📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 দান করলে ধন-সম্পদ কমে না

📄 দান করলে ধন-সম্পদ কমে না


৩১৭. মুতাররিফ (রহিমাহুল্লাহ) তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি বলছিলেন, أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ "সম্পদের প্রাচুর্যের মোহ তোমাদেরকে (আল্লাহ তাআলা হতে) উদাসীন করে ফেলেছে।” [৩২৭]
তিনি আরও বললেন, 'মানুষ বলে, আমার মাল, আমার সম্পদ। কিন্তু তুমি দান- খাইরাত করে যা (আল্লাহ তাআলার খাতায়) জমা রেখেছ, খেয়ে যা শেষ করেছ এবং পরিধান করে যা পুরাতন করেছ-এগুলো ব্যতীত তোমার সম্পদ বলতে আর কিছু নেই। [৩২৮] (কারণ মৃত্যুর পর বর্তমানের সম্পদগুলো ওয়ারিসদের ভাগে চলে যাবে।)
৩১৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
يَقُولُ الْعَبْدُ : مَالِي مَالِي، إِنَّمَا لَهُ مِنْ مَالِهِ ثَلَاثُ : مَا أَكَلَ فَأَفْنَى، أَوْ لَبِسَ فَأَبْلَى، أَوْ أَعْطَى فَاقْتَنَى مَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ ذَاهِبٌ، وَتَارِكُهُ لِلنَّاسِ
"মানব সন্তান—আমার সম্পদ! আমার সম্পদ! বলে থাকে। তার সম্পদ তো শুধুমাত্র তিনটি জিনিস—
১. যা খেয়ে সে নিঃশেষ করেছে,
২. যা পরিধান করে পুরানো করেছে এবং
৩. যা কিছু দান করে পরকালের জন্য জমা রেখেছে।
এছাড়া সবকিছুই তার হাতছাড়া হবে এবং সে (মারা যাওয়ার পর) মানুষের জন্য সেগুলো রেখে যাবে।"[৩২৯]
৩১৯. আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, একবার সাহাবায়ে কেরাম একটি বকরি জবাই করলেন। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন,
مَا بَقِيَ مِنْهَا ؟ "বকরির কি কোনও কিছু অবশিষ্ট আছে?” তিনি বললেন, '(সব দান করার পর) শুধুমাত্র কাঁধের অংশটি অবশিষ্ট আছে।' এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
بَقِيَ كُلُّهَا غَيْرُ كَيْفِهَا "কাঁধ ছাড়াই তো (বরং) সবকিছুই অবশিষ্ট আছে।"[৩৩০]

টিকাঃ
৩২৭. সুরা তাকাসুর, ১০২:০১。
৩২৮. মুসলিম, ২৯৫৮; তিরমিযি, ২৩৪২; নাসাঈ, ৩৬১৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৪; বাইহাকি, ৪/৬১。
৩২৯. মুসলিম, ২৯৫৯; বাইহাকি, ৩/৩৬৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৩৬৮。
৩৩০. তিরমিযি, ২৪৭০; আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৫/২৩-২৪১。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 দান-সাদাকা বিপদাপদ থেকে নিরাপদ রাখে

