📄 সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল
২৩৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، وَلَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِي، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا.
"আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে সম্পর্কিত। সে ব্যক্তি সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী হলো সে, কেউ যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা বজায় রাখে।" [২৪৫]
২৩৭. আমর ইবনু শুআইব (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, 'এক ব্যক্তি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে। আমি তাদেরকে ক্ষমা করি, কিন্তু তারা অবিচার করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা অসদ্ব্যবহার করে। আমি কি তাদের সাথে তাদের মতোই আচরণ করব?' রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
لَا إِذَنْ تَتْرُكُونَ جَمِيعًا، وَلَكِنْ جُدْ بِالْفَضْلِ، وَصِلُّهُمْ، فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ ظَهِيرٌ مِّنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ.
“না, তাহলে তো তুমি সবাইকে পরিত্যাগ করলে। বরং তুমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং সম্পর্ক বজায় রাখো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সাথে থাকবেন।”[২৪৬]
২৩৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক
ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, আর তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে, আমি তা সহ্য করি।' তিনি বললেন,
إِنْ كُنْتَ كَمَا تَقُوْلُ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرُ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذلِكَ.
"তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে তুমি যেন তাদের মুখের ওপর উত্তপ্ত ছাই নিক্ষেপ করছো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সঙ্গ দিবে।" [২৪৭]
২৩৯. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ أَرَادَ أَنْ يَشْرَفَ لَهُ بُنْيَانُهُ، وَيُرْفَعَ لَهُ الدَّرَجَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَلْيَصِلْ مَنْ قَطَعَهُ وَلْيُعْطِ مَنْ حَرَمَهُ، وَلْيَعْفُ عَنْ مَنْ ظَلَمَهُ، وَلْيَحْلُمْ عَنْ مَنْ جَهِلَ عَلَيْهِ.
“যে-ব্যক্তি সুরম্য প্রাসাদ কামনা করে এবং চায় কিয়ামাতের দিন তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারীর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। যে তাকে বঞ্চিত করে, সে যেন তাকে দান করে এবং যে তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করে, সে যেন তাকে ক্ষমা করে। আর যে তার সাথে মূর্খ আচরণ করে, সে যেন তা সহ্য করে।” [২৪৮]
টিকাঃ
২৪৫. বুখারি, ৫৯৯১, তিরমিযি, ১৯০৮。
২৪৬. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/১৮১; হান্নাদ, আয-যুহদ, ২/৪৯২。
২৪৭. মুসলিম, ২৫৫৮, আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৯৩২。
২৪৮. খতীব বাগদাদি, তারীখু বাগদাদ, ৪/৪১০; ইবনু আদি, আল-কামিল, ১/১১০。
📄 শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করার সাওয়াব
২৪০. আবূ আইয়ূব আনসারি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ أَفْضَلَ الصَّدَقَةِ : الصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِحِ.
"সর্বোত্তম সদাকা হলো-শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করা।" [২৪৯]
ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শত্রুতা পোষণকারী ও বিদ্বেষভাজন আত্মীয়দেরকে দান করার পেছনে ফযীলত থাকার কারণ হলো, এতে নফসের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। কারণ নফস এরকম আত্মীয়দেরকে দান-সদাকা করতে নিরুৎসাহিত করে থাকে।
টিকাঃ
২৪৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৪১৬; তাবারানি, কাবীর, ৪/১৬৫。
📄 মুশরিক আত্মীয়ের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা
২৪১. আসমা বিনতু আবী বকর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, '(হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়) আমার মা-যিনি ইসলাম-বিদ্বেষী ও কুরাইশদের ধর্মাবলম্বী ছিলেন-সদাচার পাওয়ার আশায় আমার নিকট আসেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। অথচ তিনি ইসলাম-বিদ্বেষী মুশরিক! আমি কি তার সাথে ভালো আচরণ করব?'
তিনি বললেন, صِلِيها “হ্যাঁ। তুমি তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।”[২৫০]
২৪২. আসমা বিনতু আবী বকর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'আমার মা আমার কাছে আসেন যখন কুরাইশদের সাথে সন্ধি বলবৎ ছিল আর তখন তিনি মুশরিক ছিলেন।' ফলে আমি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে আশা নিয়ে এসেছেন। আমি কি তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব?'
উত্তরে তিনি বললেন, نعم صِلِي أُمَّكِ "হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।”[২৫১]
২৪৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, "একদিন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) এক জোড়া রেশমি ডোরাদার কাপড় বিক্রি হতে দেখলেন। এরপর তিনি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা ক্রয় করুন। জুমুআর দিন এবং আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করবেন।'
তিনি বললেন,
إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ.
"এটা সে-ই পরতে পারে যার জন্য কল্যাণের কোনও অংশ নেই।”
একবার রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ জাতীয় কারুকার্য- খচিত কিছু কাপড় আসলে তিনি তা থেকে এক জোড়া কাপড় উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তখন নবিজির নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, 'আমি এটা কীভাবে পরব? অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার তা বলেছেন।'
উত্তরে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا، وَلَكِنْ تَبِيْعُهَا أَوْ تَكْسُوْهَا.
"আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দিইনি, বরং এজন্য দিয়েছি-তুমি ওটা বিক্রি করে দেবে অথবা অন্যকে পরতে দেবে।"
তখন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় তার ভাইয়ের কাছে এটি পাঠিয়ে দেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি।”[২৫২]
টিকাঃ
২৫০. বুখারি, ২৬২০, ৩১৮৩; মুসলিম, ১০০৩。
২৫১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/৩৪১; আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ১৯৩২, ১৯৪৩0。
২৫২, বুখারি, ৮৮৬, ৫৮৪১; মুসলিম, ২০৬৮。