📄 মাথা মাসাহ করা
আমার একজন বন্ধু ফ্রান্স গিয়েছিল। সে বলল, আমি একদিন উযু করছিলাম। এক ব্যক্তি আমার এ উযু করার দৃশ্য গভীর মনোনিবেশ সহকারে প্রত্যক্ষ করছিল। আমি ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পেরেও সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করলাম না, উযু করতে থাকলাম। উযু শেষে লোকটি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? বললাম, আমি একজন মুসলমান। সে বলল, তুমি কোথা থেকে এসেছ? আমি বললাম, পাকিস্তান থেকে এসেছি। লোকটি বলল, পাকিস্তানে মানসিক হাসপাতাল কয়টি আছে, বললাম, ২/৪টি হবে। এ ব্যাপারে আমার সঠিক কোনো ধারণা নেই। তারপর সে বলল, তুমি এখন এটা কি করলে? আমি বললাম, উযু করেছি। সে বলল, তুমি কি প্রত্যহ এরূপ করে থাক? বললাম, প্রত্যহ পাঁচবার করি।
একথা শুনে লোকটি বিস্মিত কণ্ঠে বলতে লাগল, আমাদের দেশে বহু মেন্টাল (Mental) বা মানসিক হাসপাতাল আছে। আমি হাসপাতালের সার্জন। অনেকদিন যাবৎ অনুসন্ধান করছি, মানুষ কেন পাগল হয়। পরে সে বলল, আমার গবেষণা অনুযায়ী তার কারণ হল, মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সিগন্যাল পূর্ণ শরীরে বিস্তৃত হয়ে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্মক্ষম হয়। আর আমাদের মস্তিষ্ক সর্বক্ষণ Fluid- এর মধ্যে Float করতে থাকে। যার কারণে আমরা চলাফেরা করি, হাঁটি, দৌড়াই, লাফালাফি করি, অথচ মস্তিষ্কের কোনোই ক্ষতি সাধিত হয় না।
আর যদি সেটা কোনো Rigid জিনিস হতো, তা হলে এতদিনে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত। আল্লাহ তা'আলা একে Fluid এর মধ্যে রেখেছেন। মস্তিষ্ক থেকে কতিপয় সূক্ষ্ম শিরা Conductor হয়ে আসতে থাকে আর সেই শিরাগুলো গর্দানের পৃষ্ঠ থেকে পূর্ণ শরীরে বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
লোকটি আরো বলল: আমার রিচার্স অনুযায়ী চুল যদি বৃদ্ধি করা হয় এবং গরদানের পৃষ্ঠ শুষ্ক রাখা হয়, তাহলে সেই শিরার মধ্যে (Condensation) শুষ্কতা সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব মানবদেহে পড়ে। কখনো কখনো এতে মানুষের মস্তিষ্ক কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ জন্য ডাক্তারগণ বলেন, এস্থান (মাসাহ এর স্থান) টুকু প্রত্যহ ২/৪ বার অবশ্যই ভিজাতে হবে। সে বলতে লাগল, এক্ষুনি আমি আপনাকে দেখলাম, আপনি হাত-মুখ তো ধৌত করলেনই, তারপর আবার ঘাড়ের পিছনেও যেন কিছু একটা করলেন। যদি এটা আপনাদের দৈনন্দিন কাজই হয়, তা হলে আমি ভেবে পাই না যে, আপনারা কিভাবে পাগল হতে পারেন। তিনি আরো বললেন, মাসাহ করার দ্বারা বাতাস লাগা (Sun Stroken) ও ঘাড়ভাঙা জ্বরের অবসান ঘটে।
📄 চিন্তার বিষয়
একজন ডাক্তারের পুরো জীবনের গবেষণা যদি একটি মুস্তাহাব আমলকে নিয়েই কেটে যায়, তা হলে সুন্নত, ওয়াজিব ও ফরজের কি অবস্থা (যার উপকারিতা বর্ণনাতীত)।
ঘাড় মাসাহ করার দ্বারা মানবদেহে বিশেষ এক শক্তি সঞ্চারিত হয়, যার সম্পর্ক রয়েছে মেরুদণ্ডের মধ্যকার অস্থি-মজ্জা (মস্তিষ্ক) এবং মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে। নামাযী ব্যক্তি যখন ঘাড় মাসাহ করে, তখন হাতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে মেরুদণ্ডে পুঞ্জিভূত হয়ে যায় এবং মেরুদণ্ডের হাড়কে স্বীয় গমন পথ বানিয়ে পূর্ণ দেহের মাংশপেশী ও স্নায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাংসপেশীগুলোতে শক্তি সঞ্চারিত হয়।
📄 পা ধৌত করা
জনৈক সার্জন ডায়াবেটিকস্ (বহুমূত্র) রোগীদেরকে বলতেন, আপনারা যেভাবে নিজের মুখমণ্ডল সংরক্ষণ করে থাকেন, তদ্রুপ পা দুটিও সংরক্ষণ করাও অত্যাবশ্যক। কেননা ডায়াবেটিকস্ রোগীদের পায়ে বেশি (Infection) ইনফেকশন হয়ে থাকে। সুতরাং রোগী যদি আবরণী জুতা ব্যবহার করে এবং শুধু সকাল-সন্ধ্যাতেই তা খোলে, তা হলে ভাল হয়। ইউরোপের উন্নত দেশের লোকেরা তো কয়েকদিনেও জুতা খোলে না বরং রাত্রেও জুতা পায়ে রেখেই শুয়ে পড়ে। এসব মানুষ অতি সত্তর পায়ের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বেশি ধূলাবালি ও জীবাণু আক্রান্ত হয় আমাদের পাসমূহ। মানবদেহের “ইনফেকশন” (Infection) সর্বপ্রথম শুরু হয় পায়ের আঙ্গুলের মধ্য হতে। তাই ইসলাম আমাদের জন্য দিনে পাঁচবার পা ধৌত করা ও আঙ্গুলসমূহ খেলালের নির্দেশ দিয়েছে, যেন আঙ্গুলের মধ্যে কোনো প্রকার জীবাণু আটকে না থাকে। পা ধৌত করার দ্বারা অসংখ্য রোগ-ব্যাধিরও অবসান ঘটে। যেমন, (Depression) অস্থিরতা, ব্যাকুলতা, দুশ্চিন্তা, মস্তিষ্ক- শুষ্কতা, অনিদ্রা ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি নিঃশেষ হয়ে যায়।
📄 ওযু ও উচ্চ রক্তচাপ (WAZOO AND HIGH BLOOD PRESSURE)
ক্রোধান্বিত অবস্থায় ওযু করা শরী'আতের বিধান আর উচ্চ রক্তচাপের সময় ওযু করা ডাক্তারদের নির্দেশ। এখন উভয় বিধান, লক্ষণ ও উপসর্গকে একত্র করলে অনুসন্ধানের অসংখ্য দিক উন্মুক্ত হয়ে উঠবে। ক্রোধের সময় উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। তাই এ রোগের চিকিৎসা হল ওযু করা।