📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার সাওয়াব এবং তা ছিন্ন করার শাস্তি

📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার সাওয়াব এবং তা ছিন্ন করার শাস্তি


১৯৬. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ أَحَبَّ أَنْ تُمَدَّ لَهُ فِي عُمْرِهِ، وَيُزَادَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ، وَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
“যে-ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার হায়াত বৃদ্ধি পাক ও রিস্ক প্রশস্ত হোক- সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সুন্দর রাখে।”[২০০]
১৯৭. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ النَّسَاءُ فِي أَجَلِهِ، وَالزَّيَادَةُ فِي رِزْقِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
“দীর্ঘায়ু ও প্রাচুর্যময়-জীবন যাকে খুশি করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” [২০৪]
১৯৮. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُعْظُمَ اللهُ رِزْقَهُ، وَأَنْ يَمُدَّ فِي أَجَلِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
"যে খুশি মনে চায় যে, আল্লাহ তার রিস্ক বৃদ্ধি করুন এবং তাকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন, সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।" [২০৫]
১৯৯. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
تَعَلَّمُوا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُوا بِهِ أَرْحَامَكُمْ، فَإِنَّ صِلَةَ الرَّحِمِ مَحَبَّةُ فِي أَهْلِهِ، وَمَثْرَاهُ فِي مَالِهِ، وَمَنْسَأَةٌ فِي أَجَلِهِ.
"তোমরা নিজ নিজ বংশধর সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নাও, যাতে
তোমাদের রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারো। কেননা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা- নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তৈরি করে এবং ধন-সম্পদ ও হায়াত বাড়িয়ে দেয়।”[২০৬]
২০০. আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُمَدَّ لَهُ فِي عُمْرِهِ، وَيُوَسَّعَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَيُدْفَعَ عَنْهُ مِيْتَةَ السُّوْءِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ وَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে-ব্যক্তি আনন্দচিত্তে কামনা করে যে, তার বয়স বৃদ্ধি পাক, রিস্ক প্রশস্ত হোক এবং অপমৃত্যু না আসুক, সে যেন আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”[২০৭]
২০১. আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
صلة الرَّحِمِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ، وَحُسْنُ الْجِوَارِ، يُعَمِّرَانِ الدِّيَارَ، وَيَزِيدَانِ فِي الْأَعْمَارِ
"সম্পর্কের বাঁধন সুদৃঢ় রাখা, উত্তম চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ করা-সমাজ টিকিয়ে রাখে এবং বয়স বৃদ্ধি করে। "[২০৮]
২০২. আবু সাঈদ খুদরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ خَمْسٍ: مُدْمِنٌ خَمْرٍ، وَلَا مُؤْمِنٌ بِسِحْرٍ، وَلَا قَاطِعُ رَحِمٍ ، وَلَا كَاهِنُ ، وَلَا مَنَّانٌ.
"পাঁচ শ্রেণির লোক জান্নাতে যাবে না-
১. মাদকাসক্ত।
২. জাদুর প্রতি বিশ্বাসী।
৩. সম্পর্কের বাঁধন ছিন্নকারী।
৪. জ্যোতিষী এবং
৫. খোঁটাদানকারী।” [২০৯]
২০৩. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি-
إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلَّ خَمِيْسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِع رَحِمٍ.
"প্রতি জুমুআর রাতে মানুষের আমল আল্লাহ তাআলার নিকট উপস্থিত করা হয়। তখন আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারীর কোনও আমল গ্রহণ করা হয় না।”[২১০]
২০৪. ইবরাহীম ইবনু আবদিল্লাহ তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ইবনু কারিষ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, 'একদিন আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অসুস্থ ছিলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু কারিয (রহিমাহুল্লাহ) তাঁকে দেখতে আসেন। সে সময় আবদুর রহমান (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন, 'তোমার আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট থাকুক। আমি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ، وَشَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي، فَمَنْ يَصِلُهَا أَصِلُهُ، وَمَنْ يَقْطَعْهَا أَقْطَعُهُ.
"আমি রহমান। আত্মীয়তার সম্পর্ক (রহিম)-কে আমিই সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম হতেই এর নামকরণ করেছি (অর্থাৎ রহমান থেকে রহিম)। যে-ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখবে আমিও তার সাথে (রহমতের) সম্পর্ক বহাল রাখব। আর যে এই সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”[২১১]
২০৫. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمَّا خَلَقَ الْخَلْقَ، قَامَتِ الرَّحِمُ فَأَخَذَتْ بِحَقْوِ الرَّحْمَنِ، وَقَالَتْ: هُذَا
مَقَامُ الْعَائِذِ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ، إِقْرَهُ وَا إِنْ شِئْتُمْ : فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ
“আল্লাহ তাআলা যখন সবকিছু সৃষ্টি করলেন তখন 'রহিম' (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের আঁচল টেনে ধরে বলল, 'আত্মীয়তার- সম্পর্ক-ছিন্নকারী থেকে আশ্রয়প্রার্থীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান এটি।' তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, "যে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব—এতে কি তুমি খুশি নও?”
এরপর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইচ্ছে হলে তোমরা (কুরআনের এই আয়াত) পড়ো—
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ
"ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ তাআলা এসব লোকের ওপর লানত করেছেন এবং তাদেরকে অন্ধ ও বধির বানিয়ে দিয়েছেন।”[২১২]
২০৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الرَّحِمُ شُجْنَةٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ، مَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُهُ.
'রহিম' (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) আমার 'রহমান' নামের অংশ। যে-ব্যক্তি এই সম্পর্ক বহাল রাখবে আমিও তার সাথে (রহমতের) সম্পর্ক বহাল রাখব। আর যে এই সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে (রহমতের) সম্পর্ক ছিন্ন করব।”[২১৩]
২০৭. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
تُوضَعُ الرَّحِمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَهَا حُجْنَةٌ كَحُجْنَةِ الْمِغْزَلِ، تَكَلَّمُ بِلِسَانٍ طَلْقٍ ذَلِقٍ، فَتَصِلُ مَنْ وَصَلَهَا، وَتَقْطَعُ مَنْ قَطَعَهَا.
"কিয়ামাতের দিন 'রহিম' (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) উপস্থিত হবে। চরকায় সুতা কাটার শলাকার মতো তার থাকবে সূক্ষ্ম একটি লোহার শলাকা। সাবলীল ভাষায় অনর্গল কথা বলবে সে। তার সাথে যে সম্পর্ক বজায় রাখবে সে-ও তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে। আর যে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে সে-ও তার সাথে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করবে।”[২১৪]
২০৮. সাঈদ ইবনু যাইদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إِنَّ هَذِهِ الرَّحِمَ شُجْنَةٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ، فَمَنْ قَطَعَهَا، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ.
"রহিম (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) রহমান নামের অংশ। যে ব্যক্তি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।" [২১৫]
২০৯. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الرَّحِمَ شُجْنَةٌ آخِذَةٌ بِحُجْزَةِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ ، يَصِلُ مَنْ وَصَلَهَا، وَيَقْطَعُ مَنْ قَطَعَهَا.
"রহিম (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) রহমানের অংশ। রহমানের আঁচল ধরে থাকবে সে। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে আল্লাহ তাআলাও তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।”[২১৬]
২১০. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الرَّحِمُ شُجْنَةٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ مُعَلَّقَةُ بِالْعَرْشِ، فَقَالَ اللَّهُ لَهَا: مَنْ وَصَلَكِ وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ قَطَعْتُهُ.
"রহিম (বা আত্মীয়তার সম্পর্ক) হলো রহমান নামের অংশ। তা রয়েছে আরশের সাথে ঝুলন্ত। আল্লাহ তাকে বলেছেন, 'যে তোমার সাথে সুসম্পর্ক রাখবে আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”[২১৭]
২১১. আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
الرَّحِمُ مُعَلَّقَةُ بِالْعَرْشِ، تَقُوْلُ : مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللهُ، وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللهُ.
"রহিম (বা রক্তের সম্পর্ক) আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলেছে, 'যে আমার সাথে সুসম্পর্ক রাখবে আল্লাহও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখবেন। আর যে আমাকে ছিন্ন করবে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।”[২১৮]
২১২. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إِنَّ الرَّحِمَ شُجْنَةٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ، تَقُوْلُ : يَا رَبِّ ظُلِمُتُ، يَا رَبِّ إِنِّي قُطِعْتُ، يَا رَبِّ إِنِّي، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، فَيُجِيبُهَا أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ، وَأَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ.
"রহিম (বা রক্তের সম্পর্ক) রহমানের অংশ। সে বলে, 'হে আমার রব! আমার প্রতি অবিচার করা হবে। আমাকে ছিন্ন করা হবে। হে আমার প্রভু! হে আমার প্রতিপালক!' আল্লাহ তাআলা উত্তর দেন, 'যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব। আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখব—তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও?"[২১৯]
২১৩. আবূ বাকরা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَعَالَى لِصَاحِبِهِ الْعُقُوْبَةً فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يُدَّخَرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْبَغْيِ.
