📄 পিতামাতার কবর যিয়ারত করবে
১৭০. বুরাইদা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারতের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট
১৭১. আবূ হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করেছেন। তিনি নিজেও কেঁদেছেন, পার্শ্ববর্তী মানুষগুলোকেও কাঁদিয়েছেন।' এরপর রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَزُوْرَ قَبْرَهَا، فَأَذِنَ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهُمْ، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي
“আমি আমার রবের নিকট আমার মায়ের কবর যিয়ারতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেছি। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতিও চেয়েছি। কিন্তু আমাকে এর অনুমতি দেওয়া হয়নি।" [১৭৮]
১৭২. ফাদল ইবনু মুওয়াফফাক (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, 'আমি সবসময় আমার বাবার কবর যিয়ারত করতাম। একদিন কোনও এক জানাযায় অংশগ্রহণ করার পর জরুরি কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। ফলে সেদিন আর বাবার কবর যিয়ারতে যেতে পারিনি। সেই রাতে স্বপ্নে দেখি বাবা আমাকে বলছেন, 'হে আমার ছেলে! তুমি আজ কেন আসোনি?' আমি বললাম, 'বাবা! আপনি আমার সম্পর্কে খবর রাখেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই। তুমি যখন আমার কাছে আসো আমি তোমার পথের দিকে চেয়ে থাকি। দেখি, তুমি সেই পুলটি পার হচ্ছো, এরপর আমার কাছে এসে অবস্থান করছো এবং একসময় এখান থেকে বিদায় নিচ্ছ। তোমার চলে যাওয়ার সময়ও আমি তাকিয়ে থাকি, যতক্ষণ না তুমি সেই পুলটি পার হয়ে যাও। [১৭৯]
১৭৩. উসমান ইবনু সাওদা তফাবি (রহিমাহুল্লাহ) [১৮০] বর্ণনা করেন, 'আমার মা মুমূর্ষু অবস্থায় আসমানের দিকে দু'হাত তুলে বললেন,
يَا ذُخْرِي وَذَخِيرَتِي، وَيَا مَنْ عَلَيْهِ اعْتِمَادِي فِي حَيَاتِي وَبَعْدَ مَوْتِي، لَا تَخْذِلْنِي عِنْدَ الْمَوْتِ، وَلَا تُوْحِشْنِي فِي قَبْرِي
“হে আমার ভাণ্ডার! আমার পুঁজি! হে ঐ সত্তা, জীবনে এবং মরণে যার প্রতি আমার পূর্ণ ভরসা! মৃত্যুর সময় আমাকে লাঞ্ছিত কোরো না এবং কবরে আমায় একাকিত্বে রেখো না।”
এই দুআ করার পর তিনি মারা যান। প্রতি জুমুআর রাতে আমি মায়ের কবর যিয়ারত করতাম। তার জন্য এবং সমস্ত কবরবাসীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতাম। একরাতে আমি আমার মাকে স্বপ্নে দেখে বললাম, ‘মা! আপনার কী অবস্থা?’ তিনি বললেন, ‘ছেলে আমার! মৃত্যু যন্ত্রণা খুবই কঠিন। আল্লাহর রহমতে খুব আনন্দের সাথেই আমি কবরের জীবন পার করছি। এখানে আমরা ফুলের বিছানায় ঘুমাই। আমাদের বালিশগুলো চিকন-মোটা রেশমি সুতো দিয়ে তৈরি। এভাবেই কিয়ামাত পর্যন্ত আমরা কাটিয়ে দেবো।’
আমি বললাম, ‘আপনার কোনোকিছুর প্রয়োজন আছে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আছে। তুমি আমাদের কবর যিয়ারত করা এবং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা কখনও ছেড়ে দিয়ো না। কারণ জুমুআর দিন তুমি তোমার পরিবার ছেড়ে আমার কবর যিয়ারতে আসার কারণে আমাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়। আমাকে বলা হয়, ‘হে রাহিবাহ! তোমার ছেলে তার পরিবার রেখে তোমার কবর যিয়ারত করতে চলে এসেছে।’ এটি শুনে আমি অনেক আনন্দিত হই। এর কারণে আমার আশে-পাশের মৃতব্যক্তিরাও আনন্দিত হয়। [১৮১]
টিকাঃ
১৭৭. তিরমিযি, ১০৫৪。
১৭৮. মুসলিম, ৯৭৬, ১০৮; আবু দাউদ, আস-সুনান, ৩২৩৪, নাসাