📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নামায এবং দেওয়ান শিং মাফতুন

📄 নামায এবং দেওয়ান শিং মাফতুন


প্রখ্যাত সাংবাদিক দেওয়ান শিং মাফতুন ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা ভারতীয় নেতা। তিনি তার প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচারিত গ্রন্থ রিয়াসাত এ লিখেছেন, নামায এমন এক আমল যা মানুষকে সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি শৃঙ্খলা শিখতে চায়, সে যেন নামাযের মধ্যে চিন্তা ফিকির করে।
নামায বাদশাহ এবং ফকীরের পার্থক্যকে খতম করে দেয়। কেননা বাদশাহ্ ফকীর, ধনী-দরিদ্র, উস্তাদ-শাগরেদ নামাযের একই কাতারে দণ্ডায়মান হয়। যদি সমস্ত মুসলমান নামায পড়তে শুরু করে, তাহলে তারাই সমগ্র বিশ্বে বিজয়ী হবে। যেমন : তাদের পবিত্র কুরআনে একথা বর্ণিত আছে। দৈহিক আরাম ও সামাজিক ত্রুটি সংশোধনের জন্য নামায এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা খুশি হোন এবং সৃষ্টি জগতও খুশি হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 নামায ও মানসিক রোগের চিকিৎসা

📄 নামায ও মানসিক রোগের চিকিৎসা


মানসিক রোগীদের জন্য আল্লামা ইকবাল কলেজ হাসপাতাল লাহোরের মানসিক ও মস্তিষ্ক চিকিৎসা শাখায় এক গবেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ৮ থেকে ৯ মাস ব্যাপী এ প্রোগ্রাম চলে।
প্রথমে সমস্ত রোগীকে একত্রিত করে দুটি জামাতে বা দলে বিভক্ত করা হয় এবং প্রথম ও দ্বিতীয় জামাতের নাম যথাক্রমে এলাজ বিত তাহাজ্জুদ জামাত (মুতালাআতি জামাত) ও জুযবী মাহরুমী খাব জামাত (নেরানী জামাত) রাখা হয়। রোগীদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ৬৪ জন এবং প্রত্যেক জামাতে রোগীর সংখ্যা ছিল ৩২ জন করে। এ ৩২ জনের মধ্যে আবার ২০ জন পুরুষ এবং ১২ জন মহিলা ছিল।
উল্লেখ্য যে, এসব মানসিক রোগীকে সম্ভাব্য সকল প্রকার চিকিৎসা ও বিভিন্ন ধরনের ঔষধপত্র খাওয়ানোর পরও যখন কোনো উপকার হচ্ছিল না, তখনই তাদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চিকিৎসার এ নব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এ পরীক্ষা চালানোর সময় তাদের জন্য অন্যান্য সকল প্রকার ঔষধ সেবন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং উভয় জামাতের সকল রোগীর জন্য রাত ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত রাত্রিজাগরণ অত্যাবশ্যক করা হয়।
প্রথম অর্থাৎ মুতালাআতি জামাতকে উক্ত সময়ে যিকির, ইবাদত, কালামে পাক তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও নির্ধারিত কিছু আয়াত বার বার পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তাছাড়া রোগীদেরকে আরও বলে দেওয়া হয় যে, তারা যেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে যিকির ও অন্যান্য ইবাদতে মনোনিবেশ করে এবং মহান আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের আশায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রাণপণ চেষ্টা করে।
এদিকে দ্বিতীয় জামাতের জন্যও ২ঘণ্টা রাত্রিজাগরণ অত্যাবশ্যক ছিল। কিন্তু তাদেরকে প্রথম জামাতের ন্যায় যিকির, অযীফা, তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয় নি বরং তাদেরকে এ দুঘণ্টা অবসর বসে না থেকে ঘরের ছোট-খাট কাজ-কর্ম কিংবা পড়া লেখার কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ফলাফল

📄 ফলাফল


| | চার সপ্তাহ চিকিৎসার পর আরোগ্য লাভকারী রোগীর সংখ্যা | আরোগ্যহীন রোগীর সংখ্যা | মোট |
| :--- | :--- | :--- | :--- |
| মুতালাআত জামাত | ২৫ | ০৭ | ৩২ |
| নেগরান জামাত | ০৫ | ২৭ | ৩২ |
| সর্বমোট | ৩০ | ৩৪ | ৬৪ |

