📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সাদাকা করার সাওয়াব

📄 সাদাকা করার সাওয়াব


২৭৫. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ تَصَدَّقَ بِعِدْلِ تَمْرَةٍ مَنْ كَسَبٍ طَيِّبٍ، وَلَا يَقْبَلُ اللهُ إِلَّا الطَّيِّبَ، فَإِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيْهَا لِصَاحِبِهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حَتَّى يَكُوْنَ مِثْلَ الْجَبَلِ.
“যে-ব্যক্তি বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ থেকে একটি খেজুর পরিমাণও দান করে—আর আল্লাহ তো বৈধ অর্থ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণই করেন না—তার দানকে আল্লাহ তাআলা ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তার জন্য তা লালন-পালন করেন যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন- পালন করে। পরিশেষে সেই দান পাহাড়ের মতো (বিরাট) হয়ে যায়।” [২৮৫]
২৭৬. আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِنَّ الصَّدَقَةَ تَفَعُ فِي يَدِ اللَّهِ قَبْلَ أَنْ تَقَعَ فِي يَدِ الْمُصَدَّقِ عَلَيْهِ.
"যাকে সদাকা দেওয়া হয় তার হাতে পৌঁছার আগে তা আল্লাহর হাতে পৌঁছে যায়।”[২৮৬]
২৭৭. আদি ইবনু হাতিম (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَمَنْ لَمْ يَجِدْ شِقَّ تَمْرَةٍ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ.
"এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে নিজেদেরকে রক্ষা করো। আর যে এটুকু করতেও অক্ষম সে যেন ভালো কথার বিনিময়ে হলেও নিজেকে রক্ষা করে। [২৮৭]
২৭৮. আদি ইবনু হাতিম (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَا مِنْكُمْ مِّنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانُ، فَيَنْظُرُ عَنْ أَيْمَنَ مِنْهُ، فَلَا يَرَى إِلَّا شَيْئًا قَدَّمَهُ، وَيَنْظُرُ عَنْ أَسْأَمَ مِنْهُ، فَلَا يَرَى إِلَّا شَيْئًا قَدَّمَهُ، وَيَنْظُرُ أَمَامَهُ فَتَسْتَقْبِلُهُ النَّارُ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَتَّقِيَ النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ.
"কিয়ামাতের দিন তোমাদের প্রত্যেকের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন। আর সেদিন আল্লাহ ও বান্দার মাঝে ভিন্ন কোনও দোভাষী থাকবে না। বান্দা ডান দিকে তাকাবে তখন নিজের পাঠানো আমল ব্যতীত আর কিছুই দেখবে না। বাম দিকে তাকিয়েও নিজের আমল ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। তারপর দৃষ্টি ফেরাবে সামনে। তখন হাজির হবে জাহান্নাম। তোমাদের মধ্যে যে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় সে যেন এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।”[২৮৮]
২৭৯. আবূ মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "একদিন এক ব্যক্তি লাগামসহ একটি উটনী নিয়ে এসে বলল, 'এটা আল্লাহর পথে দান করলাম।' তখন আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
بِسَبْعِ مِائَةِ نَاقَةٍ مَحْطُوْمَةٍ. لَيَأْتِيَنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
“এর বিনিময়ে কিয়ামাতের দিন তুমি সাতশ উটনী লাভ করবে যার প্রত্যেকটি হবে লাগামসহ।”” [২৮৯]
২৮০. আবু সাঈদ খুদরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “একদিন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখলেন, এক ব্যক্তি তার বাহনকে একদল লোকের আশেপাশে হাঁকাচ্ছে। তখন তিনি বললেন,
مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَضْلٌ مِّنْ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَّا ظَهْرَ لَهُ، مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَضْلٌ مِّنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَّا زَادَ لَهُ.
"যার নিকট আরোহণের কোনও অতিরিক্ত বাহন আছে, সে যেন তা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করে যার কোনও বাহন নেই। আর যার নিকট অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য আছে, সে যেন তা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই।" তারপর তিনি একে একে বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বলতে থাকলেন। এক সময় আমাদের মনে হলো, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারও কোনও অধিকারই নেই।" [২৯০]
২৮১. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِّنْ مَّالٍ. "দান-খয়রাত ধন-সম্পদ কমায় না।" [২৯১]
২৮২. বুরাইদা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَا يَخْرُجُ رَجُلٌ بِشَيْءٍ مِّنَ الصَّدَقَةِ حَتَّى يُفَكَّ عَنْ لَحْيِ سَبْعِينَ شَيْطَانًا.
"যখনই কোনও ব্যক্তি কিছু সদাকা (করার জন্য) বের করে তখনই সে সত্তরটি শয়তানের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেয়।”[২৯২]
২৮৩. উকবা ইবনু আমির (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
كُلُّ امْرِئٍ فِي ظِلَّ صَدَقَتِهِ، حَتَّى يُفْصَلَ بَيْنَ النَّاسِ، أَوْ قَالَ: يُحْكَمَ بَيْنَ النَّاسِ.
"কিয়ামাতের দিন মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ হওয়া পর্যন্ত বা তিনি বলেছেন, 'মানুষের মধ্যে ফায়সালা হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকে তার সদাকার ছায়ায় আশ্রয় নিবে।"[২৯৩]
২৮৪. আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
اسْتَنْزِلُوا الرِّزْقَ بِالصَّدَقَةِ.
"তোমরা সদাকা করার মাধ্যমে রিস্ক নামাও।”[২৯৪]
২৮৫. একবার আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) সিয়াম রেখেছিলেন। ইফতারের জন্য তার নিকট মাত্র দুটি রুটি ছিল। তখন এক ভিক্ষুক এসে তার কাছে কিছু খাবার চাইল। তিনি তাকে একটি রুটি দিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন এল। তিনি তাকে অন্য রুটিটিও দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু খাদিমা তা দিতে অসম্মতি জানায়। তখন তিনি নিজেই পর্দার আড়াল থেকে রুটিটি দিয়ে দেন তাকে। আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে খাদিমা বললেন, 'এখন ভাবুন, কী দিয়ে ইফতার করবেন?'
সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি দরজায় কড়া নাড়ল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কে?' লোকটি বলল, 'আমি অমুক পরিবারের পক্ষ থেকে এসেছি।'
আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে আসার অনুমতি দিলে সে রুটিসহ একটি ভুনাকৃত বকরি নিয়ে প্রবেশ করল। তখন তিনি খাদিমাকে বললেন, 'গুণে দেখো রুটি কয়টা আছে? এগুলো তোমার সেই রুটির চেয়ে অনেক উত্তম। আল্লাহর শপথ! তারা ইতিপূর্বে আমার কাছে কখনও হাদিয়া পাঠায়নি।' (অর্থাৎ সদাকার কারণে আল্লাহ
অভাবনীয় জায়গা থেকে তাদের জন্য পূর্বের চেয়ে উত্তম বস্তু মিলিয়ে দিলেন।) [২৯৫]
২৮৬. আবু হাযিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'একবার সাহল ইবনু সা'দ (রদিয়াল্লাহু আনহু) সিয়াম পালন করছিলেন। বিকেলে আমি তাঁর কাছে গেলাম। গিয়ে তাঁর খাদিমকে বললাম, 'তাঁর ইফতার নিয়ে আসো।' সে জানাল, 'ইফতারের কোনও ব্যবস্থা নেই।' আমি বললাম, 'তাহলে খেজুর নিয়ে আসো।' সে বলল, 'তা-ও নেই।' পরে তার ওপর ক্ষেপে গিয়ে আমি বললাম, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবি তিনি। তুমি তাঁর অবহেলা-অযত্ন করছো!' সে বলল, 'আমার কী অপরাধ? আজকে তিনি তাঁর ধনভাণ্ডার খুলে দিয়েছেন। গম, যব ও খেজুর যেখানে যা ছিল সব সদাকা করে দিয়েছেন। [২৯৬]
২৮৭. আল্লাহ তাআলার বাণী-
مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ
"কে আছে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে, ফলে তিনি তা বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন।" [২৯৭]
এর ব্যাখ্যায়-আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, 'এক দিরহামের বিনিময়ে সাওয়াব দেওয়া হবে বিশ লক্ষগুণ। [২৯৮]
২৮৮. আবূ উমামা বাহিলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) সদাকা করতে খুব ভালোবাসতেন। দিরহাম, দীনার, পয়সা ও খাবারের বিভিন্ন জিনিসপত্র; এমনকি পেঁয়াজ পর্যন্ত সদাকা করতেন তিনি। কোনও প্রার্থীকেই শূন্য ফিরিয়ে দিতেন না। পেঁয়াজ হলেও হাতে দিয়ে দিতেন।
তাঁর স্ত্রী জানান, 'একদিন সকালে তাঁর ঘরে খাওয়ার কিছুই ছিল না। মাত্র তিনটি দীনার ছিল। এক আগন্তুক এসে আবদার করলে তাকে এক দীনার দিয়ে দেন। তারপর আরেকজন এলে তাকেও দেন এক দীনার। তার পরের জনকে অবশিষ্ট দীনারটিও দিয়ে দেন। তখন আমি রাগ করে বললাম, 'আমাদের জন্য তো কিছুই থাকল না!' তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। আমি দরজা বন্ধ করে দিলাম। মুআযযিন যোহরের আযান
দিলে তাকে ডেকে নিলাম। সওম রাখা অবস্থায় তিনি মাসজিদে চলে গেলেন। তাঁর প্রতি আমার দয়া হলো। ধার করে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করলাম। রাতের খাবার প্রস্তুত করে দস্তরখান বিছালাম। শোয়ার বিছানা প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখি সেখানে স্বর্ণমুদ্রা। মনে মনে ভাবলাম, তাঁর কাছে কিছু আসার প্রত্যাশা নিয়েই তো তিনি দীনারগুলো সদাকা করেছেন। গুণে দেখি সেখানে তিনশ দীনার রয়েছে। যেভাবে ছিল আমি তা সেভাবেই রেখে দিলাম। সন্ধ্যায় সালাত শেষে তিনি ঘরে ফিরে আসলেন। প্রস্তুত করা খাবার দেখে মুচকি হেসে বললেন, 'অন্যকিছুর চেয়ে এগুলো খুব ভালো।' খাবার শেষে তাঁকে বললাম, 'আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। যা আনার তা তো এনেছেন। যেখানে রাখার সেখানে রেখেছেন।' তিনি বলেন, 'সেটা আবার কী?' আমি বললাম, 'ওই যে-দীনারগুলো নিয়ে এসেছেন।' তারপর তাঁকে সেগুলো দেখাই। তিনি খুবই আশ্চর্য হন। অস্থির হয়ে বলেন, 'সর্বনাশ, এগুলো কী?' আমি বললাম, 'জানি না, এখানেই পেয়েছি।' পরে তিনি আরও অস্থির হয়ে ওঠেন। [২৯৯]
২৮৯. হাতিম আ'সাম (রহিমাহুল্লাহ) সদাকা করলেই তার বিনিময় পেতে যেতেন। তিনি বলতেন, 'খুব দ্রুত ফিরে পাওয়াটা বড়ো সুন্দর প্রতিদান!'
২৯০. এক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু সম্পদের মালিক হলো। তখন সে বলল, 'হে আমার রব! এই দিরহামগুলোকে আমি সুন্দরভাবে হেফাজত করতে পারব না। (অভাবীকে দান করার মাধ্যমে) এখন আমি এগুলো আপনাকে দিয়ে দেবো, যেন প্রয়োজনের সময় আপনি আমাকে আবার তা ফিরিয়ে দেন।' তারপর সে তার সব সম্পদ সদাকা করে দিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ জীবনে যখনই তার কোনও প্রয়োজন হয়েছে সাথে-সাথেই কোনও-না-কোনও ভাবে টাকা-পয়সার ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
২৯১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
ارْحَمُوا حَاجَةَ الْغَنِيِّ.
"ধনীদেরকে অভাবের সময় দয়া কোরো।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! ধনীদের অভাব কী?' তিনি জবাবে বললেন,
الرَّجُلُ الْمُوْسِرُ يَحْتَاجُ ، فَصَدَقَةُ الدَّرْهَم عَلَيْهِ عِنْدَ اللَّهِ بِمَنْزِلَةِ سَبْعِينَ أَلْفًا
"ধনীদেরও অভাব হয়। তখন তাকে এক দিরহাম সদাকা করা আল্লাহর নিকট সত্তর হাজার দিরহাম সদাকা করার সমান।”[৩০০]
২৯২. বিশর ইবনুল হারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সদাকা করা হাজ্জ, উমরা ও জিহাদ থেকে উত্তম। এগুলো আদায় করার জন্য মানুষকে বাহনে চড়তে হয়, পথ চলতে হয়, ফিরে আসতে হয়। মানুষজন তাদের এসব কাজকর্ম দেখে ফেলে। পক্ষান্তরে সদাকা লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপনে করা যায়, যা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই দেখেন। [৩০১]

টিকাঃ
২৮৫. বুখারি, ১৪১০; মুসলিম, ১০১৪。
২৮৬. আবু নুআইম, হিলইয়া, ৪/৮১; ইবনু কাসীর, তাফসীর, ৫/৪২৮。
২৮৭. বুখারি, ৩৫৯৫, ৬০২৩, ৬৫৩৯, ৬৫৬৩; মুসলিম, ১০১৬。
২৮৮. বুখারি, ৬৫৩৯。
২৮৯. মুসলিম, ১৮৯২; নাসাঈ, ৩১৮৭。
২৯০. মুসলিম, ১৭২৮; আবূ দাউদ, ১৬৬৩; আহমাদ, ৩/৩৪。
২৯১. মুসলিম, ২৫৮৮; তিরমিযি, ২০২১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/২৩৫。
২৯২. আহমাদ, ২২৯৬২; ইবনু খুযাইমা, আস-সহীহ, ২৪৫৭; হাকিম, ১/৪১৭。
২৯৩. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/১৪৭。
২৯৪. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ১১৯৭, দঈফ。
২৯৫. ইবনু আবিদ দুনইয়া, কিতাবুল জু', ২৭৪。
২৯৬. ইবনু আবিদ দুনইয়া, কিতাবুল জু', ২৭৫。
২৯৭. সূরা বাকারা, ২: ২৪৫。
২৯৮. বাইহাকি, আয-যুহদুল কাবীর, ৭১৩; ইবনু আবী হাতিম, তাফসীর, ২/৫১৫。
২৯৯. আলকায়ি, কারামাতুল আউলিয়া, ১১২。
৩০০. কানযুল উম্মাল, ১৬৪৫২; খতীব বাগদাদি, তারীখ, ১৩/৩২৩/
৩০১. আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩৯。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সাদাকার জন্য সর্বোত্তম বস্তু নির্বাচন করা

📄 সাদাকার জন্য সর্বোত্তম বস্তু নির্বাচন করা


২৯৩. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'সর্বোত্তম দান কী'? তিনি বললেন,
لَتُنَبَّأَنَّ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ شَحِيْحُ صَحِيْحُ تَأْمُلُ الْبَقَاءَ وَتَخَافُ الْفَقْرَ، وَلَا تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْخَلْقُوْمَ، قُلْتَ : لِفُلَانٍ كَذَا ، وَلِفُلَانٍ كَذَا، أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ
"তোমাকে জানানো হচ্ছে যে, (সর্বোত্তম দান হলো) অর্থলোভ ও সুস্থতা থাকতে দান করা, যখন তুমি অনেক দিন বাঁচার আশা রাখো এবং অভাবকে ভয় পাও। আর (দান করতে) এত বিলম্ব করো না যে, যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তুমি বলতে থাকবে, এ পরিমাণ অমুকের জন্য এবং এ পরিমাণ অমুকের জন্য। অথচ সেগুলো তখন অমুকের জন্য হয়েই গেছে।”[৩০২]
২১৪. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মদীনায় আবূ তালহার বড়ো বড়ো খেজুরের বাগান ছিল। তাঁর সর্বাধিক পছন্দনীয় বাগানটি ছিল 'বাইরুহা'। সেটি মাসজিদে নববির সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে গিয়ে পানি পান করতেন। যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো,
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ
“তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।"[৩০৩]
তখন আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা তো এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, 'তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কস্মিনকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।' আর আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সম্পদ হলো আমার 'বাইরুহা' বাগানটি। আমি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলাম। শুধু আল্লাহর কাছেই এর প্রতিদান চাই। আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।'
রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'বাহ! বাহ! এটি বেশ লাভজনক সম্পদ।[৩০৪] আমি তোমার মনের ব্যাকুলতা বুঝতে পেরেছি। আমার মনে হয়, এটি তুমি তোমার আপনজনদের মাঝে ভাগ করে দাও।'
আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব।' এর পরে তিনি খেজুর বাগানটি তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং চাচাতো ভাইদের মাঝে ভাগ করে দিলেন।[৩০৫]
২৯৫. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) খায়বারে একখণ্ড জমির মালিক হলেন। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরামর্শ চেয়ে তিনি বললেন, 'আমি খায়বারে একখণ্ড জমির মালিক হয়েছি। এটিই আমার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পত্তি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কী নির্দেশনা দান করবেন?' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا "তুমি যদি চাও জমির মালিকানা নিজের কাছে রেখে (উৎপন্ন ফসলাদি) দান করে দিতে পারো।"
তিনি নবিজির নির্দেশ অনুযায়ী তা এই ভিত্তিতে দান করলেন যে—'এই জমি বিক্রয় করা যাবে না, কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া যাবে না, এর উত্তরাধিকারীও কেউ হবে না।' তিনি এর থেকে উৎপন্ন ফসলাদি হতদরিদ্র, নিকটাত্মীয়, মুজাহিদ, মুসাফির, আগন্তুক মেহমান এবং দাস মুক্ত করার খাতে দান করে দিলেন। এটি যার দায়িত্বে থাকবে সে ন্যায়সঙ্গতভাবে তা থেকে ব্যবহার করবে। অন্যকেও সেখান থেকে দিবে। কিন্তু নিজের সম্পত্তি মনে করে সেখান থেকে অর্থকড়ি সংগ্রহ করবে না।[৩০৬]
২৯৬. আবদুল্লাহ ইবনু আবী উসমান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর রুমাইছা দাসীকে আযাদ করে দিয়ে বললেন, 'আমি শুনেছি—আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ
"তোমরা নিজেদের পছন্দনীয় ধন-সামগ্রী থেকে দান না করা পর্যন্ত কখনও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।” [৩০৭]
আল্লাহর শপথ! আমি এই পৃথিবীতে তোমাকেই সর্বাধিক ভালোবাসি। আজ থেকে তোমাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত করে দিলাম।[৩০৮]
২১৭. নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন কোনও ধন-সামগ্রীর উৎকর্ষতায় মুগ্ধ হতেন, তখন সেটি আল্লাহর নৈকট্যলাভের মাধ্যম বানাতেন। তাঁর গোলামরা বিষয়টি জানত। তাই কখনও কখনও তাদের কেউ আগেভাগে মাসজিদে চলে যেত। আমলের প্রতি এমন আগ্রহে মুগ্ধ হয়ে অনেক সময় তিনি তাদেরকে আযাদ করে দিতেন। সাথি-সঙ্গীরা বলত, 'তারা তোমায় প্রতারিত করছে।'
জবাবে তিনি বলতেন, 'আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) ক্ষেত্রে কেউ আমাদের সাথে প্রতারণা করলে আমরা তার সেই প্রতারণায় প্রতারিত হতেই থাকব।'
একদিন সন্ধ্যায় তিনি উন্নত জাতের একটি মূল্যবান উটে আরোহন করে কোথাও যাচ্ছিলেন। উটের ক্ষিপ্রতা দেখে তিনি খুব মুগ্ধ হলেন। সেখানেই উট থামিয়ে নির্দেশ জারি করলেন, 'নাফি'! এই উটের লাগام এবং গদি খুলে নাও। একে চিহ্নিত করে
আদর-যত্ন করতে থাকো এবং হাজ্জের সময় কুরবানীর জন্য প্রস্তুত রেখো।। [৩০৯]
২৯৮. সাঈদ ইবনু আবী হিলাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) সম্পূর্ণ অস্ত্রসজ্জিত হয়ে 'জুহফায়' যাত্রাবিরতি করলেন। তখন তিনি মাছ খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাত্র একটি মাছ পাওয়া গেল। তাঁর স্ত্রী সফিয়্যা বিনতু আবী উবাইদ (রদিয়াল্লাহু আনহা) সেটি রান্না করে তাঁর সামনে পরিবেশন করলেন। ইতিমধ্যে এক হতদরিদ্র লোক এসে উপস্থিত! ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন, 'তুমি এটি খেয়ে নাও।'
সঙ্গীরা বললেন, 'কী আশ্চর্য ব্যাপার! আপনার অবস্থা দেখে আমরা উৎকণ্ঠিত। আমাদের সাথে আরও মূল্যবান খাবার আছে। সেগুলো থেকে তাকে দিই?'
উত্তরে তিনি বললেন, 'এর প্রতি আবদুল্লাহর মায়া জন্মেছে, তাই এটিই তাকে দিচ্ছি। [৩১০]
২৯৯. রবী' ইবনু খাসয়াম (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বাশীর (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, 'একদিন এক নিঃস্ব ব্যক্তি রবী' ইবনু খাসয়ামের দরজায় কড়া নাড়ল। তিনি বললেন, 'তাকে মিষ্টি জাতীয় কিছু দিয়ে দাও।'
সঙ্গীরা বলল, 'সে মিষ্টি দিয়ে কী করবে? তার চেয়ে বরং আমরা তাকে রুটি দিই। এটিই তার জন্য ভালো হবে।'
তিনি বললেন, 'এক কথা বারবার কেন বলতে হয়? তাকে মিষ্টি কিছু দাও। কারণ রবী' নিজে মিষ্টি বেশি পছন্দ করে। [৩১১]
৩০০. হিশাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'তোমরা কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করলে এত অল্প পরিমাণ দিয়ো না, যেটুকু তোমরা মেহমানকে দিতে লজ্জাবোধ করো। আল্লাহ তো সর্বাধিক সম্মানিত মেহমান। আর তিনি সর্বোত্তম বস্তুরই অধিকার রাখেন। [৩১২]

টিকাঃ
৩০২, বুখারি, ১৪১৯; মুসলিম, ১০৩২; আবু দাউদ, ২৮৬৫; নাসাঈ, ৩৬১১; ইবনু মাজাহ, ২৬০৬; আহমাদ, ৭৪০৭。
৩০৩. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
৩০৪. অথবা নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'এটি খুবই আকর্ষণীয় সম্পদ।' বর্ণনাকারী ইবনু মাসলামা এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন。
৩০৫. বুখারি, ১৪৬১, ২৭৬৯; মুসলিম, ৯৯৮。
৩০৬. বুখারি, ২৭৩৭; মুসলিম, ১৬৩২。
৩০৭. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
৩০৮. আবু নুআইম, ১/২৯৫; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৩৭-১৩৮。
৩০৯. আবূ নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবা, ৪২৯৮; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৩৩。
৩১০. আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/২৯৭; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক, ৩১/১৪৩。
৩১১. আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ১৯২৪; আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/১১৫。
৩১২ মালিক, আল-মুওয়াত্তা, ১৪১২; আহমাদ ইবনু হাম্বাল, কিতাবুয যুহদ, ২১৭৩; আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ৮১৫৮。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 গোপনে দান করার সাওয়াব

📄 গোপনে দান করার সাওয়াব


৩০১. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ، فَذَكَرَ مِنْهُمْ : وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ أَخْفَاهَا لَا تَعْلَمُ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ
"যেদিন কোনও ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তাআলা নিজ আরশের ছায়ায় সাত শ্রেণির মানুষকে আশ্রয় দিবেন। তাদের মধ্যে একজন হবে সে, যে চুপিসারে দান করে। ডান হাত কী খরচ করে বাম হাতও তা জানতে পারে না।” [৩১৩]
৩০২. আবূ যার (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ ثَلَاثَةً، فَذَكَرَ مِنْهُمْ : رَجُلًا كَانَ فِي قَوْمٍ، فَأَتَاهُمْ رَجُلٌ يَسْأَلُهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ، فَيَخِلُّوْا عَنْهُ، وَخَلَفَ بِأَعْقَابِهِمْ، فَأَعْطَاهُ حَيْثُ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللَّهُ وَمَنْ أَعْطَاهُ
"তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন। তাদের মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে একটি সম্প্রদায়ের সাথে ছিল। এমন সময় সেখানে এক লোক এসে আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে তাদের কাছে কিছু সাহায্য চাইল। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করল না। তখন সেই ব্যক্তিটি সবার থেকে সরে গিয়ে দরিদ্র লোকটিকে (গোপনে) এমনভাবে সাহায্য করল যে, তাকে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা এবং যাকে সে দান করেছে কেবল সে-ই দেখে।"[৩১৪]
৩০৩. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'ফেরেশতারা আশ্চর্য হয়ে বলল, 'হে আল্লাহ! বাতাসের চেয়েও শক্তিধর আপনার কোনও সৃষ্টি আছে?' তিনি বললেন,
نَعَمْ، اِبْنُ آدَمَ يَتَصَدَّقُ بِيَمِينِهِ يُخْفِيهَا مِنْ شِمَالِهِ
“হ্যাঁ, তা হলো সেই আদম সন্তান, যে ডান হাতে এমনভাবে দান করে যে, তার বাম হাত থেকেও তা গোপন রাখে। [৩১৫]
৩০৪. আবূ সাঈদ খুদরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
"গোপনে করা দানগুলো রবের ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। "[৩১৬]
৩০৫. পূর্বে বর্ণিত আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছিলেন, 'আমার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হচ্ছে 'বাইরুহা' নামক বাগানটি। যদি আমার এটি গোপন করার সামর্থ থাকত তাহলে কাউকে-ই বলতাম না।[৩১৭]
৩০৬. আলি ইবনু হুসাইন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মৃত্যুর পর একশ পরিবার তাদের খাদ্য- যোগান খুইয়েছিল। রাতের বেলা তিনি নিজের পিঠে বহন করে তাদের কাছে খাদ্য সরবরাহ করতেন। কিন্তু তারা কেউ জানত না, কে তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করত!?[৩১৮]
