📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সাদাকার জন্য সর্বোত্তম বস্তু নির্বাচন করা

📄 সাদাকার জন্য সর্বোত্তম বস্তু নির্বাচন করা


২৯৩. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'সর্বোত্তম দান কী'? তিনি বললেন,
لَتُنَبَّأَنَّ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ شَحِيْحُ صَحِيْحُ تَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَتَخَافُ الْفَقْرَ، وَلَا تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْخَلْقُوْمَ، قُلْتَ : لِفُلَانٍ كَذَا ، وَلِفُلَانٍ كَذَا، أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ
"তোমাকে জানানো হচ্ছে যে, (সর্বোত্তম দান হলো) অর্থলোভ ও সুস্থতা থাকতে দান করা, যখন তুমি অনেক দিন বাঁচার আশা রাখো এবং অভাবকে ভয় পাও। আর (দান করতে) এত বিলম্ব করো না যে, যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তুমি বলতে থাকবে, এ পরিমাণ অমুকের জন্য এবং এ পরিমাণ অমুকের জন্য। অথচ সেগুলো তখন অমুকের জন্য হয়েই গেছে।”[৩০২]
২১৪. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মদীনায় আবূ তালহার বড়ো বড়ো খেজুরের বাগান ছিল। তাঁর সর্বাধিক পছন্দনীয় বাগানটি ছিল 'বাইরুহা'। সেটি মাসজিদে নববির সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে গিয়ে পানি পান করতেন। যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো,
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ
“তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।"[৩০৩]
তখন আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা তো এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, 'তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কস্মিনকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।' আর আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সম্পদ হলো আমার 'বাইরুহা' বাগানটি। আমি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলাম। শুধু আল্লাহর কাছেই এর প্রতিদান চাই। আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।'
রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'বাহ! বাহ! এটি বেশ লাভজনক সম্পদ।[৩০৪] আমি তোমার মনের ব্যাকুলতা বুঝতে পেরেছি। আমার মনে হয়, এটি তুমি তোমার আপনজনদের মাঝে ভাগ করে দাও।'
আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব।' এর পরে তিনি খেজুর বাগানটি তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং চাচাতো ভাইদের মাঝে ভাগ করে দিলেন।[৩০৫]
২৯৫. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) খায়বারে একখণ্ড জমির মালিক হলেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরামর্শ চেয়ে তিনি বললেন, 'আমি খায়বারে একখণ্ড জমির মালিক হয়েছি। এটিই আমার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পত্তি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কী নির্দেশনা দান করবেন?' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا "তুমি যদি চাও জমির মালিকানা নিজের কাছে রেখে (উৎপন্ন ফসলাদি) দান করে দিতে পারো।"
