📄 অবৈধ সম্পদের দান কবুল হয় না
৩৩১. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لَا يَقْبَلُ اللهُ صَدَقَةً مِّنْ غُلُوْلٍ، وَلَا صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
"হারামপন্থায় উপার্জিত সম্পদের দান এবং অপবিত্র অবস্থায় আদায়কৃত সালাত-আল্লাহ কবুল করেন না।” [৩৪২]
টিকাঃ
৩৪২, মুসলিম, ২২৪; আবূ দাউদ, ৫৯; নাসাঈ, ১৩৯; তিরমিযি, ১; ইবনু মাজাহ, ২৭২。
📄 দাস মুক্ত করার প্রতিদান
৩৩২. সাঈদ ইবনু মারজানা (রহিমাহুল্লাহ) আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةٌ مُؤْمِنَةٌ، أَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ إِرْبٍ مِّنْهَا إِرَبًا مِّنْهُ مِنَ النَّارِ، حَتَّى إِنَّهُ لَيَعْتِقُ بِالْيَدِ الْيَدَ، وَبِالرَّجُلِ الرَّجُلَ، وَبِالْفَرْجِ الْفَرْجَ
“যে-ব্যক্তি কোনও ঈমানদার দাসকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে ওই ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দিবেন। হাতের বিনিময়ে হাতকে, পায়ের বিনিময়ে পা'কে এবং বিশেষ অঙ্গের বিনিময়ে বিশেষ অঙ্গকে মুক্ত করে দিবেন।"
আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) সাঈদ ইবনু মারজানাকে বললেন, 'আপনি কি এটি আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, শুনেছি।' তারপর আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) তার গোলামকে বললেন, 'মুতাররিফকে ডাকো।' মুতাররিফ তার কাছে এলে তিনি বললেন, 'আজ থেকে তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত করে দিলাম। [৩৪৩]
৩৩৩. আমর ইবনু আবাসা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ أَعْتَقَ نَفْسًا مُسْلِمَةٌ، كَانَتْ فِدْيَتَهُ مِنَ النَّارِ
“যে-ব্যক্তি কোনও মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, সেটি তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে।”[৩৪৪]
৩৩৪. মালিক ইবনু আমর কুশাইরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةٌ مُسْلِمَةٌ، فَهِيَ فِدَاؤُهُ مِنَ النَّارِ، مَكَانُ كُلِّ عَظْمٍ مِّنْ عِظَامٍ تُخَرَّرَةٍ بِعَظْمٍ مِّنْ عِظَامِهِ
“যে-ব্যক্তি কোনও মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, সেটি তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম হবে। আযাদ করা ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গ মুক্তি পাবে।”[৩৪৫]
৩৩৫. আবূ মূসা আশআরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন,
ثَلَاثَةُ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ : رَجُلٌ كَانَتْ لَهُ أَمَةٌ، فَأَدَّبَهَا، فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا، وَمَمْلُوْكٌ أَعْطَى حَقَّ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَحَقَّ مَوَالِيْهِ، وَرَجُلٌ آمَنَ بِكِتَابِهِ وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
"তিন ব্যক্তিকে দু'বার করে পুরস্কৃত করা হবে। প্রথমজন হলো সেই ব্যক্তি, যে তার দাসীকে উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে সুশিক্ষিত করেছে অতঃপর আযাদ করে দিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে। দ্বিতীয়জন হলো ওই গোলাম, যে আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক যথাযথভাবে আদায় করেছে। আর তৃতীয়জন হলো ওই ব্যক্তি, যে (আসমানি) কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পাশাপাশি মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিও ঈমান এনেছে।”[৩৪৬]
৩৩৬. বারা ইবনু আযিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দিবে।' তিনি বললেন,
إِنْ كُنْتَ أَقْصَرْتَ الخُطْبَة، لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ، أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَ الرَّقَبَةَ
"তুমি অল্প কথায় বিশাল আবেদন পেশ করেছ। গোলাম আযাদ করো এবং দাস মুক্ত করো।"
লোকটি আবার বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! উভয়টি কি এক নয়?' তিনি বললেন,
لا ، إِنَّ عِنْقَ النَّسَمَةِ أَنْ تَفَرَّدَ بِعِثْقِهَا، وَفَكَّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِينَ فِي عِتْقِهَا، وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوْفُ وَالْغَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الظَّالِمِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذُلِكَ، فَأَطْعِمِ الْجَائِعَ، وَاسْقِ الظَّمْآنَ، وَأْمُرُ
بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَّمْ تُطِقْ ذُلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ
"না, গোলাম আযাদ করা হচ্ছে, তুমি নিজেই কাউকে মুক্ত করে দিবে। আর দাস মুক্ত করা হচ্ছে, তুমি অন্যকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। [৩৪১] অল্প হলেও দান করো। অত্যাচারী-আত্মীয়ের প্রতিও সহনশীলতা প্রদর্শন করো। যদি এগুলো করতে না পারো তাহলে অনাহারীকে খাবার দাও। তৃষ্ণার্তকে পান করাও। সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো। যদি এগুলোও না পারো তাহলে তোমার জিহ্বাকে অনর্থক কথা বলা থেকে সংযত রাখো।”[৩৪৮]
৩৩৭. আবুদ দারদা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الَّذِي يَعْتِقُ عِنْدَ الْمَوْتِ، كَمَثَلِ الَّذِي يَهْدِي إِذَا شَبِعَ
"মৃত্যুর সময় (গোলাম) আযাদ করার দৃষ্টান্ত হলো ওই ব্যক্তির মতো, যে নিজে পরিতৃপ্ত হওয়ার পর বাকি অংশটুকু অন্যকে হাদিয়া দেয়।”[৩৪৯]
৩৩৮. নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর জীবদ্দশায় এক হাজার বা এরচেয়েও বেশি গোলাম আযাদ করেছেন।'[৩৫০]
৩৩৯. একবার আবু লাহাবকে তার পরিবারের কেউ স্বপ্নে দেখে। সে বলছে, 'মৃত্যুর পর থেকে আমি একমুহূর্তের জন্যও শান্তি পাইনি। তবে সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে আমার বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরের ছিদ্র থেকে পান করে একটু শান্তি অনুভব করি।' (সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী।) সে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছিল। [৩৫১]
টিকাঃ
৩৪৩. বুখারি, ৬৭১৫; মুসলিম, ১৫০৯。
৩৪৪. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/৩৮৬。
৩৪৫. হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২৪৬。
৩৪৬. বুখারি, ১৭, ২৫৫১, ৩০১১, মুসলিম, ১৫৪。
৩৪১. আরবিতে শব্দের ভিন্নতা দিয়ে দুইটি বিষয়কে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলাদা করেছেন। কিন্তু বাংলা অনুবাদে কাছাকাছি তরজমা হয়। (অনুবাদক)
৩৪৮. বাইহাকি, ১০/২৭৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৯৯; দারাকুতনি, ২/১৩৫; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২৪৩。
৩৪৯. আবু দাউদ, ৩৯৬৮; তিরমিযি, ২১২৩; নাসাঈ, ৩৬১৫; আহমাদ, ৫/১৯৭; হাকিম, ২/২১৩; বাইহাকি, ৪/১৯০。
৩৫০. আবু নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবা, ৪৩০১; যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ৩/২১৮。
৩৫১. আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ১৬৩৫০; ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-মানারাত, ২৬৩。
📄 ইয়াতীমের দায়িত্ব নেওয়ার পুরস্কার—জান্নাত
৩৪০. সাহল ইবনু সা'দ (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ
"আমি এবং ইয়াতীমের দায়িত্ব-গ্রহণকারী-ব্যক্তি এই দুটির মতো এভাবে জান্নাতে থাকব।"
তিনি তখন তর্জনি ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটির মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখে তা দ্বারা ইশারা করেন।"[৩৫২]
৩৪১. মালিক ইবনু আমর কুশাইরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,
مَنْ ضَمَّ يَتِيمًا مِّنْ أَبَوَيْنِ مُسْلِمَيْنِ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ حَتَّى يُغْنِيَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
“যে-ব্যক্তি কোনও মুসলিম মা-বাবার ইয়াতীম সন্তানের পানাহারের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করার আগ পর্যন্ত, মৃত্যুর পর তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।”[৩৫৩]
টিকাঃ
৩৫২ বুখারি, ৫৩০৪, ৬০০৫; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/৩৩৩。
৩৫৩, আহমাদ, ২০৩৩০; তাবারানি, কাবীর, ১৯/৩০০; হাইসামি, ৪/২৪৬; ইবনুল মুবারাক, কিতাবুয যুহদ, ২৩০。
📄 বিধবা ও মিসকিনকে সহযোগিতা করার সাওয়াব
৩৪২. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
السَّاعِي عَلَى الْأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ، كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوِ الْقَائِمِ اللَّيْلَ الصَّائِمِ النَّهَارَ
“বিধবা ও মিসকীনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি-আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়। অথবা রাতে (সালাতে) দণ্ডায়মান ও দিনে সিয়াম- পালনকারী ব্যক্তির মতো।"[৩৫৪]
টিকাঃ
৩৫৪. বুখারি, ৬০০৬, ৬০০৭; মুসলিম, ২৯৮২。