“আল্লাহ তাআলা পাপীকে যেসব পাপের কারণে পার্থিব জগতেই শাস্তি দেন এবং আখিরাতেও তার জন্য শাস্তি জমা রাখেন তার অন্যতম হলো- আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় না রাখা এবং বিদ্রোহ করা।"[২২০]
২১৪. আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'যে-সম্প্রদায়ের মাঝে আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারী থাকে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় না। [২২১]
২১৫. আবূ বাকরা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
كُلُّ الذُّنُوبِ يُؤَخِّرُ اللهُ تَعَالَى مِنْهَا مَا شَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، مَا خَلَا عُقُوْقَ الْوَالِدَيْنِ، فَإِنَّهُ يُعَجِّلُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
"সব অপরাধের শাস্তি প্রদানে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কিয়ামাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু মা-বাবার অবাধ্য ব্যক্তির শাস্তি আল্লাহ কিয়ামাতের পূর্বে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন।"[২২২]
২১৬. জুবাইর ইবনু মুত'ইম (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ.
“আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”[২২৩]
২১৭. যুরারাহ ইবনু আওফা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমন করলে লোকেরা তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমায়। আমিও তাদের সাথে তাঁকে দেখতে যাই। আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারি-এ চেহারা কোনও মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথাটি বললেন তা হলো-
أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامُ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بسلام.
“(হে লোকসকল!) তোমরা সালামের প্রচলন ঘটাও, মানুষকে খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় কোরো। তাহলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।" [২২৪]
২১৮. দুররাহ বিনতু আবী লাহাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! সর্বোত্তম মানুষ কে?' আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন,
خَيْرُ النَّاسِ أَقْرَؤُهُمْ، وَأَتْقَاهُمْ، وَآمِرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ، وَأَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَوْصَلُهُمْ للرحم.
“সর্বোত্তম মানুষ সেই ব্যক্তি-যে কুরআন তিলাওয়াতে সেরা, সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারেও সবচেয়ে বেশি সচেতন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে অগ্রগামী।"[২২৫]
২১৯. আবূ উমামাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি-
اكْفُلُوا لِي بِيتٌ أَكْفُلْ لَّكُمْ بِالْجَنَّةِ، إِذَا حَدَّثَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَكْذِبُ، وَإِذَا وَعَدَ
فَلَا يُخْلِفُ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ فَلَا يَخْنُ، غُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوْجَكُمْ، وَصِلُوْا أَرْحَامَكُمْ.
“তোমরা ছয়টি বিষয়ের দায়িত্ব নাও আমি তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব নিবো।
১. কথা বলার সময় কেউ যেন মিথ্যা না বলে।
২. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করে।
৩. আমানতের খিয়ানত না করে।
৪. দৃষ্টি অবনত রাখে।
৫. লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”[২২৬]
২২০. আবূ বাকরা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
ذَنْبَانِ لَا يُغْفَرَانِ: الْبَغْيُ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ.
'দু'টো গুনাহ ক্ষমা করা হয় না-বিদ্রোহ করা এবং সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করা।' [২২৭]
২২১. আবূ আইয়ূব আনসারি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, “চলতিপথে এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে বলল, 'আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বললেন,
تَعْبُدُ اللهَ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ الْأَرْحَامَ.
"তুমি আল্লাহর ইবাদাত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো।”[২২৮]
২২২. সিরাজ ইবনু মাজ্জাআ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমার দাদা আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করেন, 'উত্তম আচরণ পাওয়ার ব্যাপারে কে অগ্রগণ্য?' উত্তরে তিনি বলেন,
أُمَّكَ، ثُمَّ أَبَاكَ وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، ثُمَّ الأَقْرَبَ فَالْأَقْرَبَ ...
"তোমার মা, এরপর তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই। তারপর ক্রমান্বয়ে (আত্মীয়তার সম্পর্কের ভিত্তিতে) যারা সবচেয়ে কাছের...।"[২২৯]
২২৩. উসামা ইবনু শারীক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'বিদায় হাজ্জে আমি নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,
أُمَّكَ وَأَبَاكَ، وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، وَأَدْنَاكَ وَأَدْنَاكَ.
"সদাচরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য-তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই এবং ক্রমান্বয়ে তোমার অন্যান্য নিকটাত্মীয়-স্বজন।"[২৩০]
২২৪. আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বসে ছিলাম। তখন তিনি বললেন,
لَا يُجَالِسُنَا الْعَشِيَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ.
"এই সন্ধ্যায় আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারী যেন আমাদের সাথে না বসে।" তখন মজলিস থেকে এক যুবক বেরিয়ে যায়। গিয়ে তার খালার সাথে দেখা করে এবং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারপর যুবকটি ফিরে এসে নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিসে বসে। তখন নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إِنَّ الرَّحْمَةَ لَا تَنْزِلُ عَلَى قَوْمٍ فِيْهِمْ قَاطِعُ رَحِمٍ.
"কোনও সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছinnকারী থাকলে তাদের ওপর আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয় না।"[২৩১]
২২৫. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবনু সামুরা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বললেন, "আমি রাতে আশ্চর্যজনক একটা দৃশ্য দেখলাম।" সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'কী সেটা, ইয়া রাসূলাল্লাহ?' তিনি বললেন, رَأَيْتُ رَجُلًا مِّنْ أُمَّتِي يُكَلِّمُ الْمُؤْمِنِينَ وَلَا يُكَلِّمُوْنَهُ، فَجَاءَتْهُ صِلَتُهُ لِلرَّحِمِ، فَقَالَتْ: يَا مَعْشَرَ الْمُؤْمِنِينَ، كَلَّمُوهُ، فَإِنَّهُ كَانَ وَاصِلًا لِلرَّحِيمِ، فَكَلَّمُوْهُ، وَصَافَحُوْهُ.
"আমার উম্মাতের এক ব্যক্তি সবার সাথে কথা বলছে কিন্তু তাদের কেউ তার সাথে কথা বলছে না। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক এসে বলল, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা তার সাথে কথা বলো। কারণ সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী ছিল। অতঃপর তারা তার সাথে কথা বলল এবং মুসাফাহা করল।”[২৩২]
২২৬. আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) আলোচনা করার সময় বলতেন, 'মজলিস থেকে আত্মীয়তার-বন্ধন-ছিন্নকারী চলে গেলে আমরা আলোচনা শুরু করব। কারণ আমরা নিজেদের প্রভুর আলোচনা করব, তাঁর নিকট দুআ করব। আর আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছinnকারীর জন্য আসমানের দরজা খোলা হয় না।' [২৩৩]
২২৭. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِنَّ الْبِرَّ وَالصَّلَةَ لَيُطَوَّلانِ الأَعْمَارَ، وَيُعَمِّرَانِ الدّيَارَ، وَيُثْرِيَانِ الْأَمْوَالَ، وَإِنْ كَانَ الْقَوْمُ فُجَّارًا، وَإِنَّ الْبِرَّ وَالصَّلَةَ لَيُخَفِّفَانِ الْحِسَابَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
“সদাচরণ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা-আয়ু বৃদ্ধি করে, সমাজ টিকিয়ে রাখে এবং ধন-সম্পদে বৃদ্ধি ঘটায়। যদিও মানুষ পাপাচারী হয়। এছাড়া এটি কিয়ামাত দিনের হিসাবও সহজ করে দেয়।”[২৩৪]
২২৮. আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রহমান তাঁর বাবা আবদুর রহমান ইبনু হুজাইরা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন-'যে-ব্যক্তি রাতভর সালাত আদায় করে
এবং দিনে সিয়াম পালন করে, কিন্তু আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, তাকে টেনে-হেঁচড়ে জাহান্নামে নেওয়া হবে।'। [২৩৫]
২২৯. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, "একদিন আমি উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গে ছিলাম। জনসাধারণের রেজিস্ট্রার দেখছিলেন তিনি। তখন তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল অন্ধ ল্যাংড়া বয়স্ক এক ব্যক্তি। খুব কষ্টে নিজের পা টেনে নিচ্ছিল সে। তাকে দেখার পর উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আজকের মতো মন্দ দৃশ্য নজরে পড়েনি।' সে সময় উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি তাকে চিনেন?' তিনি বলেন, 'না।' লোকটি বলেন, 'এই ব্যক্তি হলো ইবনু সাবগা বাহযি। যাকে বারীক অভিশাপ দিয়েছে। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি তো জানি বারীক হলো উপনাম। তার আসল নাম কী?' উপস্থিত লোকেরা বলেন, 'তার নাম ইয়ায।' তিনি বলেন, 'ইয়াযকে ডাকো।' তারপর তাকে ডেকে আনা হয়। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'তোমার এবং বানী সাবগা-এর ঘটনা শোনাও।'
