📄 খ. সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা আরোপিত শর্তের প্রতি বিরাগ
দ্বিতীয় বাস্তবতা এই যে, দুঃখজনকভাবে তিনটি শর্ত আরোপিত হয়েছে তাদের দ্বারা, যারা যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন তারগিব ও তারহিব বিষয়ে, হৃদয় কোমলকরণে এবং এমনতরো বিষয়ে। এটা পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অনুরঞ্জিত হয়নি। এই ক্ষেত্রে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত ব্যক্তিদের অনেকেই অত্যন্ত যঈফ ও যঈফ-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। তারা এ নিশ্চয়তা বিধানে দ্বিধান্বিত হন না যে, হাদিসটি কুরআন কিংবা প্রত্যায়িত সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠিত আইনী নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বরং এক সময় (যেমন আমি পূর্বেই বলেছি) এই সব স্মরণ ও উৎসাহিতকরণের বিষয়ে এইসব বর্ণনার প্রতি নির্বোধ আবেগ তাদেরকে অভিভূত করে এমনকি যদি কোনো বর্ণনা কেউ বাতিল করেন বাতিলকরণের কঠিনতম পর্যায়ে এসে অথবা অস্পষ্টতা থাকে এর প্রক্ষিপ্তকরণের লক্ষণের মধ্যে।
দ্বিতীয় বাস্তবতা এই যে, দুঃখজনকভাবে তিনটি শর্ত আরোপিত হয়েছে তাদের দ্বারা, যারা যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন তারগিব ও তারহিব বিষয়ে, হৃদয় কোমলকরণে এবং এমনতরো বিষয়ে। এটা পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অনুরঞ্জিত হয়নি। এই ক্ষেত্রে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত ব্যক্তিদের অনেকেই অত্যন্ত যঈফ ও যঈফ-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। তারা এ নিশ্চয়তা বিধানে দ্বিধান্বিত হন না যে, হাদিসটি কুরআন কিংবা প্রত্যায়িত সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠিত আইনী নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বরং এক সময় (যেমন আমি পূর্বেই বলেছি) এই সব স্মরণ ও উৎসাহিতকরণের বিষয়ে এইসব বর্ণনার প্রতি নির্বোধ আবেগ তাদেরকে অভিভূত করে এমনকি যদি কোনো বর্ণনা কেউ বাতিল করেন বাতিলকরণের কঠিনতম পর্যায়ে এসে অথবা অস্পষ্টতা থাকে এর প্রক্ষিপ্তকরণের লক্ষণের মধ্যে।
📄 গ. নিশ্চয়তার ধরণে বর্ণনায় নিষেধাজ্ঞা
এর ওপরে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, যইফ হাদিসে আল্লাহর রসুল সা. এটা বলেছেন, ওটা বলেছেন- এমন ভাবে ইতিবাচক ও নির্দিষ্টতাসূচক বক্তব্য না করা। ইবন সালাহ তার উলূম আল-হাদিস-এ ২২ টি প্রকরণের কথা বলেছেন:
আপনি যদি ইসনাদ ছাড়াই যঈফ হাদিস বর্ণনা করতে চান, তাহলে এতে একথা বলবেন না যে, আল্লাহর রসুল সা. এমন বা তেমন বলেছেন, অথবা এমন শব্দ সহযোগে যা নিশ্চয়তার দিক থেকে [প্রকাশআর্থে] ওর অনুরূপ।
এই পদ্ধতি সহিহ কিংবা যঈফ হওয়া সম্পর্কিত সন্দেহের বিধান। প্রকৃতপক্ষে, কেবল বলুন আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন ঐ বর্ণনার ক্ষেত্রে, এর সনদের [এর প্রেরণপথ] দিক থেকে যেটা সহিহ হওয়া আপনার নিকট স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।২৫
ইবন সালাহ-এর বক্তব্যের সাথে আল-নববী একমত, যেমন একমত ইবন কাসির, ইবনুল ইরাকী ও ইবন হাজার এবং হাদিসের প্রক্রিয়া ও পরিভাষা সংক্রান্ত সকল গ্রন্থ। কিন্তু সতর্ককারী ও খতিবগণ এবং যঈফ হাদিস বর্ণনাকারী লেখকগণ এই সতর্কসংকেতে মনোযোগ দেন না। এর পরিবর্তে তারা আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন- এই শব্দসমূহ দিয়ে তাদের যঈফ হাদিসগুলো শুরু করেন।
টিকাঃ
২৫. ইবন সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা এবং মাহাসিন আল-ইসতিলাহ (সম্পাদনকৃত 'আয়িশাহ 'আবদ আল-রাহমান; আল-হি'য়া আল-মিসরিইয়াহ আল-'আম্মাহ লি-ল-কিতাব), পৃষ্ঠা ২১৭।
এর ওপরে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, যইফ হাদিসে আল্লাহর রসুল সা. এটা বলেছেন, ওটা বলেছেন- এমন ভাবে ইতিবাচক ও নির্দিষ্টতাসূচক বক্তব্য না করা। ইবন সালাহ তার উলূম আল-হাদিস-এ ২২ টি প্রকরণের কথা বলেছেন:
আপনি যদি ইসনাদ ছাড়াই যঈফ হাদিস বর্ণনা করতে চান, তাহলে এতে একথা বলবেন না যে, আল্লাহর রসুল সা. এমন বা তেমন বলেছেন, অথবা এমন শব্দ সহযোগে যা নিশ্চয়তার দিক থেকে [প্রকাশআর্থে] ওর অনুরূপ।
এই পদ্ধতি সহিহ কিংবা যঈফ হওয়া সম্পর্কিত সন্দেহের বিধান। প্রকৃতপক্ষে, কেবল বলুন আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন ঐ বর্ণনার ক্ষেত্রে, এর সনদের [এর প্রেরণপথ] দিক থেকে যেটা সহিহ হওয়া আপনার নিকট স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।২৫
ইবন সালাহ-এর বক্তব্যের সাথে আল-নববী একমত, যেমন একমত ইবন কাসির, ইবনুল ইরাকী ও ইবন হাজার এবং হাদিসের প্রক্রিয়া ও পরিভাষা সংক্রান্ত সকল গ্রন্থ। কিন্তু সতর্ককারী ও খতিবগণ এবং যঈফ হাদিস বর্ণনাকারী লেখকগণ এই সতর্কসংকেতে মনোযোগ দেন না। এর পরিবর্তে তারা আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন- এই শব্দসমূহ দিয়ে তাদের যঈফ হাদিসগুলো শুরু করেন।
টিকাঃ
২৫. ইবন সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা এবং মাহাসিন আল-ইসতিলাহ (সম্পাদনকৃত 'আয়িশাহ 'আবদ আল-রাহমান; আল-হি'য়া আল-মিসরিইয়াহ আল-'আম্মাহ লি-ল-কিতাব), পৃষ্ঠা ২১৭।
📄 ঘ. সহিহ ও হাসানের পর্যাপ্ততা
যদি কোনো বিশেষ বিষয়ে আমরা সহিহ ও হাসান পর্যায় থেকে গ্রহণ করি এবং একইভাবে যঈফ থেকেও, তাহলে পূর্বোক্তটিকে অন্বেষণ করাই মূল্যবান পন্থা হবে। আমাদের স্মৃতিকে যঈফ দিয়ে ভারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে সহিহ'র মুকাবেলায় এমনটা করা মানে এর প্রতি কারো কর্তব্যে হস্তক্ষেপ করা। সাহাবিগণের রা. কারো কাছ থেকে এসেছে: লোকেরা উদ্ভাবনের (বিদ'আত) ওপর কোনো প্রচেষ্টা চালায় না, কিন্তু তারা সুন্নাহ্ থেকে এর মতোই হারায়। ওটা এমন কিছু যা সত্যসত্যই ঘটে থাকে। বিদ'আত সুন্নাহর স্থান দখল করে, উদ্ভাবন ঐতিহ্যের স্থান গ্রহণ করে। আল-কিফায়া গ্রন্থে ইমাম ইবন মাহদী থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
কারো নিজেকে দুর্বল [বর্ণনাকারীদের] হাদিস লিপিবদ্ধকরণে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়। কারণ এর মধ্যে যা আছে তা হলো, ঐ সীমা পর্যন্ত যা সে লিখে, তা থেকে বিশ্বস্থতাসম্পন্ন [লোকদের] হাদিসসমূহ তার দ্বারা বাদ পড়ে যায়।
যদি স্মরণে রাখা, চিন্তাভাবনা, বোধশক্তি ও আত্মীকরণে মানবীয় সামর্থ্য সীমাবদ্ধ হয় এবং এ থেকে পলায়নের পথ না থাকে, তাহলে এই সামর্থ্য এবং ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও সময়, যার ওপর ও অগ্রাধিকার রয়েছে : তা কাজে লাগানো শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে অনৈক্য নেই যে, ঐ দুটির মধ্যে এই ক্ষেত্রে যঈফের ওপর সহিহ'র পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে।
যদি কোনো বিশেষ বিষয়ে আমরা সহিহ ও হাসান পর্যায় থেকে গ্রহণ করি এবং একইভাবে যঈফ থেকেও, তাহলে পূর্বোক্তটিকে অন্বেষণ করাই মূল্যবান পন্থা হবে। আমাদের স্মৃতিকে যঈফ দিয়ে ভারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে সহিহ'র মুকাবেলায় এমনটা করা মানে এর প্রতি কারো কর্তব্যে হস্তক্ষেপ করা। সাহাবিগণের রা. কারো কাছ থেকে এসেছে: লোকেরা উদ্ভাবনের (বিদ'আত) ওপর কোনো প্রচেষ্টা চালায় না, কিন্তু তারা সুন্নাহ্ থেকে এর মতোই হারায়। ওটা এমন কিছু যা সত্যসত্যই ঘটে থাকে। বিদ'আত সুন্নাহর স্থান দখল করে, উদ্ভাবন ঐতিহ্যের স্থান গ্রহণ করে। আল-কিফায়া গ্রন্থে ইমাম ইবন মাহদী থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
কারো নিজেকে দুর্বল [বর্ণনাকারীদের] হাদিস লিপিবদ্ধকরণে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়। কারণ এর মধ্যে যা আছে তা হলো, ঐ সীমা পর্যন্ত যা সে লিখে, তা থেকে বিশ্বস্থতাসম্পন্ন [লোকদের] হাদিসসমূহ তার দ্বারা বাদ পড়ে যায়।
যদি স্মরণে রাখা, চিন্তাভাবনা, বোধশক্তি ও আত্মীকরণে মানবীয় সামর্থ্য সীমাবদ্ধ হয় এবং এ থেকে পলায়নের পথ না থাকে, তাহলে এই সামর্থ্য এবং ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও সময়, যার ওপর ও অগ্রাধিকার রয়েছে : তা কাজে লাগানো শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে অনৈক্য নেই যে, ঐ দুটির মধ্যে এই ক্ষেত্রে যঈফের ওপর সহিহ'র পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে।
📄 ঙ. আমলের মধ্যে ভারসাম্যহীন আদেশের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
হৃদয় কোমলকরণ, তারগিব ও তারহিব সংক্রান্ত হাদিসসমূহে (এদের মূলপাঠে) সিদ্ধ বা নিষিদ্ধকরণ ছাড়া কিছু করণীয় নির্দেশনা নেই। এদতসত্ত্বেও আমরা দেখি, এগুলো এমনকিছু ধারণ করে যার নিজস্ব গুরুত্ব ও ফলাফল রয়েছে। আমাদের পূর্বসুরী ইমামগণ এতে সাড়া দেননি - এটা এমন যা (সময়ের স্রোতে) উদ্ভূত হয়েছে কর্তব্য ও কাজের সম্পর্কের মধ্যে বিশৃঙ্খলার মধ্য থেকে যা আইনের প্রজ্ঞার সাহায্যে সুরাহা করা হয়েছে। কারণ প্রতিটি কাজ আইন দ্বারা নির্দেশিত বা নিষিদ্ধ- এর মূল্য আইন দ্বারা অন্য কাজের নিরিখে আপেক্ষিকভাবে নির্ধারিত। হুকুম যা সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করেছে, আমরা তা অমান্য করতে পারি না, যাতে একটা আমলের যে পর্যায় নির্ধারিত রয়েছে তা কমবেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকে।
সবচেয়ে সাংঘাতিক বিষয় হচ্ছে : আমলের ওজন করা কিছু পুণ্যের কাজকে এর উপযুক্ততার চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া; কিংবা এর যোগ্যতার চেয়ে বেশি ব্যাপ্তি দেওয়া এর পুরস্কারে স্ফীতি ঘটিয়ে, যতক্ষণ না দ্বীনের দৃষ্টিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ কিছুকে এটা বিদূরিত না করে; অন্যদিকে কিছু নির্ধারিত কাজের অন্যায্য ওজন দেওয়া এবং এর মধ্যকার শাস্তির অতি বর্ণনা দ্বারা, এমন করা হয় যাতে ব্যক্তির মধ্যে অন্যান্য নির্ধারিত আমলের সম্বন্ধে ধারণা বিধ্বংস হয়। পুরস্কারের ওয়াদা কিংবা শাস্তির হুমকি সম্বন্ধে এই ধরনের অতিশয়োক্তি হিদায়াতের অন্বেষণকারী শিক্ষিত লোকদের মধ্যে দ্বীনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এসব অতিশয়োক্তি তারা যা শোনে বা পাঠ করে তা খোদ দ্বীনের সাথে যুক্ত, অথচ ইসলাম এর থেকে বিমুক্ত।
প্রায়ই এমন অতিশয়োক্তি বিশেষ করে তারহিবের দিকে চালিত করে যা মনোজাগতিক প্রত্যাগমন (reversion) বা উদ্বেগ (anxieties)। তারা লোকদের মাঝে বিরূপভাব ও ঘৃণার বীজ বপন করেছে এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে ভীত সন্ত্রস্ত করেছে এবং এর প্রশস্ততা থেকে দূরে রেখেছে। তাই আমরা দেখব এক পিতাকে, যিনি তার বারো বছর বয়সী কন্যার রাত্রে উৎকণ্ঠিত ও ভীত অবস্থায় জেগে ওঠার অভিযোগ করেন, কারণ সে ভীতিকর স্বপ্ন দেখে - যা তার হয় একজন বক্তা কর্তৃক কবরে প্রদত্ত শাস্তি সংক্রান্ত ক্যাসেটের বক্তৃতা শুনে, এমন ক্যাসেট যার মধ্যে এ ধরনের অনেক হাদিস রয়েছে।
মুসলিমদের কর্তব্য হচ্ছে অতিশয়োক্তির প্রভাবে পতিত না হয়ে আইনের ক্রম অনুযায়ী আমল করা। কারণ তা আমাদেরকে অতিরিক্তকরণ কিংবা চরম অবহেলার মধ্য নিয়ে যায়। যেমনটা আলী ইবনে আবি তালিব বলেন: তোমাদের ওপর বাধ্যতামূলক হচ্ছে [কিছু করার ক্ষেত্রে] মধ্যপন্থা, যা অতিদূর গমন থেকে ফিরায় [আর-গালী] এবং ব্যক্তিকে যথেষ্ট আমল করার কাজে ধরে রাখে (আল-তালী)।
