📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 গ. ভারসাম্যমূলক বিশ্লেষণ

📄 গ. ভারসাম্যমূলক বিশ্লেষণ


ভারসাম্য রক্ষার্থে আল-ফাতহ গ্রন্থে ইবন হাজার প্রদত্ত হাদিসটিকে অনুকূল বিবেচনা করি।
এমন সম্ভাবনা আছে যে, বর্ণনায় আনীত ঐ সময় হচ্ছে সাহাবিদের যুগ। এই ভিত্তিতে যে, তারা ঐ হাদিসে সম্বোধিত। তাদের পরবর্তীগণ জন্য।
বর্ণিত বক্তব্যে উদ্দিষ্ট ছিলেন না। যাই হোক, সাহাবি [অর্থাৎ আনাস] বুঝেছিলেন তাদের সাধারণত্বসহ শব্দসমূহকে। সুতরাং ঐ কারণের জন্য তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাদেরকে, যারা হাজ্জাজের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তারা বা তাদের বৃহত্তর অংশ ছিলেন তাবিঈগণ [উত্তরাধিকারী সাহাবিগণের পরবর্তী প্রজন্ম।
হাদিসটিতে যে বিশেষ দাবি রয়েছে তা হচ্ছে: অবিচারের সামনে নীরবতার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারের সামনে ধৈর্য, ভুলকাজ ও বিশৃঙ্খলার সময় সন্তুষ্টির আহ্বান এবং পৃথিবীতে স্বৈরাচারীদের উৎপীড়নের মুখে ঋনাত্মক মনোভাব। বেশকিছু যুক্তি দ্বারা তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
প্রথম: ধৈর্য ধারণ করো! এর বক্তা ছিলেন আনাস। সুতরাং হাদিসটি মারফু নয়। তিনি তা-ই উল্লেখ করেছেন, যা নবি সা.-এর কাছ থেকে তিনি বুঝেছেন এবং পাপমুক্ত ব্যক্তি ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম স্বাধীন।
দ্বিতীয়: আনাস অবিচার ও বিশৃঙ্খলার সামনে লোকদেরকে হৃষ্টচিত্ত থাকার নির্দেশ দেননি, তাদেরকে কেবল ধৈর্য ধারণের জন্য বলেছেন এবং এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান বিরাট। অবিশ্বাসের সম্মুখে প্রশান্তি নিজেরই অবিশ্বাস এবং অসৎ কাজের সামনে অসৎকাজই। ধৈর্যের ক্ষেত্রে এটা সর্বদাই অপরিহার্য; একজন এক বিষয়ে ধৈর্যশীল যাতে সে অনিচ্ছুক, যখন সে তা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে।
তৃতীয়: অবিচার ও স্বৈরাচার প্রতিহত করার সাধ্য যার নেই, তার ধৈর্যকে আশ্রয় করা ও দীর্ঘ ভোগান্তি ছাড়া কোনো পথ নেই। একই সাথে সে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতির জন্য চেষ্টা করবে, পরিবর্তনের জন্য এবং উপায় ও সুযোগ নেওয়ার জন্য, ঐসব লোকের সাহায্য গ্রহণের চেষ্টাও করবে যারা এই অবস্থার ভাগীদার। সে অবশ্যই অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে সে সত্যের শক্তি দিয়ে মিথ্যার শক্তিকে এবং ন্যায়ের সাহায্যকারীদের সহযোগিতায় অন্যায়ের সহযোগীদের প্রতিরোধ করতে পারে। এটা নিশ্চিত যে, নবি সা. তের বছর ধরে মক্কায় মূর্তি ও এর উপাসকদের বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ঐ সময় মাসজিদুল হারামে সালাত আদায় করেছেন এবং কাবার তাওয়াফ করেছেন, যখন এর মধ্যে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিল। হিজরতের সপ্তম বছরে উমরাতুল কাযা আদায়কালে তিনি ও সাহাবিগণ এর তাওয়াফ করেন; তিনি মূর্তিগুলোকে দেখেছেন, কিন্তু মহাবিজয়ের দিনের সঠিক সময়ের পূর্বে ওগুলো স্পর্শ করেননি। যেটা ছিল মক্কাবিজয় সেদিনই তিনি ওগুলো ধ্বংস করেন।
এ কারণেই আমাদের মনীষীগণ শর্ত রেখেছেন, যদি একটি ভুলকে নির্মূল করতে গিয়ে ব্যাপকতর ভুলের জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে সময় না আসা পর্যন্ত মানুষের কর্তব্য হবে নীরবতা অবলম্বন করা। তাই ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য নির্দেশকে অন্যায় ও অত্যাচারের কাছে নিখাদ আত্মসমর্পণ বুঝাবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা না আসা পর্যন্ত নিবিড়ভাবে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করাই এর অর্থ এবং তিনিই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক।
চতুর্থ : ধৈর্য কাউকে সত্যকথন থেকে বিরত থাকতে বলে না এবং প্রভু বা স্রষ্টার মতো আচরণকারী স্বৈরাচারীর সম্মুখে হক অনুসরণ ও নাহক প্রত্যাখ্যানও নিষেধ করে না। তথাপি এমনটা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় যে, তার জন্য, তার পরিবারের জন্য বা তার চারপাশের লোকদের জন্য সে ভীতি অনুভব করে। একটি হাদিসে এটা এসেছে:
অত্যাচারী শাসকদের সামনে সত্য উচ্চারণ সর্বোত্তম জিহাদ।৩৯
এবং আরেকটি হাদিসে এসেছে : শহিদগণের নেতা হচ্ছেন হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং সেই ব্যক্তি যে অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়ায়, তারপর যা সঠিক তা করতে তাকে হুকুম করে এবং নিষেধ করে যা অন্যায়, তা করতে এবং তাকে হত্যা করে।৪০