ইয়ায বলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন! জাহিলি যুগের ঘটনা; যা হওয়ার হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামের নিয়ামাত দান করেছেন।' উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আল্লাহ ক্ষমা করুন। ইসলামের মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে সম্মানিত করার পর জাহিলি যুগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা অনুচিত; তবুও তোমার ও তাদের ঘটনাটি বলো।'
তিনি বলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন! বানী সাবগা'র সদস্য ছিল দশজন। আমি ছিলাম তাদের চাচাতো ভাই। আমি ছাড়া আমার বাবার বংশের কেউ জীবিত ছিল না। আমি ছিলাম তাদের প্রতিবেশী। বংশীয়ভাবে তারা ছিল আমার অতি নিকটবর্তী। তারা আমার সাথে অসদ্ব্যবহার করত। অন্যায়ভাবে আমার ধন-সম্পদ নিয়ে নিত। আমি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার, আত্মীয়তার ও প্রতিবেশীর দোহাই দিতাম; যেন তারা আমাকে মুক্তি দেয়। কিন্তু এগুলোর কিছুই কাজে আসেনি। তারা কিছুই পরোয়া করে না। তারপর আমি মুহাররম মাস আসা পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিই। এ মাসে আকাশের দিকে হাত তুলে বলি-'হে আল্লাহ! অতি কষ্ট নিয়ে আপনার কাছে আবদার করছি, একজন বাদে বানী সাবগা'র সবাইকে হত্যা করুন। তারপর সেই একজনকে ল্যাংড়া করে অন্ধ বানিয়ে রাখুন। (যাতে অন্যরা শিক্ষা লাভ করতে পারে।)'
অতঃপর এক বছরের মধ্যেই একে একে নয় জন মারা যায়। আর এই লোকটি জীবিত থাকে। সে অন্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তার উভয় পা অবশ করে দেন।'
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এ-তো বড়োই আশ্চর্যের ব্যাপার।'
তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, 'আবূ তাকাসুফ হুযালির ঘটনা তো এর চেয়ে আশ্চর্যজনক।'
তিনি বলেন, 'তার ঘটনা কী?'
লোকটি বলেন, “আবূ তাকাসুফ ছিল স্বগোত্রের দশম ব্যক্তি। বানী সাবগা'র ইয়াযের মতো তারও ছিল এক চাচাতো ভাই। তারাও তার সাথে অবিচার ও অসদ্ব্যবহার করত। অন্যায়ভাবে তাঁর ধন-সম্পদ নিয়ে নিত। সে তাদেরকে আল্লাহ তাআলার, আত্মীয়তার ও প্রতিবেশীর দোহাই দিত যেন তারা তাঁকে মুক্তি দেয়। কিন্তু এগুলোর কিছুই তাদেরকে স্পর্শও করত না। তারপর মুহাররম মাস আসা পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেয় সে। এ মাসে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে-
'প্রত্যেক নিরাপদ ও শঙ্কিত ব্যক্তির হে দয়াময় প্রভু! প্রত্যেক আহ্বানকারীর আহ্বান শ্রবণকারী হে মহামহিম প্রতিপালক! আবূ তাকাসুফ খুনায়ী আমাকে আমার ন্যায্য অধিকার দেয়নি। তার সমস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়জন এবং গোলামদেরকে 'কিরান' নামক জায়গায় একত্রে ধ্বংস করে দিন।'
এরপর একদিন ঠিক ওই জায়গায় একটি কূপ মেরামত করতে আবূ তাকাসুফের ঘনিষ্ঠজন যারা ছিল সবাই তাতে অবতরণ করে। হঠাৎ এটি তাদের ওপর ধ্বসে পড়ে। আর ওটাই তাদের জন্য তাদের কবরে পরিণত হয়।
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'সুবহানাল্লাহ! এ-তো আরও আশ্চর্যের কথা।'
সে সময় উপস্থিত আরেক ব্যক্তি বলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন! বানী নাসর গোত্রের বানীল মুআম্মাল-এর ঘটনা এগুলোর চেয়েও বেশি আশ্চর্যজনক।'
তিনি এর উত্তরে বলেন, 'বানীল মুআম্মাল-এর কী হয়েছিল?'
