📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 সুন্নাহর দৃঢ়তা যাচাইকরণ

📄 সুন্নাহর দৃঢ়তা যাচাইকরণ


এ ধরনের প্রথম নীতি হচ্ছে, মানুষ সুন্নাহ্ প্রামাণ্যতা ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করবে তুলনা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং কষ্টসাধ্য বিন্যাসের মাধ্যমে, যা বিদ্বান বিদগ্ধ আলেমগণ এ ধরনের প্রমাণে ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে সনদ ও মতন উভয়ই রয়েছে (একাডেমিক উপকরণাদি ও হাদিসের মূল পাঠ) এবং একইভাবে রয়েছে কাওলি, ফেলি বা তাকরিরি হাদিসসমূহ। পরিশ্রমী গবেষককে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ লোকদের সাহায্য গ্রহণ করতে হবে। তারা ছিলেন হাদিসের বিশুদ্ধতা পরীক্ষক, যারা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন এর অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানে, কলুষিত থেকে বিশুদ্ধকে পৃথককরণে এবং বাতিল থেকে গ্রহণযোগ্য নির্ণয়ে।
এবং কেউই তোমাদেরকে সর্বজ্ঞ [একজন] আল্লাহ তায়ালার মতো খবর জানাতে পারবে না (সুরা ফাতির, ৩৫: ১৪)।
আলেমগণ হাদিসের জন্য এর মূলের সাথে সুপ্রোথিত এবং এর শাখা প্রশাখার সাথে সুবিন্যস্ত একটি বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটা হাদিসের নীতি (উসূলে হাদিস) বা হাদিসের বাগধারা ও শব্দকোষ (মুসতালাব আল-হাদিস) এর বিজ্ঞান। এটি হাদিসের জন্য সে ভূমিকা রাখে, যা পালন করে উসূল এর ফিকহর জন্য ফিকহ ক্ষেত্রে ঘটনার ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে শৃঙ্খলার সমাহার। ইবন আল-সালাহ এগুলোকে ৬৫টি প্রকরণে বিন্যস্ত করেছেন। তারপর অন্যরা এর সাথে যোগ করেছেন যতদিন না আল-সুযুতী (তাঁর গ্রন্থ তাদরীব আল-রাবি আলা তাকরীব আল-নবাবী) এগুলোকে কমবেশি ৯৩ প্রকরণে বিভক্ত করেন।
এটি সুবিদিত যে, উসূল আল-হাদিস সংক্রান্ত বিজ্ঞানে কিছুসংখ্যক প্রশ্নে ঐকমত্য হয়েছে এবং কিছু প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণের কর্তব্য হচ্ছে: বিবাদপূর্ণ বিষয়ে নীরব থাকা এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভারসাম্য অনুযায়ী অগ্রাধিকার প্রদান করা।
এক্ষেত্রে উম্মাতের সবচেয়ে ঘটনাবহুল সময়ের দীপ্তিময় যুগে আমাদের পূর্বসূরীগণের উপস্থাপনকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে চাই। এরা অবস্থান করবেন পরবর্তী আলেমগণের ঊর্ধ্বে। এমনটা করব, কেন না পূর্বসূরীগণ হাদিসের দুর্বলতা দূরীকরণে অধিকতর কঠোর ও সাহসী ছিলেন এবং পরবর্তীদের চেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিলেন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
তারা এই বিজ্ঞানে কয়েকটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
i. যিয়াদাত আল-ছিকাহ ফি আল-হাদিস: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক হাদিসের মধ্যে সংযোজন করা। এরকম একজন বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত বিষয়ে সংযোজন গ্রহণ করা যাবে কতদূর পর্যন্ত?
ii. তাকভিয়্যাতু আল-হাদিস বি-তা'আদ্দুদি আল-তুরুকি আল-জযায়িফাহ: বর্ণনান্তরের মধ্যে দুর্বল পথ যোগ করে হাদিসকে শক্তিশালী করা। এই সংযোজন দ্বারা কোন হাদিস শক্তিশালী হয়েছে? এক ব্যক্তি এ ধরনের সংযোজনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের দুর্বলকে ব্যবহার করবে?
iii. হাদিস মাওকুফ: যখন বর্ণনার পরম্পরা সাহাবি পর্যন্ত পৌছে এবং সেখানেই সমাপ্ত হয়, রসুল সা. পর্যন্ত পৌছে না, তখন এটাকে মারফু (যেন এটা খোদ রসুল হতেই) বলে গ্রহণের প্রশ্ন দেখা দেয়, যেখানে এর বিষয়বস্তু এমনই যে, মতামত (রায়) দেওয়ার কেনো সুযোগ নেই। তবে কোনো কোনো আলেম স্বাধীনতা দিয়েছেন এমন হাদিসের ক্ষেত্রে, যেখানে মতামতের সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে।৩৩
iv. মাদমূন: হাদিসের বিষয় অধ্যয়ন অথবা (পরিভাষাগতভাবে) এর মতন বা ভাষ্য অথবা এর বর্ণিত বিষয়াদি। এর যতটুকু আমাদের পূর্ববর্তীগণ তাদের সময়কালের বৈশিষ্ট্যানুযায়ী গ্রহণ করেছিলেন, তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 সুন্নাহ্ উপলব্ধিকরণে দক্ষতা

