📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 দুনিয়াতে যে নেককার আখিরাতেও সে নেককার

📄 দুনিয়াতে যে নেককার আখিরাতেও সে নেককার


৩৭২. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِنَّ أَهْلَ الْمَعْرُوْفِ فِي الدُّنْيَا هُمْ أَهْلُ الْمَعْرُوْفِ فِي الْآخِرَةِ، وَأَهْلُ الْمُنْكَرِ فِي الدُّنْيَا هُمُ أَهْلُ الْمُنْكَرِ فِي الْآخِرَةِ، إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَبْعَثُ الْمَعْرُوفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صُوْرَةِ الرَّجُلِ
الْمُسَافِرِ، فَيَأْتِي صَاحِبَهُ إِذَا انْشَقَّ عَنْهُ قَبْرُهُ، فَيَمْسَحُ عَنْ وَجْهِهِ التَّرَابَ، وَيَقُوْلُ : أَبْشِرْ يَا وَلِيُّ اللَّهِ بِأَمَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ، لَا يَهُولَنَّكَ مَا تَرَى مِنْ أَهْوَالِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَلَا يَزَالُ يَقُولُ لَهُ : احْذَرْ هَذَا ، وَاتَّقِ هَذَا ، فَيُسَكِّنُ بِذلِكَ رَوْعَتَهُ، حَتَّى يُجَاوِزَ بِهِ الصِّرَاطَ ، فَإِذَا جَازَ بِهِ الصِّرَاطَ ، عَدَلَ وَلِيُّ اللهِ إِلى مَنَازِلِهِ فِي الْجَنَّةِ، ثُمَّ يَنْتَنِي عَنْهُ الْمَعْرُوفُ فَيَتَعَلَّقُ بِهِ، فَيَقُولُ : يَا عَبْدَ اللهِ، مَنْ أَنْتَ، خَذَلَنِي الْخَلْقُ فِي أَهْوَالِ الْقِيَامَةِ غَيْرَكَ، فَمَنْ أَنْتَ؟ فَيَقُولُ : أَمَا تَعْرِفُنِي؟ فَيَقُولُ : لَا ، فَيَقُوْلُ : أَنَا الْمَعْرُوفُ الَّذِي عَمِلْتَهُ فِي الدُّنْيَا، بَعَثَنِي اللهُ خَلْقًا لِيُجَازِيكَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"দুনিয়ার নেককার আখিরাতেও নেককার হবে এবং দুনিয়ার বদকার আখিরাতেও বদকার হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন নেককাজকে মুসাফির ব্যক্তির আকৃতি দিবেন। নেককার ব্যক্তি ব্যক্তি কবর বিদীর্ণ হয়ে বের হয়ে আসার পর নেককাজ তার কাছে গিয়ে চেহারা থেকে মাটি ঝেড়ে দিয়ে বলবে, 'হে আল্লাহর প্রিয়ভাজন! তুমি আল্লাহর নিরাপত্তা ও (তাঁর পক্ষ থেকে) সম্মানের সুসংবাদ গ্রহণ করো। কিয়ামাতের ভীতিকর দৃশ্য যেন তোমাকে বিচলিত না করে।' তারপর সে তাকে বলে যেতে থাকবে, 'এটা থেকে সাবধান, ওটা থেকে সাবধান!' এর মাধ্যমে সে তাকে ভীতিমুক্ত রেখে একসময় তাকে নিয়ে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। পুলসিরাত পার হবার পর আল্লাহর প্রিয়ভাজন ব্যক্তিটি জান্নাতে তার বাসস্থানে অবস্থান নিবে। এরপর (মানুষরূপী) নেককাজ তার থেকে আলাদা হতে চাইলে সে তাকে ধরে জিজ্ঞেস করবে, 'তুমি কে?' সে জবাব দেবে, 'তুমি আমাকে চিনতে পারছো না?' লোকটি বলবে, 'না, পারছি না।' তখন সে বলবে, 'আমি হলাম দুনিয়াতে তোমার কৃত নেককাজ। আল্লাহ আমাকে (মানুষের) আকৃতি দিয়ে পাঠিয়েছেন তোমাকে কিয়ামাতের দিন এর মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়ার জন্য। [৩৮১]
৩৭৩. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، جَمَعَ اللهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ صُفُوْفًا، وَأَهْلَ النَّارِ صُفُوْفًا، فَيَمُرُّ الرَّجُلُ مِنْ
صُفُوفِ أَهْلِ النَّارِ إِلَى الرَّجُلِ مِنْ صُفُوفِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَيَقُولُ لَهُ : يَا فُلَانُ، أَمَا تَذْكُرُ يَوْمَ اصْطَنَعْتُ إِلَيْكَ فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۚ فَيَأْخُذُ بِيَدِهِ، فَيَقُولُ لِلَّهِ تَعَالَى : إِنَّ هَذَا اصْطَنَعَ إِلَيَّ فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا، فَيُقَالُ لَهُ : خُذْ بِيَدِهِ فَأُدْخِلْهُ الْجَنَّةَ
"কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা জান্নাতি এবং জাহান্নামিদেরকে কয়েক কাতারে সমবেত করবেন। তখন জাহান্নামিদের কাতার হতে এক ব্যক্তি জান্নাতিদের কাতারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে বলবে, 'হে অমুক! তোমার কি স্মরণ আছে দুনিয়াতে আমি তোমার প্রতি একটি ভালো আচরণ করেছিলাম?' তখন জান্নাতি লোকটি তার হাত ধরে আল্লাহ তাআলাকে বলবে, 'এই ব্যক্তি দুনিয়াতে আমার প্রতি একটি ভালো আচরণ করেছিল।' তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি তার হাত ধরে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাও।"[৩৮২]
