📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 ক. তারগিব ও তারহিবের যঈফ হাদিস বাতিলকরণ

📄 ক. তারগিব ও তারহিবের যঈফ হাদিস বাতিলকরণ


পুরাতন ও নতুন আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ সহিহ ও হাসান ব্যতীত কোনো হাদিস গ্রহণ করেন না, তার বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন। শারহ আল-ইলাল গ্রন্থে ইবন রজব বলেন:
মুসলিম (মৃত্যু: ২৬১ হি.) তাঁর মুকাদ্দিমায় বলেন যে, তিনি তারগিব ও তারহিব-এর হাদিসগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। ঐগুলো একজন ব্যতীত অন্য কেউ কর্তৃক বর্ণিত হয়নি, যার কাছ থেকে আহকামও বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি যঈফ হাদিসের বর্ণনাকে নিন্দা করেছেন এবং বাতিল করেছেন।২৩
স্পষ্টত, ইমাম আল-বুখারির (মৃত্যু: ২০৬ হি.) মতাদর্শও এমনই ছিল। এটা হচ্ছে জারহ ও তা'দীল (রাবিদের নিন্দাজ্ঞাপন বা সমর্থন) বিষয়ে আলেম ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন (মৃত্যু: ২৩৩ হি.) এর মতাদর্শ। পরবর্তী যেসব মনীষী এর প্রতি সমর্থন জানান তারা হলেন: জাহিরি ঘরানার সদস্য ইবন হায্য (মৃত্যু: ৪৫৬ হি.), আল-কাযী ইবন আল-আরাবি (মৃত্যু: ৫৪৩ হি.) মালিকি মাজহাবের এবং শাফিঈ মাজহাবের আবু শামাহ। সমসাময়িক অন্যান্য আলেমদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির এবং শায়খ মুহাম্মদ নাসির আল-দীন আল-আলবানি। শায়খ শাকির এ প্রসঙ্গে তাঁর আল-বা'থ আল-হাদিদ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, যাতে তিনি ইবন কাসির-এর ইখতিসার উলুম আল-হাদিদ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। কিছু লোক কর্তৃক যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি সম্পর্কে বর্ণনা এবং এর শর্তাদি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন:
আমি যা মনে করি তা হচ্ছে যঈফ হাদিসের দুবর্লতা সর্বক্ষেত্রে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কারণ প্রকাশ না করা হলে মানুষ এটাকে সহিহ বলে মনে করবে-বিশেষ করে যখন বাহক হাদিসের আলেমদের একজন হন যার অভিমতকে কেউ উল্লেখ করে থাকেন। আমি এও মনে করি যে, হুকুম আহকাম এবং আমলের ফজিলত এবং এই জাতীয় কিছুর দুর্বল বর্ণনার গ্রহণ অযোগ্যতার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকা ঠিক নয়। বরং কোনো হাদিসেই যুক্তি নেই যতক্ষণ না তা সহিহ বা হাসান হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর রসুল সা. হতে প্রমাণিত হয়- যেমন আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাহদী ও ইবনুল মুবারক বলেছেন... যদি আমরা গুণ ও এমন কিছুর ভিত্তিতে বর্ণনা করি তাহলে আমরা বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতার শর্ত শিথিল করি তখন তারা এর দ্বারা বুঝায় (যাতে আমি ভারসাম্য বিবেচনা করি, আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন) হাসান হাদিসকে গ্রহণ করা, যা সহিহ হাদিসের পর্যায়ে পৌঁছে না। কারণ, প্রকৃত প্রস্তাবে সহিহ ও হাসান পরিভাষা তাদের চিহ্নিতকরণে কালানুক্রমিকভাবে ব্যাপকভাবে স্থিরীকৃত ও প্রমাণিত হয়নি। বরং প্রাথমিক আলেমদের অনেকেই সহিহ অথবা যঈফ এর বাইরে হাদিসের কোনো স্তর নির্ধারণ করেননি।২৪
ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম-এর সমার্থবোধক আলোচনা রয়েছে। এতে তারা আহমাদ ইবন হাম্বলের বর্ণনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এটা বুঝাতে যে, তিনি যঈফ হাদিসকে রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত) ও কিয়াসের (অবরোহমূলক অনুসিদ্ধান্ত) ওপরে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছেন; তাছাড়া তার মনে যা ছিল তাহল বর্ণনাসমূহ যা (পরে) হাসান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়। যেমনটা সুপরিচিত, এটা হচ্ছে আল-তিরমিজি সহিহ ও হাসানের পার্থক্যকে জনপ্রিয় করেছেন।
শায়খ আল-আলবানির প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয়, তিনি অনেক গ্রন্থের ভূমিকায় তার কর্তৃত্বকে একই মর্যাদা দিয়েছেন, বিশেষভাবে সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থে এবং সহিহ আল-তারগিব ওয়া আল-তারহিব নামক পুস্তকে।

টিকাঃ
২২. ইবন রজব, শারহ'ইলাল আল-তিরমিজি, পৃষ্ঠা-৭৪
২৩. ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন বেশ, তাহলে, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে রহম করুন। তুমি অমিল ও উদ্দেশ্যমূলক মূল্যায়ন প্রসঙ্গ যে সাড়াদানের জন্য অনুরোধ করেছ তা আমাদের জন্য সহজ, কিন্তু আপত্তির বিষয় হলো [১] যারা নিজেদেরকে হাদিস বিশেষজ্ঞের স্তর ও উপাধি দিয়েছে, তাদের অনেকের বদ-অভ্যাসে যা দেখেছি-[শিরোনাম] যা তা ধারণে, দুর্বল হাদিস ও বাতিল বর্ণনা পরিহার করা তাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য; [২] সহিহ ও মশহুর হাদিস পরিত্যাগের সীমা যা নির্ভরযোগ্য [রাবিগণ) কর্তৃক পৌঁছান হয়েছে, যারা সত্যবাদিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত
২৪. আল-বা'ইছ আল-হাহীছ: শারহ ইখতিসার উলুম আল-হাদিস (বৈরুত: দার আল- কিতাব আল-ইলমিইয়াহ), পৃষ্ঠা ৯১-৯২ (এখানে উদ্ধৃত মূল পাঠ কিছুটা সংক্ষেপিত)।

পুরাতন ও নতুন আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ সহিহ ও হাসান ব্যতীত কোনো হাদিস গ্রহণ করেন না, তার বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন। শারহ আল-ইলাল গ্রন্থে ইবন রজব বলেন:
মুসলিম (মৃত্যু: ২৬১ হি.) তাঁর মুকাদ্দিমায় বলেন যে, তিনি তারগিব ও তারহিব-এর হাদিসগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। ঐগুলো একজন ব্যতীত অন্য কেউ কর্তৃক বর্ণিত হয়নি, যার কাছ থেকে আহকামও বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি যঈফ হাদিসের বর্ণনাকে নিন্দা করেছেন এবং বাতিল করেছেন।২৩
স্পষ্টত, ইমাম আল-বুখারির (মৃত্যু: ২০৬ হি.) মতাদর্শও এমনই ছিল। এটা হচ্ছে জারহ ও তা'দীল (রাবিদের নিন্দাজ্ঞাপন বা সমর্থন) বিষয়ে আলেম ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন (মৃত্যু: ২৩৩ হি.) এর মতাদর্শ। পরবর্তী যেসব মনীষী এর প্রতি সমর্থন জানান তারা হলেন: জাহিরি ঘরানার সদস্য ইবন হায্য (মৃত্যু: ৪৫৬ হি.), আল-কাযী ইবন আল-আরাবি (মৃত্যু: ৫৪৩ হি.) মালিকি মাজহাবের এবং শাফিঈ মাজহাবের আবু শামাহ। সমসাময়িক অন্যান্য আলেমদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির এবং শায়খ মুহাম্মদ নাসির আল-দীন আল-আলবানি। শায়খ শাকির এ প্রসঙ্গে তাঁর আল-বা'থ আল-হাদিদ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, যাতে তিনি ইবন কাসির-এর ইখতিসার উলুম আল-হাদিদ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। কিছু লোক কর্তৃক যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি সম্পর্কে বর্ণনা এবং এর শর্তাদি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন:
আমি যা মনে করি তা হচ্ছে যঈফ হাদিসের দুবর্লতা সর্বক্ষেত্রে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কারণ প্রকাশ না করা হলে মানুষ এটাকে সহিহ বলে মনে করবে-বিশেষ করে যখন বাহক হাদিসের আলেমদের একজন হন যার অভিমতকে কেউ উল্লেখ করে থাকেন। আমি এও মনে করি যে, হুকুম আহকাম এবং আমলের ফজিলত এবং এই জাতীয় কিছুর দুর্বল বর্ণনার গ্রহণ অযোগ্যতার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকা ঠিক নয়। বরং কোনো হাদিসেই যুক্তি নেই যতক্ষণ না তা সহিহ বা হাসান হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর রসুল সা. হতে প্রমাণিত হয়- যেমন আহমদ ইবন হাম্বল, ইবন মাহদী ও ইবনুল মুবারক বলেছেন... যদি আমরা গুণ ও এমন কিছুর ভিত্তিতে বর্ণনা করি তাহলে আমরা বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতার শর্ত শিথিল করি তখন তারা এর দ্বারা বুঝায় (যাতে আমি ভারসাম্য বিবেচনা করি, আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন) হাসান হাদিসকে গ্রহণ করা, যা সহিহ হাদিসের পর্যায়ে পৌঁছে না। কারণ, প্রকৃত প্রস্তাবে সহিহ ও হাসান পরিভাষা তাদের চিহ্নিতকরণে কালানুক্রমিকভাবে ব্যাপকভাবে স্থিরীকৃত ও প্রমাণিত হয়নি। বরং প্রাথমিক আলেমদের অনেকেই সহিহ অথবা যঈফ এর বাইরে হাদিসের কোনো স্তর নির্ধারণ করেননি।২৪
ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম-এর সমার্থবোধক আলোচনা রয়েছে। এতে তারা আহমাদ ইবন হাম্বলের বর্ণনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এটা বুঝাতে যে, তিনি যঈফ হাদিসকে রায়ের (ব্যক্তিগত মতামত) ও কিয়াসের (অবরোহমূলক অনুসিদ্ধান্ত) ওপরে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছেন; তাছাড়া তার মনে যা ছিল তাহল বর্ণনাসমূহ যা (পরে) হাসান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়। যেমনটা সুপরিচিত, এটা হচ্ছে আল-তিরমিজি সহিহ ও হাসানের পার্থক্যকে জনপ্রিয় করেছেন।
শায়খ আল-আলবানির প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয়, তিনি অনেক গ্রন্থের ভূমিকায় তার কর্তৃত্বকে একই মর্যাদা দিয়েছেন, বিশেষভাবে সহিহ আল-জামি আল-সাগির এবং এর সম্পূরক গ্রন্থে এবং সহিহ আল-তারগিব ওয়া আল-তারহিব নামক পুস্তকে।

টিকাঃ
২২. ইবন রজব, শারহ'ইলাল আল-তিরমিজি, পৃষ্ঠা-৭৪
২৩. ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন বেশ, তাহলে, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে রহম করুন। তুমি অমিল ও উদ্দেশ্যমূলক মূল্যায়ন প্রসঙ্গ যে সাড়াদানের জন্য অনুরোধ করেছ তা আমাদের জন্য সহজ, কিন্তু আপত্তির বিষয় হলো [১] যারা নিজেদেরকে হাদিস বিশেষজ্ঞের স্তর ও উপাধি দিয়েছে, তাদের অনেকের বদ-অভ্যাসে যা দেখেছি-[শিরোনাম] যা তা ধারণে, দুর্বল হাদিস ও বাতিল বর্ণনা পরিহার করা তাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য; [২] সহিহ ও মশহুর হাদিস পরিত্যাগের সীমা যা নির্ভরযোগ্য [রাবিগণ) কর্তৃক পৌঁছান হয়েছে, যারা সত্যবাদিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত
২৪. আল-বা'ইছ আল-হাহীছ: শারহ ইখতিসার উলুম আল-হাদিস (বৈরুত: দার আল- কিতাব আল-ইলমিইয়াহ), পৃষ্ঠা ৯১-৯২ (এখানে উদ্ধৃত মূল পাঠ কিছুটা সংক্ষেপিত)।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 খ. সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা আরোপিত শর্তের প্রতি বিরাগ

📄 খ. সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা আরোপিত শর্তের প্রতি বিরাগ


দ্বিতীয় বাস্তবতা এই যে, দুঃখজনকভাবে তিনটি শর্ত আরোপিত হয়েছে তাদের দ্বারা, যারা যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন তারগিব ও তারহিব বিষয়ে, হৃদয় কোমলকরণে এবং এমনতরো বিষয়ে। এটা পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অনুরঞ্জিত হয়নি। এই ক্ষেত্রে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত ব্যক্তিদের অনেকেই অত্যন্ত যঈফ ও যঈফ-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। তারা এ নিশ্চয়তা বিধানে দ্বিধান্বিত হন না যে, হাদিসটি কুরআন কিংবা প্রত্যায়িত সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠিত আইনী নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বরং এক সময় (যেমন আমি পূর্বেই বলেছি) এই সব স্মরণ ও উৎসাহিতকরণের বিষয়ে এইসব বর্ণনার প্রতি নির্বোধ আবেগ তাদেরকে অভিভূত করে এমনকি যদি কোনো বর্ণনা কেউ বাতিল করেন বাতিলকরণের কঠিনতম পর্যায়ে এসে অথবা অস্পষ্টতা থাকে এর প্রক্ষিপ্তকরণের লক্ষণের মধ্যে।

দ্বিতীয় বাস্তবতা এই যে, দুঃখজনকভাবে তিনটি শর্ত আরোপিত হয়েছে তাদের দ্বারা, যারা যঈফ হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন তারগিব ও তারহিব বিষয়ে, হৃদয় কোমলকরণে এবং এমনতরো বিষয়ে। এটা পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রক্রিয়ায় অনুরঞ্জিত হয়নি। এই ক্ষেত্রে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত ব্যক্তিদের অনেকেই অত্যন্ত যঈফ ও যঈফ-এর মধ্যে পার্থক্য করেন না। তারা এ নিশ্চয়তা বিধানে দ্বিধান্বিত হন না যে, হাদিসটি কুরআন কিংবা প্রত্যায়িত সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠিত আইনী নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বরং এক সময় (যেমন আমি পূর্বেই বলেছি) এই সব স্মরণ ও উৎসাহিতকরণের বিষয়ে এইসব বর্ণনার প্রতি নির্বোধ আবেগ তাদেরকে অভিভূত করে এমনকি যদি কোনো বর্ণনা কেউ বাতিল করেন বাতিলকরণের কঠিনতম পর্যায়ে এসে অথবা অস্পষ্টতা থাকে এর প্রক্ষিপ্তকরণের লক্ষণের মধ্যে।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 গ. নিশ্চয়তার ধরণে বর্ণনায় নিষেধাজ্ঞা

