📄 সুন্নাহর পুরাতন শত্রুদের সন্দেহ
প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ধর্মমতের বিরুদ্ধবাদী ও উদ্ভাবকগণ সুন্নাহকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে সন্দেহ ও অভিযোগ উত্থাপন করে আসছে। বিদ্বান আলেমগণ ও সত্যানুসন্ধানী ব্যক্তিগণ তাদেরকে পর্যদস্ত ও হতাশ করার জন্য তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন একজন বিদ্বান আলেম ছিলেন আল-শাতিবী।
ইমাম আল-শাতিবী বলেন: বিরুদ্ধবাদী উদ্ভাবকদের বিদ্রোহের মধ্যে [নির্দিষ্ট] উপদলগুলো একসময় হাদিস প্রত্যাখ্যানকে বৈধতা দেয় [এই যুক্তি দ্বারা] যে, তারা ঐগুলো পেয়েছে তাদের অনুমানের মধ্যে এবং এটাকে কুরআনে ভৎর্সনা করা হয়েছে-যেমন রয়েছে মহীয়ান আল্লাহ তায়ালার কালামে:
তারা তো অনুমান আর প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে (সুরা নাজম, ৫৩: ২৩)
এবং
তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে এবং প্রকৃত সত্যের মোকাবেলায় অনুমান কোনোই কাজে আসে না (সুরা নাজম, ৫৩: ২৮)।
এবং [অন্য সুরায়] এর অর্থ এসেছে [তারা যুক্তির এই অবস্থানে এসে অতিশয়োক্তি করে]। ঐ পর্যন্ত যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসুল সা.-এর জবানে যা নিষিদ্ধ করেছেন, যদিও কুরআনের মূলপাঠে তা নিষিদ্ধ হয়নি। তাই তারা এর অনুমতি দিয়েছে। তারা তাদের মনের কিছু ধারণাকে গ্রহণীয় করার জন্য এটা করেছে।
এই সব আয়াতে এবং হাদিসেও অনুমান বলতে তাই বুঝানো হয়েছে, যা তাদের ওজর বা দাবি ছিল। আমরা দেখেছি যে, এর তিনটি উপায় আছে:
প্রথমত দ্বীনের উসূল (মূলনীতি বা বুনিয়াদ) সম্বন্ধে অনুমান। আলেমদের মতে এর কোনো প্রয়োগ নেই, কারণ সত্যের সম্ভাব্য বিরোধিতা করা হয়েছে অনুমানকারীর অনুমানে। সংজ্ঞানুযায়ী অনুমান হয় সত্য না হয় মিথ্যা; এর মিথ্যা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা একে আইনের বুনিয়াদ তৈরিতে অপ্রয়োজনীয় করে তোলে। ফুরুয়ি' [আইনের শাখা বা আইন থেকে উদ্ভূত বিষয়াদি) ব্যাপারে অনুমান ভিন্ন বিষয়। কারণ, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাক্ষ্যদ্বারা প্রদর্শনের ফলে কার্যকর হয়। সুতরাং ফুরূয়ি বিষয় না হলে অনুমান নিন্দনীয় এবং এটা বিদ্বান আলেমগণ উল্লেখ করেছেন [অর্থাৎ তারা আইনের বিশদ আলোচনার ক্ষেত্রে শর্তযুক্তভাবে অনুমানের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন, এর মূল বিষয়াদির ক্ষেত্রে নয়]।
দ্বিতীয়ত, দুটি পরস্পরবিরোধী সম্ভাবনার মধ্যে অনুমান [একটির জন্য] কোনো প্রকার প্রদর্শনী ছাড়াই অন্যটিকে অগ্রাধিকার দেয়। [সেখানে] কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি নিন্দনীয়, কারণ এটি একটি এক তরফা রায়। ঐ কারণে এই আয়াতে অনুমান নিজ প্রবৃত্তি'র অনুসারী বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বাণী: তারা তাদের অনুমান ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। সুতরাং তারা সংস্কার ও খেয়ালখুশি ছাড়াই কোনো বিষয়ে ঝুঁকে পড়ে। যে অনুমানের পর্যায়গুলো প্রদর্শিত হয় তা ভিন্ন। তারপর তা [ঘটনাসমূহের] সাধারণত্বের ক্ষেত্রে নিন্দনীয় নয়, কারণ এটা নিছক খেয়াল খুশির জন্য বেরিয়ে আসে। ঐ কারণে, এটা নিশ্চিত করা হয় এবং কার্যকর হয়, এর চাহিদামতো, যখন এটা কাজের উপযুক্ত মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফুরূয়ির ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থাকে।
তৃতীয়ত, অনুমান দুই রকমের হয় [১] ঐ সমস্ত অনুমান যা সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর নির্ভরশীল। এগুলো হচ্ছে সেই অনুমান, যেগুলো প্রয়োজনমতো আইনের ওপর কাজ করে, কারণ এ ধরনের অনুমান একটি সুপরিচিত নীতির ওপর নির্ভরশীল এবং এটা সেই শ্রেণিভুক্ত যা সুবিদিত এবং [২] এমন অনুমান যা সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি নীতি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল এবং এটি নিন্দনীয়। যদি এটা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়, যা এর মতোই অনুমান এবং যদি ঐ অনুমানও সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তিশীল হয়, তাহলে তা পূর্বের মতোই।
২৯ অন্যদিকে যদি অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে তা হবে নিন্দনীয় বা বর্জনীয়।
সুতরাং পূর্বের সকল সংশ্লিষ্টতা দ্বারা বিশুদ্ধ সনদের অধিকারী একটি এক প্রতিবেদনের জন্য যা আইনে সুনির্দিষ্টতা সম্পন্ন নীতির ওপর নির্ভরশীল, এটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং তাই আমরা এটি অবিমিশ্রভাবেই গ্রহণ করি। একইভাবে, যেহেতু অবিশ্বাসীদের অনুমানসমূহ কোনো কিছুর ওপরেই ভিত্তিশীল নয়, তাই মানুষ তা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করবে এবং এদের যোগ্যতা অস্তিত্বহীন বলে বিবেচিত হবে। এই শেষ সাড়া ধার নেওয়া হয়েছে একটি প্রকৃত জিনিস থেকে যা কিতাব আল-মুওয়াফাকাত এর মধ্যে রয়েছে এবং সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালারই জন্য।৩৬
ওদের মধ্যে কিছুসংখ্যক নিশ্চিতরূপে এই হাদিস প্রত্যাখ্যানে বিপথগামিতায় বহুদূরে চলে গেছে। তারা তাদের মতামত বাতিল করেছে যারা হাদিসে যা আছে তাতে আস্থাশীল হয়। ততদূর পর্যন্ত অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে যেমন যুক্তির বিরোধিতা এবং সেই ব্যক্তিকে দায়ী করেছে যিনি এটাকে সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত বলেছেন।
আবু বাকার ইবনুল আরাবি কিছু লোকের বর্ণনা দিয়েছেন, যাদের সাথে তিনি পূর্ব দেশে সাক্ষাৎ করেছেন, যারা রুইয়া (ইমানদারদের জান্নাতে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ) অস্বীকারকারী। এটা একজন রুইয়া অস্বীকারকারীকে বলা হয়েছিল: যিনি আল্লাহ তায়ালার দর্শনকে দৃঢ়ভাবে [নিশ্চয়তা সহকারে] বিশ্বাস করে তার ওপরে অবিশ্বাস আরোপ করা যায় কি না? তখন এই অস্বীকারকারী বলল: না! কারণ সে যা বলেছে তা যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য নয় এবং যুক্তির দ্বারা অগ্রহণযোগ্য বিষয় যেই বলুক, সে অবিশ্বাস করেনি। ইবনুল আরাবি বলেন: তাহলে এটাই হচ্ছে তাদের মতে আমাদের মর্যাদা [অর্থাৎ তারা আমাদেরকে পাগল ভাবে]। অতএব ভাগ্যবানদেরকে চিন্তা করতে দেওয়া হোক তারই ওপর, যেদিকে প্রবৃত্তি চালনা করে থাকে। আল্লাহ তায়ালা এসব থেকে তার দয়া দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করুন।
তা'বীল মুখতালিফ আল-হাদিস নামক গ্রন্থে ইবনে কুতায়বা অনেকগুলো আপাতসত্য সন্দেহ সাধারণভাবে ও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেন, যেগুলোতে সুন্নাহর শত্রুরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি ঐগুলো বাতিল করেছেন আপাতসত্য সন্দেহ দ্বারা আপাতসত্য সন্দেহকে, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত নিবৃত্ত হননি যতক্ষণ না তাদের আগুন ছাই হয়েছে।
টিকাঃ
৩৬. আল-শাতিবী'র আল-ই'তিসাম (রক্ষাকবচ), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৫ - ৩৭।
📄 সুন্নাহর নতুন শত্রুদের সন্দেহ
আমাদের সময়ে সুন্নাহর নতুন শত্রুদের আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের কেউ কেউ আমাদের দেশের বাইরের মিশনারী ও প্রাচ্যবিদদের মতো। অন্যরা আমাদের দেশের, যাদেরকে মিশনারী ও প্রাচ্যবিদগণ শিক্ষা দান করেছে অথবা তাদের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এইসব লোক সুন্নাহ্ পুরাতন শত্রুদের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এর সাথে বর্তমান সংস্কৃতির আশীর্বাদধন্য অস্ত্রশস্ত্র যুক্ত করেছে। তারা এগুলোকে এবং ওগুলোকে সুন্নাহ্ ও এতদসংক্রান্ত বইপুস্তক, এর বর্ণনাকারীগণ এবং এর পদ্ধতির বিরুদ্ধে তাদের অশ্বারোহী সৈন্যদল ও তাদের পদাতিক সৈন্যবাহিনী বলে অভিহিত করে। এসব ক্ষেত্রে তারা ক্ষমতা ও কূট রাজনীতির স্থান ও প্রতিষ্ঠানকর্তৃক সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে আল্লাহ তায়ালা সমসাময়িক আলেমদের মধ্য থেকে সুন্নাহর জন্য অবিসংবাদী সত্যতা ও পক্ষাবলম্বনকারী যুক্তি উপস্থাপনকারী এমন ব্যক্তিদের প্রেরণ করেছেন, যারা নাস্তিকদের শোবাহ সন্দেহ এবং তাদের প্রবৃত্তির খামখেয়ালী ও প্রতারণার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।৩৭
অতএব প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হয়ে গেল, তারা যা সাজিয়েছিল তা নিষ্ফল হয়ে গেল; তারা সেখানে পরাজিত হলো এবং হীনতা মাথায় নিয়ে ফিরে গেল (সুরা আ'রাফ, ৭: ১১৮-১১৯)।
টিকাঃ
৩৭. আমরা ঐসব আলেমদের মধ্যে আইনবিদ, প্রচারক ও মুজতাহিদদের মধ্যে শায়খ মুস্তাফা আল-সিবা'ই (রহ.) কে গণ্য করি, তাঁর মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় গ্রন্থ আল-সুন্নাহ্ ওয়া মাকানাতু-হা ফি আল-তাশরি'আল-ইসলামি। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তাঁর সম্মানজনক মর্যাদা ও অবস্থান দান করুন। তাদের মধ্যে আরো রয়েছেন, মুহাম্মদ মুস্তাফা আল-আ'যামি যিনি শাখতকে প্রতিহত করেছেন, শায়খ আবদ আল-রাহমান ইবন ইয়াহয়া আল-মু'আল্লিমী আল-ইয়ামানি, আল-আওয়ার আল-কাশিফাহ'র গ্রন্থকার শাইখ মুহাম্মদ আবদ আল-রাযযাক হামযাহ, জুলুমাত আবি রাইয়াহ'র প্রণেতা 'আজ্জাজ আল-খাতিব এবং অন্যরা। এখানে সবার নাম উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত স্থান নেই।
📄 কুরআনের হিদায়েতে তৃপ্ত থাকা
সুন্নাহ্ শত্রুদের সন্দেহের মধ্যে, যা তারা অনবরত পুনরাবৃত্তি করে, অন্যতম হচ্ছে সেই দাবি, যাতে বলা হয় সুন্নাহ্ ছাড়াই কুরআন যথেষ্ট, এই বাস্তবতা বিবেচনায় যে, এতে সবকিছু বিশদ উপস্থাপিত হয়েছে, যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেন: আমি তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাজিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ, রহমত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ (সুরা নাহল, ১৬: ৮৯)।
তিনি বলেন: এদের কাহিনীতে বোধসম্পন্ন মানুষদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় আছে। এ কুরআন কোনো বানোয়াট গল্পকাহিনী নয়, বরং তাদের পূর্বে আগত কিতাবের প্রত্যায়নকারী, আর যাবতীয় বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণে সমৃদ্ধ এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথের দিশারি ও রহমত (সুরা ইউসুফ, ১২: ১১১)।
তারা এই দাবিও পেশ করে, কারণ তারা বলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কুরআনের হেফাজত সম্পর্কে সাক্ষ্য দান করেছেন, কিন্তু সুন্নাহ্ সম্পর্কে তা নেই।
এ দাবির জবাব এই যে, সুন্নাহ্ হচ্ছে নিঃসন্দেহে কুরআনের স্পষ্টকরণ। এটা তাই যা কুরআনে বর্ণিত সংক্ষিপ্তকে বিস্তারিত করে, এর মধ্যে সাধারণকে চিহ্নিত করে এবং এর মধ্যে যা অবিমিশ্র তা বর্ণনা করে। যদি সুন্নাহ্ না থাকত তাহলে আমরা দ্বীনী আচার অনুষ্ঠানের (সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ) ব্যাপারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারতাম না। এই কারনেই আল্লাহ তায়ালা বলেন:
রসুলকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাব দিয়ে মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হচ্ছে, আর যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে (সুরা নাহল, ১৬: ৪৪)।
অধিকন্তু, কুরআন নিজেই আমাদের জন্য রসুল সা.-এর প্রতি আনুগত্যের আদেশ প্রদান করেছে, যেমন আদেশ করেছে আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্যের:
বলো, আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রসুল সা.-এর (সুরা নূর, ২৪: ৫৪)।
হে ইমানদারগণ! আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রসুল সা.এর ও তোমাদের মধ্যে কর্তৃত্বশীলদের; যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়, তাহলে তা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল সা.-এর কাছে সোপর্দ করো (সুরা নিসা, ৪: ৫৯)।
বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ তায়ালার কাছে সোপর্দ করার অর্থ হচ্ছে তাঁর কিতাবের দিকে সোপর্দ করা এবং রসুল সা.-এর দিকে সোপর্দ করার অর্থ, তাঁর সুন্নাহর দিকে সোপর্দ করা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
যারা তাঁর (রসুল সা.-এর) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক এ ব্যাপারে যে, তাদের ওপর পরীক্ষা নেমে আসবে, কিংবা তাদের ওপর আপতিত হবে যন্ত্রণাদায়ক ভয়াবহ শাস্তি (সুরা নূর, ২৪: ৬৩)।
আল্লাহ তায়ালা কেবল কুরআনের হেফাজত করেছেন, এই দাবির ব্যাপারে-কেউ কেউ বলেন যে, তিনি এর হেফাজতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং সুন্নাহর হেফাজতের নিশ্চয়তা দেননি। কিন্তু এটা ইতোমধ্যেই আল-শাতিবী'র আল-মুওয়াফাকাত থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, কুরআনের হেফাজত সুন্নাহকে হেফাজতেরই সাক্ষ্য দেয়। কারণ পরবর্তীটি (সুন্নাহ্) হচ্ছে পূর্ববতীটির (কুরআনের) প্রকাশ। যার ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার হেফাজত মানেই হচ্ছে, যে ব্যাখ্যা করেছে তার হেফাজত।
📄 উপলব্ধির অক্ষমতাহেতু হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করা
এখানে আমি যে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তা হচ্ছে সুন্নাহ্ ও সহিহ হাদিসকে প্রত্যাখান করা। এটা সেই ব্যক্তির মনে উদয় হয়, যে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এবং এ বিজ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। এটা আমাদেরকে নিশ্চিত করেছে যে, সূচনার সময়ের দাবি হচ্ছে সুন্নাহ্ কিভাবে বুঝতে হবে তা অনুসন্ধান এবং নিবিড়ভাবে সংজ্ঞায়িত গবেষণা, সেই সাথে এর উৎস এবং এর কর্তৃত্ব বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত আশ্রয় বা অবলম্বন গ্রহণ করা। পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহে আমরা এ বিষয়ের প্রতিই দৃষ্টি আকর্ষণ করব।