📄 ক. হাসান আল-বাসরীর ব্যাখ্যা
আল-হাসান আল-বাসরী এই হাদিসটির অর্থ আরোপ করেছেন সেই সময়ের ওপর, সব সময়ের নয়; অবিসংবাদিত সংখ্যাগরিষ্ঠের অর্থ বাতিল করে।৩৭ আল-হাজ্জাজের পরে উমার ইবন আবদুল আজিজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন: কিছু নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের স্থান জনসাধারণের জন্য প্রয়োজন ছিল।
টিকাঃ
৩৭. ফাতহ আল-বারি (কায়রো : আল-হালাবি), খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা-২২৭।
আল-হাসান আল-বাসরী এই হাদিসটির অর্থ আরোপ করেছেন সেই সময়ের ওপর, সব সময়ের নয়; অবিসংবাদিত সংখ্যাগরিষ্ঠের অর্থ বাতিল করে।৩৭ আল-হাজ্জাজের পরে উমার ইবন আবদুল আজিজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন: কিছু নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের স্থান জনসাধারণের জন্য প্রয়োজন ছিল।
টিকাঃ
৩৭. ফাতহ আল-বারি (কায়রো : আল-হালাবি), খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা-২২৭।
📄 খ. ইবন মাসউদের ব্যাখ্যা
ইবন মাসউদ থেকে এসেছে : তোমাদের ওপর ঐ সময় ব্যতীত এমন সময় আসবে না যা এর আগের সময়ের চেয়ে ভালো। এখন দেখ, আমি এটা বুঝাচ্ছি না যে, এক শাসক অন্য একজন শাসকের চেয়ে উত্তম নয় এবং কোনো বছরই আরেক বছরের চেয়ে উত্তম নয়, কিন্তু তোমাদের আলেম ও ফকিহগণ চলে যাবেন, তারপর তোমরা [লোকদের] মধ্য থেকে [তাদের] উত্তরাধিকারী পাবে না এবং এমন একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা তাদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করবে। একটি বক্তৃতায়, যা তার বলে কথিত, তিনি বলেন: তখন তারা ইসলামকে কলুষিত করবে এবং একে ধ্বংস করে ছাড়বে।৩৮ আল-ফাতহ'র মধ্যে ইবন হাজার এই প্রসঙ্গে ভালো ও মন্দ'র অর্থ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই যুক্তির পরিমাপ করেন এবং বলেন: অনুসরণের জন্য তিনিই অধিক যথার্থ ব্যক্তি।
কিন্তু বাস্তবে তিনি এই অসুবিধা সম্পূর্ণরূপে উৎপাটিত করেননি। কারণ, মূলপাঠ অনুযায়ী এটা দেখা গেছে যে, অদেখা ভবিষ্যতে ইসলামের জন্য সময় আসবে যখন পতাকা উত্তোলিত হবে এবং এর বাণী সমুন্নত হবে এবং এমনটা যদি কেবল শেষ জমানায় মাহদি ও মাসিহ'র সময়ও ঘটে তবুও যথেষ্ট।
ইতিহাসের সাক্ষ্য এই যে, পৃথিবীতে অচলাবস্থা ও বন্ধ্যাত্ব এসেছে, যা অতিক্রান্ত হয়েছে আন্দোলন ও সংস্কার দ্বারা। উদাহরণ হিসেবে, এটা উল্লেখ করা যথেষ্ট যে, অষ্টম শতকে ঐসব বিদ্বান ও সংস্কারক আবির্ভূত হয়েছিলেন বাগদাদে খিলাফত পতনের পর। সপ্তম শতকে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, যার পরে উদাহরণ হিসেবে ইবন দাকীক আল-ঈদ ও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিইয়াহ এবং তার শিষ্য ইবন আল-কাইয়িম এবং সিরিয়ায় তার অবশিষ্ট ছাত্ররা এসেছিলেন; এমনি আন্দালুসে আল-শাতিবী এবং মাগরিব ও মিসরে ইবন খালদুন এবং অন্যরা যাদের ওপর ইবনহাজার তার গ্রন্থ দুরার আল-কামিনাহ ফি আ'ইয়ান আল-মি'আত আল-সামিনাহ'র মধ্যে জৈবনিক বর্ণনা দিয়েছেন।
