📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 জ্ঞানী প্রচারক জনগনের নিকট অস্পষ্ট কিছু পৌঁছান না

📄 জ্ঞানী প্রচারক জনগনের নিকট অস্পষ্ট কিছু পৌঁছান না


একজন উজ্জীবিত প্রচারক হাদিস নামে পরিচিত সব কিছুই মানুষের কাছে পৌছান না, এমনকি সহিহ হলেও। ক্বাওয়াইদ আল-তাহদিস গ্রন্থে জামাল উদ্দীন আল-কাসিমী বলেন:
সব সহিহ হাদিসই সাধারণ লোকদের কাছে পৌছানো হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রমাণ হচ্ছে, শায়খাঈন [আল-বুখারি ও মুসলিম] মু'আয থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন আমি রসুল সা.-এর পিছনে সওয়ারিতে উপবিষ্ট ছিলাম। এসময় তিনি সা. বললেন: মুয়ায! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অধিকার কী? আমি বললাম: আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলই ভালো জানেন। তিনি সা. বললেন निश्चय বান্দার ওপর আল্লাহ তায়ালার অধিকার হচ্ছে যে, তারা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না এবং বান্দার অধিকার হচ্ছে, যারা তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম হে আল্লাহর রসুল, আমি কি লোকদেরকে এই শুভ সংবাদ জানিয়ে দেবো? তিনি সা. বললেন: না, তাদেরকে এই শুভ সংবাদ জানিও না, কারণ তারা অলস হয়ে পড়বে!
অন্য একটি বর্ণনায় উভয়েই [আল-বুখারি ও মুসলিম] করেছেন, তাতে আনাস থেকে জানা যায় যে রসুল সা. মুয়ায কে বললেন, যিনি সরাসরি তাঁর সা. পেছনে বসে ছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সর্বান্তঃকরণে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল, সে জাহান্নামে যাবে, সেই বিষয় ছাড়া যে বিষয়ে আল্লাহই তাকে আগুন থেকে বাঁচাবার মালিক। তিনি (মুয়ায) বললেন: হে আল্লাহর রসুল! আমি কি লোকদের এই সংবাদ জানাব না যাতে তারা এই শুভ সংবাদে উল্লসিত হতে পারে? তিনি সা. বললেন তাহলে তারা আমল করা থেকে বিরত থাকবে।
মুয়ায রা. তার মৃত্যুকালে [কাউকে] এটা জানিয়ে গেছেন [জ্ঞান পৌছে দেওয়া এবং তা গোপন না করা সম্পর্কিত নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ। এর গুনাহ হতে বাঁচার জন্য। আল-বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন একটি নোটে [অর্থাৎ কোনো সনদ সংযুক্ত না করে] আলী থেকে : লোকদের কাছে পৌছাবে যা তারা জানে [এবং যাতে অনুধাবন করতে পারে]; তোমরা কি চাও আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করা হোক? ইবন মাসউদ-এর