লোকটি জানাল, 'বানী নাসর ইবনি মুআবিয়া গোত্রের এক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু সম্পদের মালিক হয়। তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেলে সে গিয়ে আশ্রয় নেয় তাদের শাখা গোত্র বানীল মুআম্মাল-এর কাছে। তারা তার প্রতি অবিচার করে এবং তার সাথে খুবই বাজে আচরণ করে। অন্যায়ভাবে তার সমস্ত ধন-সম্পদ কেড়ে নেয়। একদিন
লোকটি বলল, 'হে বানীল মুআম্মাল! অন্যদের কাছে না গিয়ে আমি তোমাদেরকে ভালো মনে করেছি। তোমরা আমাকে নিরাপত্তা দিবে ভেবে আমার জান ও মাল নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি। এখন তোমরাই আমার প্রতি অবিচার করছো, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করছো এবং প্রতিবেশী হিসেবে আমার সাথে মন্দ আচরণ করছো। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর, আত্মীয়তার এবং প্রতিবেশীর দোহাই দিচ্ছি তোমরা আমাকে নিরাপত্তা দাও।'
তখন রিয়াহ নামক এক ব্যক্তি বলল, 'হে বানীল মুআম্মাল! আল্লাহর শপথ! তোমাদের চাচাতো ভাই ঠিক বলেছে। আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তার সাথে রয়েছে তোমাদের আত্মীয়তা ও প্রতিবেশীর সম্পর্ক। অন্যদের কাছে না গিয়ে সে তোমাদেরকে নির্বাচন করেছে।'
তার কথায় কেউ বিরত থাকেনি। তারপর সে তাদেরকে অবকাশ দেয়। মুহাররম মাসে সবাই উমরা করতে রওনা হয়। সে তাদের থেকে আলাদা হয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দুআ করে, 'হে আল্লাহ! বানীল মুআম্মালকে ধ্বংস করুন। বিশাল পাথর কিংবা বিরাট সৈন্যবাহিনী তাদের ওপর চড়াও করুন। রিয়াহ নামক লোকটি ব্যতীত, কারণ সে কিছুই করেনি।'
ওদিকে বানীল মুআম্মাল একটি পাহাড়ের পাদদেশে যাত্রাবিরতি করে। তখন আল্লাহ তাআলা পাহাড় থেকে বিশাল পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করেন তাদের ওপর। ফলে রিয়াহ্ ও অন্য ক'জন ছাড়া বাকিরা এক ধাক্কায় ধ্বংস হয়ে যায়।
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'সুবহানাল্লাহ! বড়ো আশ্চর্যের ব্যাপার। তোমরা কি জানো কেন এমন হলো?'
উপস্থিত লোকেরা বলল, 'আমিরুল মুমিনীন ভালো জানেন।'
তখন তিনি বললেন, 'আমি জানি কেন এমন হলো। জাহিলি যুগে মানুষ জ্ঞান না থাকার কারণে জান্নাত কামনা করত না। জাহান্নামকেও ভয় করত না। পুনরুত্থান ও কিয়ামাত দিবস কিছুই বুঝত না। তাই আল্লাহ তাআলা জালিমকে শায়েস্তা করার দ্বারা মজলুম ব্যক্তির দুআ কবুল করতেন, যেন একজন থেকে অন্যকে রক্ষা করতে পারেন। তারপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে পরকালের কথা জানালেন। জান্নাত-জাহান্নাম, কিয়ামাত এবং পুনরুত্থান দিবসের কথা অবগত করালেন। যখন তারা তা জানতে পারল। তখন তিনি বললেন, "বরং কিয়ামাতের দিন তাদের প্রতিশ্রুত সময়
এবং কিয়ামাত অত্যন্ত কঠিন ও অতীব তিক্ত সময়।"[২৩৬] তাই বর্তমানে তৎক্ষণাৎ শাস্তি না দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়, সবকিছু ওই দিন পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়।"[২৩৭]

টিকাঃ
২০০. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১৩৪০১; উকাইলি, আদ-দুআফাউল কাবীর, ৪/১৮৯; ইবনু আবিদ দুনইয়া, মাকারিমুল আখলাক, ২৪৪১。
২০৪. হান্নাদ, আয-যুহদ, ১০০৯১
২০৫. আহমাদ, ১২৫৮৮; তাহাবি, শারহু মুশকিলিল আসার, ৩০৭১; তাবারানি, আওসাত, ২৪১১。
২০৬. তিরমিযি, ১৯৭৯; তাবারানি, কাবীর, ১৮/৯৮; ইবনুল আসীর, উসদুল গাবাহ, ৪/৭২。
২০৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/১৫৬; মুনযিরি, তারগীব, ৩/৩০৪。
২০৮. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৭৯৬৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২৫২৫৯。
২০৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/১৪; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮২০৭。
২১০. বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ৬১。
২১১. তিরমিযি, ১৯০৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/২০৫。
২১২. সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ২২-২৩; বুখারি, ৫৯৮৭, ৫৯৮৮; মুসলিম, ২৫৫৪。
২১৩. আবূ দাউদ, ৪৯৪১; তিরমিযি, ১৯২৪。
২১৪. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১১/৪৫; আলি মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল, ৬৯৫০。
২১৫. তিরমিযি, ১৯২৪。
২১৬. হাইসামি, ১৩৪৪১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১/৩২১。
২১৭. বুখারি, ৫৯৮৮; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২৩৮১৫。
২১৮. বুখারি, ৫৯৮৯, মুসলিম, ২৫৫৫。
২১৯. আবূ দাউদ তয়ালিসি, আল-মুসনাদ, ২১৬৮; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৩৮৩; হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ১৫৭。
২২০. বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ২৫; আবু দাউদ, ৪৯০২; তিরমিযি, ২৫১১。
২২১. বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ৬৩; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৭৯৬২。
২২২. হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/১৫৬; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৭৫০৫。
২২৩. বুখারি, ৫৯৮৪; মুসলিম, ২৫৫৬; আহমাদ, ৪/২৮০。
২২৪. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৪৫১; ইবনু মাজাহ, ১৩৩৪, ৩২৫১。
