📄 পরিবারের জন্য খরচ করার সাওয়াব
১৭৪. আবূ মাসউদ আনসারি (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
نَفَقَةُ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ يَحْتَسِبُهَا صَدَقَةٌ "আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিবারের জন্য খরচ করা-সদাকা হিসেবে গণ্য হবে।" [১৮২]
১৭৫. আবু হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
دِينَارُ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَدِيْنَارُ أَنْفَقْتَهُ فِي رَقَبَةٍ، وَدِيْنَارُ تَصَدَّقْتَ بِهِ، وَدِيْنَارُ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ، أَفْضَلُهَا الدِّينَارُ الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ “আল্লাহর পথে খরচ করা দীনার, দাসমুক্তির জন্য খরচ করা দীনার, সদাকাকৃত দীনার এবং পরিবারের জন্য খরচ করা দীনার-এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দীনার হচ্ছে, যে-দীনার বা অর্থ-কড়ি পরিবারের জন্য খরচ করা হয়।" [১৮৩]
১৭৬. আবু হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা সদাকা করো।”'
এক ব্যক্তি বলল, ‘আমার কাছে একটি দীনার আছে।’ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, تَصَدَّقُ بِهِ عَلَى نَفْسِكَ “এটি তুমি নিজের জন্য খরচ কোরো।”
ওই ব্যক্তি বলল, ‘আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে।’ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, تَصَدَّقُ بِهِ عَلَى زَوْجَتِكَ “এটি তোমার স্ত্রীর জন্য খরচ কোরো।”
তারপর লোকটি বলল, ‘আমার কাছে আরও একটি দীনার আছে।’ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, تَصَدَّقُ بِهِ عَلَى وَلَدِكَ “এটি তুমি তোমার সন্তানের জন্য খরচ কোরো।”
এরপর সে বলল, ‘আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে।’ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, تَصَدَّقُ بِهِ عَلَى خَادِمِكَ “এটি তোমার খাদিমের জন্য খরচ কোরো।”
এরপর সে বলল, ‘আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে।’ রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, أَنْتَ أَبْصَرُ “তুমিই ভালো বোঝো (কোথায় খরচ করতে হবে।) ”[১৮৪]
১৭৭. সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
أَفْضَلُ الدَّنَانِيرِ: دِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى عِبَالِهِ، وَدِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ، وَدِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"তিন ধরনের অর্থ-কড়ি বা দীনার সর্বোত্তম- ১. পরিবারের জন্য খরচ করা দীনার, ২. পোষাপ্রাণীর জন্য খরচ করা দীনার, ৩. আল্লাহর পথের মুজাহিদদের জন্য খরচ করা দীনার।" [১৮৫]
১৭৮. সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন,
إِنَّ صَدَقَتَكَ لَكَ مِنْ مَالِكَ صَدَقَةٌ، وَإِنَّ نَفَقَتَكَ عَلَى عِبَالِكَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَإِنَّ مَا تَأْكُلُ امْرَأَتُكَ مِنْ طَعَامِكَ لَكَ صَدَقَةٌ
"নিশ্চয়ই তোমার সম্পদ থেকে দান-করা তোমার জন্য সদাকা। তোমার পরিবারের জন্য খরচ করা সদাকা এবং তোমার খাবার হতে তোমার স্ত্রী যা খায়, তা-ও তোমার জন্য সদাকা।"[১৮৬]
১৭৯. মা'দীকারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি,
مَا أَطْعَمْتَ نَفْسَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ وَلَدَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ زَوْجَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ خَادِمَكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ
"তুমি নিজে যা খেয়েছ তা তোমার জন্য সদাকা। তোমার সন্তানকে যা খাইয়েছ, তা তোমার জন্য সদাকা। তোমার স্ত্রীকে যা খাইয়েছ, তা তোমার জন্য সদাকা এবং তোমার খাদিমকে যা খাইয়েছ, তা-ও তোমার জন্য সদাকা।"[১৮৭]
টিকাঃ
১৮২ বুখারি, ৫৫, ৪০০৬; মুসলিম, ১০০২; তিরমিযি, ১৯৬৫。
১৮৩. মুসলিম, ৯৯৫; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/২৫১。
১৮৪, আবূ দাউদ, ১৬৯১; ইবনু হিব্বান, ৩৩৩৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/২৫১; নাসাঈ, ২৫৩৫。
১৮৫. মুসলিম, ৯৯৪。
১৮৬. ইবনু খুযাইমা, আস-সহীহ, ২৩৫৫; বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ৫২০。