এরকমই একটি উক্তি রয়েছে- তুমি ঐ লোকদের কাছে হাদিস পৌছাওনি যাদের মন এটা অর্জন করতে পারে না তাছাড়া যা, তাদের জন্য একটা পরীক্ষা। মুসলিম এটা বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবন হাজার বলেন: যারা কিছু হাদিস পৌঁছে দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন অথচ অন্যগুলো নয়, তাদের মধ্যে : আহমাদ ইবন হাম্বল ঐসব হাদিস সম্পর্কে যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বুঝায়; মালিক গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিস; আবু ইউসূফ মোজেযা [বিষয়] এবং তাদের পূর্বে আবু হুরায়রা [উদাহরণস্বরূপ] দুই থালি৩২ বিষয়ে তার কাছে থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; সেই অবস্থান [যা আবু হুরায়রা ইঙ্গিত করেছিলেন] হচ্ছে তাই, যা ঘটে মতভেদ বিবাদ বিসম্বাদের সময়। এর মতোই একটি বর্ণনা হুযায়ফা হতে বর্ণিত এবং হাসান (আল-বাসরি) থেকে : যে, তিনি আল-হাজ্জাজের কাছে আনাস কর্তৃক উরানিয়্যুন৩৩ সম্পর্কিত কাহিনী পৌঁছে দেওয়া অপছন্দ করেছেন। এই আশঙ্কায় যে, হাজ্জাজ তিনি তার এটাকে অবলম্বন করতে পারতেন একটা হাতিয়ার হিসেবে, তিনি অতিরিক্ত রক্তপাতকে গ্রহণযোগ্য করতে মনস্থ করেছিলেন।
এর নিয়ন্ত্রক নীতি হলো : হাদিসের বাহ্যিক অর্থ ধর্মীয় বিদআতকে শক্তিশালী করতে পারে এবং এর বাহ্যিক অর্থ প্রকৃত উৎসের উদ্দেশ্য নয়; সুতরাং যা চাওয়া হচ্ছে তা হয়ে, ঐ ব্যক্তি হতে ফিরিয়ে রাখা, যার সম্পর্কে ভয় আছে যে সে এর বাহ্যিক অর্থের অপব্যবহার করবে।
এভাবে সমগ্র হাদিস সামষ্টিকভাবে এবং পৃথকভাবে পৌঁছানো নিষিদ্ধকরণ জনস্বার্থের সাথে সম্পর্কিত এবং নিজেই নিষিদ্ধ নয়। মুয়ায মানুষকে জানিয়েছেন, কারণ তিনি করেছেন দ্বীনের জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশের ফলে।
কিছু আলেম বলেছেন যে, রসুল সা.-এর বক্তব্য তাদেরকে এই শুভ সংবাদ দিও না কিছু লোকের কাছে বিশেষায়িত, অর্থাৎ সর্বজনীন নয়। আল-বুখারি যুক্তির মধ্যে এটা উদ্ধৃত করেছেন যে, আলেমগণের দায়িত্ব এই জ্ঞান কিছু লোকের জন্য বিশেষায়িত করা, অন্যদের জন্য নয়। নিন্দনীয় হচ্ছে লোকদের বোধগম্যতা ঐ বিষয়ে যা তাদের কাছে পৌঁছানো হয়। তিনি এ অবস্থান গ্রহণের, সর্ব জনকে অনুমতি দেওয়া ঐগুজালিকদের মতো এই হাদিসসমূহ (আল-বাতালাহ আল- মুবাহিয়্যাহ)৩৫ দ্বীনী দায়িত্ব পরিত্যাগ করার এবং অনুশাসন ভুলে নেওয়ার জন্য ওজর পেশ করে এবং তা পরজগতে ধ্বংসের ওপরে এই জগতে ধ্বংসের প্রশস্ত পথ খুলে দেয়। কারণ কোথায় তারা, যারা তাদেরকে সুসংবাদ দিলে ইবাদতে বিরাট বিস্তার ঘটায়? রসুল সা. কে বলা হয়েছিল কেন আপনি সরাসরি [সালাতে] দণ্ডায়মান থাকেন যেখানে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন?৩৬ উত্তরে তিনি সা. বলেন: আমি কি শোকরকারী বান্দা হব না?