টিকাঃ
৩৯. ইবন মাজাহ এটা বর্ণনা করেছেন, এভাবে আল-হুমায়দি এবং আল-হাকিমও আবু সাঈদ হতে। আল-শুআব মধ্যে আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাজাহ, আল-তাবারানি এবং আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন আবু উমামাহ হতে; ইবন হাম্বল ও আল-নাসায়ি এবং আল-বায়হাকি তারিক ইবন শিহাব হতে আল-শুআব গ্রন্থে। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন 'উমার ইবন কাতাদাহ হতে এবং অন্যরা। দেখুন সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থ, নম্বর ১১০০।
৪০. আল-হাকিম এটা বর্ণনা করেছেন এবং আল-দাইয়া জাবির হতে। আল-আলবানি সহিহ আল-জামি আল-সগির গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, নম্বর ৩৫৭৫।

ভারসাম্য রক্ষার্থে আল-ফাতহ গ্রন্থে ইবন হাজার প্রদত্ত হাদিসটিকে অনুকূল বিবেচনা করি।
এমন সম্ভাবনা আছে যে, বর্ণনায় আনীত ঐ সময় হচ্ছে সাহাবিদের যুগ। এই ভিত্তিতে যে, তারা ঐ হাদিসে সম্বোধিত। তাদের পরবর্তীগণ জন্য।
বর্ণিত বক্তব্যে উদ্দিষ্ট ছিলেন না। যাই হোক, সাহাবি [অর্থাৎ আনাস] বুঝেছিলেন তাদের সাধারণত্বসহ শব্দসমূহকে। সুতরাং ঐ কারণের জন্য তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাদেরকে, যারা হাজ্জাজের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তারা বা তাদের বৃহত্তর অংশ ছিলেন তাবিঈগণ [উত্তরাধিকারী সাহাবিগণের পরবর্তী প্রজন্ম।
হাদিসটিতে যে বিশেষ দাবি রয়েছে তা হচ্ছে: অবিচারের সামনে নীরবতার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারের সামনে ধৈর্য, ভুলকাজ ও বিশৃঙ্খলার সময় সন্তুষ্টির আহ্বান এবং পৃথিবীতে স্বৈরাচারীদের উৎপীড়নের মুখে ঋনাত্মক মনোভাব। বেশকিছু যুক্তি দ্বারা তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
প্রথম: ধৈর্য ধারণ করো! এর বক্তা ছিলেন আনাস। সুতরাং হাদিসটি মারফু নয়। তিনি তা-ই উল্লেখ করেছেন, যা নবি সা.-এর কাছ থেকে তিনি বুঝেছেন এবং পাপমুক্ত ব্যক্তি ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম স্বাধীন।
দ্বিতীয়: আনাস অবিচার ও বিশৃঙ্খলার সামনে লোকদেরকে হৃষ্টচিত্ত থাকার নির্দেশ দেননি, তাদেরকে কেবল ধৈর্য ধারণের জন্য বলেছেন এবং এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান বিরাট। অবিশ্বাসের সম্মুখে প্রশান্তি নিজেরই অবিশ্বাস এবং অসৎ কাজের সামনে অসৎকাজই। ধৈর্যের ক্ষেত্রে এটা সর্বদাই অপরিহার্য; একজন এক বিষয়ে ধৈর্যশীল যাতে সে অনিচ্ছুক, যখন সে তা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে।
