📄 ওযুর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
পরিচ্ছন্নতা হল ইসলামের এমন একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আমল, যা অন্য কোনো ধর্মে পরিলক্ষিত হয় না। এর দ্বারা শরীরের ওই অংশ পরিষ্কার হয়, যেখান দিয়ে শরীরে রোগজীবাণু প্রবেশ করে। আর ওই অংশগুলোই রোগ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের প্রধান মাধ্যম। রোগ-ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ পদ্ধতি এটাই অর্থাৎ ওই অঙ্গগুলোর সংরক্ষণ করতে হবে। ওযু দেহে রোগব্যাধি প্রবেশের রাস্তাসমূহের অতন্ত্র প্রহরী। এর চেয়ে উত্তম প্রহরী পাওয়া খুবই দুষ্কর।
এবার বলুন! ইসলাম কি অগ্রগতির নাম না অধঃগতির নাম? ইসলামের ভবিষ্যত সমুজ্জ্বল না তিমিরাচ্ছন্ন? ইসলামি বিধি-নিষেধের মধ্যে সুস্থ্যতা রয়েছে, না রোগ-ব্যাধি? প্রকৃতপক্ষে ইসলাম হল সুস্থ্যতার পথপ্রদর্শক। কথাগুলো যদি সহজে বুঝে আসে, তা হলে তো ঠিকই আছে। নতুবা বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে এ পুস্তকের সোনালী অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করুন। ইসলাম কি উপহার দিয়েছে মানবজাতিকে আর বিজ্ঞান কী দিতে চায়? আর ফ্যাশনইবা কি দিয়েছে আমাদেরকে?
📄 হাত ধৌত করা
ওযু করতে গিয়ে প্রথমেই হস্তদ্বয় ধৌত করতে হয়। কেননা তারপরই কুলি করতে হবে। আর যদি হাত থাকে অপরিচ্ছন্ন ও জীবাণু (Germs) মিশ্রিত, তা হলে সেই রোগজীবাণুই মুখের ভিতর দিয়ে দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে জন্ম দিবে অসংখ্য ব্যাধি। মেশিন ও যন্ত্রপাতির এ যুগে মানুষ খুবই ব্যস্ত। এ রকম ব্যস্ত মানুষের করতে হয় নানাবিধ কাজকর্ম। আর কাজ করতে গিয়ে কখনো হাতে ক্যামিক্যাল লেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। ওই ক্যামিক্যাল দীর্ঘক্ষণ হাতে লেগে থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
একই অবস্থার সৃষ্টি হয় ওইসব কারবারী লোকদের, যারা সর্বদা থাকে কাজে ব্যস্ত, কোনো না কোনো কাজ তাদের হাতে লেগেই থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যদি একই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে অচিরেই তার হাত রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। উযুর মাধ্যমে হস্তসমূহ পরিষ্কার না করলে নিম্ন বর্ণিত রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা।
(ক) চর্ম রোগ (Skin and diseases of skin) (খ) ঘামাচি (Prickly heat), (গ) চর্মের জ্বালা-যন্ত্রণা (Infections of skin) (ঘ) ফাঙ্গাশ (Diseases of fungus)
তাছাড়া যখন আমরা ওযুতে হাত ধুই তখন আঙ্গুলের করের মধ্য হতে বের হয়ে আসা কিরণমালা (Rays) এমন একটি গোলাকার বৃত্ত সৃষ্টি করে যার ফলে মানবদেহে বিচরণশীল বৈদ্যুতিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠে আরো গতিশীল। আর সেই বৈদ্যুতিক কিরণ (Electric Rays) একপর্যায়ে মানুষে হাতে মিশ্রিত হয়ে যায়। এভাবে হাত সুন্দর থেকে সুন্দর হয়ে উঠে। বস্তুত সঠিকভাবে ওযু করার দ্বারা আঙ্গুলসমূহহে এমন নমনীয়তা সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের জন্মগত কর্মদক্ষতা পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠে।
📄 কুলি করা (MOUTH WASH)
কুলি করার পূর্বে মিস্তয়াক করতে হয়। যার আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে। বস্তুত কুলি করা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। কেননা কুলির মাধ্যমে পানির স্বাদ, গন্ধ ও রং সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।
আমরা যখন আহার গ্রহণ করি, তখন খাবারের ছোট ছোট কণা দাঁতের ফাঁকে আটকে থেকে দুর্গন্ধযুক্ত (Septic) এক বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করে এবং থুথুর সাহায্যে তা পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। আর ওই দুর্গন্ধময় পদার্থ (Septic Meterial) ক্ষতি সাধন করে দন্ত ও মাড়ীর। কুলি ও মিসওয়াক দ্বারা এ থেকে মুক্ত থাকা যায়। বাতাসে অসংখ্য ধ্বংসাত্মক রোগজীবাণু উড়ে বেড়ায়; আমরা তা চর্মচোখে দেখতে পাই না। অথচ সেই রোগজীবাণু বাতাসের সাহায্যে আমাদের মুখের মধ্যে প্রবেশ করতে থাকে এবং থুথুর সাথে মুখে সংযুক্ত হয়ে যায়। সেগুলোকে পরিচ্ছন্ন না করলে নিম্নবর্ণিত রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
📄 মুখের রোগ (STOMATITIS THRUSH)
মুখ পাকা (যা এইডসের প্রাথমিক লক্ষণ) মুখের কিনারা ফেটে যাওয়া (Cheitlosis Angular Stomatitis) মুখে দাদ হওয়া (Monilasis) মুখে ছেতো রোগ হওয়া (Diseases of Fungus)। মোটকথা কুলি করা এমনই একটি আমল, যার দ্বারা মানুষ এমন রোগ থেকে মুক্তি পায়, যা হলে মানুষের দীন-দুনিয়া উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়। তদুপরি কুলির মধ্যে গড়গড়া করা, যা দ্বারা নামাযী ব্যক্তি “টনসিল” ও গলার অসংখ্য রোগ থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এমনকি বার বার গলায় পানি পৌঁছানো গলাকে ক্যানসার থেকেও রক্ষা করে।