৩৭৪. আবূ সাঈদ খুদরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مَلِكُ، وَكَانَ مُسْرِفًا عَلَى نَفْسِهِ، وَكَانَ مُسْلِمًا، وَكَانَ إِذَا أَكَلَ طَرَحَ فُضَالَةَ الطَّعَامِ عَلَى مَزْبَلَةٍ، فَكَانَ عَابِدُ يَأْوِي إِلى مَزْبَلَتِهِ، فَإِنْ وَجَدَ كِسْرَةً أَكَلَهَا، وَإِنْ وَجَدَ بَقْلَةٌ أَكَلَهَا، وَإِنْ وَجَدَ عَرْقًا تَعَرَّقَهُ، فَمَاتَ ذَلِكَ الْمَلِكُ، فَأَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ بِذُنُوبِهِ وَخَرَجَ الْعَابِدُ إِلَى الصَّحْرَاءِ، فَأَكَلَ مِنْ بَعْلِهَا، وَشَرِبَ مِنْ مَائِهَا، فَقَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى فَقَالَ لَهُ : مَا عِنْدَكَ لِأَحَدٍ مَعْرُوفٌ، فَأُكَافِتَهُ عَلَيْهِ ، قَالَ : يَا رَبِّ، لَا قَالَ : فَمِنْ أَيْنَ كَانَ مَعَاشُكَ، وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِ؟ قَالَ : كُنْتُ آوِي إِلَى مَرْبَلَةِ مَلِكٍ، فَإِنْ وَجَدْتُ كِسْرَةً أَكَلْتُهَا، وَإِنْ وَجَدْتُ بَقْلَةٌ أَكَلْتُهَا، وَإِنْ وَجَدْتُ عَرْقًا تَعَرَّفْتُهُ، فَقَبَضْتُهُ، فَخَرَجْتُ إِلَى الصَّحْرَاءِ مُقْتَصِرًا عَلَى مَائِهَا وَنَبَاتِهَا، فَقَالَ لَهُ : هَلْ تَعْرِفُهُ، فَأَمَرَ بِهِ، فَأُخْرِجَ مِنَ النَّارِ جَمْرَةٌ تَنْتَفِضُ، فَأُعِيدَ، فَقَالَ : نَعَمْ يَا رَبِّ، هُذَا الَّذِي كُنْتُ أَكُلُ مِنْ مَزْبَلَتِهِ، قَالَ : فَقَالَ لَهُ : خُذْ بِيَدِهِ، فَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ لِمَعْرُوفٍ كَانَ مِنْهُ إِلَيْكَ لَمْ يَعْرِفْهُ، أَمَا لَوْ عَرِفَهُ مَا عَذَّبْتُهُ
“বানী ইসরাঈলের একজন মুসলিম বাদশাহ ছিল। সে অনেক অপচয় করত।
সে কিছু খেলে খাবারের অতিরিক্ত অংশটুকু ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিত।
একজন আবিদ (বা ইবাদাতগুজার) এসে সেই ঝুড়িতে যদি রুটির টুকরা বা তরকারির অংশ পেত, সেটাই খেয়ে নিত। যদি হাড্ডি পেত, তাহলে তার গায়ে লেগে থাকা গোশত ছাড়িয়ে নিত। একসময় সেই বাদশাহ মারা গেল। আল্লাহ তাআলা তাকে তার পাপের কারণে জাহান্নামে পাঠালেন। ওই আবিদ ব্যক্তি বিরাণভূমিতে এসে তার ফেলে যাওয়া তরকারি এবং পানি পান করল। একসময় আবিদ ব্যক্তিকেও আল্লাহ তাআলা মৃত্যু দিলেন।
অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার ওপর কি কারও অনুগ্রহ আছে? যাতে এর বিনিময়স্বরূপ আমি তাকে প্রতিদান দিতে পারি।' সে বলল, 'হে আমার রব! আমার এমন কিছু জানা নেই।' তখন জানা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, 'তাহলে তোমার জীবন চলত কীভাবে?' সে উত্তর দেবে, আমি বাদশাহর ময়লার ঝুড়ির কাছে গিয়ে কোনও রুটির টুকরা বা তরকারির অংশ পেলে খেয়ে নিতাম। আর যদি কোনও হাড্ডি পেতাম, সেখান থেকে (তার গায়ে লেগে থাকা গোশত) ছাড়িয়ে নিতাম এবং সেটা নিয়েই মরুভূমিতে এসে পানি এবং লতাপাতার মাধ্যমে ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করতাম।' অতঃপর আল্লাহর আদেশে সেই বাদশাহকে জাহান্নাম থেকে কম্পমান-জ্বলন্ত-কয়লার আকারে বের করা হবে এবং তাকে পূর্বের আকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা আবিদকে জিজ্ঞাসা করবেন, 'তুমি কি তাকে চেনো?' সে বলবে, 'হে আমার রব! আমি তো তার ময়লার ঝুড়ি থেকেই খেতাম।' তখন আল্লাহ বলবেন, 'তুমি তার হাত ধরে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাও। কারণ তোমার প্রতি তার অনুগ্রহ আছে; যদিও সে তা জানে না। যদি সে তা জানত (অর্থাৎ জেনেবুঝে এই অনুগ্রহ করত), তাহলে আমি তাকে শাস্তি দিতাম না। [৩৮৩]

টিকাঃ
৩৮১. হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৭/২৬৫。
৩৮২ খতীব বাগদাদি, তারীখু বাগদাদ, ৪/৩৩২。
৩৮৩. আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/২৫২; আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ৬/৩৬৯-৩৭০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00