📄 বয়স নির্ধারণ (AGE FACTOR)
শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বয়সের তারতম্য লক্ষণীয়। বয়সের সাথে সাথে ব্যায়ামেরও পার্থক্য হয়ে থাকে। বড়দের ব্যায়াম ছোটদের ব্যায়াম থেকে আলাদা। এমনকি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ব্যায়ামের পদ্ধতিও ভিন্ন। কিন্তু নামায এক সার্বজনীন ব্যায়াম; সব বয়স ও সব ধরনের মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।
📄 কিংকর্তব্যবিমূঢ় এক অমুসলিম বিশেষজ্ঞ
জনৈক ব্যক্তি (এ. আর. কমর) তার ইউরোপের ভ্রমণ কাহিনীতে লিখেছেন : একদিন আমি নামায পড়ছিলাম। এক ইংরেজ দীর্ঘক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছিল। আমার নামায পড়া শেষ হলে সে আমাকে বলতে লাগল, ব্যায়ামের এ পদ্ধতি তুমি নিশ্চয় আমার পুস্তক থেকে শিখেছ। কেননা আমি এ নিয়মে ব্যায়ামের পদ্ধতি লিখেছি। যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে ব্যায়াম করবে, সে কখনো দীর্ঘ মেয়াদী, মারাত্মক ও জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে না। তারপর সে এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলল: দণ্ডায়মান ব্যক্তি যদি তৎক্ষণাৎ ব্যায়ামে গমন করে, তা হলে তার স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডের উপর এর প্রভাব মঙ্গলজনক হয় না। তাই আমি আমার পুস্তকে বিশেষভাবে লিখেছি, প্রথমে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করবে। তখন হাত বাঁধা থাকা বাঞ্ছনীয় (অর্থাৎ কিয়াম)। তারপর মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে ব্যায়াম করতে হবে (অর্থাৎ সিজদা)। এ ব্যায়াম কেবল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণই করতে পারবে। তার বক্তব্য শুনে নামাযী ব্যক্তি বলতে লাগল, আরে আমি তো মুসলমান। আমার ধর্ম ইসলাম আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছে। আমি আপনার পুস্তক কখনো পড়ি নি। আমি প্রত্যহ কমপক্ষে পাঁচবার এরকম করে থাকি।
একথা শুনতেই সেই ইংরেজ ব্যক্তি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তার কাছ থেকে ইসলামি জ্ঞান শিখতে শুরু করে।
📄 একজন ফিজিশিয়ানের কাণ্ড
একজন প্রখ্যাত ডাক্তার তার স্নায়ুবিক দুর্বলতা, জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, এবং অন্যান্য মাংসপেশীর ব্যাধির জন্য নিজের চিকিৎসা নামায দ্বারা করেছেন। তিনি নামায দ্বারা একাধারে নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসার ফলে সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং যাবতীয় ঔষধ ব্যবহার বাদ দিয়ে শুধু নামাযের চিকিৎসাধীনই থাকলেন। তারপর থেকে তিনি প্রত্যেক রোগীকে নিয়মিত নামায আদায় এবং নামাযের প্রতিটি রুকন শান্ত ও পরিপূর্ণরূপে আদায় করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে থাকেন। এভাবে তার সকল রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভে ধন্য হতে লাগল।
📄 অস্ট্রেলিয়ান এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
(OF AN AUSTRALIAN EXPERT OPINION) পাকিস্তানের একজন হৃদরোগী নিজের চিকিৎসা করাতে করাতে অবশেষে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়ে পৌঁছল। সেখানকার একজন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে পূর্ণ পর্যবেক্ষণ করার পর তার জন্য কিছু ঔষধ ও একটি ব্যায়াম নির্ধারণ করে দিয়ে বললেন, আপনি আমার ফিজিও ওয়ার্ডে আমার তত্ত্বাবধানে আটদিন পর্যন্ত উক্ত ব্যায়াম করবেন। তাকে ব্যায়াম করানোর পর দেখা গেল, তা ছিল খুশু-খুযু ও সন্তোষজনক এক পূর্ণাঙ্গ নামায। এবার পাকিস্তানী রোগী সেই ব্যায়ামটাকে পরিপূর্ণ ও সঠিক তা দেখে ডাক্তার সাহেব বললেন : আপনিই আমার প্রথম রোগী, যে এত দ্রুত আমার এ ব্যায়ামটা শিখে এত চমৎকারভাবে তা আদায় করতে পারলেন। বস্তুত এখানে আট দিন রোগী এ পদ্ধতিটা শিখে মাত্র। একথা শুনে রোগী বলল, আমি হলাম একজন মুসলমান আর এ পদ্ধতি হল আমাদের পূর্ণাঙ্গ নামায। তাই এটা শিখতে আমার মোটেই বেগ পেতে হয় নি। তারপর দ্বিতীয় দিনেই ডাক্তার তাকে ঔষধ ও (ব্যায়াম সম্পর্কে) বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে বিদায় দিলেন।