📄 তাকবীরে তাহরীমার সময় মাথা না ঝুঁকানো
তাকবীরে তাহরীমার সময় যদি মাথা ডান-বাম বা নিচের দিকে ঝুঁকানো হয়, তা হলে যে সকল উপকারিতার কথা হস্তদ্বয়কে কান পর্যন্ত উঠানোর আলোচনায় বর্ণনা করা হয়েছে, তা পূর্ণরূপে অর্জিত হবে না। উপরন্তু এরূপ করার দ্বারা ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ, যা নামাযের মূল মাকসাদ তাও ব্যাহত হবে।
📄 ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখা
ইসলাম যাবতীয় ভালো কাজে ডান হাত ব্যবহারের জোর তাগিদ দিয়েছে। কেননা ডান হাতে বরকত রয়েছে। বস্তুত মানবদেহে যতগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে, তন্মধ্যে ডান দিকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বাম দিকের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে একটু পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। বিশেষ করে ডান হাত থেকে এক প্রকার অদৃশ্য আলোকরশ্মি নির্গত হয়, যা ইতিবাচক (Positive) হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে বাম হাত থেকে যে রশ্মি নির্গত হয়, তা (Negative) বা নেতিবাচক হয়ে থাকে।
নামাযের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখতে হয়। আর দৃষ্টি বাম হাতের উপর স্থাপিত ডান হাতের উপর দিয়ে সিজদার স্থানে পতিত হলে উক্ত দৃষ্টি (Positive বা) ইতিবাচক তরঙ্গমালা অতিক্রম করে যা চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই ডান হাতকে বাম হাতের উপরে বাঁধার বিধান দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখার আরেকটি উপকারিতা রয়েছে। তা হল, ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখার ফলে ডান থেকে এক প্রকার শক্তি উৎপাদন করে। ফলে হাত দ্বারা দৈনন্দিন বিভিন্ন কার্যাবলী হয় না। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো চিকিৎসক ডান হাতের প্যারালাইসিস রোগীদের জন্য এ পরামর্শ দিয়েছেন যে, তারা যেন ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে কিছুক্ষণ বসে থাকে। কেননা এর দ্বারা এক হাত থেকে নির্গত অদৃশ্য আলোক রশ্মিগুলো অপর হাতে স্থানান্তরিত হয়ে হাত নড়াচড়া করার শক্তি সঞ্চয়ে সহায়তা করে।
📄 নামায এবং দেওয়ান শিং মাফতুন
প্রখ্যাত সাংবাদিক দেওয়ান শিং মাফতুন ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা ভারতীয় নেতা। তিনি তার প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচারিত গ্রন্থ রিয়াসাত এ লিখেছেন, নামায এমন এক আমল যা মানুষকে সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি শৃঙ্খলা শিখতে চায়, সে যেন নামাযের মধ্যে চিন্তা ফিকির করে।
নামায বাদশাহ এবং ফকীরের পার্থক্যকে খতম করে দেয়। কেননা বাদশাহ্ ফকীর, ধনী-দরিদ্র, উস্তাদ-শাগরেদ নামাযের একই কাতারে দণ্ডায়মান হয়। যদি সমস্ত মুসলমান নামায পড়তে শুরু করে, তাহলে তারাই সমগ্র বিশ্বে বিজয়ী হবে। যেমন : তাদের পবিত্র কুরআনে একথা বর্ণিত আছে। দৈহিক আরাম ও সামাজিক ত্রুটি সংশোধনের জন্য নামায এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা খুশি হোন এবং সৃষ্টি জগতও খুশি হয়।
📄 নামায ও মানসিক রোগের চিকিৎসা
মানসিক রোগীদের জন্য আল্লামা ইকবাল কলেজ হাসপাতাল লাহোরের মানসিক ও মস্তিষ্ক চিকিৎসা শাখায় এক গবেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ৮ থেকে ৯ মাস ব্যাপী এ প্রোগ্রাম চলে।
প্রথমে সমস্ত রোগীকে একত্রিত করে দুটি জামাতে বা দলে বিভক্ত করা হয় এবং প্রথম ও দ্বিতীয় জামাতের নাম যথাক্রমে এলাজ বিত তাহাজ্জুদ জামাত (মুতালাআতি জামাত) ও জুযবী মাহরুমী খাব জামাত (নেরানী জামাত) রাখা হয়। রোগীদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ৬৪ জন এবং প্রত্যেক জামাতে রোগীর সংখ্যা ছিল ৩২ জন করে। এ ৩২ জনের মধ্যে আবার ২০ জন পুরুষ এবং ১২ জন মহিলা ছিল।
উল্লেখ্য যে, এসব মানসিক রোগীকে সম্ভাব্য সকল প্রকার চিকিৎসা ও বিভিন্ন ধরনের ঔষধপত্র খাওয়ানোর পরও যখন কোনো উপকার হচ্ছিল না, তখনই তাদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চিকিৎসার এ নব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এ পরীক্ষা চালানোর সময় তাদের জন্য অন্যান্য সকল প্রকার ঔষধ সেবন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং উভয় জামাতের সকল রোগীর জন্য রাত ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত রাত্রিজাগরণ অত্যাবশ্যক করা হয়।
প্রথম অর্থাৎ মুতালাআতি জামাতকে উক্ত সময়ে যিকির, ইবাদত, কালামে পাক তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও নির্ধারিত কিছু আয়াত বার বার পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তাছাড়া রোগীদেরকে আরও বলে দেওয়া হয় যে, তারা যেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে যিকির ও অন্যান্য ইবাদতে মনোনিবেশ করে এবং মহান আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের আশায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রাণপণ চেষ্টা করে।
এদিকে দ্বিতীয় জামাতের জন্যও ২ঘণ্টা রাত্রিজাগরণ অত্যাবশ্যক ছিল। কিন্তু তাদেরকে প্রথম জামাতের ন্যায় যিকির, অযীফা, তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয় নি বরং তাদেরকে এ দুঘণ্টা অবসর বসে না থেকে ঘরের ছোট-খাট কাজ-কর্ম কিংবা পড়া লেখার কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।