📄 একটি চমৎকার ঘটনা
এক ব্যক্তি রাইফেলের একটি গুলি হাতে নিয়ে বাঘের গায়ে ছুঁড়ে মারল। কেননা সে শুনেছিল গুলি দ্বারা বাঘ মারা যায়। কিন্তু বাঘ মারা যাওয়া তো দূরের কথা, তার নিজের জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে গেল। এখন সে বলে বেড়াতে লাগল যে, গুলি দ্বারা বাঘ মরে এটা ডাহা মিথ্যা কথা।
এক বুদ্ধিমান তাকে বুঝালেন, গুলির কার্যকারিতা ঠিকই আছে। তবে তা সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হতে হবে। গুলিটি রাইফেলের মধ্যে ঢুকিয়ে ব্যবহার করতে হয়। কেননা রাইফেল বিহীন গুলি নিক্ষেপে কোনো ফায়দা নেই। তদ্রুপ আজ আমাদের নামায ঠিকই আছে; কিন্তু ঈমান, তাকওয়া, খুশু-খুযুর কার্যকারিতা হচ্ছে না। তাহলে নিষ্ক্রীয় নামায যেখানে দুনিয়ার কার্য সম্পাদনেই ব্যর্থ, তা এত বড় জান্নাত, যার প্রশস্ততা সমগ্র বিশ্ব অপেক্ষা অনেক বড়, সেই জান্নাত কিভাবে আমাদেরকে দিতে সক্ষম হবে। এটাই হল চিন্তার ব্যাপার।
মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল নামায। যদ্বারা মুসলমানদের ইহ-পরকাল সুখময় হয়। তাই আসুন! অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে দেখি, নামায দ্বারা দুনিয়ার কত কত নেয়ামত অর্জিত হয়!
📄 নামায ও দৈহিক সুস্থতা (PRAYER AND BODY HEALTH)
নামায হল এক উত্তম শরীর চর্চা। অলসতা, বিষণ্ণতা ও বে-আমলীর এ যুগ-সন্ধিক্ষণে নামাযই এমন এক ব্যায়াম, যা সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা হলে তার দ্বারা ইহকালীন সকল ব্যথার উপশম সম্ভব। নামাযের ব্যায়াম যেমনিভাবে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কারণ, তেমনি আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- হৃৎপিণ্ড, যকৃত, মূত্রাশয়, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, নাড়িভুঁড়ি, পাকস্থলী, মেরুদণ্ড, গর্দান, বক্ষ ও সর্বপ্রকার Glands-কে বর্ধিত করে শরীরকে সুঠাম ও সুন্দর করে তোলে। আর এ ব্যায়ামগুলির দ্বার আয়ুও বৃদ্ধি পায়। পাওয়া যায় এক অসাধারণ শক্তি।
📄 বয়স নির্ধারণ (AGE FACTOR)
শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বয়সের তারতম্য লক্ষণীয়। বয়সের সাথে সাথে ব্যায়ামেরও পার্থক্য হয়ে থাকে। বড়দের ব্যায়াম ছোটদের ব্যায়াম থেকে আলাদা। এমনকি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ব্যায়ামের পদ্ধতিও ভিন্ন। কিন্তু নামায এক সার্বজনীন ব্যায়াম; সব বয়স ও সব ধরনের মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।
📄 কিংকর্তব্যবিমূঢ় এক অমুসলিম বিশেষজ্ঞ
জনৈক ব্যক্তি (এ. আর. কমর) তার ইউরোপের ভ্রমণ কাহিনীতে লিখেছেন : একদিন আমি নামায পড়ছিলাম। এক ইংরেজ দীর্ঘক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছিল। আমার নামায পড়া শেষ হলে সে আমাকে বলতে লাগল, ব্যায়ামের এ পদ্ধতি তুমি নিশ্চয় আমার পুস্তক থেকে শিখেছ। কেননা আমি এ নিয়মে ব্যায়ামের পদ্ধতি লিখেছি। যে ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে ব্যায়াম করবে, সে কখনো দীর্ঘ মেয়াদী, মারাত্মক ও জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে না। তারপর সে এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলল: দণ্ডায়মান ব্যক্তি যদি তৎক্ষণাৎ ব্যায়ামে গমন করে, তা হলে তার স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডের উপর এর প্রভাব মঙ্গলজনক হয় না। তাই আমি আমার পুস্তকে বিশেষভাবে লিখেছি, প্রথমে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করবে। তখন হাত বাঁধা থাকা বাঞ্ছনীয় (অর্থাৎ কিয়াম)। তারপর মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে ব্যায়াম করতে হবে (অর্থাৎ সিজদা)। এ ব্যায়াম কেবল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণই করতে পারবে। তার বক্তব্য শুনে নামাযী ব্যক্তি বলতে লাগল, আরে আমি তো মুসলমান। আমার ধর্ম ইসলাম আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছে। আমি আপনার পুস্তক কখনো পড়ি নি। আমি প্রত্যহ কমপক্ষে পাঁচবার এরকম করে থাকি।
একথা শুনতেই সেই ইংরেজ ব্যক্তি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তার কাছ থেকে ইসলামি জ্ঞান শিখতে শুরু করে।