📄 হতবাক এক ফিজিওথেরাপিস্ট
একজন পাকিস্তানী ডাক্তার (ডা. মাজেদ যামান উসমানী) ইউরোপে ফিজিওথেরাপীতে উচ্চ ডিগ্রী অর্জনের জন্য গমন করেন। সেখানে তাকে হুবহু নামাযের মতো একটি ব্যায়াম পড়ানো হল তখন তিনি ওই ব্যায়াম দেখে হতবাক হয়ে পড়লেন; আশ্চর্য! আমরা তো এতদিন পর্যন্ত নামাযকে শুধু ধর্মীয় কতব্য মনে করেই আদায় করে আসছিলাম। কিন্তু এখন তো দেখছি এর মধ্যে আশ্চর্যজনক রহস্য আছে। এর দ্বারা বড় বড় রোগ-ব্যাধি নিঃশেষ হয়ে যায়। এ ব্যায়াম দ্বারা যে যে রোগ নিরাময় হয়, ডাক্তার সাহেব তার একটি লিস্ট দিলেন:
(১) মানসিক রোগ (Mental Disease) (২) স্নায়ুবিক রোগ (Nerve Disease) (৩) অস্থিরতা, ডিপ্রেশন, ব্যাকুলতার রোগ (৪) মনস্তাত্ত্বিক রোগ (Psychiatric Diseases) (৫) হার্ট এর রোগ (Heart Diseases) (৬) জোড়া রোগ (Arthritis) (৭) ইউরিক এসিড থেকে সৃষ্ট রোগ (Deseases Due to Uric Acid) (৮) পাকস্থলী ও আলসার রোগ (Stomach Ulcer) (৯) ডায়াবেটিস ও তার প্রভাব (Sugar and Its After Effects) (১০) চক্ষু ও গলা রোগ (Eye and E.N.T. Diseases)
📄 একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা (SPECIAL EXPERIENCE)
আমি যেহেতু গবেষণার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তাই বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে প্রতিটি বস্তুকে দেখি। অভিজ্ঞতার আলোকে একথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, আপনি যদি সারা দিন কাজ কারবারে নিমজ্জিত থাকার পর যোহরের সময় মসজিদে গিয়ে সুন্নত নামায আদায় করে জামাতের সাথে নামায পড়ার পর দেহের পূর্বের ও বর্তমান অবস্থার উপর অনুমান করে দেখেন, তা হলে বিরাট পার্থক্য খুঁজে পাবেন।
আমি একবার কোনো কাজে করাচী গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে মার্কেটে ঘুরাঘুরি শুরু করে দিলাম। ঘুরতে ঘুরতে দৈহিক ও মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়লাম। বন্ধু বলল, চলো মসিজদে গিয়ে নামায আদায় করে নেই। নামায আদায় করার পর যেন আমি আমার হারানো শক্তি ফিরে পেলাম। নিজের মধ্যে খুঁজে পেলাম সতেজতা ও উৎফুল্লতা। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তা আমার হৃদয়পটে ভেসে উঠছে।
📄 প্রফেসর ডা. বার্থম জোযিফ এর অভিজ্ঞতা
তিনি ছিলেন একজন আমেরিকান প্রখ্যাত ডাক্তার। এক সাক্ষাৎকারে নামায ও ইসলাম সম্পর্কে তার জীবনের অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নামায হল, একটি পরিপূর্ণ ও উপযুক্ত শরীর চর্চা। এতে হ্রাস-বৃদ্ধির বা অসমতার কোনো প্রশ্নই উঠে না। মনে হয় যেন সৃষ্টিকর্তা বতর্মান যান্ত্রিক ও মনস্তাত্তিক যুগের কথা অনুধাবন করেই এর আবিস্কার করেছেন। তাতে রয়েছে হস্ত উত্তোলন, পুনরায় তা বেঁধে ফেলা, দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা, পুনরায় হাত ছেড়ে দেওয়া, ঝুঁকে পড়া, আবার মস্তক অবনত করে মস্তিষ্কের দিকে রক্ত প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি করা, কিছুক্ষণ পর পর হাঁটু পেতে বসা, এসবই একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম পদ্ধতি।
📄 নামায ও ইউগা (PRAYER AND YOGA)
বিশেষজ্ঞগণ নামাযকে শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলনের এক সহজ পদ্ধতি বনে অভিহিত করেছেন। তন্মধ্যে তারা তিনটি স্থানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
(১) কিয়াম (দণ্ডায়মান) অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি নিবন্ধ রাখা।
(২) রুকুর অবস্থায় পায়ের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং
(৩) সিজদার মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন।