📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 ফিকহ’র উত্তরাধিকারের পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংশোধনের দায়িত্ব

📄 ফিকহ’র উত্তরাধিকারের পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংশোধনের দায়িত্ব


আমাদের সময়ের বিদ্বান সম্প্রদায়ের, আলেমগণের একটি কর্তব্য হলো ফিকহ'র উত্তরাধিকারের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তা হতে হবে ফিকহ ও এর নীতিমালার সাথে সংযুক্ত হাদিসের জ্ঞানের আলোকে, অন্তঃপ্রবিষ্ট ও ধারণাগত যুক্তি সহযোগে এবং দুর্বল হাদিসমূলে প্রবর্তিত অনুশাসনসমূহ অনুসন্ধান করে। কারণ এটা স্বীকৃত যে, দুর্বল হাদিসের সহায়তাপূর্ণ কোন হুকুম সমর্থিত হবে না। কেউ হালাল ও হারামের বাধ্যবাধকতা এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে না। এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ঐসব হুকুমআহকাম (যা আইনী আদেশ ও সম্মিলিত কর্তব্যের সাথে যুক্ত) যার দুর্বল হাদিস ব্যতীত কোনো কর্তৃত্বশীল ভিত্তি নেই, সেগুলো বেরিয়ে আসবে। এর কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে দেওয়া হলো:

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 অমুসলিমের জন্য রক্ত পণ

📄 অমুসলিমের জন্য রক্ত পণ


উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফৌজদারি বিধিমতে, কিভাবে আইনসম্মতভাবে জিম্মিদের রক্তপণ নির্ধারণ করা হবে? অধিকাংশ আইনবিদ মনে করেন যে, আহলে কিতাবের জন্য জিম্মির জিযয়া, আরো সংক্ষেপে বলতে গেলে ইসলামি শাসনের আওতাধীন (দারুল ইসলাম, যেভাবে আইনবিদগণ এটাকে উপস্থাপন করেন) লোকদের জন্য মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক'১১। এ ব্যাপারে তাদের পক্ষে কতকগুলো হাদিস মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থে দেখা যায়। উভয় গ্রন্থের একটিতেও সহিহ হাদিস নেই। বরং এগুলো এমন হাদিস যা আলেমদের একদল সহিহ দাবি করলেও অন্যরা বাতিল করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, তার পিতা ও দাদা থেকে আমর বিন শুয়াইব বর্ণিত হাদিস যে, নবি সা. বলেন মুসলিমের রক্তপণ হচ্ছে অবিশ্বাসীদের রক্তপণের অর্ধেক। আহমদ বিন হাম্বল এর বর্ণনাকারী, যেমন আল-নাসায়ি ও আল-তিরমিজি। পুনরায় আহমদ ও আল-নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহও ভিন্নভাবে বর্ণনা করেন তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, দুই কিতাবের অনুসারীদের (ইহুদি ও খ্রিস্টানদের) রক্তপণ হচ্ছে মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক। [এখানে রক্তমূল্য (bloodwit) ও রক্তপণ (blood money) একই অর্থ বহন করে]।
অন্যান্য আলেম মনে করেন যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের রক্তপণ হচ্ছে মুসলিমের এক-তৃতীয়াংশ। তাদের এ ধরনের বর্ণনায় দেখা যায়, তাদের মত অনুযায়ী উদ্ধৃত হাদিস প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে, আল-হুওরী, আল-যুহরী, যায়ীদ ইবনে আলী ও আবু হানীফা এবং তার প্রভাবশালী অনুসারীগণ মনে করেন যে, মুসলিমের রক্তপণ জিম্মির সমানই। তারা হাদিস ও আসারসহ উল্লেখ করেন যে, নবি সা. ও মুসলিমের নিয়ন্ত্রিত বন্দির রক্তপণ মুসলিমের সমান করেছেন এবং তিনি মুসলিমের জন্য রক্তপণ ঐ রকম দিয়েছেন যা একজন জিম্মির জন্য প্রাপ্য ছিল। কিন্তু যেসব আলেম এ হাদিসের সাথে একমত নন তারা এটাকে যঈফ গণ্য করেছেন।
বাস্তবতা হলো এই যে, দুই বিরোধী মতবাদের কোনোটিই সহিহ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি এবং এর কোনোটিই আহকাম হিসেবে গণ্য হয়নি। তাই, আইনের মূল পাঠ এবং সামগ্রিকভাবে এর লক্ষ্যসমূহ অবলম্বন ছাড়া গত্যন্তর নেই। এখন যদি আমরা কুরআনের দিকে দৃষ্টি ফেরাই, আমরা দেখি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটা অভিন্ন, তা সে মুসলিমই হোক অথবা মুসলিমের সাথে চুক্তিবদ্ধ লোকজনই হোক। উভয় ক্ষেত্রেই দায় হচ্ছে:
রক্তপণ তার লোকদেরকে দিতে হবে এবং মুমিন গোলাম (দাস) আজাদ হবে (সুরা নিসা, ৪: ৯২)।
এবং এটা মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য করে না। এটা মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে রক্তপাতের ক্ষেত্রে অভিন্ন এবং মহান মানবতার আবেগ ধারণকারী লোকদের প্রতি সমান আচরণের ক্ষেত্রে, বিশেষত স্বদেশের লোকদের মধ্যে, ইসলামি রাষ্ট্রের মধ্যে, একটি একক রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের সহযোগী-নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটা সেই মতবাদ যা অনুযায়ী কয়েক শতাব্দীব্যাপী ইসলামি সরকারসমূহ শাসন করেছে আব্বাসীয় ও উসমানী খিলাফতের আমলে। তবে, বর্তমানের পরাশক্তিসমূহ অমুসলিম সংখ্যালঘুদের আইনগত মর্যাদাকে ব্যবহার করতে চায়, এই অভিযোগে যে, তারা দলিত এবং তাদের জন্য সমান আচরণ ইসলামী ব্যবহারশাস্ত্রের ফৌজদারী বিধিমালায় নেই।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 স্ত্রীলোকের জন্য রক্তপণ

📄 স্ত্রীলোকের জন্য রক্তপণ


স্ত্রীলোকের জন্য রক্তপণের ক্ষেত্রে মহান আইনবিদগণের অধিকাংশই মনে করেন যে, এটা পুরুষের অর্ধেক। তারা তাদের বিষয়টিকে মুয়াজ হতে মারফু হাদিসের ওপর ন্যস্ত করেন এই বলে যে, নবি সা. বলেন: একজন স্ত্রীলোকের রক্তপণ একজন পুরুষের অর্ধেক। আল-বায়হাকি এর সনদের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বলেন: এর সনদ প্রতিষ্ঠিত (সমর্থিত) নয়। তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আলী) বলেন, স্ত্রীলোকদের রক্তপণ (হিসাবমতে) পুরুষের রক্তপণের অর্ধেক। এটা আলী থেকে ইবরাহীম আল-নাখয়ীর একটা বর্ণনা। ইবনে আবী শুয়াইবও এটা বর্ণনা করেন, যিনি ইবরাহীম হতে শা'বীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এটা প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মৌকুফ (সাহাবি পর্যন্ত এসে সমাপ্ত) এবং আইনে অ-মারফু [অর্থাৎ খোদ নবি সা. হতে নয়]। সাব্যস্তকরণে জোরদার নয়। পুরুষলোকের ও স্ত্রীলোকের জরিমানা সম্পর্কে বিশদ নেই অর্থাৎ আঘাত কিংবা একই ধরনের কোনোকিছুর জন্য একটিমাত্র হাদিসও প্রতিষ্ঠিত নেই।
সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে তারা তাদের বিষয়কে ইজমা বা ঐকমত্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এখন ইজমা একটি প্রমাণ যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই দৃষ্টান্তে ইজমা প্রতিষ্ঠিত নয়। কারণ লোকেরা বর্ণনা করেছে যে, এই বিষয়ের ওপরে সালাফ (পূর্ববর্তী) আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এ দুজন হচ্ছেন আল-আসিম ও ইবন আল-আলবাহ। তাঁদের মতে, রক্তপণ স্ত্রীলোকের জন্য তেমনই যেমন পুরুষের জন্য।১২

টিকাঃ
১২. দেখুন দিয়াগত আল-মার'আহ অধ্যায়, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২২৪-২৭।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 ইসলামের মনোভাবের ব্যাখ্যা

📄 ইসলামের মনোভাবের ব্যাখ্যা


একটি সহিহ হাদিস খোঁজ করা হয় ইবাদতের বিষয়াদি, প্রতিদিনের কার্যাবলী এবং বৈধ-অবৈধ সংক্রান্ত সমাধানের জন্য, খোঁজ করা হয় ইসলামের মনোভাব উপলব্ধিতে ভাব, শিক্ষা, উত্তম আচরণ ও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রণয়নের জন্য। যদি উদাহরণস্বরূপ, আমরা পার্থিব জীবন সম্পর্কে ইসলামের মনোভাব ব্যাখ্যার ইচ্ছা করি এ জীবনে অস্বীকৃতি অথবা উত্তম বস্তুসমূহ আত্মস্থ করার জন্য, সেক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসসমূহ যথেষ্ট হবে না। একই ধরনের দৃষ্টান্ত হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার প্রতি নির্ভরতায় ইসলামের মনোভাব (তথাকথিত প্রাকৃতিক অথবা মাধ্যমিক); প্রতিষেধক ঔষধাদি বা আরোগ্যকর ঔষধাদি; জন্তুজানোয়ার ও গাছপালার সংরক্ষণ; বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উন্নতির নিদর্শনাদি; অতিপ্রাকৃত ঘটনা ও মোজেজা বিয়য়ে ইসলামের মনোভাব।
এসব বিষয় এবং এগুলোর মতো অন্যান্য বিষয়ে মতানৈক্যপূর্ণ হাদিসগুলো উদ্ধৃত করা যথেষ্ট নয়। বরং ঐসকল হাদিসকে অবলম্বন করা আবশ্যক যেগুলো প্রমাণের দিক থেকে মজবুত ও প্রত্যায়িত এবং উপস্থাপনে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। তাছাড়া কারো উচিত নয় প্রাসঙ্গিক একক হাদিসে সন্তুষ্ট থাকা। বরং নীতি এমন হবে যাতে অনেক হাদিস ঐ ছবির ওপর আলোকপাত করে এবং এই অথবা ঐ বিষয়ে ইসলামের মনোভাবকে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করে। অবশ্য এটা ব্যতীত, যখন তা কুরআনের আয়াত হবে এবং অতঃপর তা হবে উৎস ও উদ্ধৃতির ক্ষেত্র।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00