📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 আত্মীয়কে সাদাকা করার পুরস্কার

📄 আত্মীয়কে সাদাকা করার পুরস্কার


২৩০. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী যায়নাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'একদিন মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ.
"তোমরা সদাকা করো; তোমাদের অলংকার দিয়ে হলেও সদাকা করো।"
যায়নাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আবদুল্লাহ ছিলেন অতি দরিদ্র, আমি তাঁকে বলি—আমার সদাকা আপনাকে এবং আমার ইয়াতীম ভাতিজাদেরকে দেওয়ার সুযোগ আছে কি? আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'তুমি এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করো।'
তখন আমি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসি। এসে দেখি তাঁর দরজায় যায়নাব নামের আরও একজন আনসারি মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন এবং আমি যে-ব্যাপারে প্রশ্ন করতে এসেছি তিনিও সে-ব্যাপারেই প্রশ্ন করবেন। আমাদের কাছে বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) আসলে আমরা তাঁকে বললাম, 'আপনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করুন। আর আমরা কারা তা তাঁকে বলার প্রয়োজন নেই।'
তিনি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কারা?' বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'যায়নাব।'
তিনি বলেন, 'কোন যায়নাব?'
বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর স্ত্রী যায়নাব এবং আনসারি যায়নাব।'
তখন রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
نَعَمْ لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ
'হ্যাঁ, তাদের জন্য দুই (গুণ) সাওয়াব হবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব এবং দান করার সাওয়াব।" [২৩৮]
২৩১. সালমান ইবনু আমির (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,
الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَالصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ: صَدَقَةً وَصِلَةٌ.
"হতদরিদ্রকে সদাকা করার সাওয়াব এক গুণ। আর নিকটাত্মীয়কে সদাকা করার সাওয়াব দ্বিগুণ-সদাকা করার সাওয়াব এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব।" [২৩৯]
২৩২. রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি আমার এক দাসীকে আযাদ করে দিলাম। নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে আসার পর বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি বললেন,
اجَرَكِ اللَّهُ ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ، كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ.
“আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর উত্তম বিনিময় দান করুন। তবে তুমি যদি তা তোমার কোনও নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দিতে তাহলে সাওয়াব আরও বেশি হতো।” [২৪০]
২৩৩. সালমান ইবনু আমির দব্বি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
صَدَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى قَرَابَتِهِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ.
"নিকটাত্মীয়কে সদাকা করলে দান করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা দু'টোই হয়।" [২৪১] (তাই সাওয়াবও হয় দ্বিগুণ)।
২৩৪. সালমান ইবনু আমির দব্বি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ : إِنَّهَا صَدَقَةٌ، وَصِلَةٌ.
“মিসকীনকে সদাকা করলে শুধু সদাকা করার সাওয়াব হয়। আর আত্মীয়কে সদাকা করলে দুইটি সাওয়াব হয়-সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার সাওয়াব।” [২৪২]
২৩৫. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মদীনার আনসারিদের মধ্যে আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সর্বাধিক খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মাসজিদে নববির নিকটবর্তী 'বাইরুহা' নামক বাগানটি ছিল তাঁর অতি প্রিয়। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ.
"তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।” [২৪৩]
তখন আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! বাইরুহা বাগানটি আমার সবচেয়ে প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদাকা করলাম।' আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন,
أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ.
"আমি মনে করি, তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও।" [২৪৪]

টিকাঃ
২৩৮. বুখারি, ১৪৬৬; মুসলিম, ১০০০。
২৩৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২১৪; তিরমিযি, ৭৫৮; ইবনু মাজাহ, ১৮৪৪。
২৪০. বুখারি, ২৫৯২; মুসলিম, ১৯৯১。
২৪১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২১৪。
২৪২, তিরমিযি, ৬৫৮; নাসাঈ, ২৫৮২。
২৪৩. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
২৪৪. বুখারি, ১৪৬১; মুসলিম, ২৩৬২。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল

📄 সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল


২৩৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، وَلَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِي، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا.
"আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে সম্পর্কিত। সে ব্যক্তি সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী হলো সে, কেউ যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা বজায় রাখে।" [২৪৫]
২৩৭. আমর ইবনু শুআইব (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, 'এক ব্যক্তি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে। আমি তাদেরকে ক্ষমা করি, কিন্তু তারা অবিচার করে। আমি তাদের সাথে সদ্‌ব্যবহার করি, আর তারা অসদ্‌ব্যবহার করে। আমি কি তাদের সাথে তাদের মতোই আচরণ করব?' রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
لَا إِذَنْ تَتْرُكُونَ جَمِيعًا، وَلَكِنْ جُدْ بِالْفَضْلِ، وَصِلُّهُمْ، فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ ظَهِيرٌ مِّنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ.
“না, তাহলে তো তুমি সবাইকে পরিত্যাগ করলে। বরং তুমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং সম্পর্ক বজায় রাখো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সাথে থাকবেন।”[২৪৬]
২৩৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক
ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, আর তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে, আমি তা সহ্য করি।' তিনি বললেন,
إِنْ كُنْتَ كَمَا تَقُوْلُ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرُ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذلِكَ.
"তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে তুমি যেন তাদের মুখের ওপর উত্তপ্ত ছাই নিক্ষেপ করছো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সঙ্গ দিবে।" [২৪৭]
২৩৯. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ أَرَادَ أَنْ يَشْرَفَ لَهُ بُنْيَانُهُ، وَيُرْفَعَ لَهُ الدَّرَجَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَلْيَصِلْ مَنْ قَطَعَهُ وَلْيُعْطِ مَنْ حَرَمَهُ، وَلْيَعْفُ عَنْ مَنْ ظَلَمَهُ، وَلْيَحْلُمْ عَنْ مَنْ جَهِلَ عَلَيْهِ.
“যে-ব্যক্তি সুরম্য প্রাসাদ কামনা করে এবং চায় কিয়ামাতের দিন তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারীর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। যে তাকে বঞ্চিত করে, সে যেন তাকে দান করে এবং যে তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করে, সে যেন তাকে ক্ষমা করে। আর যে তার সাথে মূর্খ আচরণ করে, সে যেন তা সহ্য করে।” [২৪৮]

টিকাঃ
২৪৫. বুখারি, ৫৯৯১, তিরমিযি, ১৯০৮。
২৪৬. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/১৮১; হান্নাদ, আয-যুহদ, ২/৪৯২。
২৪৭. মুসলিম, ২৫৫৮, আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৯৩২。
২৪৮. খতীব বাগদাদি, তারীখু বাগদাদ, ৪/৪১০; ইবনু আদি, আল-কামিল, ১/১১০。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করার সাওয়াব

📄 শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করার সাওয়াব


২৪০. আবূ আইয়ূব আনসারি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ أَفْضَلَ الصَّدَقَةِ : الصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِحِ.
"সর্বোত্তম সদাকা হলো-শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করা।" [২৪৯]
ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শত্রুতা পোষণকারী ও বিদ্বেষভাজন আত্মীয়দেরকে দান করার পেছনে ফযীলত থাকার কারণ হলো, এতে নফসের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। কারণ নফস এরকম আত্মীয়দেরকে দান-সদাকা করতে নিরুৎসাহিত করে থাকে।

টিকাঃ
২৪৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৪১৬; তাবারানি, কাবীর, ৪/১৬৫。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 মুশরিক আত্মীয়ের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা

📄 মুশরিক আত্মীয়ের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা


২৪১. আসমা বিনতু আবী বকর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, '(হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়) আমার মা-যিনি ইসলাম-বিদ্বেষী ও কুরাইশদের ধর্মাবলম্বী ছিলেন-সদাচার পাওয়ার আশায় আমার নিকট আসেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন। অথচ তিনি ইসলাম-বিদ্বেষী মুশরিক! আমি কি তার সাথে ভালো আচরণ করব?'
তিনি বললেন, صِلِيها “হ্যাঁ। তুমি তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।”[২৫০]
২৪২. আসমা বিনতু আবী বকর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'আমার মা আমার কাছে আসেন যখন কুরাইশদের সাথে সন্ধি বলবৎ ছিল আর তখন তিনি মুশরিক ছিলেন।' ফলে আমি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার কাছে আশা নিয়ে এসেছেন। আমি কি তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব?'
উত্তরে তিনি বললেন, نعم صِلِي أُمَّكِ "হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।”[২৫১]
২৪৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, "একদিন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) এক জোড়া রেশমি ডোরাদার কাপড় বিক্রি হতে দেখলেন। এরপর তিনি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা ক্রয় করুন। জুমুআর দিন এবং আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করবেন।'
তিনি বললেন,
إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ.
"এটা সে-ই পরতে পারে যার জন্য কল্যাণের কোনও অংশ নেই।”
একবার রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ জাতীয় কারুকার্য- খচিত কিছু কাপড় আসলে তিনি তা থেকে এক জোড়া কাপড় উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তখন নবিজির নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, 'আমি এটা কীভাবে পরব? অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার তা বলেছেন।'
উত্তরে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا، وَلَكِنْ تَبِيْعُهَا أَوْ تَكْسُوْهَا.
"আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দিইনি, বরং এজন্য দিয়েছি-তুমি ওটা বিক্রি করে দেবে অথবা অন্যকে পরতে দেবে।"
তখন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় তার ভাইয়ের কাছে এটি পাঠিয়ে দেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি।”[২৫২]

টিকাঃ
২৫০. বুখারি, ২৬২০, ৩১৮৩; মুসলিম, ১০০৩。
২৫১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/৩৪১; আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, ১৯৩২, ১৯৪৩0。
২৫২, বুখারি, ৮৮৬, ৫৮৪১; মুসলিম, ২০৬৮。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00