তৃতীয়: অবিচার ও স্বৈরাচার প্রতিহত করার সাধ্য যার নেই, তার ধৈর্যকে আশ্রয় করা ও দীর্ঘ ভোগান্তি ছাড়া কোনো পথ নেই। একই সাথে সে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতির জন্য চেষ্টা করবে, পরিবর্তনের জন্য এবং উপায় ও সুযোগ নেওয়ার জন্য, ঐসব লোকের সাহায্য গ্রহণের চেষ্টাও করবে যারা এই অবস্থার ভাগীদার। সে অবশ্যই অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে সে সত্যের শক্তি দিয়ে মিথ্যার শক্তিকে এবং ন্যায়ের সাহায্যকারীদের সহযোগিতায় অন্যায়ের সহযোগীদের প্রতিরোধ করতে পারে। এটা নিশ্চিত যে, নবি সা. তের বছর ধরে মক্কায় মূর্তি ও এর উপাসকদের বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ঐ সময় মাসজিদুল হারামে সালাত আদায় করেছেন এবং কাবার তাওয়াফ করেছেন, যখন এর মধ্যে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিল। হিজরতের সপ্তম বছরে উমরাতুল কাযা আদায়কালে তিনি ও সাহাবিগণ এর তাওয়াফ করেন; তিনি মূর্তিগুলোকে দেখেছেন, কিন্তু মহাবিজয়ের দিনের সঠিক সময়ের পূর্বে ওগুলো স্পর্শ করেননি। যেটা ছিল মক্কাবিজয় সেদিনই তিনি ওগুলো ধ্বংস করেন।
এ কারণেই আমাদের মনীষীগণ শর্ত রেখেছেন, যদি একটি ভুলকে নির্মূল করতে গিয়ে ব্যাপকতর ভুলের জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে সময় না আসা পর্যন্ত মানুষের কর্তব্য হবে নীরবতা অবলম্বন করা। তাই ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য নির্দেশকে অন্যায় ও অত্যাচারের কাছে নিখাদ আত্মসমর্পণ বুঝাবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা না আসা পর্যন্ত নিবিড়ভাবে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করাই এর অর্থ এবং তিনিই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক।
চতুর্থ : ধৈর্য কাউকে সত্যকথন থেকে বিরত থাকতে বলে না এবং প্রভু বা স্রষ্টার মতো আচরণকারী স্বৈরাচারীর সম্মুখে হক অনুসরণ ও নাহক প্রত্যাখ্যানও নিষেধ করে না। তথাপি এমনটা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় যে, তার জন্য, তার পরিবারের জন্য বা তার চারপাশের লোকদের জন্য সে ভীতি অনুভব করে। একটি হাদিসে এটা এসেছে:
অত্যাচারী শাসকদের সামনে সত্য উচ্চারণ সর্বোত্তম জিহাদ।৩৯
এবং আরেকটি হাদিসে এসেছে : শহিদগণের নেতা হচ্ছেন হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং সেই ব্যক্তি যে অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়ায়, তারপর যা সঠিক তা করতে তাকে হুকুম করে এবং নিষেধ করে যা অন্যায়, তা করতে এবং তাকে হত্যা করে।৪০

টিকাঃ
৩৯. ইবন মাজাহ এটা বর্ণনা করেছেন, এভাবে আল-হুমায়দি এবং আল-হাকিমও আবু সাঈদ হতে। আল-শুআব মধ্যে আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাজাহ, আল-তাবারানি এবং আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন আবু উমামাহ হতে; ইবন হাম্বল ও আল-নাসায়ি এবং আল-বায়হাকি তারিক ইবন শিহাব হতে আল-শুআব গ্রন্থে। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন 'উমার ইবন কাতাদাহ হতে এবং অন্যরা। দেখুন সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থ, নম্বর ১১০০।
৪০. আল-হাকিম এটা বর্ণনা করেছেন এবং আল-দাইয়া জাবির হতে। আল-আলবানি সহিহ আল-জামি আল-সগির গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, নম্বর ৩৫৭৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00