১৮৭, আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/১৩۱; বাইহাকি, আস-সুনান, ৪/১৭৯; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/১২২。
📄 বোন ও মেয়েসন্তানদের সাথে উত্তম আচরণের প্রতিদান
১৮০. আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'একমহিলা তার দুই মেয়েকে সাথে করে নিয়ে এসে আমার কাছে ভিক্ষা চাইল। তখন একটি খেজুর ছাড়া তাকে দেওয়ার মতো আর কোনোকিছুই আমার কাছে ছিল না। আমি সেই খেজুরটিই তাকে দিয়ে দিলাম। সে তা নিয়ে দুই টুকরো করে দুই মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিল, নিজে কিছুই খেলো না। তারপরে সে তার দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে সেখান থেকে উঠে চলে গেল। পরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এলে আমি ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন,
مَنِ ابْتُلِي مِنَ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِّنَ النَّارِ
“যে-ব্যক্তিকে মেয়েসন্তান দান করে পরীক্ষা করা হয়, সে যদি তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করে, তাহলে সেই মেয়েরা তার জন্য জাহান্নামে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।" [১৮৮]
১৮১. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ كُنَّ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ يُؤَدِّبُهُنَّ، وَيَرْحَمُهُنَّ، وَيَكْلُفُهُنَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةً
"যে-ব্যক্তির তিনজন মেয়ে থাকবে এবং সে তাদেরকে উত্তম আচার-আচরণ শিখাবে, তাদের প্রতি দয়া করবে ও তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবে—অবশ্যই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।" কেউ একজন জিজ্ঞাসা করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুইজন মেয়ে থাকে?' তিনি বললেন,
وَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ
"যদি দুইজন থাকে, তবুও।" [১৮৯]
১৮২. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُدْرَكُ لَهُ ابْنَتَانِ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِمَا مَا صَحِبَتَاهُ، أَوْ صَحِبَهُمَا إِلَّا أَدْخَلَتَاهُ الجنة
"যে-মুসলিম দুইজন মেয়েসন্তান লাভ করে অতঃপর তারা তার সাথে যতদিন থাকে তাদের প্রতি সদাচার করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে মেয়েসন্তান দু'জন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।"[১৯০]
১৮৩. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ كَانَتْ لَهُ أُخْتَانِ، فَأَحْسَنَ صُحْبَتَهُمَا، دَخَلَ بِهِمَا الْجَنَّةَ
"যার দুইটি বোন আছে আর সে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, তাহলে তাদের মাধ্যমে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" [১৯১]
১৮৪. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ كَانَتْ لَهُ ابْنَةُ، فَلَمْ يُؤْذِهَا، وَلَمْ يُهِنْهَا، وَلَمْ يُؤْثِرُ وَلَدَهُ عَلَيْهَا يَعْنِي الذُّكُورَ، أَدْخَلَهُ اللهُ بِهَا الْجَنَّةَ
“যে-ব্যক্তি মেয়েসন্তানের বাবা হওয়ার পর যদি তাকে কষ্ট না দেয়, তুচ্ছজ্ঞান না করে এবং তার ওপর ছেলেসন্তানকে প্রাধান্য না দেয়, তাহলে এর প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"[১৯২]
১৮৫. আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ اِتَّقَى اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَقَامَ عَلَيْهِنَّ، كَانَ مَعِي في الْجَنَّةِ هُكَذَا
“যে-ব্যক্তির তিনজন মেয়ে বা তিনজন বোন আছে আর সে (তাদের ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের যথাযথ খেয়াল রাখে, সে জান্নাতে আমার সাথে এভাবে থাকবে।” একথা বলে তিনি তাঁর চার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।"[১৯৩]
১৮৬. উকবা ইবনু আমির (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ، وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ، كُنَّ حِجَابًا لَهُ مِنَ النَّارِ
"যদি কারও তিনজন মেয়ে থাকে এবং সে তাদের (প্রতিপালনে) ধৈর্যধারণ করে ও তাদেরকে সাধ্যানুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করায়, তাহলে সেই মেয়েরা তার জন্য জাহান্নামের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।" [১৯৪]
টিকাঃ
