📄 নামাযের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
নামায এমন একটি ইবাদত যা মানুষকে তার আত্মার নিকটবর্তী করে দেয়। মানুষ নিজের আত্মাকে জানতে পারলে তার সম্মুখে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই তাকে পথপ্রদর্শন করছেন। এখন আপনি চিন্তা করে দেখুন, আপনার অস্তিত্ব এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং আপনি আল্লাহর কত নিকটে রয়েছেন? আসল কথা হল, ঘনিষ্ঠতার কারণে এ পদ্ধতির প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহর দ্বারাই পরিচালিত হয়ে থাকে।
নামাযের এ পদ্ধতিটাকে আপনি গভীর মনোনিবেশ সহকারে চিন্তা করুন! মানুষ যখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর হয়ে কাজ করে তখন সে কত আনন্দিত হয়ে থাকে। আনন্দ তখন তার মধ্যে স্থান করে নেয় এবং তার আত্মাকে আলোকিত করে দেয়। এ মহা আনন্দে তার আত্মা এত হালকা হয়ে যায় যে, নিজের দেহের কথাও ভুলে যায়।
আমরা যদি পূর্বপুরুষগণের জীবনীর প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তা হলে আমাদের নিকট দিবালোকের মতো পরিস্ফুটিত হয়ে উঠে যে, তারাও আমাদের মতো একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেছেন; কিন্তু পার্থক্য শুধু তারা ছিলেন এ পদ্ধতির প্রকৃত স্বাদের সাথে পরিচিত আর আমাদের সাথে নেই তার অনুরূপ পরিচয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিটি উম্মতের জন্য কি এটা সম্ভব নয়, যেটা আমাদের পূর্বপুরুষ বুযুর্গগণের দ্বারা সম্ভব হয়েছিল? অবশ্যই এটা সম্ভব। তবে আমরা হলাম গাফেল উদাসীন।
আমাদের বুযুর্গগণ ইবাদতের প্রকৃত মজা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।
গিয়েছিল বিশ্বের মানচিত্র। এ পবিত্র ইবাদতকে যখন আমরা রুসম- রেওয়াজে পরিণত করে নিয়েছি, তখনই মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের হাত থেকে রাজত্ব আর সর্দারী ছিনিয়ে নিয়েছেন। নামাযী ব্যক্তির মধ্যে যদি না থাকে উৎসাহ ও অন্তরজ্বালা, গভীর মনোনিবেশ, ইলম ও আকাঙ্ক্ষা, বিনয় ও নম্রতাবোধ, বিচক্ষণতা ও সঠিক চিন্তা-চেতনা, মনোযোগ ও শ্রদ্ধাবোধ, স্রষ্টাজ্ঞান, সৃষ্ট বিস্মৃতি, হৃদয়ের কোমলতা, সর্বোপরি খুশু খুযু, তাহলে সেই নামায একটি নিষ্প্রাণ দেহের মতো।
আমরা যদি আমাদের নামাযকে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পন্থায় আদায় করি, তাহলে সেই নামায আমাদের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য নামাযরূপে বিবেচিত হবে। আমরা কেন বঞ্চিত হব ঐ সমস্ত কল্যাণ ও পুরস্কার থেকে, যা লাভে ধন্য হয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষগণ?
