-মসিবত দূর করে দিবেন।
তাহাজ্জুদের মাধ্যমে রোগমুক্তি মূলত একটি আত্মিক চিকিৎসা। আর এ চিকিৎসা পদ্ধতি পবিত্র কুরআন থেকেই চয়িত। প্রত্যেক মুসলমান বিশ্বাস করে, আমি কেবলই আল্লাহ্ তা'আলারই একজন অধম বান্দা। আমার জীবন-মরণ সব কিছু একমাত্র তাঁরই হাতে। আমার জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কেবল তিনিই করে থাকেন। পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদীস শরীফ থেকে চয়িত ধর্মীয় পদ্ধতিতে এ চিকিৎসা যা বাস্তবিকই বর্তমান কালের অন্যান্য চিকিৎসা থেকে বহুগুণে উন্নত।
মোটকথা, এমন কোনো রোগ নেই, যার কোনো চিকিৎসা নেই। যেমন : হাদীস শরীফে আছে, প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা সকল রোগীকে শেফা দান করুন।
অবশ্য বহু রোগ আছে, যেগুলোর সঠিক ও সফল চিকিৎসা মানুষ আজও বের করতে সক্ষম হয় নি। যেমন: ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি। কিন্তু উপরিউক্ত হাদীসের আলোকে অকুণ্ঠ বলা যায়, এ সকল রোগেরও ঔষধ রয়েছে। সুতরাং মানসিক রোগের উত্তম চিকিৎসা অন্তরের প্রশান্তির মধ্যে। যিকির ও নামাযের মাধ্যমে তা লাভ করা সম্ভব। তাই আমরা যদি পূর্ণরূপে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো মেনে চলি, তা হলে ইন্শাআল্লাহ আমরা যাবতীয় রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারব। কুরআন-হাদীস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শই এ কথার জ্বলন্ত প্রমাণ। (মাসিক ইশরাক)