📄 গ. নিশ্চয়তার ধরণে বর্ণনায় নিষেধাজ্ঞা


এর ওপরে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, যইফ হাদিসে আল্লাহর রসুল সা. এটা বলেছেন, ওটা বলেছেন- এমন ভাবে ইতিবাচক ও নির্দিষ্টতাসূচক বক্তব্য না করা। ইবন সালাহ তার উলূম আল-হাদিস-এ ২২ টি প্রকরণের কথা বলেছেন:
আপনি যদি ইসনাদ ছাড়াই যঈফ হাদিস বর্ণনা করতে চান, তাহলে এতে একথা বলবেন না যে, আল্লাহর রসুল সা. এমন বা তেমন বলেছেন, অথবা এমন শব্দ সহযোগে যা নিশ্চয়তার দিক থেকে [প্রকাশআর্থে] ওর অনুরূপ।
এই পদ্ধতি সহিহ কিংবা যঈফ হওয়া সম্পর্কিত সন্দেহের বিধান। প্রকৃতপক্ষে, কেবল বলুন আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন ঐ বর্ণনার ক্ষেত্রে, এর সনদের [এর প্রেরণপথ] দিক থেকে যেটা সহিহ হওয়া আপনার নিকট স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।২৫
ইবন সালাহ-এর বক্তব্যের সাথে আল-নববী একমত, যেমন একমত ইবন কাসির, ইবনুল ইরাকী ও ইবন হাজার এবং হাদিসের প্রক্রিয়া ও পরিভাষা সংক্রান্ত সকল গ্রন্থ। কিন্তু সতর্ককারী ও খতিবগণ এবং যঈফ হাদিস বর্ণনাকারী লেখকগণ এই সতর্কসংকেতে মনোযোগ দেন না। এর পরিবর্তে তারা আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন- এই শব্দসমূহ দিয়ে তাদের যঈফ হাদিসগুলো শুরু করেন।

টিকাঃ
২৫. ইবন সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা এবং মাহাসিন আল-ইসতিলাহ (সম্পাদনকৃত 'আয়িশাহ 'আবদ আল-রাহমান; আল-হি'য়া আল-মিসরিইয়াহ আল-'আম্মাহ লি-ল-কিতাব), পৃষ্ঠা ২১৭।

এর ওপরে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, যইফ হাদিসে আল্লাহর রসুল সা. এটা বলেছেন, ওটা বলেছেন- এমন ভাবে ইতিবাচক ও নির্দিষ্টতাসূচক বক্তব্য না করা। ইবন সালাহ তার উলূম আল-হাদিস-এ ২২ টি প্রকরণের কথা বলেছেন:
আপনি যদি ইসনাদ ছাড়াই যঈফ হাদিস বর্ণনা করতে চান, তাহলে এতে একথা বলবেন না যে, আল্লাহর রসুল সা. এমন বা তেমন বলেছেন, অথবা এমন শব্দ সহযোগে যা নিশ্চয়তার দিক থেকে [প্রকাশআর্থে] ওর অনুরূপ।
এই পদ্ধতি সহিহ কিংবা যঈফ হওয়া সম্পর্কিত সন্দেহের বিধান। প্রকৃতপক্ষে, কেবল বলুন আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন ঐ বর্ণনার ক্ষেত্রে, এর সনদের [এর প্রেরণপথ] দিক থেকে যেটা সহিহ হওয়া আপনার নিকট স্পষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।২৫
ইবন সালাহ-এর বক্তব্যের সাথে আল-নববী একমত, যেমন একমত ইবন কাসির, ইবনুল ইরাকী ও ইবন হাজার এবং হাদিসের প্রক্রিয়া ও পরিভাষা সংক্রান্ত সকল গ্রন্থ। কিন্তু সতর্ককারী ও খতিবগণ এবং যঈফ হাদিস বর্ণনাকারী লেখকগণ এই সতর্কসংকেতে মনোযোগ দেন না। এর পরিবর্তে তারা আল্লাহর রসুল সা. বলেছেন- এই শব্দসমূহ দিয়ে তাদের যঈফ হাদিসগুলো শুরু করেন।

টিকাঃ
২৫. ইবন সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা এবং মাহাসিন আল-ইসতিলাহ (সম্পাদনকৃত 'আয়িশাহ 'আবদ আল-রাহমান; আল-হি'য়া আল-মিসরিইয়াহ আল-'আম্মাহ লি-ল-কিতাব), পৃষ্ঠা ২১৭।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 ঘ. সহিহ ও হাসানের পর্যাপ্ততা

📄 ঘ. সহিহ ও হাসানের পর্যাপ্ততা


যদি কোনো বিশেষ বিষয়ে আমরা সহিহ ও হাসান পর্যায় থেকে গ্রহণ করি এবং একইভাবে যঈফ থেকেও, তাহলে পূর্বোক্তটিকে অন্বেষণ করাই মূল্যবান পন্থা হবে। আমাদের স্মৃতিকে যঈফ দিয়ে ভারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে সহিহ'র মুকাবেলায় এমনটা করা মানে এর প্রতি কারো কর্তব্যে হস্তক্ষেপ করা। সাহাবিগণের রা. কারো কাছ থেকে এসেছে: লোকেরা উদ্ভাবনের (বিদ'আত) ওপর কোনো প্রচেষ্টা চালায় না, কিন্তু তারা সুন্নাহ্ থেকে এর মতোই হারায়। ওটা এমন কিছু যা সত্যসত্যই ঘটে থাকে। বিদ'আত সুন্নাহর স্থান দখল করে, উদ্ভাবন ঐতিহ্যের স্থান গ্রহণ করে। আল-কিফায়া গ্রন্থে ইমাম ইবন মাহদী থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
কারো নিজেকে দুর্বল [বর্ণনাকারীদের] হাদিস লিপিবদ্ধকরণে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়। কারণ এর মধ্যে যা আছে তা হলো, ঐ সীমা পর্যন্ত যা সে লিখে, তা থেকে বিশ্বস্থতাসম্পন্ন [লোকদের] হাদিসসমূহ তার দ্বারা বাদ পড়ে যায়।
যদি স্মরণে রাখা, চিন্তাভাবনা, বোধশক্তি ও আত্মীকরণে মানবীয় সামর্থ্য সীমাবদ্ধ হয় এবং এ থেকে পলায়নের পথ না থাকে, তাহলে এই সামর্থ্য এবং ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও সময়, যার ওপর ও অগ্রাধিকার রয়েছে : তা কাজে লাগানো শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে অনৈক্য নেই যে, ঐ দুটির মধ্যে এই ক্ষেত্রে যঈফের ওপর সহিহ'র পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে।

যদি কোনো বিশেষ বিষয়ে আমরা সহিহ ও হাসান পর্যায় থেকে গ্রহণ করি এবং একইভাবে যঈফ থেকেও, তাহলে পূর্বোক্তটিকে অন্বেষণ করাই মূল্যবান পন্থা হবে। আমাদের স্মৃতিকে যঈফ দিয়ে ভারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে সহিহ'র মুকাবেলায় এমনটা করা মানে এর প্রতি কারো কর্তব্যে হস্তক্ষেপ করা। সাহাবিগণের রা. কারো কাছ থেকে এসেছে: লোকেরা উদ্ভাবনের (বিদ'আত) ওপর কোনো প্রচেষ্টা চালায় না, কিন্তু তারা সুন্নাহ্ থেকে এর মতোই হারায়। ওটা এমন কিছু যা সত্যসত্যই ঘটে থাকে। বিদ'আত সুন্নাহর স্থান দখল করে, উদ্ভাবন ঐতিহ্যের স্থান গ্রহণ করে। আল-কিফায়া গ্রন্থে ইমাম ইবন মাহদী থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
কারো নিজেকে দুর্বল [বর্ণনাকারীদের] হাদিস লিপিবদ্ধকরণে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়। কারণ এর মধ্যে যা আছে তা হলো, ঐ সীমা পর্যন্ত যা সে লিখে, তা থেকে বিশ্বস্থতাসম্পন্ন [লোকদের] হাদিসসমূহ তার দ্বারা বাদ পড়ে যায়।
যদি স্মরণে রাখা, চিন্তাভাবনা, বোধশক্তি ও আত্মীকরণে মানবীয় সামর্থ্য সীমাবদ্ধ হয় এবং এ থেকে পলায়নের পথ না থাকে, তাহলে এই সামর্থ্য এবং ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও সময়, যার ওপর ও অগ্রাধিকার রয়েছে : তা কাজে লাগানো শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে অনৈক্য নেই যে, ঐ দুটির মধ্যে এই ক্ষেত্রে যঈফের ওপর সহিহ'র পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00