📄 মিস্ওয়াকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
প্রকৃতি কখনো মানুষের স্বভাব বিরুদ্ধ নয় বরং তা সর্বদাই মানবস্বভাবের অনুকূল। শুধু তাই নয়, মানুষ যখন দুনিয়ার চাকচিক্য ও ভোগ-বিলাসিতায় ডুবে গিয়ে একসময় নানাবিধ বিপদাপদের সম্মুখীন হয় এবং তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনোরূপ উপায়ান্তর না দেখে পুনরায় প্রকৃতির দিকে ফিরে আসে, প্রকৃতি তখনও মানুষকে পূর্বের মতো উপকার করে থাকে। চমকদার ও মহামূল্যবান হীরার টুকরোকে ফেলে দিয়ে সামান্য এক টুকরো কাঁচ খণ্ড গ্রহণ করা যেমনিভাবে বুদ্ধিহীনতা ও বোকামী, ঠিক তেমনি মিস্তয়াকের মতো স্বভাবসুলভ আমলটিকে পরিত্যাগ করাও অজ্ঞতা ও মূর্খতার পরিচয়।
যখন থেকে আমরা এ মহান নেয়ামতটিকে হাতছাড়া করেছি, তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা নানাভাবে পেরেশান হচ্ছি। হাজার হাজার টাকা নষ্ট করেও দৈহিক সুস্থতার উৎসমূলে ফিরে যেতে সক্ষম হচ্ছি না।
মিস্তয়াক সম্পর্কে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার পাণ্ডিত্যসুলভ উক্তি করেছেন : যেদিন থেকে আমরা মিস্তয়াকের ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছি, সেদিন থেকেই "ডেন্টাল সার্জন”-এর সূত্রপাত হয়েছে।
এবার আসুন! আমরা একটু পরীক্ষা করে দেখি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত মানুষের স্বভাবসুলভ কি না? এ সুন্নত আমাদের উন্নতির প্রতিবন্ধক, না পথ প্রদর্শক? এ সুন্নত আমাদেরকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, না বিজ্ঞানের নিকটবর্তী করে দেয়? ফায়সালা আপনার হাতে ছেড়ে দেওয়া হল। গভীর মনোযোগ সহকারে অধ্যায়টি পড়ুন এবং নিজেই ফায়সালা করুন!
📄 রাত ও মিস্ওয়াক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ঘুম থেকে জেগে মিস্তয়াক করতেন। রাতে শয়নকালে মিস্তয়াক করা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান অভ্যাস। (যাদুল মা'আদ)
জনৈক ইঞ্জিনিয়ার বলেন: ওয়াশিংটন (আমেরিকা) এর একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার একদা আমাকে বললেন, আপনি শয়নকালেও মিস্তয়াক করবেন! আমি বললাম- এর কারণ কি? উত্তরে তিনি বললেন- বর্তমান যুগের গবেষণা বলে, মানুষ যা ভক্ষণ করে তার ময়লা কুলির দ্বারা পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার হয় না। তিনি আরো বলেন, সাধারণত মানুষের দাঁত নষ্ট হয় শয়নকালে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এর কারণ কী? তিনি বললেন, আপনি প্রত্যক্ষ করে থাকবেন, দিনের বেলায় মানুষ কখনো কথা বলছে, কখনো আহার করছে আবার কখনো পান করছে। তাই দিনের বেলায় মুখের গতিশীলতার কারণে রক্তরস/ রক্তলসিকা তার কাজ করার সুযোগ পায় না। কিন্তু রাতের বেলা যখন মুখ বন্ধ হয়ে যায়, তখন তার সুযোগ এসে যায় কাজ করার। এ কারণেই দাঁত রাতের বেলায় অধিক খারাপ হয়। তিনি আরও বললেন, সকালে “টুথ পেস্ট” ব্যবহার করেন আর না করেন, শোয়ার সময় অবশ্যই মিস্তয়াক করে ঘুমাবেন।
"বিজ্ঞ ডাক্তার সাহেবের মুখে একথা শুনে আমি শুকরিয়া জ্ঞাপন স্বরূপ আলহামদুলিল্লাহ পড়ে নিলাম। কেননা এটাই তো আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা ওযু অবস্থায় শয়ন করতেন আর মিস্ওয়াক করা ব্যতীত কখনো তিনি ওযু করতেন না। যদি কেউ খাবার শেষে ওযু করে এবং মিস্তয়াক করে, তা হলে সে দন্ত রোগ থেকে রেহাই পাবে।