📄 সুন্নাহ্ উপলব্ধিকরণে দক্ষতা


দ্বিতীয় নীতি হচ্ছে: নবি সা.-এর বাণীকে বুঝতে হলে ব্যক্তির প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকতে হবে। এটাকে বুঝার অর্থ হচ্ছে: বাণীর ভাষায় যে অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে সেই অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা একীভূত হওয়া। হাদিসের পথনির্দেশ (সাধারণ উদ্দেশ্য), এর বিশেষ পরিস্থিতি ও লক্ষ্য, পর্যায়ক্রমে কুরআন ও রসুল সা.-এর সমর্থন এবং সাধারণ নীতিমালা ও ইসলামের উদ্দেশ্যের সামগ্রিকতার কাঠামো বিচার্য হবে।
ইসলামের মহান বিদ্যাবত্তার অধিকারী, ভারতের আহমাদ ইবন আবদুর রহীম, যিনি শাহ ওয়ালীউল্লাহ (মুহাদ্দিস) আল দিহলভী (মৃত্যু: ১১৭৬ খ্রি.) নামে অধিক পরিচিত, তার মতানুযায়ী এসব কিছুই আল্লাহ তায়ালার প্রচারের পথ ধরে যা কিছু এসেছে এবং এপথে যা কিছু আসেনি, তার পৃথকীকরণ প্রয়োজনীয় হিসেবে দেখা যায় (আমাদের শিক্ষক, আল-আযহারের প্রাক্তন শায়খ মাহমুদ শালতুত এর মতে)। এই পার্থক্যেকে ভিন্ন পথে প্রয়োগ করা যায় যা আইন প্রণয়ন কারী সুন্নাহ্ এবং যা আইন সংশ্লিষ্ট সুন্নাহ্ নয় তার অংশ; আইন বিষয়ক সুন্নাহ্ মধ্যে সাধারণ ও স্থায়ী উপাদান রয়েছে এবং বিশেষ ও সময় নিয়ন্ত্রিত গুরুত্ব রয়েছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণ এই যে, সুন্নাহ্ বুঝার ব্যাপারে তারই মধ্যে ত্রুটি রয়েছে (আল-আফাত)।
সুন্নাহ্ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার ফল হিসেবে এসব ত্রুটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি কিন্তু উপলব্ধির ভুলের পরিণাম হিসেবে এটা ইতোমধ্যেই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রত্যয়িত হয়েছে। এই ভুল একটি প্রাচীন রোগ, এটা সুন্নাহকে সেইভাবে স্পর্শ করেছে যেভাবে করেছে কুরআনকে। বিদ্বানগণের মধ্য থেকে সত্যানুসন্ধানীগণকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলকে বুঝার ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 শক্তিশালী বিধায় মূল পাঠই বিরোধমুক্ত

📄 শক্তিশালী বিধায় মূল পাঠই বিরোধমুক্ত


তৃতীয় নীতি হচ্ছে: বিরোধ থেকে আমরা মূল পাঠের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি এর চেয়ে শক্তিশালী কিছু দ্বারা। অনেক শক্তিশালী হলো, কুরআনের মূলপাঠ কিংবা অন্যান্য হাদিস যেগুলোর প্রচুর উৎস রয়েছে কিংবা বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অধিকতর স্পষ্ট অথবা প্রকৃত নীতি (উসূল)র সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, অথবা আইন বিষয়ক পদক্ষেপসমূহের উদ্দেশ্যের অধিকতর নিকটবর্তী অথবা এটি আইনের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে যা। কারণ এগুলো এক অথবা দুটি টেকসই কিছু হতে উদ্ভূত নয়, বরং তাদের প্রমাণের বিশুদ্ধতাসহ সুনির্দিষ্টতা ও নিশ্চয়তা অর্জন করেছে।
এটি উসূলে ফিকহ এবং উসূলে হাদিস উভয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনী ইস্যু হিসেবে সম্পৃক্ত (সাক্ষ্য প্রমাণের ভারসাম্যগত বিরোধ ও প্রমাণাদি)। বাহ্যিক রূপে মূলপাঠ কোনো কোনো সময় পরস্পর বিরোধী হয়, কিন্তু তাদের বাস্তবতা পরস্পরবিরোধী নয়। ফকিহ বা আলেম ব্যক্তির জন্য মূলপাঠ একত্রিত করে যেখানে সম্ভব বিরোধী দুরীভূত করা অত্যাবশ্যক। অথবা এতে ব্যর্থ হলে সাক্ষ্যের ভারসাম্য বিচার করা বাঞ্চনীয়।
তাদরীব আর-রাবি গ্রন্থে আল-সুয়ূতী বলেন যে, সাক্ষ্যের ভারসাম্য একশ প্রকারেরও অধিক।

📘 সুন্নাহ্ র সান্নিধ্যে > 📄 আইন প্রণয়ন ও নির্দেশনার উৎস

📄 আইন প্রণয়ন ও নির্দেশনার উৎস


ইসলামের আইন প্রণয়ন ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে সুন্নাহ্ হচ্ছে দ্বিতীয় উৎস। ফকিহগণ এদিকেই আলোকপাত করেন আইনী আদেশ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে। একইভাবে প্রচারক ও শিক্ষকগণও এমন করেন এর থেকে উৎসাহব্যঞ্জক অর্থ, মূল্যবান নির্দেশনা এবং গভীর জ্ঞান বের করার জন্য। সেই সাথে লোকদেরকে কল্যাণকর কাজে উদ্বুদ্ধ করা এবং অকল্যাণের কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য।
সুন্নাহ্ যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য পালন করতে পারে সেজন্য যে কোনো ব্যক্তি অবশ্যই একে অধিকতর মূল্য দেবে রসুল সা. হতে উৎসারিত বলে প্রমাণিত হলে। এটা হাদিস বিজ্ঞানের বাগধারার মধ্যে সহিহ (বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য) বা হাসান (উত্তম) হাদিসরূপে সত্যায়িত। সহিহ হচ্ছে অতি উত্তম বা খুব ভালো (যেহেতু এমন শব্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির জন্য বোধগম্য); হাসান হচ্ছে ভালো যা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের। এর বাইরে হাসান-এর উচ্চতর পর্যায়কে 'সহিহ'র কাছাকাছি গণ্য করা হয়; একইভাবে এর নিম্নতর পর্যায়কে যঈফ (দুর্বল) এর নিকটতর বিবেচনা করা যায়।
সহিহ হাদিস এমন হাদিসকে বলা হয় যার বর্ণনাকারী তার সততার জন্য সুপরিচিত এবং অন্য বর্ণনাকারী থেকে শুনে স্মৃতিতে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার পূর্ণতার জন্যও। এটা হতে হবে সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এর মধ্যে কোনো শূন্যতা বা বিচ্ছিন্নতা থাকবে না এবং যখন তা রসুল সা.-কে সংযুক্ত করবে। একটি সহিহ হাদিস অনিয়ম ও ত্রুটি থেকেও মুক্ত।
এভাবে কেউ ঐ হাদিসকে গ্রহণ করবে না যা অপরিচিত উৎসের কোনো বর্ণনাকারী বা তার অপরিচিত অবস্থা বর্ণিত হচ্ছে, কিংবা যার সততা বা সংরক্ষণে পূর্ণতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, বা যদি তার সাথে অন্য বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতায় বিচ্ছিন্নতা কিংবা শূন্যতা থাকে। কিংবা তার দ্বারা বর্ণিত হাদিসটি অনিয়মিত হয়, যার ফলে সেটা তার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অন্য কারো নির্ভরযোগ্য বর্ণনার বিরোধী হয়, অথবা ঐ হাদিসে যদি ত্রুটির কোনো চিহ্ন থাকে কিংবা অন্যকিছু আপত্তিকর থাকে এর সনদ বা এর মতনে (মূলপাঠের প্রতিবেদন থাকলে)।
যে লোকেরা তা পৌঁছে দিয়েছেন সে সম্বন্ধে কারো যেন এমন ধারণা না থাকে যে, উম্মতের আলেমগণ এমনকিছু গ্রহণ করেছেন, তা তাদের কাছে নিয়ে যেই আসুক না কেন, যেমন কেউ তাদের কাছে এসে বলল 'অমুক এবং অমুক থেকে অমুক এবং অমুক, তারপর আল্লাহর রসুল থেকে এবং তার উত্তর দিলেন: তুমি সত্য বলেছ!
বরং প্রকৃত কথা হচ্ছে, যারাই তাদের কাছে হাদিস নিয়ে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের সম্বন্ধেই তারা অবশ্যই কতকগুলো প্রশ্ন রেখেছেন: (ক) তিনি কোন ঘরানার আলেম বা ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত? (খ) তার শিক্ষক কারা? (গ) তার সহপাঠী ছাত্র কারা, হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়নের সময় কে তার সাথে ছিলেন? (ঘ) তার শিক্ষক, সঙ্গীসাথী ও ছাত্রদের দৃষ্টিতে তার চরিত্র ও আচরণ কেমন? (ঙ) লোকেরা কি তার সততা ও তার আল্লাহ তায়ালাভীতি (তাকওয়া) সত্যায়ন করে থাকে? (চ) সংরক্ষণে কি ধারাবাহিকতা রয়েছে? (ছ) তিনি কি জীবনভর এটা অব্যাহত রেখেছেন অথবা জীবনের শেষ বছরগুলোতে পরিবর্তন করেছেন? (জ) তার বৃদ্ধ বয়সে তার ছাত্রদের মধ্যে কে কে তার কাছে পড়াশোনা করেছেন এবং (ঝ) তার পরিবর্তনের পূর্বে কে তার অধীনে অধ্যয়ন করেছেন? এবং এভাবে আরো।
উম্মাহর বিশিষ্ট আলেমগণ একমত হয়েছেন, যেসব হাদিস আমলের ক্ষেত্রে আইনী হুকুম হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়, যা ফিকহশাস্ত্রের স্তম্ভ বিশেষ এবং হালাল ও হারামের ভিত্তি, সেগুলোকে অবশ্যই সহিহ বা হাসান হতে হবে। তবে, যেসব হাদিস আমলের উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত বা দোয়া, যা হৃদয়কে নরম করে, তারগিব (আল্লাহ তায়ালার প্রতি স্পৃহা বৃদ্ধি করে) বা তারহিব (আল্লাহ তায়ালার ভয় বৃদ্ধি করে) এবং এধরনের অন্য কিছু, যেগুলো অবিসংবাদিতভাবে আইন প্রণয়নের শিরোনামে আসে না, সেগুলোর ব্যাপারে তারা ভিন্নমত পোষণ করেন।
প্রাথমিক যুগের বিদ্বান আলেমগণ (সালাফ) এর মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন, যাদেরকে এই ধরনের বর্ণনার হাদিস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং এগুলো প্রচারে কোনো ক্ষতি লক্ষ্য গোচর হয়নি। তবে এই অব্যাহতি নিরঙ্কুশ নয়, যেমনটা কেউ কেউ মনে করেন। বরং এর জন্য ক্ষেত্র ও যুক্তি রয়েছে। তবে, অনেকেই এই অব্যাহতির মানের অপব্যবহার করেছেন (কারণ হাদিসগুলো আইন দ্বারা স্থিরীকৃত আমলের সাথে জড়িত নয়), তাই সরল পথের উল্টো এবং দুষ্ট লোকেরা নির্ভেজাল ইসলামের প্রশস্ত পথকে দূষিত করেছে।
বাণী প্রচারের কিতাবাদি যা কিছু অন্তরকে কোমল করে, সুফিবাদের গ্রন্থসমূহে এই সব ধরনের হাদিস প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান। তবে, আমরা এই মত পোষণ করি যে, এগুলোর অধিকাংশই দুর্বল ও অশুদ্ধ হাদিসে ভারাক্রান্ত। বরং বলা যায়, এসব পুস্তকে এমন উক্তি অনুসরণ করা হয়েছে যার কোনো উৎস বা সনদ নেই, এগুলোর মধ্যে কতকগুলো এমন যা বিরোধপূর্ণ এবং আল্লাহর রসুল সা.-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। মুহাদ্দিসগণ এসব হাদিসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এবং এমন গ্রন্থ সংকলন করেছেন যা স্পষ্টভাবে ওদের কৃত্রিমতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে।
মুহাদ্দিসরা এধরনের দুর্বল বা মিথ্যা বর্ণনা নিষিদ্ধকরণে সর্ববাদীসম্মত মতে উপনীত হয়েছেন, তাদের (ব্যক্তিগত) মিথ্যাচার ও অসারতা উন্মুক্ত করা ব্যতীত। তাদের কাজের ফলে সর্বসমক্ষে এগুলোর আর কোনো প্রচার হয়নি।
একই ধরনের অসার ও বাতিল বর্ণনা তাফসিরের অনেক কিতাবেই দেখা যায়, এটা এমন হয়েছে যে, তারা অভ্যাসবশতই এসব কুখ্যাত জাল বর্ণনা কুরআনের নির্দিষ্ট সুরাসমূহের ক্ষেত্রে করেছে। তারা এমনটা করেছে এমনকি 'হাদিস বিশেষজ্ঞ (হুফ্ফায) গণ এর দুর্বলতা প্রকাশ এবং অসারতা ব্যাখ্যা করা সত্ত্বেও, যাতে পরবর্তীতে কেউ এসব বর্ণনা করতে কিংবা তার বইয়ের পৃষ্ঠাসমূহ এর দ্বারা মসীলিপ্ত করতে না পারে। এতদসত্বেও আল-যামাখশারী, আল-সা'আলিবী, আল-বায়যাভী, ইসমাঈল হাক্কী প্রমুখ মিথ্যা হাদিস উপস্থাপনের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00