📄 নাকে পানি দেওয়া (NOSE WASH)
শ্বাস গ্রহণের একমাত্র পথ হল নাক। আর যেই বাতাস থেকে শ্বাস গ্রহণ করা হয়, তার মধ্যে লালিত-পালিত হয় অসংখ্য রোগজীবাণু যা নাকের ভিতর দিয়ে অতি সহজেই মানবদেহে প্রবেশ করে। সুতরাং এ রোগজীবাণু মিশ্রিত ধুলোবালি সর্বদা শ্বাসের সাহায্যে নাকের মধ্যে প্রবেশ করছে। এভাবে যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিতরে প্রবেশ করতেই থাকে, তাহলে বিপদজনক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল আকার ধারণ করে। তাই স্থায়ী সর্দি-কাশি ও নাকের রোগীদের জন্য নাক ধৌত করা খুবই উপকারী।
আমরা তো ওযুর বরকতে দৈনন্দিন ৫ বার নাক পরিস্কার করে থাকি। তাই নাকের মধ্যে কোনো প্রকার রোগজীবাণু লালিত-পালিত হওয়া কোনক্রমেই সম্ভব নয়। নাক হল মানবদেহের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল আওয়াজকে শ্রুতিমধুর করা। একবার নাকের ছিদ্রে একটু চাপ দিয়ে কথা বলে পরীক্ষা করে দেখুন, আপনার নিকট বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
নাকের ভিতরের পর্দা আওয়াজকে শ্রুতিমধুর করতে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে আর কান দেয় মস্তিষ্কে আলোর যোগান। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে নাকের রয়েছে বলিষ্ঠ ভূমিকা। সে ফুসফুসের জন্য হাওয়াকে পরিষ্কার, আর্দ্র, উষ্ণ ও উপযোগী বানিয়ে দেয়। মানবদেহে প্রত্যহ কমপক্ষে ৫০০ ঘন ফুট বাতাস নাকের সাহায্যে প্রবেশ করে থাকে।
মানবদেহের ফুসফুস জীবাণু, ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে চায়। হাওয়া শীতলকারী সাধারণ এয়ারকণ্ডিশনার (Air Conditoner) যা একটি ট্রাংকের সমান হয়ে থাকে। কিন্তু নাকের মধ্যের 'এয়ার কণ্ডিশনার'-কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এত ক্ষুদ্র অথচ ব্যাপক (Integreted) করে সৃষ্টি করেছেন, যা মাত্র কয়েক ইঞ্চি প্রসস্থ। এই নাক হাওয়াকে ঠাণ্ডা করার জন্য প্রতিদিন ১/২ গ্যালন আর্দ্র পদার্থ তৈরি করে থাকে।
পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কঠিন কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব নাকের ছিদ্রের। নাকের মধ্যে রয়েছে এক অণুবীক্ষণ (Microscopic) ক্ষুদ্র মার্জনী, তার মধ্যে রয়েছে অদৃশ্য (Non Descreptive) পশম; যা হাওয়ার সাথে মিশ্রিত হয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশকারী ক্ষতিকর রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে দেয়। রোগজীবাণুকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আটক করা ছাড়াও তার রয়েছে আরো একটি প্রতিহতকরণ পদ্ধতি, যাকে ইংরেজিতে (Lysoziam) বলা হয়।
📄 মুখ ধৌত করা (FACE WASH)
এক রোগীর মুখমণ্ডল সর্বদা গরম থাকত। তাকে সর্বপ্রকার ঠাণ্ডা ও এলার্জি প্রতিষেধক (Anti Allergy) ঔষধ দেওয়া হল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হল না। অবশেষে তাকে বলা হল, তুমি নামায আদায় করবে। নামায শেষে নতুন করে উযু করবে এবং দরূদ শরীফ পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে তা মুখের উপর ফিরিয়ে দিবে। এ পন্থা অবলম্বনে রোগী অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।
📄 ক্যামিক্যাল এর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা
বর্তমান এটমের যুগে সর্বত্র চলছে এটমের বিস্ফোরণ। তাই বিশেষজ্ঞগণ বলছেন অধিক পরিমাণে বৃক্ষ রোপণের প্রতি যত্নবান হতে, অপরিচ্ছন্নতা হ্রাস করতে এবং শরীরের খোলা অংশগুলোকে বার বার ধৌত করতে। যে ক্যামিক্যালগুলো ধোঁয়া, ধূলিকণা ইত্যাদির আকৃতিতে চেহারায় জমে যায়, তার একমাত্র চিকিৎসা ওযু। ধোঁয়ার মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো ধ্বংসাত্মক ক্যামিক্যাল। যেমন, Lead ইত্যাদি। যা কিছুক্ষণ চামড়ার উপর জমে থাকলে চর্মরোগ ও এলার্জি সৃষ্টি হয়।
📄 মুখের ব্রণ
নিয়মিত মুখ ধৌত করলে মুখে ব্রণ হয় না আর হলেও তার পরিমাণ থাকে খুব নগণ্য। স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যাবতীয় ক্রীম, স্নো, লোশন চেহারায় দাগ সৃষ্টি করে। সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যহ কয়েক বার করে চেহারা ধৌত করা খুবই ফলপ্রদ। আমেরিকান কাউন্সিল ফর বিউটি (American Council For Beauty) সংস্থার সম্মানিতা সদস্য লেডী হীচার বিস্ময়কর এক তথ্য উদঘাটন করেছেন। তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো প্রকার রাসায়নিক লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ইসলামি উযু দ্বারাই তারা চেহারার যাবতীয় রোগ থেকে রক্ষা পায়।