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারের পূর্বে হাত ধৌত করতেন আর খাবার শেষে কুলি করতেন; কিন্তু বর্তমান যুগের মানুষেরা খানা খেয়ে কুলি না করেই চলে যায়। অথচ সে ব্যক্তি যদি মিষ্টি দ্রব্য খেয়ে থাকে, তা হলে তার প্রভাব মুখের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ অবশিষ্ট থাকে। আর যদি সাথে সাথে কুলি করার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে মহা ক্ষতির হাত থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। তাছাড়া দিনে অন্তত পাঁচবার ওযু করতে হয়, আবার পৃথকভাবে মুখ পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। এভাবে মানুষ (Electronic System) বিশেষ পদ্ধতিতে প্রতিনিয়ত মুখ, হাত, পা ইত্যাদি পরিষ্কার করে থাকে।
📄 নামাযের পূর্বে মিস্ওয়াক
প্রকৃতপক্ষে নামায যেহেতু মহা পরক্রমশালী আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের গুণ-গান করা, তাই নামাযের সময় মুখ পরিষ্কার থাকা অত্যাবশ্যক। যদি আহারের পর মিস্তয়াক বিহীন উযু করে নামায আদায় করা হয়, তাহলে দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলো জিহ্বায় লেগে নামাযের একাগ্রতায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
তাছাড়া নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় নামাযী ব্যক্তির মুখ থেকে যদি দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে তার দ্বারা অন্য নামাযীদেরও কষ্ট হয়। তাই মিস্তয়াক দ্বারা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে নেওয়া উচিত। আর মিস্তয়াক করার সময় মুখ এমনভাবে (Rays) হিল্লোলিত হয়, যদ্দরুন কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদিতে পাওয়া যায় অনাবিল শান্তি। নামায হল মহান সৃষ্টিকর্তার সম্মুখে হাজিরা দেওয়া আর সেই বিশেষ সময় যদি মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, তা হলে তা লজ্জারও কারণ বটে।
📄 সুইজারল্যান্ডের জনৈক ডাক্তার ও মিস্ওয়াক
বন্ধুবর মনসূর সাহেব ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরল প্রকৃতির লোক। একদিন আমাকে বলতে লাগলেন, আমি একসময় সুইজারল্যাণ্ডে ছিলাম। সেখানে সাক্ষাৎ হল একজন নও মুসলিমের সাথে। আমি তাকে (পীলু বৃক্ষের) একটি মিস্তয়াক উপহার দিলাম। মিস্তয়াকটি পেয়ে সে মহা আবেগে আপ্লুত হয়ে সেটি চোখে-মুখে লাগাতে লাগল এবং আনন্দের আতিশয্যে তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রুধারা বইতে লাগল। তারপর সে পকেট থেকে একটা রুমাল বের করল। তাতে দুই ইঞ্চি পরিমাণ একটা মিস্তয়াক সযত্নে জড়ানো ছিল। মিস্তয়াকটি বের করে সে বলতে লাগল, আমি যখন মুসলমান হয়েছিলাম, তখন এক মুসলমান ভাই এটি আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন। আমি অতি সাবধানতার সাথে এটি ব্যবহার করতে থাকি। এ খণ্ডটুকু তারই অবশিষ্ট অংশ। এখন আপনি আমার উপর বিরাট বড় ইহসান করেছেন। তারপর সে তার জীবনের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে লাগল, একবার আমার দাঁতের মাড়ীতে এমন কঠিন রোগের সৃষ্টি হয়েছিল, যার চিকিৎসা তদানিন্তন ডাক্তারদের নিকট ছিল দুরূহ ব্যাপার।
অগত্যা আমি এ মিস্তয়াক ব্যবহার শুরু করে দিলাম। কিছু দিন পর গেলাম সেই ডাক্তারকে দাঁত দেখাতে। দাঁত দেখে তো ডাক্তার হতবাক। জিজ্ঞেস করল, আপনি এমন কী ঔষধ ব্যবহার করেছেন, যার ফলে আপনি এত দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পারলেন? বললাম, আমি তো শুধু আপনার দেওয়া ঔষধই ব্যবহার করেছি। ডাক্তার বললেন, কখনো না। আমার ঔষধে এত দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব নয় বরং আপনি চিন্তা করে বলুন! আমি গভীরভাবে চিন্তা করতেই স্মরণ হল আমি তো মুসলমান, আমি মিস্তয়াক ব্যবহার করছি। এরপর যখন ডাক্তারকে মিস্তয়াক দেখালাম। ডাক্তার খুবই আশ্বস্ত হলেন এবং নতুনভাবে রিসার্চ শুরু করে দিলেন।