হৃদয় কোমলকরণ, তারগিব ও তারহিব সংক্রান্ত হাদিসসমূহে (এদের মূলপাঠে) সিদ্ধ বা নিষিদ্ধকরণ ছাড়া কিছু করণীয় নির্দেশনা নেই। এদতসত্ত্বেও আমরা দেখি, এগুলো এমনকিছু ধারণ করে যার নিজস্ব গুরুত্ব ও ফলাফল রয়েছে। আমাদের পূর্বসুরী ইমামগণ এতে সাড়া দেননি - এটা এমন যা (সময়ের স্রোতে) উদ্ভূত হয়েছে কর্তব্য ও কাজের সম্পর্কের মধ্যে বিশৃঙ্খলার মধ্য থেকে যা আইনের প্রজ্ঞার সাহায্যে সুরাহা করা হয়েছে। কারণ প্রতিটি কাজ আইন দ্বারা নির্দেশিত বা নিষিদ্ধ- এর মূল্য আইন দ্বারা অন্য কাজের নিরিখে আপেক্ষিকভাবে নির্ধারিত। হুকুম যা সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করেছে, আমরা তা অমান্য করতে পারি না, যাতে একটা আমলের যে পর্যায় নির্ধারিত রয়েছে তা কমবেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকে।
সবচেয়ে সাংঘাতিক বিষয় হচ্ছে : আমলের ওজন করা কিছু পুণ্যের কাজকে এর উপযুক্ততার চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া; কিংবা এর যোগ্যতার চেয়ে বেশি ব্যাপ্তি দেওয়া এর পুরস্কারে স্ফীতি ঘটিয়ে, যতক্ষণ না দ্বীনের দৃষ্টিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ কিছুকে এটা বিদূরিত না করে; অন্যদিকে কিছু নির্ধারিত কাজের অন্যায্য ওজন দেওয়া এবং এর মধ্যকার শাস্তির অতি বর্ণনা দ্বারা, এমন করা হয় যাতে ব্যক্তির মধ্যে অন্যান্য নির্ধারিত আমলের সম্বন্ধে ধারণা বিধ্বংস হয়। পুরস্কারের ওয়াদা কিংবা শাস্তির হুমকি সম্বন্ধে এই ধরনের অতিশয়োক্তি হিদায়াতের অন্বেষণকারী শিক্ষিত লোকদের মধ্যে দ্বীনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এসব অতিশয়োক্তি তারা যা শোনে বা পাঠ করে তা খোদ দ্বীনের সাথে যুক্ত, অথচ ইসলাম এর থেকে বিমুক্ত।
প্রায়ই এমন অতিশয়োক্তি বিশেষ করে তারহিবের দিকে চালিত করে যা মনোজাগতিক প্রত্যাগমন (reversion) বা উদ্বেগ (anxieties)। তারা লোকদের মাঝে বিরূপভাব ও ঘৃণার বীজ বপন করেছে এবং তাদের দ্বীন সম্পর্কে ভীত সন্ত্রস্ত করেছে এবং এর প্রশস্ততা থেকে দূরে রেখেছে। তাই আমরা দেখব এক পিতাকে, যিনি তার বারো বছর বয়সী কন্যার রাত্রে উৎকণ্ঠিত ও ভীত অবস্থায় জেগে ওঠার অভিযোগ করেন, কারণ সে ভীতিকর স্বপ্ন দেখে - যা তার হয় একজন বক্তা কর্তৃক কবরে প্রদত্ত শাস্তি সংক্রান্ত ক্যাসেটের বক্তৃতা শুনে, এমন ক্যাসেট যার মধ্যে এ ধরনের অনেক হাদিস রয়েছে।
মুসলিমদের কর্তব্য হচ্ছে অতিশয়োক্তির প্রভাবে পতিত না হয়ে আইনের ক্রম অনুযায়ী আমল করা। কারণ তা আমাদেরকে অতিরিক্তকরণ কিংবা চরম অবহেলার মধ্য নিয়ে যায়। যেমনটা আলী ইবনে আবি তালিব বলেন: তোমাদের ওপর বাধ্যতামূলক হচ্ছে [কিছু করার ক্ষেত্রে] মধ্যপন্থা, যা অতিদূর গমন থেকে ফিরায় [আর-গালী] এবং ব্যক্তিকে যথেষ্ট আমল করার কাজে ধরে রাখে (আল-তালী)।