২২৫. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২৭৪৩৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৩১৬৬。
২২৬. হাইসানি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/৩০৪; খতীব বাগদাদি, তারীখু বাগদাদ, ৭/৩৯২。
২২৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৩৬。
২২৮. বুখারি, ৫৯৮২, ৫৯৮৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৪১৭。
২২৯. বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ৪/১৭৯; ইবনু হিব্বান, ১/৪০২。
২৩০. মুসলিম, ২৫৪৮。
২৩১. বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ৬৩。
২৩২, সাখাবি, আল-কওলুল বাদী', ১৩১; তাজুদ্দীন সুরকি, তবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা, ১/১৬৩。
২৩৩. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৭৫৯২; মা'মার ইবনু রাশিদ, আল-জামি', ২০২৪২。
২৩৪. সুয়ূতি, আল-জামিউস সগীর ওয়া যিয়াদাতুহু, ৩৩৪৭, দঈফ。
২৩৫. তাবারি, তাহযীবুল আসার, ২১০。
২৩৬. সূরা কমার, ৫৪: ৪৬。
২৩৭. ইবনু আবিদ দুনইয়া, কিতাবু মুজাবুদ দাওয়াহ, ২২; ইবনু ইসহাক, আস-সীরাহ, ২৯-৩১。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 আত্মীয়কে সাদাকা করার পুরস্কার

📄 আত্মীয়কে সাদাকা করার পুরস্কার


২৩০. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী যায়নাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'একদিন মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ.
"তোমরা সদাকা করো; তোমাদের অলংকার দিয়ে হলেও সদাকা করো।"
যায়নাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আবদুল্লাহ ছিলেন অতি দরিদ্র, আমি তাঁকে বলি—আমার সদাকা আপনাকে এবং আমার ইয়াতীম ভাতিজাদেরকে দেওয়ার সুযোগ আছে কি? আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'তুমি এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করো।'
তখন আমি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসি। এসে দেখি তাঁর দরজায় যায়নাব নামের আরও একজন আনসারি মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন এবং আমি যে-ব্যাপারে প্রশ্ন করতে এসেছি তিনিও সে-ব্যাপারেই প্রশ্ন করবেন। আমাদের কাছে বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) আসলে আমরা তাঁকে বললাম, 'আপনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করুন। আর আমরা কারা তা তাঁকে বলার প্রয়োজন নেই।'
তিনি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কারা?' বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'যায়নাব।'
তিনি বলেন, 'কোন যায়নাব?'
বিলাল (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর স্ত্রী যায়নাব এবং আনসারি যায়নাব।'
তখন রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
نَعَمْ لَهُمَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ
'হ্যাঁ, তাদের জন্য দুই (গুণ) সাওয়াব হবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব এবং দান করার সাওয়াব।" [২৩৮]
২৩১. সালমান ইবনু আমির (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,
الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَالصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ: صَدَقَةً وَصِلَةٌ.
"হতদরিদ্রকে সদাকা করার সাওয়াব এক গুণ। আর নিকটাত্মীয়কে সদাকা করার সাওয়াব দ্বিগুণ-সদাকা করার সাওয়াব এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব।" [২৩৯]
২৩২. রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি আমার এক দাসীকে আযাদ করে দিলাম। নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে আসার পর বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি বললেন,
اجَرَكِ اللَّهُ ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ، كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ.
“আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর উত্তম বিনিময় দান করুন। তবে তুমি যদি তা তোমার কোনও নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দিতে তাহলে সাওয়াব আরও বেশি হতো।” [২৪০]
২৩৩. সালমান ইবনু আমির দব্বি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
صَدَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى قَرَابَتِهِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ.
"নিকটাত্মীয়কে সদাকা করলে দান করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা দু'টোই হয়।" [২৪১] (তাই সাওয়াবও হয় দ্বিগুণ)।
২৩৪. সালমান ইবনু আমির দব্বি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ : إِنَّهَا صَدَقَةٌ، وَصِلَةٌ.
“মিসকীনকে সদাকা করলে শুধু সদাকা করার সাওয়াব হয়। আর আত্মীয়কে সদাকা করলে দুইটি সাওয়াব হয়-সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার সাওয়াব।” [২৪২]
২৩৫. আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মদীনার আনসারিদের মধ্যে আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সর্বাধিক খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মাসজিদে নববির নিকটবর্তী 'বাইরুহা' নামক বাগানটি ছিল তাঁর অতি প্রিয়। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّوْنَ.