এর পরের যুগে উদাহরণস্বরূপ আমরা খোদ ইবন হাজার এবং মিসরে আল-সূযুতী, ইয়েমেনে ইবন ওয়াযির, ভারতে আল-দেহলাভী, ইয়েমেনে আল-শাওকানী ও আল-সানাঈ, নাজদে ইবন আবদুল ওয়াহহাবকে এবং ইজতিহাদে উচ্চ মানের আলেম এবং সংস্কারকদের নেতাদের দেখতে পাই। এটা সে বিষয়ে যা ইবন হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে পর্যবেক্ষণহেতু উচ্চারণ করেছেন। তা এই যে, আনাসের হাদিস তার জমানায় সাধারণ লোকদের জন্য ছিল না এবং তার যুক্তিকে স্থাপন করেছেন মাহদী সংক্রান্ত পূর্বে উল্লিখিত হাদিসে 'কিভাবে তিনি অবিচারে পরিপূর্ণ পৃথিবীকে ন্যায়বিচার দ্বারা পূর্ণ করবেন।
টিকাঃ
৩৮. প্রাগুক্ত।
ইবন মাসউদ থেকে এসেছে : তোমাদের ওপর ঐ সময় ব্যতীত এমন সময় আসবে না যা এর আগের সময়ের চেয়ে ভালো। এখন দেখ, আমি এটা বুঝাচ্ছি না যে, এক শাসক অন্য একজন শাসকের চেয়ে উত্তম নয় এবং কোনো বছরই আরেক বছরের চেয়ে উত্তম নয়, কিন্তু তোমাদের আলেম ও ফকিহগণ চলে যাবেন, তারপর তোমরা [লোকদের] মধ্য থেকে [তাদের] উত্তরাধিকারী পাবে না এবং এমন একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা তাদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করবে। একটি বক্তৃতায়, যা তার বলে কথিত, তিনি বলেন: তখন তারা ইসলামকে কলুষিত করবে এবং একে ধ্বংস করে ছাড়বে।৩৮ আল-ফাতহ'র মধ্যে ইবন হাজার এই প্রসঙ্গে ভালো ও মন্দ'র অর্থ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই যুক্তির পরিমাপ করেন এবং বলেন: অনুসরণের জন্য তিনিই অধিক যথার্থ ব্যক্তি।
কিন্তু বাস্তবে তিনি এই অসুবিধা সম্পূর্ণরূপে উৎপাটিত করেননি। কারণ, মূলপাঠ অনুযায়ী এটা দেখা গেছে যে, অদেখা ভবিষ্যতে ইসলামের জন্য সময় আসবে যখন পতাকা উত্তোলিত হবে এবং এর বাণী সমুন্নত হবে এবং এমনটা যদি কেবল শেষ জমানায় মাহদি ও মাসিহ'র সময়ও ঘটে তবুও যথেষ্ট।
ইতিহাসের সাক্ষ্য এই যে, পৃথিবীতে অচলাবস্থা ও বন্ধ্যাত্ব এসেছে, যা অতিক্রান্ত হয়েছে আন্দোলন ও সংস্কার দ্বারা। উদাহরণ হিসেবে, এটা উল্লেখ করা যথেষ্ট যে, অষ্টম শতকে ঐসব বিদ্বান ও সংস্কারক আবির্ভূত হয়েছিলেন বাগদাদে খিলাফত পতনের পর। সপ্তম শতকে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, যার পরে উদাহরণ হিসেবে ইবন দাকীক আল-ঈদ ও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিইয়াহ এবং তার শিষ্য ইবন আল-কাইয়িম এবং সিরিয়ায় তার অবশিষ্ট ছাত্ররা এসেছিলেন; এমনি আন্দালুসে আল-শাতিবী এবং মাগরিব ও মিসরে ইবন খালদুন এবং অন্যরা যাদের ওপর ইবনহাজার তার গ্রন্থ দুরার আল-কামিনাহ ফি আ'ইয়ান আল-মি'আত আল-সামিনাহ'র মধ্যে জৈবনিক বর্ণনা দিয়েছেন।
এর পরের যুগে উদাহরণস্বরূপ আমরা খোদ ইবন হাজার এবং মিসরে আল-সূযুতী, ইয়েমেনে ইবন ওয়াযির, ভারতে আল-দেহলাভী, ইয়েমেনে আল-শাওকানী ও আল-সানাঈ, নাজদে ইবন আবদুল ওয়াহহাবকে এবং ইজতিহাদে উচ্চ মানের আলেম এবং সংস্কারকদের নেতাদের দেখতে পাই। এটা সে বিষয়ে যা ইবন হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে পর্যবেক্ষণহেতু উচ্চারণ করেছেন। তা এই যে, আনাসের হাদিস তার জমানায় সাধারণ লোকদের জন্য ছিল না এবং তার যুক্তিকে স্থাপন করেছেন মাহদী সংক্রান্ত পূর্বে উল্লিখিত হাদিসে 'কিভাবে তিনি অবিচারে পরিপূর্ণ পৃথিবীকে ন্যায়বিচার দ্বারা পূর্ণ করবেন।
টিকাঃ
৩৮. প্রাগুক্ত।
📄 গ. ভারসাম্যমূলক বিশ্লেষণ
ভারসাম্য রক্ষার্থে আল-ফাতহ গ্রন্থে ইবন হাজার প্রদত্ত হাদিসটিকে অনুকূল বিবেচনা করি।
এমন সম্ভাবনা আছে যে, বর্ণনায় আনীত ঐ সময় হচ্ছে সাহাবিদের যুগ। এই ভিত্তিতে যে, তারা ঐ হাদিসে সম্বোধিত। তাদের পরবর্তীগণ জন্য।