সুতরাং আমি ঐসব প্রচারকের মনোভাবে একেবারেই আশ্চর্য বোধ করি, যারা মাছির হাদিস (মাছিকে সম্পূর্ণভাবে মধ্যে খাবারের ডোবানোর কথা) উল্লেখ করতে বিরত হন না! অথবা ঐ হাদিস, যাতে মুসা আ. মালাকুল মউতকে চড় মেরেছিলেন! অথবা সেই হাদিস (জবাবে যাতে একজন প্রশ্ন করেছিল, আমার পিতা কোথায়?) প্রকৃত পক্ষে তোমার পিতা ও আমার পিতা জাহান্নামে। অথবা এমন হাদিসসমূহ যাতে সালাফ ও খালাফ (প্রাথমিক প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্ম) আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন বিধেয় হিসেবে [তাঁর প্রয়োজনীয় বিদ্যমানতা প্রকাশে] - (উভয় ক্ষেত্রে যদি অসাবধানতাবশত প্রকাশ হয়) এই সম্ভাবনায় যে, অপব্যাখ্যার ফলে মানব দেহে (তিনি) অনুপ্রবিষ্ট হন। অথবা, ফিতনার সময়ের হাদিসসমূহ যার বাহ্যিক অর্থ এমন মনে করা হতে পারে যে, নিয়মশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো আশাই নেই এবং কোনো রকম বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ হতে দূরে সরে থাকা। অথবা অন্য হাদিসসমূহ যার অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের জন্যই উপলব্ধি করা অতি দুরূহ।
এই সব হাদিসের কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলোর ভিত্তিতে কোনো হুকুম আসেনি। যদি লোকেরা এগুলো না শুনেই তাদের দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে দেয়, তাতে তাদের জন্য সরিষার দানা পরিমাণও কম করবে না। যদি কোনো বিশেষ কারণে এসব হাদিস হতে প্রচারক কিছু প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তা সঠিক কাঠামোতে উপস্থাপন করা তার কর্তব্য হবে। এগুলোকে কিছু বিশদ ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করবেন যাতে এর অর্থ স্পষ্ট হয় এবং এসবের ব্যাপারে সবরকম সন্দেহ ও সংশয় দূর হয়।
আমরা এর দৃষ্টান্ত হিসেবে একটি বিখ্যাত হাদিস গ্রহণ করেছি যা প্রায়ই মানুষকে ভুল বুঝতে প্ররোচিত করে এবং ঐ বুঝের কারণে তারা এর ভিত্তিতে ভয়ানক পরিণতি সম্পন্ন নির্দেশ প্রদান করে। এটা হচ্ছে নিম্নে বর্ণিত আনাস এর হাদিস:

একজন উজ্জীবিত প্রচারক হাদিস নামে পরিচিত সব কিছুই মানুষের কাছে পৌছান না, এমনকি সহিহ হলেও। ক্বাওয়াইদ আল-তাহদিস গ্রন্থে জামাল উদ্দীন আল-কাসিমী বলেন:
সব সহিহ হাদিসই সাধারণ লোকদের কাছে পৌছানো হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রমাণ হচ্ছে, শায়খাঈন [আল-বুখারি ও মুসলিম] মু'আয থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন আমি রসুল সা.-এর পিছনে সওয়ারিতে উপবিষ্ট ছিলাম। এসময় তিনি সা. বললেন: মুয়ায! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অধিকার কী? আমি বললাম: আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলই ভালো জানেন। তিনি সা. বললেন निश्चय বান্দার ওপর আল্লাহ তায়ালার অধিকার হচ্ছে যে, তারা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না এবং বান্দার অধিকার হচ্ছে, যারা তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন না। আমি বললাম হে আল্লাহর রসুল, আমি কি লোকদেরকে এই শুভ সংবাদ জানিয়ে দেবো? তিনি সা. বললেন: না, তাদেরকে এই শুভ সংবাদ জানিও না, কারণ তারা অলস হয়ে পড়বে!
অন্য একটি বর্ণনায় উভয়েই [আল-বুখারি ও মুসলিম] করেছেন, তাতে আনাস থেকে জানা যায় যে রসুল সা. মুয়ায কে বললেন, যিনি সরাসরি তাঁর সা. পেছনে বসে ছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সর্বান্তঃকরণে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল, সে জাহান্নামে যাবে, সেই বিষয় ছাড়া যে বিষয়ে আল্লাহই তাকে আগুন থেকে বাঁচাবার মালিক। তিনি (মুয়ায) বললেন: হে আল্লাহর রসুল! আমি কি লোকদের এই সংবাদ জানাব না যাতে তারা এই শুভ সংবাদে উল্লসিত হতে পারে? তিনি সা. বললেন তাহলে তারা আমল করা থেকে বিরত থাকবে।
মুয়ায রা. তার মৃত্যুকালে [কাউকে] এটা জানিয়ে গেছেন [জ্ঞান পৌছে দেওয়া এবং তা গোপন না করা সম্পর্কিত নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ। এর গুনাহ হতে বাঁচার জন্য। আল-বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন একটি নোটে [অর্থাৎ কোনো সনদ সংযুক্ত না করে] আলী থেকে : লোকদের কাছে পৌছাবে যা তারা জানে [এবং যাতে অনুধাবন করতে পারে]; তোমরা কি চাও আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলকে অস্বীকার করা হোক? ইবন মাসউদ-এর এরকমই একটি উক্তি রয়েছে- তুমি ঐ লোকদের কাছে হাদিস পৌছাওনি যাদের মন এটা অর্জন করতে পারে না তাছাড়া যা, তাদের জন্য একটা পরীক্ষা। মুসলিম এটা বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবন হাজার বলেন: যারা কিছু হাদিস পৌঁছে দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন অথচ অন্যগুলো নয়, তাদের মধ্যে : আহমাদ ইবন হাম্বল ঐসব হাদিস সম্পর্কে যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বুঝায়; মালিক গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিস; আবু ইউসূফ মোজেযা [বিষয়] এবং তাদের পূর্বে আবু হুরায়রা [উদাহরণস্বরূপ] দুই থালি৩২ বিষয়ে তার কাছে থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; সেই অবস্থান [যা আবু হুরায়রা ইঙ্গিত করেছিলেন] হচ্ছে তাই, যা ঘটে মতভেদ বিবাদ বিসম্বাদের সময়। এর মতোই একটি বর্ণনা হুযায়ফা হতে বর্ণিত এবং হাসান (আল-বাসরি) থেকে : যে, তিনি আল-হাজ্জাজের কাছে আনাস কর্তৃক উরানিয়্যুন৩৩ সম্পর্কিত কাহিনী পৌঁছে দেওয়া অপছন্দ করেছেন। এই আশঙ্কায় যে, হাজ্জাজ তিনি তার এটাকে অবলম্বন করতে পারতেন একটা হাতিয়ার হিসেবে, তিনি অতিরিক্ত রক্তপাতকে গ্রহণযোগ্য করতে মনস্থ করেছিলেন।