"তোমরা নিজেদের পছন্দের বস্তু-সামগ্রী দান না করা পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।” [২৪৩]
তখন আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! বাইরুহা বাগানটি আমার সবচেয়ে প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদাকা করলাম।' আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন,
أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ.
"আমি মনে করি, তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও।" [২৪৪]

টিকাঃ
২৩৮. বুখারি, ১৪৬৬; মুসলিম, ১০০০。
২৩৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২১৪; তিরমিযি, ৭৫৮; ইবনু মাজাহ, ১৮৪৪。
২৪০. বুখারি, ২৫৯২; মুসলিম, ১৯৯১。
২৪১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২১৪。
২৪২, তিরমিযি, ৬৫৮; নাসাঈ, ২৫৮২。
২৪৩. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ৯২。
২৪৪. বুখারি, ১৪৬১; মুসলিম, ২৩৬২。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল

📄 সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল


২৩৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، وَلَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِي، وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا.
"আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে সম্পর্কিত। সে ব্যক্তি সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় রাখার বিনিময়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী হলো সে, কেউ যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা বজায় রাখে।" [২৪৫]
২৩৭. আমর ইবনু শুআইব (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, 'এক ব্যক্তি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে। আমি তাদেরকে ক্ষমা করি, কিন্তু তারা অবিচার করে। আমি তাদের সাথে সদ্‌ব্যবহার করি, আর তারা অসদ্‌ব্যবহার করে। আমি কি তাদের সাথে তাদের মতোই আচরণ করব?' রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
لَا إِذَنْ تَتْرُكُونَ جَمِيعًا، وَلَكِنْ جُدْ بِالْفَضْلِ، وَصِلُّهُمْ، فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ ظَهِيرٌ مِّنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ.
“না, তাহলে তো তুমি সবাইকে পরিত্যাগ করলে। বরং তুমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং সম্পর্ক বজায় রাখো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সাথে থাকবেন।”[২৪৬]
২৩৮. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক
ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, আর তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে, আমি তা সহ্য করি।' তিনি বললেন,
إِنْ كُنْتَ كَمَا تَقُوْلُ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرُ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذلِكَ.
"তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে তুমি যেন তাদের মুখের ওপর উত্তপ্ত ছাই নিক্ষেপ করছো। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে ততক্ষণ আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সঙ্গ দিবে।" [২৪৭]
২৩৯. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ أَرَادَ أَنْ يَشْرَفَ لَهُ بُنْيَانُهُ، وَيُرْفَعَ لَهُ الدَّرَجَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَلْيَصِلْ مَنْ قَطَعَهُ وَلْيُعْطِ مَنْ حَرَمَهُ، وَلْيَعْفُ عَنْ مَنْ ظَلَمَهُ، وَلْيَحْلُمْ عَنْ مَنْ جَهِلَ عَلَيْهِ.
“যে-ব্যক্তি সুরম্য প্রাসাদ কামনা করে এবং চায় কিয়ামাতের দিন তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার-সম্পর্ক-ছিন্নকারীর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। যে তাকে বঞ্চিত করে, সে যেন তাকে দান করে এবং যে তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করে, সে যেন তাকে ক্ষমা করে। আর যে তার সাথে মূর্খ আচরণ করে, সে যেন তা সহ্য করে।” [২৪৮]

টিকাঃ
২৪৫. বুখারি, ৫৯৯১, তিরমিযি, ১৯০৮。
২৪৬. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/১৮১; হান্নাদ, আয-যুহদ, ২/৪৯২。
২৪৭. মুসলিম, ২৫৫৮, আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৯৩২。
২৪৮. খতীব বাগদাদি, তারীখু বাগদাদ, ৪/৪১০; ইবনু আদি, আল-কামিল, ১/১১০。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করার সাওয়াব

📄 শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করার সাওয়াব


২৪০. আবূ আইয়ূব আনসারি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ أَفْضَلَ الصَّدَقَةِ : الصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِحِ.
"সর্বোত্তম সদাকা হলো-শত্রুতা পোষণ করে এমন আত্মীয়কে দান করা।" [২৪৯]
ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শত্রুতা পোষণকারী ও বিদ্বেষভাজন আত্মীয়দেরকে দান করার পেছনে ফযীলত থাকার কারণ হলো, এতে নফসের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। কারণ নফস এরকম আত্মীয়দেরকে দান-সদাকা করতে নিরুৎসাহিত করে থাকে।

টিকাঃ
২৪৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৪১৬; তাবারানি, কাবীর, ৪/১৬৫。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00