বর্ণিত বক্তব্যে উদ্দিষ্ট ছিলেন না। যাই হোক, সাহাবি [অর্থাৎ আনাস] বুঝেছিলেন তাদের সাধারণত্বসহ শব্দসমূহকে। সুতরাং ঐ কারণের জন্য তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাদেরকে, যারা হাজ্জাজের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তারা বা তাদের বৃহত্তর অংশ ছিলেন তাবিঈগণ [উত্তরাধিকারী সাহাবিগণের পরবর্তী প্রজন্ম।
হাদিসটিতে যে বিশেষ দাবি রয়েছে তা হচ্ছে: অবিচারের সামনে নীরবতার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারের সামনে ধৈর্য, ভুলকাজ ও বিশৃঙ্খলার সময় সন্তুষ্টির আহ্বান এবং পৃথিবীতে স্বৈরাচারীদের উৎপীড়নের মুখে ঋনাত্মক মনোভাব। বেশকিছু যুক্তি দ্বারা তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
প্রথম: ধৈর্য ধারণ করো! এর বক্তা ছিলেন আনাস। সুতরাং হাদিসটি মারফু নয়। তিনি তা-ই উল্লেখ করেছেন, যা নবি সা.-এর কাছ থেকে তিনি বুঝেছেন এবং পাপমুক্ত ব্যক্তি ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম স্বাধীন।
দ্বিতীয়: আনাস অবিচার ও বিশৃঙ্খলার সামনে লোকদেরকে হৃষ্টচিত্ত থাকার নির্দেশ দেননি, তাদেরকে কেবল ধৈর্য ধারণের জন্য বলেছেন এবং এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান বিরাট। অবিশ্বাসের সম্মুখে প্রশান্তি নিজেরই অবিশ্বাস এবং অসৎ কাজের সামনে অসৎকাজই। ধৈর্যের ক্ষেত্রে এটা সর্বদাই অপরিহার্য; একজন এক বিষয়ে ধৈর্যশীল যাতে সে অনিচ্ছুক, যখন সে তা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে।
তৃতীয়: অবিচার ও স্বৈরাচার প্রতিহত করার সাধ্য যার নেই, তার ধৈর্যকে আশ্রয় করা ও দীর্ঘ ভোগান্তি ছাড়া কোনো পথ নেই। একই সাথে সে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতির জন্য চেষ্টা করবে, পরিবর্তনের জন্য এবং উপায় ও সুযোগ নেওয়ার জন্য, ঐসব লোকের সাহায্য গ্রহণের চেষ্টাও করবে যারা এই অবস্থার ভাগীদার। সে অবশ্যই অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে সে সত্যের শক্তি দিয়ে মিথ্যার শক্তিকে এবং ন্যায়ের সাহায্যকারীদের সহযোগিতায় অন্যায়ের সহযোগীদের প্রতিরোধ করতে পারে। এটা নিশ্চিত যে, নবি সা. তের বছর ধরে মক্কায় মূর্তি ও এর উপাসকদের বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ঐ সময় মাসজিদুল হারামে সালাত আদায় করেছেন এবং কাবার তাওয়াফ করেছেন, যখন এর মধ্যে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিল। হিজরতের সপ্তম বছরে উমরাতুল কাযা আদায়কালে তিনি ও সাহাবিগণ এর তাওয়াফ করেন; তিনি মূর্তিগুলোকে দেখেছেন, কিন্তু মহাবিজয়ের দিনের সঠিক সময়ের পূর্বে ওগুলো স্পর্শ করেননি। যেটা ছিল মক্কাবিজয় সেদিনই তিনি ওগুলো ধ্বংস করেন।
এ কারণেই আমাদের মনীষীগণ শর্ত রেখেছেন, যদি একটি ভুলকে নির্মূল করতে গিয়ে ব্যাপকতর ভুলের জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে সময় না আসা পর্যন্ত মানুষের কর্তব্য হবে নীরবতা অবলম্বন করা। তাই ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য নির্দেশকে অন্যায় ও অত্যাচারের কাছে নিখাদ আত্মসমর্পণ বুঝাবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা না আসা পর্যন্ত নিবিড়ভাবে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করাই এর অর্থ এবং তিনিই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক।