তিনি নবিজির নির্দেশ অনুযায়ী তা এই ভিত্তিতে দান করলেন যে—'এই জমি বিক্রয় করা যাবে না, কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া যাবে না, এর উত্তরাধিকারীও কেউ হবে না।' তিনি এর থেকে উৎপন্ন ফসলাদি হতদরিদ্র, নিকটাত্মীয়, মুজাহিদ, মুসাফির, আগন্তুক মেহমান এবং দাস মুক্ত করার খাতে দান করে দিলেন। এটি যার দায়িত্বে থাকবে সে ন্যায়সঙ্গতভাবে তা থেকে ব্যবহার করবে। অন্যকেও সেখান থেকে দিবে। কিন্তু নিজের সম্পত্তি মনে করে সেখান থেকে অর্থকড়ি সংগ্রহ করবে না।[৩০৬]
২৯৬. আবদুল্লাহ ইবনু আবী উসমান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর রুমাইছা দাসীকে আযাদ করে দিয়ে বললেন, 'আমি শুনেছি—আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ
"তোমরা নিজেদের পছন্দনীয় ধন-সামগ্রী থেকে দান না করা পর্যন্ত কখনও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।” [৩০৭]
আল্লাহর শপথ! আমি এই পৃথিবীতে তোমাকেই সর্বাধিক ভালোবাসি। আজ থেকে তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত করে দিলাম।[৩০৮]
২১৭. নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন কোনও ধন-সামগ্রীর উৎকর্ষতায় মুগ্ধ হতেন, তখন সেটি আল্লাহর নৈকট্যলাভের মাধ্যম বানাতেন। তাঁর গোলামরা বিষয়টি জানত। তাই কখনও কখনও তাদের কেউ আগেভাগে মাসজিদে চলে যেত। আমলের প্রতি এমন আগ্রহে মুগ্ধ হয়ে অনেক সময় তিনি তাদেরকে আযাদ করে দিতেন। সাথি-সঙ্গীরা বলত, 'তারা তোমায় প্রতারিত করছে।'
জবাবে তিনি বলতেন, 'আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) ক্ষেত্রে কেউ আমাদের সাথে প্রতারণা করলে আমরা তার সেই প্রতারণায় প্রতারিত হতেই থাকব।'
একদিন সন্ধ্যায় তিনি উন্নত জাতের একটি মূল্যবান উটে আরোহন করে কোথাও যাচ্ছিলেন। উটের ক্ষিপ্রতা দেখে তিনি খুব মুগ্ধ হলেন। সেখানেই উট থামিয়ে নির্দেশ জারি করলেন, 'নাফি'! এই উটের লাগام এবং গদি খুলে নাও। একে চিহ্নিত করে
আদর-যত্ন করতে থাকো এবং হাজ্জের সময় কুরবানীর জন্য প্রস্তুত রেখো।। [৩০৯]
২৯৮. সাঈদ ইবনু আবী হিলাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) সম্পূর্ণ অস্ত্রসজ্জিত হয়ে 'জুহফায়' যাত্রাবিরতি করলেন। তখন তিনি মাছ খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাত্র একটি মাছ পাওয়া গেল। তাঁর স্ত্রী সফিয়্যা বিনতু আবী উবাইদ (রদিয়াল্লাহু আনহা) সেটি রান্না করে তাঁর সামনে পরিবেশন করলেন। ইতিমধ্যে এক হতদরিদ্র লোক এসে উপস্থিত! ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন, 'তুমি এটি খেয়ে নাও।'
সঙ্গীরা বললেন, 'কী আশ্চর্য ব্যাপার! আপনার অবস্থা দেখে আমরা উৎকণ্ঠিত। আমাদের সাথে আরও মূল্যবান খাবার আছে। সেগুলো থেকে তাকে দিই?'
উত্তরে তিনি বললেন, 'এর প্রতি আবদুল্লাহর মায়া জন্মেছে, তাই এটিই তাকে দিচ্ছি। [৩১০]
২৯৯. রবী' ইবনু খাসয়াম (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বাশীর (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, 'একদিন এক নিঃস্ব ব্যক্তি রবী' ইবনু খাসয়ামের দরজায় কড়া নাড়ল। তিনি বললেন, 'তাকে মিষ্টি জাতীয় কিছু দিয়ে দাও।'
সঙ্গীরা বলল, 'সে মিষ্টি দিয়ে কী করবে? তার চেয়ে বরং আমরা তাকে রুটি দিই। এটিই তার জন্য ভালো হবে।'
তিনি বললেন, 'এক কথা বারবার কেন বলতে হয়? তাকে মিষ্টি কিছু দাও। কারণ রবী' নিজে মিষ্টি বেশি পছন্দ করে। [৩১১]
৩০০. হিশাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'তোমরা কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করলে এত অল্প পরিমাণ দিয়ো না, যেটুকু তোমরা মেহমানকে দিতে লজ্জাবোধ করো। আল্লাহ তো সর্বাধিক সম্মানিত মেহমান। আর তিনি সর্বোত্তম বস্তুরই অধিকার রাখেন। [৩১২]

টিকাঃ
৩০২, বুখারি, ১৪১৯; মুসলিম, ১০৩২; আবু দাউদ, ২৮৬৫; নাসাঈ, ৩৬১১; ইবনু মাজাহ, ২৬০৬; আহমাদ, ৭৪০৭。
৩০৩. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
৩০৪. অথবা নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'এটি খুবই আকর্ষণীয় সম্পদ।' বর্ণনাকারী ইবনু মাসলামা এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন。
৩০৫. বুখারি, ১৪৬১, ২৭৬৯; মুসলিম, ৯৯৮。
৩০৬. বুখারি, ২৭৩৭; মুসলিম, ১৬৩২。
৩০৭. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
৩০৮. আবু নুআইম, ১/২৯৫; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৩৭-১৩৮。
৩০৯. আবূ নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবা, ৪২৯৮; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৩৩。
৩১০. আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২৯৭; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৪৩。
৩১১. আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ১৯২৪; আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/১১৫。
৩১২ মালিক, আল-মুওয়াত্তা, ১৪১২; আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ২১৭৩; আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ৮১৫৮。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 গোপনে দান করার সাওয়াব

📄 গোপনে দান করার সাওয়াব


৩০১. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ، فَذَكَرَ مِنْهُمْ : وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ أَخْفَاهَا لَا تَعْلَمُ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ
"যেদিন কোনও ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তাআলা নিজ আরশের ছায়ায় সাত শ্রেণির মানুষকে আশ্রয় দিবেন। তাদের মধ্যে একজন হবে সে, যে চুপিসারে দান করে। ডান হাত কী খরচ করে বাম হাতও তা জানতে পারে না।” [৩১৩]
৩০২. আবূ যার (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ ثَلَاثَةً، فَذَكَرَ مِنْهُمْ : رَجُلًا كَانَ فِي قَوْمٍ، فَأَتَاهُمْ رَجُلٌ يَسْأَلُهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ، فَيَخِلُّوْا عَنْهُ، وَخَلَفَ بِأَعْقَابِهِمْ، فَأَعْطَاهُ حَيْثُ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللَّهُ وَمَنْ أَعْطَاهُ
"তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন। তাদের মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে একটি সম্প্রদায়ের সাথে ছিল। এমন সময় সেখানে এক লোক এসে আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে তাদের কাছে কিছু সাহায্য চাইল। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করল না। তখন সেই ব্যক্তিটি সবার থেকে সরে গিয়ে দরিদ্র লোকটিকে (গোপনে) এমনভাবে সাহায্য করল যে, তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা এবং যাকে সে দান করেছে কেবল সে-ই দেখে।"[৩১৪]
৩০৩. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'ফেরেশতারা আশ্চর্য হয়ে বলল, 'হে আল্লাহ! বাতাসের চেয়েও শক্তিধর আপনার কোনও সৃষ্টি আছে?' তিনি বললেন,
نَعَمْ، اِبْنُ آدَمَ يَتَصَدَّقُ بِيَمِينِهِ يُخْفِيهَا مِنْ شِمَالِهِ
“হ্যাঁ, তা হলো সেই আদম সন্তান, যে ডান হাতে এমনভাবে দান করে যে, তার বাম হাত থেকেও তা গোপন রাখে। [৩১৫]
৩০৪. আবূ সাঈদ খুদরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
"গোপনে করা দানগুলো রবের ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। "[৩১৬]
৩০৫. পূর্বে বর্ণিত আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছিলেন, 'আমার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হচ্ছে 'বাইরুহা' নামক বাগানটি। যদি আমার এটি গোপন করার সামর্থ থাকত তাহলে কাউকে-ই বলতাম না।[৩১৭]
৩০৬. আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মৃত্যুর পর একশ পরিবার তাদের খাদ্য- যোগান খুইয়েছিল। রাতের বেলা তিনি নিজের পিঠে বহন করে তাদের কাছে খাদ্য সরবরাহ করতেন। কিন্তু তারা কেউ জানত না, কে তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করত!?[৩১৮]
৩০৭. আবূ সাঈদ ইবনু আবী বকর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমার দাদা আবূ উসমান সীমান্ত উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রবন্দরের কারও কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় মতো সেখানে পৌঁছতে পারেননি। যার ফলে সাহায্য না পেয়ে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। এমনকি তিনি জনসম্মুখেই কাঁদছিলেন। সন্ধ্যার পর আবু আমর ইবনু নুজাইদ একটি ব্যাগে দুই হাজার দিরহাম নিয়ে দাদার কাছে উপস্থিত হলেন। দাদাকে বললেন, 'সময় মতো পৌঁছতে না পারার কারণে আপনি এগুলো রেখে দিন।' দাদা অত্যন্ত খুশি হয়ে তার জন্য দুআ করলেন। পরদিন মজলিসে জনসম্মুখে দাদা ঘোষণা দিলেন, 'আমার জন্য আবূ আমর যা করেছে এজন্য আমি তার শুকরিয়া আদায় করছি। সে গোপনে আমাকে এসব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।' আবূ আমর সবার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, 'এগুলো আমার মায়ের সম্পদ। মায়ের সন্তুষ্টি ছাড়াই আমি আপনাকে দিয়েছিলাম। আপনি সেই মালামালগুলো ফেরত দিন, আমি মাকে দিয়ে আসি।'
এই কথা শুনে আমার দাদা আবু উসমান জনসম্মুখে টাকার থলে ফেরত দিয়ে দিলেন।
মজলিস শেষে গভীর রাতে আবূ আমর আবার দাদার কাছে এলেন। তিনি বললেন, 'আমরা ছাড়া আর কেউ-ই জানবে না-এই শর্তে আপনি এগুলো রেখে দিন।' এই কথা শুনে দাদা তখন কেঁদেই দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বলতেন, 'আবূ আমরের সেই সহযোগিতায় এখনও আমি একটু একটু করে এগোচ্ছি।'[৩১৯]

টিকাঃ
৩১৩. বুখারি, ৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম, ১০৩১; আহমাদ, ৯৬৬৫。
৩১৪. আহমাদ, ২১৩৫৬; বাইহাকি, কুবরা, ৯/১৬০; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ২/৮৯。
৩১৫. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১২২৫৩; তিরমিযি, ৩৩৬৯; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৩৪৪১。
৩১৬. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৩৪৪২; সুয়ূতি আল-জামিউস সগীর, ৪৯৭৮; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/১১৮。
৩১৭. বুখারি, ১৪৬১; মুসলিম, ২৩৬২。
৩১৮. যাহাবি, তারীখুল ইসলাম, ৬/৪৩৩; মিযযি, তাহযীবুল কামাল, ২০/৩৯২。
৩১৯. যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৬/১৪৭; তাজুদ্দীন সুবকি, তবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা, ৩/২২৩。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 গরিব ব্যক্তির দান সর্বোত্তম দান

📄 গরিব ব্যক্তির দান সর্বোত্তম দান


৩০৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জানতে চাইলেন, 'কোন দান সর্বোত্তম?' তিনি উত্তরে বললেন, جَهْدُ الْمُقِلَ، وَابْدَأُ بِمَنْ تَعُولُ "সামান্য সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির দান। আর সে যেন নিজ পরিবার থেকেই দান করা শুরু করে।”[৩২০]
৩০৯. আবূ যার (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'সর্বোত্তম দান কোনটি?' তিনি বললেন,
جَهْدُ مِّنْ مُّقِلٌ، وَسِرُّ إِلَى فَقِيْرٍ "সামান্য অর্থ-কড়ির মালিক হয়েও দান করা এবং অভাবী লোককে গোপনে দান করা। "[৩২১]

টিকাঃ
৩২০. আবু দাউদ, ১৬৭৭; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৪১৪。
৩২১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/১৭৬; বাইহাকি, কুবরা, ৪/১৮০。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 অল্প হলেও সামর্থ্যানুযায়ী দান করা

📄 অল্প হলেও সামর্থ্যানুযায়ী দান করা


৩১০. উম্মু বুজাইদ (রদিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট বাইআত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, 'কিছু কিছু হতদরিদ্র মানুষ আমার কাছে আসে। কিন্তু তাকে দেওয়ার মতো কোনোকিছুই আমার কাছে থাকে না।' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
إِنْ لَمْ تَجِدِي لَهُ شَيْئًا تُعْطِيْهِ إِيَّاهُ إِلَّا ظِلْفًا تُحَرَّقًا، فَادْفَعِيْهِ إِلَيْهِ فِي يَدِهِ
"শুধু রান্না-করা-পায়া বাদে তাকে দেওয়ার মতো আর কিছুই না পাও, তবে সেটিই তার হাতে তুলে দাও।" [৩২২]
৩১১. আবুল আলিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)- এর এক মজলিসে বসা ছিলাম। তাঁর কাছে আরও অনেক মহিলাও ছিল। হঠাৎ সেখানে এক ভিক্ষুক উপস্থিত হলো। তিনি তাকে একটি আঙুর দিতে বললেন। উপস্থিত মহিলারা আশ্চর্য হয়ে বলল, 'সেখানে তো অনেক পিঁপড়া দেখা যাচ্ছে!' (অর্থাৎ, পিঁপড়ে ধরা একটি আঙুরও দান করছেন?) [৩২৩]

টিকাঃ
৩২২, তিরমিযি, ৬৬৫; আবূ দাউদ, ১৬৬৭; নাসাঈ, ৫/৮৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/৩৮২; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৪১৭。
৩২৩. আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ১১৭৯; যাইলাঈ, তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ, ১/২২৪。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00