এর নিয়ন্ত্রক নীতি হলো : হাদিসের বাহ্যিক অর্থ ধর্মীয় বিদআতকে শক্তিশালী করতে পারে এবং এর বাহ্যিক অর্থ প্রকৃত উৎসের উদ্দেশ্য নয়; সুতরাং যা চাওয়া হচ্ছে তা হয়ে, ঐ ব্যক্তি হতে ফিরিয়ে রাখা, যার সম্পর্কে ভয় আছে যে সে এর বাহ্যিক অর্থের অপব্যবহার করবে।
এভাবে সমগ্র হাদিস সামষ্টিকভাবে এবং পৃথকভাবে পৌঁছানো নিষিদ্ধকরণ জনস্বার্থের সাথে সম্পর্কিত এবং নিজেই নিষিদ্ধ নয়। মুয়ায মানুষকে জানিয়েছেন, কারণ তিনি করেছেন দ্বীনের জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশের ফলে।
কিছু আলেম বলেছেন যে, রসুল সা.-এর বক্তব্য তাদেরকে এই শুভ সংবাদ দিও না কিছু লোকের কাছে বিশেষায়িত, অর্থাৎ সর্বজনীন নয়। আল-বুখারি যুক্তির মধ্যে এটা উদ্ধৃত করেছেন যে, আলেমগণের দায়িত্ব এই জ্ঞান কিছু লোকের জন্য বিশেষায়িত করা, অন্যদের জন্য নয়। নিন্দনীয় হচ্ছে লোকদের বোধগম্যতা ঐ বিষয়ে যা তাদের কাছে পৌঁছানো হয়। তিনি এ অবস্থান গ্রহণের, সর্ব জনকে অনুমতি দেওয়া ঐগুজালিকদের মতো এই হাদিসসমূহ (আল-বাতালাহ আল- মুবাহিয়্যাহ)৩৫ দ্বীনী দায়িত্ব পরিত্যাগ করার এবং অনুশাসন ভুলে নেওয়ার জন্য ওজর পেশ করে এবং তা পরজগতে ধ্বংসের ওপরে এই জগতে ধ্বংসের প্রশস্ত পথ খুলে দেয়। কারণ কোথায় তারা, যারা তাদেরকে সুসংবাদ দিলে ইবাদতে বিরাট বিস্তার ঘটায়? রসুল সা. কে বলা হয়েছিল কেন আপনি সরাসরি [সালাতে] দণ্ডায়মান থাকেন যেখানে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন?৩৬ উত্তরে তিনি সা. বলেন: আমি কি শোকরকারী বান্দা হব না?
সুতরাং আমি ঐসব প্রচারকের মনোভাবে একেবারেই আশ্চর্য বোধ করি, যারা মাছির হাদিস (মাছিকে সম্পূর্ণভাবে মধ্যে খাবারের ডোবানোর কথা) উল্লেখ করতে বিরত হন না! অথবা ঐ হাদিস, যাতে মুসা আ. মালাকুল মউতকে চড় মেরেছিলেন! অথবা সেই হাদিস (জবাবে যাতে একজন প্রশ্ন করেছিল, আমার পিতা কোথায়?) প্রকৃত পক্ষে তোমার পিতা ও আমার পিতা জাহান্নামে। অথবা এমন হাদিসসমূহ যাতে সালাফ ও খালাফ (প্রাথমিক প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্ম) আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন বিধেয় হিসেবে [তাঁর প্রয়োজনীয় বিদ্যমানতা প্রকাশে] - (উভয় ক্ষেত্রে যদি অসাবধানতাবশত প্রকাশ হয়) এই সম্ভাবনায় যে, অপব্যাখ্যার ফলে মানব দেহে (তিনি) অনুপ্রবিষ্ট হন। অথবা, ফিতনার সময়ের হাদিসসমূহ যার বাহ্যিক অর্থ এমন মনে করা হতে পারে যে, নিয়মশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো আশাই নেই এবং কোনো রকম বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ হতে দূরে সরে থাকা। অথবা অন্য হাদিসসমূহ যার অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের জন্যই উপলব্ধি করা অতি দুরূহ।
এই সব হাদিসের কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলোর ভিত্তিতে কোনো হুকুম আসেনি। যদি লোকেরা এগুলো না শুনেই তাদের দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে দেয়, তাতে তাদের জন্য সরিষার দানা পরিমাণও কম করবে না। যদি কোনো বিশেষ কারণে এসব হাদিস হতে প্রচারক কিছু প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তা সঠিক কাঠামোতে উপস্থাপন করা তার কর্তব্য হবে। এগুলোকে কিছু বিশদ ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করবেন যাতে এর অর্থ স্পষ্ট হয় এবং এসবের ব্যাপারে সবরকম সন্দেহ ও সংশয় দূর হয়।
আমরা এর দৃষ্টান্ত হিসেবে একটি বিখ্যাত হাদিস গ্রহণ করেছি যা প্রায়ই মানুষকে ভুল বুঝতে প্ররোচিত করে এবং ঐ বুঝের কারণে তারা এর ভিত্তিতে ভয়ানক পরিণতি সম্পন্ন নির্দেশ প্রদান করে। এটা হচ্ছে নিম্নে বর্ণিত আনাস এর হাদিস:

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 হাদিস : পূর্ববর্তী জমানার তুলনায় পরবর্তী জমানার খারাপ

📄 হাদিস : পূর্ববর্তী জমানার তুলনায় পরবর্তী জমানার খারাপ


আল-যুবাইর আদি'র সনদে আল-বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমরা আনাস ইবন মালিকের কাছে এসে হাজ্জাজের সাক্ষাতে প্রাপ্ত আমাদের সংশয়ের কথা ব্যক্ত করলাম। তখন তিনি বলেন : ধৈর্য ধারণ করো। কারণ তোমাদের কাছে এমন উৎকৃষ্ট সময় আসবে না। যা এর পরে আসবে তা এর চেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পাও। আমি তোমাদের নবির সা. কাছ থেকে এটা শুনেছি।

আল-যুবাইর আদি'র সনদে আল-বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমরা আনাস ইবন মালিকের কাছে এসে হাজ্জাজের সাক্ষাতে প্রাপ্ত আমাদের সংশয়ের কথা ব্যক্ত করলাম। তখন তিনি বলেন : ধৈর্য ধারণ করো। কারণ তোমাদের কাছে এমন উৎকৃষ্ট সময় আসবে না। যা এর পরে আসবে তা এর চেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পাও। আমি তোমাদের নবির সা. কাছ থেকে এটা শুনেছি।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 এই হাদিসের গুরুত্ব

📄 এই হাদিসের গুরুত্ব


পদক্ষেপ না নিয়ে পেছনে বসে থাকা, সংস্কারের জন্য চেষ্টা বা পরিবর্তন ও বিপদমুক্তির জন্য চেষ্টা না করার কারণ হিসেবে কিছু লোক এই হাদিসটিকে গ্রহণ করে থাকে। তারা যুক্তি দেয় এই হাদিস প্রমাণ করেছে যে, মানুষের আমল অবিরাম পতনশীল, পতন স্থায়ী হয়েছে, কেবল খারাপের দিকেই যাচ্ছে, এক পর্যায় থেকে নিম্নতর পর্যায়ের দিকে ধাবমান, খারাপ থেকে আরো খারাপ, মন্দ হতে হতে অধিকতর মন্দ, যতক্ষণ না দুষ্টদের সময় ঘনিয়ে আসে এবং সব মানুষ তাদের প্রভুর সাথে মিলিত হয়।
অন্যরা এই হাদিস গ্রহণ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এক সময় তাদের কেউ কেউ এটিকে প্রত্যাখ্যান করতে উদ্যত হয়েছেন তাদের চিন্তা ধারণার মাধ্যমে। হাদিসটা কয়েকটি কারণে ক্ষতিকর কিংবা ভুল ছিল। প্রথম, এটি নৈরাশ্য ও হতাশাকে উৎসাহিত করে। দ্বিতীয়, বিপথগামী শাসকের নির্যাতন মোকাবেলায় এটি নেতিবোধের উদ্রেক করে। তৃতীয়, এটি প্রগতির ধারণার বিরোধী যার ওপর সমগ্র জীবন ও অস্তিত্ব দণ্ডায়মান। চতুর্থ, এটি মুসলিমদের ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে দূরে। পঞ্চম, এটা সেই হাদিসসমূহের বিরোধী যা একজন খলিফার আবির্ভাবের বর্ণনা নিয়ে এসেছে, যিনি পৃথিবীকে ন্যায় বিচার দ্বারা পূর্ণ করবেন (তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আল-মাহদী নামে পরিচিত)। যেমন, এটি এখন পূর্ণ হয়ে আছে অত্যাচার ও অন্যায় দ্বারা এবং এটি আইনের শাসন এবং সমগ্র পৃথিবীব্যাপী এর মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ সম্পর্কিত বর্ণনায় ভরপুর।