চতুর্থ : ধৈর্য কাউকে সত্যকথন থেকে বিরত থাকতে বলে না এবং প্রভু বা স্রষ্টার মতো আচরণকারী স্বৈরাচারীর সম্মুখে হক অনুসরণ ও নাহক প্রত্যাখ্যানও নিষেধ করে না। তথাপি এমনটা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় যে, তার জন্য, তার পরিবারের জন্য বা তার চারপাশের লোকদের জন্য সে ভীতি অনুভব করে। একটি হাদিসে এটা এসেছে:
অত্যাচারী শাসকদের সামনে সত্য উচ্চারণ সর্বোত্তম জিহাদ।৩৯
এবং আরেকটি হাদিসে এসেছে : শহিদগণের নেতা হচ্ছেন হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং সেই ব্যক্তি যে অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়ায়, তারপর যা সঠিক তা করতে তাকে হুকুম করে এবং নিষেধ করে যা অন্যায়, তা করতে এবং তাকে হত্যা করে।৪০
টিকাঃ
৩৯. ইবন মাজাহ এটা বর্ণনা করেছেন, এভাবে আল-হুমায়দি এবং আল-হাকিমও আবু সাঈদ হতে। আল-শুআব মধ্যে আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাজাহ, আল-তাবারানি এবং আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন আবু উমামাহ হতে; ইবন হাম্বল ও আল-নাসায়ি এবং আল-বায়হাকি তারিক ইবন শিহাব হতে আল-শুআব গ্রন্থে। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন 'উমার ইবন কাতাদাহ হতে এবং অন্যরা। দেখুন সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থ, নম্বর ১১০০।
৪০. আল-হাকিম এটা বর্ণনা করেছেন এবং আল-দাইয়া জাবির হতে। আল-আলবানি সহিহ আল-জামি আল-সগির গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, নম্বর ৩৫৭৫।
ভারসাম্য রক্ষার্থে আল-ফাতহ গ্রন্থে ইবন হাজার প্রদত্ত হাদিসটিকে অনুকূল বিবেচনা করি।
এমন সম্ভাবনা আছে যে, বর্ণনায় আনীত ঐ সময় হচ্ছে সাহাবিদের যুগ। এই ভিত্তিতে যে, তারা ঐ হাদিসে সম্বোধিত। তাদের পরবর্তীগণ জন্য।
বর্ণিত বক্তব্যে উদ্দিষ্ট ছিলেন না। যাই হোক, সাহাবি [অর্থাৎ আনাস] বুঝেছিলেন তাদের সাধারণত্বসহ শব্দসমূহকে। সুতরাং ঐ কারণের জন্য তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাদেরকে, যারা হাজ্জাজের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তারা বা তাদের বৃহত্তর অংশ ছিলেন তাবিঈগণ [উত্তরাধিকারী সাহাবিগণের পরবর্তী প্রজন্ম।
হাদিসটিতে যে বিশেষ দাবি রয়েছে তা হচ্ছে: অবিচারের সামনে নীরবতার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারের সামনে ধৈর্য, ভুলকাজ ও বিশৃঙ্খলার সময় সন্তুষ্টির আহ্বান এবং পৃথিবীতে স্বৈরাচারীদের উৎপীড়নের মুখে ঋনাত্মক মনোভাব। বেশকিছু যুক্তি দ্বারা তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
প্রথম: ধৈর্য ধারণ করো! এর বক্তা ছিলেন আনাস। সুতরাং হাদিসটি মারফু নয়। তিনি তা-ই উল্লেখ করেছেন, যা নবি সা.-এর কাছ থেকে তিনি বুঝেছেন এবং পাপমুক্ত ব্যক্তি ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম স্বাধীন।
দ্বিতীয়: আনাস অবিচার ও বিশৃঙ্খলার সামনে লোকদেরকে হৃষ্টচিত্ত থাকার নির্দেশ দেননি, তাদেরকে কেবল ধৈর্য ধারণের জন্য বলেছেন এবং এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান বিরাট। অবিশ্বাসের সম্মুখে প্রশান্তি নিজেরই অবিশ্বাস এবং অসৎ কাজের সামনে অসৎকাজই। ধৈর্যের ক্ষেত্রে এটা সর্বদাই অপরিহার্য; একজন এক বিষয়ে ধৈর্যশীল যাতে সে অনিচ্ছুক, যখন সে তা পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করে।