মহান রাব্বুল আলামীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পন্থার নামায আমাদের যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশার চিকিৎসা, ক্ষত শুকানোর মলম এবং যাবতীয় বেদনার উপশম। অথচ আমরা নিজেদের কল্যাণকামিতা ও পরিণামদর্শিতার অভাবে এহেন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে বিনা দ্বিধায় নষ্ট করে যাচ্ছি।
বলা হয়েছে, নামায যাবতীয় দুঃখ বিমোচনকারী। এ দুঃখ কি শুধু পরকালেরই, নাকি দুনিয়ার দুঃখও এতে অন্তর্ভুক্ত? বস্তুত নামায ইহ- পরকালের যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশা বিমোচনকারী। যখন মুসলমানদের কালেমা, নামায সবকিছু দুরস্ত হয়ে যাবে অর্থাৎ আমলের হাকীকত প্রকৃত ছাঁচে ঢালাই করা হবে, তখন মুসলমান হবে বিজয়ী আর কাফিররা হবে পরাজিত।
কিন্তু যখন থেকে আমরা কালেমা ও নামাযের মেহনত পরিত্যাগ করেছি, তখন থেকেই তার হাকীকত অন্তর থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। কেননা যে জিনিসের হাকীকত (তাৎপর্য) হাকীকতরূপে না থাকে তা অবশ্যই হয়ে পড়ে নিষ্ক্রিয়।
আজ আমাদের নামায প্রাণময় হচ্ছে না কেন? তখনও তো এ চার সেজদা আর দুই রাকআতই ছিল, যদ্বারা সাহাবায়ে কিরাম, আহলে বাইত এবং আউলিয়ায়ে কিরাম সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনাকে পাল্টে দিয়েছিলেন।
বস্তুত তাদের নামায ছিল তাৎপর্যপূর্ণ আর আমাদের নামায হল তাৎপর্যহীন, নিষ্প্রাণ ও নিষ্ক্রিয়।
📄 একটি চমৎকার ঘটনা
এক ব্যক্তি রাইফেলের একটি গুলি হাতে নিয়ে বাঘের গায়ে ছুঁড়ে মারল। কেননা সে শুনেছিল গুলি দ্বারা বাঘ মারা যায়। কিন্তু বাঘ মারা যাওয়া তো দূরের কথা, তার নিজের জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে গেল। এখন সে বলে বেড়াতে লাগল যে, গুলি দ্বারা বাঘ মরে এটা ডাহা মিথ্যা কথা।
এক বুদ্ধিমান তাকে বুঝালেন, গুলির কার্যকারিতা ঠিকই আছে। তবে তা সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হতে হবে। গুলিটি রাইফেলের মধ্যে ঢুকিয়ে ব্যবহার করতে হয়। কেননা রাইফেল বিহীন গুলি নিক্ষেপে কোনো ফায়দা নেই। তদ্রুপ আজ আমাদের নামায ঠিকই আছে; কিন্তু ঈমান, তাকওয়া, খুশু-খুযুর কার্যকারিতা হচ্ছে না। তাহলে নিষ্ক্রীয় নামায যেখানে দুনিয়ার কার্য সম্পাদনেই ব্যর্থ, তা এত বড় জান্নাত, যার প্রশস্ততা সমগ্র বিশ্ব অপেক্ষা অনেক বড়, সেই জান্নাত কিভাবে আমাদেরকে দিতে সক্ষম হবে। এটাই হল চিন্তার ব্যাপার।
মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল নামায। যদ্বারা মুসলমানদের ইহ-পরকাল সুখময় হয়। তাই আসুন! অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে দেখি, নামায দ্বারা দুনিয়ার কত কত নেয়ামত অর্জিত হয়!
📄 নামায ও দৈহিক সুস্থতা (PRAYER AND BODY HEALTH)
নামায হল এক উত্তম শরীর চর্চা। অলসতা, বিষণ্ণতা ও বে-আমলীর এ যুগ-সন্ধিক্ষণে নামাযই এমন এক ব্যায়াম, যা সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা হলে তার দ্বারা ইহকালীন সকল ব্যথার উপশম সম্ভব। নামাযের ব্যায়াম যেমনিভাবে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কারণ, তেমনি আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- হৃৎপিণ্ড, যকৃত, মূত্রাশয়, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, নাড়িভুঁড়ি, পাকস্থলী, মেরুদণ্ড, গর্দান, বক্ষ ও সর্বপ্রকার Glands-কে বর্ধিত করে শরীরকে সুঠাম ও সুন্দর করে তোলে। আর এ ব্যায়ামগুলির দ্বার আয়ুও বৃদ্ধি পায়। পাওয়া যায় এক অসাধারণ শক্তি।
📄 বয়স নির্ধারণ (AGE FACTOR)
শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বয়সের তারতম্য লক্ষণীয়। বয়সের সাথে সাথে ব্যায়ামেরও পার্থক্য হয়ে থাকে। বড়দের ব্যায়াম ছোটদের ব্যায়াম থেকে আলাদা। এমনকি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ব্যায়ামের পদ্ধতিও ভিন্ন। কিন্তু নামায এক সার্বজনীন ব্যায়াম; সব বয়স ও সব ধরনের মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।