📄 দান-সাদাকা বিপদাপদ থেকে নিরাপদ রাখে


৩২০. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ، وَتَدْفَعُ مِيْتَةَ السُّوْءِ
"দান-সদাকা আল্লাহর ক্রোধ দূর করে এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে। [৩৩১]
৩২১. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَدْرَأُ بِالصَّدَقَةِ سَبْعِينَ مِيْتَةٌ مِّنَ السُّوْءِ
"দান-সদাকার বদৌলতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সত্তর ধরনের অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করেন।"[৩৩২]
৩২২. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الصَّدَقَةُ تَمْنَعُ سَبْعِينَ نَوْعًا مِّنْ أَنْوَاعِ الْبَلَاءِ، أَهْوَنُهُ الْجُذَامُ، وَالْبَرَصُ
"দান-সদাকা মানুষকে সত্তর ধরনের বিপদাপদ থেকে নিরাপদ রাখে। তার মধ্যে সর্বনিম্ন হচ্ছে শ্বেত (বা ধবল) এবং কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি।"[৩৩৩]
৩২৩. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنْ كَانَ شَيْءٍ يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ، فَالصَّدَقَةُ، وَتَمْنَعُ سَبْعِينَ نَوْعًا مِّنْ أَنْوَاعِ الْبَلَاءِ
"যদি কোনও জিনিস মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে থাকে, তবে তা হলো-সদাকা। এটি সত্তর ধরনের বিপদাপদ থেকে নিরাপদ রাখে।”[৩৩৪]
৩২৪. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
بَاكِرُوا بِالصَّدَقَةِ، فَإِنَّ الْبَلَاءَ لَا يَتَخَطَّى الصَّدَقَةَ
"তোমরা দান-সদাকায় অগ্রসর হও। কারণ দান-সদাকা ডিঙিয়ে বিপদাপদ আসতে পারে না।"[৩৩৫]
৩২৫. হাসান (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
صَدَقَةُ اللَّيْلِ تُذْهِبُ غَضَبَ الرَّبِّ عَزَّ وَجَلَّ، وَصَدَقَةُ النَّهَارِ تُطْفِئُ الذُّنُوْبَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ
"পানি যেভাবে আগুন নিভিয়ে দেয় তেমনিভাবে রাতের দান আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয় আর দিবসের দান গুনাহগুলো মুছে দেয়।”[৩৩৬]
৩২৬. জাবির ইবনুন নু'মান (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
مُنَاوَلَةُ الْمِسْكِينِ تَقِي مِيتَةَ السَّوْءِ
"মিসকীনকে দান করা-অপমৃত্যু থেকে বাঁচায়। "[৩৩৭]
৩২৭. সালিম ইবনু আবিল জা'দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে এক কাঠুরিয়া মানুষজনকে অযথা বিরক্ত করত। একদিন তারা সকলেই নবির কাছে নালিশ করলেন-'হে আল্লাহর নবি! আপনি তার বিরুদ্ধে বদদুআ করুন।'
তিনি বললেন, 'তোমরা যাও, কাজ হয়ে যাবে।'
কাঠুরিয়া প্রতিদিন বনে কাঠ কাটতে যেত। একদিন যাওয়ার সময় দু'টো রুটি নিয়ে গেল। একটি খেয়ে আরেকটি দান করে দিল। কাজ শেষে নির্বিঘ্নে বাড়ি চলে এল। লোকজন সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট জড়ো হলো। তারা বলল, 'কই কিছুই তো হয়নি। সে নির্বিঘ্নে বাড়ি চলে গেছে।' সালিহ (আলাইহিস সালাম) লোকটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আজ তুমি কী আমল করেছ?'
সে বলল, আমি দু'টো রুটি নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলাম। একটি খেয়ে আরেকটি দান
করে দিয়েছি। সালিহ (আলাইহিস সালাম) বললেন, 'তোমার কাঠের বোঝাটা খোলো। সে তা খুলতেই দেখা গেল সেখানে একটি মৃত কালো সাপ দ্বিখণ্ডিত হয়ে কাঠে কামড়ে পড়ে আছে। সালিহ (আলাইহিস সালাম) বললেন, 'এই দানের কারণেই আজ সে রক্ষা পেয়েছে।[৩৩৮]
৩২৮. আবূ বুরদা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবু মূসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি তাঁর ছেলেদের ডেকে বললেন, 'প্রিয় ছেলেরা! রুটিওয়ালা সেই লোকটির কথা মনে রেখো, যে দীর্ঘ সত্তর বছর গীর্জায় উপাসনা করে কাটিয়ে দেবার পর একদিন বাইরে বেরিয়ে এসে এক মেয়ের খপ্পরে পড়ল। শয়তান তাকে মেয়েটির মাধ্যমে ধোঁকা দিল। সে মেয়েটির সাথে সাতদিন বা সাতরাত কাটাল। পরে অনুতপ্ত হলে তাওবা করে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ল এবং ক্ষণেক্ষণে সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইল। রাত ঘনিয়ে এলে সে একটি জায়গায় আশ্রয় নিল, যেখানে বারোজন হতদরিদ্র লোক রাত্রিযাপন করত। সে ক্লান্ত হয়ে সেখানে দু ব্যক্তির মাঝে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। এক সন্ন্যাসী প্রতি রাতেই তাদেরকে রুটি দিয়ে যেত। সন্ন্যাসী তাওবাকারী লোকটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকেও একটি রুটি দিল। যার ফলে বারোজনের একজন রুটি পেল না। ফলে সে সন্ন্যাসীকে বলল, 'আমাকে রুটি দিচ্ছেন না কেন?' তিনি বললেন, 'তোমার কি মনে হচ্ছে আমি তোমার রুটি রেখে দিয়েছি? তুমি জিজ্ঞেস করো এদের কাউকে দু'টো রুটি দিয়েছি কি না?' সবাই বলল, 'না, আমাদের কাছে একটি করেই আছে।' তিনি বললেন, 'তুমি মনে করছো আমি তোমাকে রুটি দিইনি? আল্লাহর শপথ! আমি তোমার থেকে কিছুই লুকাচ্ছি না।' তাওবাকারী ব্যক্তি তার রুটিটি যে-লোকটি রুটি পায়নি তাকে দিয়ে দিল। ঘটনাক্রমে সে রাতেই তাওবাকারী ব্যক্তিটি মারা গেল। মৃত্যুর পর তার সত্তর বছরের আমল আর সাতদিনের অপকর্ম মাপা হলো। দেখা গেল সাত দিনের গুনাহের পাল্লা ভারী হয়ে গেছে। এরপর তার দেওয়া রুটিটি সাতদিনের অপকর্মের সাথে মাপা হলে এবার দান করা রুটির ওজন ভারী হয়ে গেল।
সুতরাং হে আমার প্রিয় ছেলেরা! তোমরা এই রুটিওয়ালার কথা মনে রেখো।' (অর্থাৎ দান করার বিষয়ে যত্নশীল থেকো।)[৩৩৯]
৩২৯. আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক ব্যক্তি সত্তর বছর আল্লাহর ইবাদাতে কাটিয়ে দিয়েছিল। হঠাৎ একদিন অপকর্মে লিপ্ত হওয়ায় তার
নেকআমলগুলো বরবাদ হয়ে গেল। তারপর একসময় দুর্ভিক্ষ তাকে পেয়ে বসল। একদিন সে দেখল, এক ব্যক্তি গরিব-হতদরিদ্র লোকদেরকে দান-সদাকা করছে। তখন তার কাছে গিয়ে সেও একটি রুটি পেল। পরে সে ওই রুটিটি তার চেয়েও অসহায় এক লোককে দান করে দিল। এতে আল্লাহ তাআলা খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তার সত্তর বছরের আমল ফিরিয়ে দিলেন। [৩৪০]
৩৩০. সাবিত (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে সালাম ইবনু মিসকীন বর্ণনা করেন, 'এক মহিলার খাবার খাওয়ার সময় এক ভিক্ষুকের আগমন ঘটল। তার কাছে তখন মাত্র এক লোকমা খাবার বাকি ছিল। সে তার কিছু অংশ মুখে পুরেও দিয়েছিল। এমতাবস্থায় সে মুখ থেকে তা বের করে ভিক্ষুককে দিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পরেই একটি সিংহ এসে তার বাচ্চাটিকে নিয়ে গেল। সে দেখল, কোত্থেকে যেন এক ব্যক্তি এসে সিংহের মুখ থেকে তার বাচ্চাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল এবং বলল, 'তুমি যে-লোকমাটি দান করেছ তার বিনিময় হলো-সিংহের মুখ থেকে উদ্ধার করা এই লোকমা। [৩৪১]
এই ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করা হয়, যা সঠিক নয়।

টিকাঃ
৩৩১. তিরমিযি, ৬৬৪; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ৬/১৩৩。
৩৩২. আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ১৬১১০。
৩৩৩. আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ১৫৯৮২。
৩৩৪. খতীব বাগদাদি, তারিখ বাগদাদ, ৮/২০৮。
৩৩৫. বাইহাকি, ৪/১৮৯; ইবনু আদি, আল-কামিল, ৩/২৪৮; আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ১৬২৪৩; হাইসানি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/১১৩。
৩৩৬. তাবারানি, আল-মু'জামুল আওসাত, ২/৫৬。
৩৩৭. হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/১১৫; আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ১৬২৮৭。
৩৩৮. আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ৪৯৪; সুয়তি, আদ-দুররুল মানসূর, ২/৮০/
৩৩৯. ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৩৪২১২; ইবনু কুদামা, কিতাবুত তাওওয়াবীন, ৫২-৫৩。
৩৪০. ইবনুল মুবারাক, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ, ২৮০; যামাখশারি, রবীউল আবরার, ২/২৯০。
৩৪১. আবু নুআইম, হিলইয়া, ২/৩৮৩; সুয়ূতি, আল-জামিউস সগীর, ১০৭৫; তানূখি, কিতাবুল ফারাজি বা'দাশ শিদ্দাহ, ৪/১৩৪, দঈফ。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 অবৈধ সম্পদের দান কবুল হয় না

📄 অবৈধ সম্পদের দান কবুল হয় না


৩৩১. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لَا يَقْبَلُ اللهُ صَدَقَةً مِّنْ غُلُوْلٍ، وَلَا صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
"হারামপন্থায় উপার্জিত সম্পদের দান এবং অপবিত্র অবস্থায় আদায়কৃত সালাত-আল্লাহ কবুল করেন না।” [৩৪২]

টিকাঃ
৩৪২, মুসলিম, ২২৪; আবূ দাউদ, ৫৯; নাসাঈ, ১৩৯; তিরমিযি, ১; ইবনু মাজাহ, ২৭২。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 দাস মুক্ত করার প্রতিদান

📄 দাস মুক্ত করার প্রতিদান


৩৩২. সাঈদ ইবনু মারজানা (রহিমাহুল্লাহ) আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةٌ مُؤْمِنَةٌ، أَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ إِرْبٍ مِّنْهَا إِرَبًا مِّنْهُ مِنَ النَّارِ، حَتَّى إِنَّهُ لَيَعْتِقُ بِالْيَدِ الْيَدَ، وَبِالرَّجُلِ الرَّجُلَ، وَبِالْفَرْجِ الْفَرْجَ
“যে-ব্যক্তি কোনও ঈমানদার দাসকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে ওই ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দিবেন। হাতের বিনিময়ে হাতকে, পায়ের বিনিময়ে পা'কে এবং বিশেষ অঙ্গের বিনিময়ে বিশেষ অঙ্গকে মুক্ত করে দিবেন।"
আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) সাঈদ ইবনু মারজানাকে বললেন, 'আপনি কি এটি আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, শুনেছি।' তারপর আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ) তার গোলামকে বললেন, 'মুতাররিফকে ডাকো।' মুতাররিফ তার কাছে এলে তিনি বললেন, 'আজ থেকে তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত করে দিলাম। [৩৪৩]
৩৩৩. আমর ইবনু আবাসা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ أَعْتَقَ نَفْسًا مُسْلِمَةٌ، كَانَتْ فِدْيَتَهُ مِنَ النَّارِ
“যে-ব্যক্তি কোনও মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, সেটি তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে।”[৩৪৪]
৩৩৪. মালিক ইবনু আমর কুশাইরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةٌ مُسْلِمَةٌ، فَهِيَ فِدَاؤُهُ مِنَ النَّارِ، مَكَانُ كُلِّ عَظْمٍ مِّنْ عِظَامٍ تُخَرَّرَةٍ بِعَظْمٍ مِّنْ عِظَامِهِ
“যে-ব্যক্তি কোনও মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, সেটি তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম হবে। আযাদ করা ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গ মুক্তি পাবে।”[৩৪৫]
৩৩৫. আবূ মূসা আশআরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন,
ثَلَاثَةُ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ : رَجُلٌ كَانَتْ لَهُ أَمَةٌ، فَأَدَّبَهَا، فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا، وَمَمْلُوْكٌ أَعْطَى حَقَّ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَحَقَّ مَوَالِيْهِ، وَرَجُلٌ آمَنَ بِكِتَابِهِ وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
"তিন ব্যক্তিকে দু'বার করে পুরস্কৃত করা হবে। প্রথমজন হলো সেই ব্যক্তি, যে তার দাসীকে উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে সুশিক্ষিত করেছে অতঃপর আযাদ করে দিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে। দ্বিতীয়জন হলো ওই গোলাম, যে আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক যথাযথভাবে আদায় করেছে। আর তৃতীয়জন হলো ওই ব্যক্তি, যে (আসমানি) কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পাশাপাশি মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিও ঈমান এনেছে।”[৩৪৬]
৩৩৬. বারা ইবনু আযিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দিবে।' তিনি বললেন,
إِنْ كُنْتَ أَقْصَرْتَ الخُطْبَة، لَقَدْ أَعْرَضْتَ الْمَسْأَلَةَ، أَعْتِقِ النَّسَمَةَ، وَفُكَ الرَّقَبَةَ
"তুমি অল্প কথায় বিশাল আবেদন পেশ করেছ। গোলাম আযাদ করো এবং দাস মুক্ত করো।"
লোকটি আবার বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! উভয়টি কি এক নয়?' তিনি বললেন,
لا ، إِنَّ عِنْقَ النَّسَمَةِ أَنْ تَفَرَّدَ بِعِثْقِهَا، وَفَكَّ الرَّقَبَةِ أَنْ تُعِينَ فِي عِتْقِهَا، وَالْمِنْحَةُ الْوَكُوْفُ وَالْغَيْءُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الظَّالِمِ، فَإِنْ لَمْ تُطِقْ ذُلِكَ، فَأَطْعِمِ الْجَائِعَ، وَاسْقِ الظَّمْآنَ، وَأْمُرُ
بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ، فَإِنْ لَّمْ تُطِقْ ذُلِكَ، فَكُفَّ لِسَانَكَ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ
"না, গোলাম আযাদ করা হচ্ছে, তুমি নিজেই কাউকে মুক্ত করে দিবে। আর দাস মুক্ত করা হচ্ছে, তুমি অন্যকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। [৩৪১] অল্প হলেও দান করো। অত্যাচারী-আত্মীয়ের প্রতিও সহনশীলতা প্রদর্শন করো। যদি এগুলো করতে না পারো তাহলে অনাহারীকে খাবার দাও। তৃষ্ণার্তকে পান করাও। সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো। যদি এগুলোও না পারো তাহলে তোমার জিহ্বাকে অনর্থক কথা বলা থেকে সংযত রাখো।”[৩৪৮]
৩৩৭. আবুদ দারদা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الَّذِي يَعْتِقُ عِنْدَ الْمَوْتِ، كَمَثَلِ الَّذِي يَهْدِي إِذَا شَبِعَ
"মৃত্যুর সময় (গোলাম) আযাদ করার দৃষ্টান্ত হলো ওই ব্যক্তির মতো, যে নিজে পরিতৃপ্ত হওয়ার পর বাকি অংশটুকু অন্যকে হাদিয়া দেয়।”[৩৪৯]
৩৩৮. নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর জীবদ্দশায় এক হাজার বা এরচেয়েও বেশি গোলাম আযাদ করেছেন।'[৩৫০]
৩৩৯. একবার আবু লাহাবকে তার পরিবারের কেউ স্বপ্নে দেখে। সে বলছে, 'মৃত্যুর পর থেকে আমি একমুহূর্তের জন্যও শান্তি পাইনি। তবে সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে আমার বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরের ছিদ্র থেকে পান করে একটু শান্তি অনুভব করি।' (সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী।) সে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছিল। [৩৫১]

টিকাঃ
৩৪৩. বুখারি, ৬৭১৫; মুসলিম, ১৫০৯。
৩৪৪. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/৩৮৬。
৩৪৫. হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২৪৬。
৩৪৬. বুখারি, ১৭, ২৫৫১, ৩০১১, মুসলিম, ১৫৪。
৩৪১. আরবিতে শব্দের ভিন্নতা দিয়ে দুইটি বিষয়কে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলাদা করেছেন। কিন্তু বাংলা অনুবাদে কাছাকাছি তরজমা হয়। (অনুবাদক)
৩৪৮. বাইহাকি, ১০/২৭৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৯৯; দারাকুতনি, ২/১৩৫; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২৪৩。
৩৪৯. আবু দাউদ, ৩৯৬৮; তিরমিযি, ২১২৩; নাসাঈ, ৩৬১৫; আহমাদ, ৫/১৯৭; হাকিম, ২/২১৩; বাইহাকি, ৪/১৯০。
৩৫০. আবু নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবা, ৪৩০১; যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ৩/২১৮。
৩৫১. আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ১৬৩৫০; ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-মানারাত, ২৬৩。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00