পদক্ষেপ না নিয়ে পেছনে বসে থাকা, সংস্কারের জন্য চেষ্টা বা পরিবর্তন ও বিপদমুক্তির জন্য চেষ্টা না করার কারণ হিসেবে কিছু লোক এই হাদিসটিকে গ্রহণ করে থাকে। তারা যুক্তি দেয় এই হাদিস প্রমাণ করেছে যে, মানুষের আমল অবিরাম পতনশীল, পতন স্থায়ী হয়েছে, কেবল খারাপের দিকেই যাচ্ছে, এক পর্যায় থেকে নিম্নতর পর্যায়ের দিকে ধাবমান, খারাপ থেকে আরো খারাপ, মন্দ হতে হতে অধিকতর মন্দ, যতক্ষণ না দুষ্টদের সময় ঘনিয়ে আসে এবং সব মানুষ তাদের প্রভুর সাথে মিলিত হয়।
অন্যরা এই হাদিস গ্রহণ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এক সময় তাদের কেউ কেউ এটিকে প্রত্যাখ্যান করতে উদ্যত হয়েছেন তাদের চিন্তা ধারণার মাধ্যমে। হাদিসটা কয়েকটি কারণে ক্ষতিকর কিংবা ভুল ছিল। প্রথম, এটি নৈরাশ্য ও হতাশাকে উৎসাহিত করে। দ্বিতীয়, বিপথগামী শাসকের নির্যাতন মোকাবেলায় এটি নেতিবোধের উদ্রেক করে। তৃতীয়, এটি প্রগতির ধারণার বিরোধী যার ওপর সমগ্র জীবন ও অস্তিত্ব দণ্ডায়মান। চতুর্থ, এটি মুসলিমদের ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে দূরে। পঞ্চম, এটা সেই হাদিসসমূহের বিরোধী যা একজন খলিফার আবির্ভাবের বর্ণনা নিয়ে এসেছে, যিনি পৃথিবীকে ন্যায় বিচার দ্বারা পূর্ণ করবেন (তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আল-মাহদী নামে পরিচিত)। যেমন, এটি এখন পূর্ণ হয়ে আছে অত্যাচার ও অন্যায় দ্বারা এবং এটি আইনের শাসন এবং সমগ্র পৃথিবীব্যাপী এর মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ সম্পর্কিত বর্ণনায় ভরপুর।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 এই হাদিসের প্রতি আমাদের পুরনো দিনের আলেমদের মনোভাব

📄 এই হাদিসের প্রতি আমাদের পুরনো দিনের আলেমদের মনোভাব


এটা বলা আমাদের কর্তব্য যে, আমাদের আলেমদের পূর্ববর্তীগণ এই হাদিস সম্পর্কে অনাগ্রহী, এর সাধারণত্ব (ইহ্লাক) অস্পষ্ট। সাধারণত্ব বলতে তারা সেই অর্থকে বুঝিয়েছেন যা হাদিসটি থেকে বুঝা যায়। তা এই যে, প্রত্যেক সময়ই এর পূর্বের সময়ের চেয়ে নিকৃষ্ট, যেখানে পূর্ববর্তীর চেয়ে কোনো কোনো সময় অন্যায়ের দিক দিয়ে ক্ষমতাধর। যদিও তা কেবল একবারই- উমার ইবন আবদুল আজিজের শাসনকালেই হয়েছে। এমনকি এ সম্পর্কে যদি এমনটা বলা হয় যে, তার সময়ে খারাপ কিছু নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল- আরো সামনে এগিয়ে, কোনোভাবেই এটা দাবি করা যাবে না যে, তার সময়কাল তার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে খারাপ ছিল।

এটা বলা আমাদের কর্তব্য যে, আমাদের আলেমদের পূর্ববর্তীগণ এই হাদিস সম্পর্কে অনাগ্রহী, এর সাধারণত্ব (ইহ্লাক) অস্পষ্ট। সাধারণত্ব বলতে তারা সেই অর্থকে বুঝিয়েছেন যা হাদিসটি থেকে বুঝা যায়। তা এই যে, প্রত্যেক সময়ই এর পূর্বের সময়ের চেয়ে নিকৃষ্ট, যেখানে পূর্ববর্তীর চেয়ে কোনো কোনো সময় অন্যায়ের দিক দিয়ে ক্ষমতাধর। যদিও তা কেবল একবারই- উমার ইবন আবদুল আজিজের শাসনকালেই হয়েছে। এমনকি এ সম্পর্কে যদি এমনটা বলা হয় যে, তার সময়ে খারাপ কিছু নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল- আরো সামনে এগিয়ে, কোনোভাবেই এটা দাবি করা যাবে না যে, তার সময়কাল তার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে খারাপ ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00