১৮৮. বুখারি, ১৪১৮, ৫৯৯৫; মুসলিম, ২০২৭, ২৬২৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/২১২; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৮৬৮৫。
১৮৯. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১৪২৪৭; হুসাইন ইবনু হারব, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ, ১৯০。
১৯০. হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ৭৩৫১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১/২৩৫。
১৯১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২১০৪; ইবনু মাজাহ, ৩৬৭০; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/১৭৮。
১৯২, আবু দাউদ, ৫১৪৬; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/১৭৭。
১৯৩. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১২৫৯৩; ইবনু হিব্বান, ৪৪৭。
১৯৪. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১৭৪০৩; ইবনু মাজাহ, ৩৬৬৯; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৮৬৮৮。
📄 তালাকপ্রাপ্তা মেয়ের জন্য খরচ করার নেকি
১৮৭. সুরাকা ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেন,
يَا سُرَاقَهُ، أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ، أَوْ مِنْ أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ؟
"হে সুরাকা! আমি কি তোমাকে সর্বোত্তম সদাকার কথা বলে দেবো না?' তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! হ্যাঁ। অবশ্যই।' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
ابْنَتُكَ مَرْدُوْدَةٌ إِلَيْكَ، لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرَكَ
"তোমার মেয়ে (র জন্য খরচ করা) যে (তালাকপ্রাপ্তা হয়ে) তোমার কাছে ফিরে এসেছে। তুমি ছাড়া যার অন্য কোনও উপার্জনকারী নেই।”[১৯৫]
টিকাঃ
১৯৫. বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, ৮০; ইবনু মাজাহ, ৩৬৭১。
📄 খালার প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব
১৮৮. আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা যখন মক্কা থেকে বিদায়ের উদ্দেশ্যে বের হলাম, তখন হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যা 'চাচা! চাচা!' বলে ডাকতে ডাকতে আমাদের পেছনে দৌড়ে এল। আমি তার হাত ধরে কোলে তুলে নিলাম এবং ফাতিমার কাছে দিয়ে বললাম, 'এই নাও, তোমার চাচার মেয়ে।' এরপর আমরা যখন মদীনায় আসলাম তখন তার প্রতিপালন কে করবে—এই নিয়ে জা'ফর, যাইদ ইবনু হারিসা ও আমার মধ্যে বিরোধ দেখা দিল। জা'ফর বললেন, 'সে আমার চাচার মেয়ে আর তার খালা আসমা বিনতু উমাইস আমার স্ত্রী। সুতরাং আমিই তার প্রতিপালনের সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখি।' যাইদ ইবনু হারিসা বললেন, 'সে আমার ভাইয়ের মেয়ে। সুতরাং আমিই তাকে লালন-পালন করব।' আর আমি বললাম, 'আমি তাকে মক্কা থেকে নিয়ে এসেছি এবং সে আমার চাচার মেয়ে। সুতরাং তার প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আমিই অধিক উপযুক্ত।' তখন আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন,
أَمَّا أَنْتَ يَا جَعْفَرُ، فَأَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِي، وَأَمَّا أَنْتَ فَمِنِّي وَأَنَا مِنْكَ، وَأَمَّا أَنْتَ يَا زَيْدُ فَأَخُوْنَا وَمَوْلَانَا، وَالْجَارِيَةُ عِنْدَ خَالَتِهَا فَإِنَّ الْخَالَةَ وَالِدَةٌ
"হে জা'ফর! তুমি চেহারা এবং চরিত্রে আমার মতো হয়েছ। আর (হে আলি!) তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে। আর যাইদ! তুমি আমাদের ভাই এবং বন্ধু। মেয়েটি তার খালার কাছেই থাকুক। কারণ খালা মায়ের মতোই।”[১৯৬]
১৮৯. আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনেক বড়ো গুনাহ করে ফেলেছি। আমার জন্য কি তাওবার কোনও সুযোগ আছে?' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, 'তোমার মা-বাবা কি জীবিত আছেন?' সে বলল, 'না।' তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার খালা কি আছেন?' সে বলল, 'হ্যাঁ।' রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাকে বললেন, 'তাহলে তুমি তাঁর সেবা করতে থাকো। ১৯৭]
টিকাঃ
১৯৬. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৭৭0; আবূ দাউদ, আস-সুনান, ২২৮০; সুয়ূতি, আল-জামিউস সগীর, ২২২৭১。
১৯৭, তিরমিযি, ১৯৬৮; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, ৪/১৫৫。