উপরিউক্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মুতালাআতী জামাতের ৩২ জন রোগীর মধ্যে ২৫ জন অর্থাৎ শতকরা ৭৮ জন (১৫ জন পুরুষ ও ১০ জন মহিলা) তাদের রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছে এবং অবশিষ্ট ৭ জন রোগীর অবস পরিবর্তন হয় নি।
পক্ষান্তরে নেগরান জামাতের ৩২জন রোগী থেকে মাত্র ৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছে। আর অবশিষ্ট ২৭ জন রোগীই (শতকরা ৮৪ জন ১৬ জন পুরুষ ও ১১ জন মহিলা) সুস্থ হয় নি।
তাহাজ্জুদ নামায মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দীনী আমল। যেমন, আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াতে বলেছেন- "আর রাতের বেলায় আপনি তাহাজ্জুদ নামায পড়বেন (যা) আপনার জন্য অতিরিক্ত।” (বনী ইসরাঈল- ৭৯)
তাহাজ্জুদ নামায রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে সরল ও সোজা পথের মতো পথ প্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, বিশ্বাস ও মহব্বতের সাথে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে, তা হলে অবশ্যই সে সুখময় জীবন লাভ করবে এবং তার দেহে বিভিন্ন রোগের প্রতিক্রিয়াও কম হবে। কেননা এসব লোক যিকরে ইলাহীর মাধ্যমে অন্তরের এক অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করে।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- "আর আমি কুরআনের মধ্যে এমন সব জিনিস অবতীর্ণ করেছি, যেগুলো ঈমানদার লোকদের জন্য শিফা ও রহমত।”
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। তা হচ্ছে, মুসলমানগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, রোগ-শোক, বালা-মসিবত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই আসে। আমরা যখন খাঁটি দিলে খালেছ নিয়তে যাবতীয় ভুলত্রুটি স্বীকার করে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং পরিপূর্ণ সুস্থ্যতার জন্য কায়মনোবাক্যে দু'আ করব, তখন আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তিনি তাঁর সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের যাবতীয় সমস্যা ও কষ্ট-মসিবত দূর করে দিবেন।
তাহাজ্জুদের মাধ্যমে রোগমুক্তি মূলত একটি আত্মিক চিকিৎসা। আর এ চিকিৎসা পদ্ধতি পবিত্র কুরআন থেকেই চয়িত। প্রত্যেক মুসলমান বিশ্বাস করে, আমি কেবলই আল্লাহ্ তা'আলারই একজন অধম বান্দা। আমার জীবন-মরণ সব কিছু একমাত্র তাঁরই হাতে। আমার জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কেবল তিনিই করে থাকেন। পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদীস শরীফ থেকে চয়িত ধর্মীয় পদ্ধতিতে এ চিকিৎসা যা বাস্তবিকই বর্তমান কালের অন্যান্য চিকিৎসা থেকে বহুগুণে উন্নত।
মোটকথা, এমন কোনো রোগ নেই, যার কোনো চিকিৎসা নেই। যেমন : হাদীস শরীফে আছে, প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা সকল রোগীকে শেফা দান করুন।
অবশ্য বহু রোগ আছে, যেগুলোর সঠিক ও সফল চিকিৎসা মানুষ আজও বের করতে সক্ষম হয় নি। যেমন: ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি। কিন্তু উপরিউক্ত হাদীসের আলোকে অকুণ্ঠ বলা যায়, এ সকল রোগেরও ঔষধ রয়েছে। সুতরাং মানসিক রোগের উত্তম চিকিৎসা অন্তরের প্রশান্তির মধ্যে। যিকির ও নামাযের মাধ্যমে তা লাভ করা সম্ভব। তাই আমরা যদি পূর্ণরূপে ইসলামের বিধি-বিধানগুলো মেনে চলি, তা হলে ইন্‌শাআল্লাহ আমরা যাবতীয় রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারব। কুরআন-হাদীস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শই এ কথার জ্বলন্ত প্রমাণ। (মাসিক ইশরাক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00