তৃতীয়: অবিচার ও স্বৈরাচার প্রতিহত করার সাধ্য যার নেই, তার ধৈর্যকে আশ্রয় করা ও দীর্ঘ ভোগান্তি ছাড়া কোনো পথ নেই। একই সাথে সে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতির জন্য চেষ্টা করবে, পরিবর্তনের জন্য এবং উপায় ও সুযোগ নেওয়ার জন্য, ঐসব লোকের সাহায্য গ্রহণের চেষ্টাও করবে যারা এই অবস্থার ভাগীদার। সে অবশ্যই অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে সে সত্যের শক্তি দিয়ে মিথ্যার শক্তিকে এবং ন্যায়ের সাহায্যকারীদের সহযোগিতায় অন্যায়ের সহযোগীদের প্রতিরোধ করতে পারে। এটা নিশ্চিত যে, নবি সা. তের বছর ধরে মক্কায় মূর্তি ও এর উপাসকদের বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ঐ সময় মাসজিদুল হারামে সালাত আদায় করেছেন এবং কাবার তাওয়াফ করেছেন, যখন এর মধ্যে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিল। হিজরতের সপ্তম বছরে উমরাতুল কাযা আদায়কালে তিনি ও সাহাবিগণ এর তাওয়াফ করেন; তিনি মূর্তিগুলোকে দেখেছেন, কিন্তু মহাবিজয়ের দিনের সঠিক সময়ের পূর্বে ওগুলো স্পর্শ করেননি। যেটা ছিল মক্কাবিজয় সেদিনই তিনি ওগুলো ধ্বংস করেন।
এ কারণেই আমাদের মনীষীগণ শর্ত রেখেছেন, যদি একটি ভুলকে নির্মূল করতে গিয়ে ব্যাপকতর ভুলের জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে সময় না আসা পর্যন্ত মানুষের কর্তব্য হবে নীরবতা অবলম্বন করা। তাই ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য নির্দেশকে অন্যায় ও অত্যাচারের কাছে নিখাদ আত্মসমর্পণ বুঝাবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা না আসা পর্যন্ত নিবিড়ভাবে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করাই এর অর্থ এবং তিনিই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক।
চতুর্থ : ধৈর্য কাউকে সত্যকথন থেকে বিরত থাকতে বলে না এবং প্রভু বা স্রষ্টার মতো আচরণকারী স্বৈরাচারীর সম্মুখে হক অনুসরণ ও নাহক প্রত্যাখ্যানও নিষেধ করে না। তথাপি এমনটা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় যে, তার জন্য, তার পরিবারের জন্য বা তার চারপাশের লোকদের জন্য সে ভীতি অনুভব করে। একটি হাদিসে এটা এসেছে:
অত্যাচারী শাসকদের সামনে সত্য উচ্চারণ সর্বোত্তম জিহাদ।৩৯
এবং আরেকটি হাদিসে এসেছে : শহিদগণের নেতা হচ্ছেন হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং সেই ব্যক্তি যে অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়ায়, তারপর যা সঠিক তা করতে তাকে হুকুম করে এবং নিষেধ করে যা অন্যায়, তা করতে এবং তাকে হত্যা করে।৪০
টিকাঃ
৩৯. ইবন মাজাহ এটা বর্ণনা করেছেন, এভাবে আল-হুমায়দি এবং আল-হাকিমও আবু সাঈদ হতে। আল-শুআব মধ্যে আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাজাহ, আল-তাবারানি এবং আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন আবু উমামাহ হতে; ইবন হাম্বল ও আল-নাসায়ি এবং আল-বায়হাকি তারিক ইবন শিহাব হতে আল-শুআব গ্রন্থে। আল-হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন 'উমার ইবন কাতাদাহ হতে এবং অন্যরা। দেখুন সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থ, নম্বর ১১০০।
৪০. আল-হাকিম এটা বর্ণনা করেছেন এবং আল-দাইয়া জাবির হতে। আল-আলবানি সহিহ আল-জামি আল-সগির গ্রন্থে এটাকে হাসান বলেছেন, নম্বর ৩৫৭৫।