৩০৭. আবূ সাঈদ ইবনু আবী বকর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমার দাদা আবূ উসমান সীমান্ত উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রবন্দরের কারও কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় মতো সেখানে পৌঁছতে পারেননি। যার ফলে সাহায্য না পেয়ে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। এমনকি তিনি জনসম্মুখেই কাঁদছিলেন। সন্ধ্যার পর আবু আমর ইবনু নুজাইদ একটি ব্যাগে দুই হাজার দিরহাম নিয়ে দাদার কাছে উপস্থিত হলেন। দাদাকে বললেন, 'সময় মতো পৌঁছতে না পারার কারণে আপনি এগুলো রেখে দিন।' দাদা অত্যন্ত খুশি হয়ে তার জন্য দুআ করলেন। পরদিন মজলিসে জনসম্মুখে দাদা ঘোষণা দিলেন, 'আমার জন্য আবূ আমর যা করেছে এজন্য আমি তার শুকরিয়া আদায় করছি। সে গোপনে আমাকে এসব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।' আবূ আমর সবার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, 'এগুলো আমার মায়ের সম্পদ। মায়ের সন্তুষ্টি ছাড়াই আমি আপনাকে দিয়েছিলাম। আপনি সেই মালামালগুলো ফেরত দিন, আমি মাকে দিয়ে আসি।'
এই কথা শুনে আমার দাদা আবু উসমান জনসম্মুখে টাকার থলে ফেরত দিয়ে দিলেন।
মজলিস শেষে গভীর রাতে আবূ আমর আবার দাদার কাছে এলেন। তিনি বললেন, 'আমরা ছাড়া আর কেউ-ই জানবে না-এই শর্তে আপনি এগুলো রেখে দিন।' এই কথা শুনে দাদা তখন কেঁদেই দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বলতেন, 'আবূ আমরের সেই সহযোগিতায় এখনও আমি একটু একটু করে এগোচ্ছি।'[৩১৯]

টিকাঃ
৩১৩. বুখারি, ৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯; মুসলিম, ১০৩১; আহমাদ, ৯৬৬৫。
৩১৪. আহমাদ, ২১৩৫৬; বাইহাকি, কুবরা, ৯/১৬০; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ২/৮৯。
৩১৫. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১২২৫৩; তিরমিযি, ৩৩৬৯; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৩৪৪১。
৩১৬. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৩৪৪২; সুয়ূতি আল-জামিউস সগীর, ৪৯৭৮; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/১১৮。
৩১৭. বুখারি, ১৪৬১; মুসলিম, ২৩৬২。
৩১৮. যাহাবি, তারীখুল ইসলাম, ৬/৪৩৩; মিযযি, তাহযীবুল কামাল, ২০/৩৯২。
৩১৯. যাহাবি, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৬/১৪৭; তাজুদ্দীন সুবকি, তবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা, ৩/২২৩。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 গরিব ব্যক্তির দান সর্বোত্তম দান

📄 গরিব ব্যক্তির দান সর্বোত্তম দান


৩০৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জানতে চাইলেন, 'কোন দান সর্বোত্তম?' তিনি উত্তরে বললেন, جَهْدُ الْمُقِلَ، وَابْدَأُ بِمَنْ تَعُولُ "সামান্য সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির দান। আর সে যেন নিজ পরিবার থেকেই দান করা শুরু করে।”[৩২০]
৩০৯. আবূ যার (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'সর্বোত্তম দান কোনটি?' তিনি বললেন,
جَهْدُ مِّنْ مُّقِلٌ، وَسِرُّ إِلَى فَقِيْرٍ "সামান্য অর্থ-কড়ির মালিক হয়েও দান করা এবং অভাবী লোককে গোপনে দান করা। "[৩২১]

টিকাঃ
৩২০. আবু দাউদ, ১৬৭৭; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ১/৪১৪。
৩২১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/১৭৬; বাইহাকি, কুবরা, ৪/১৮০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00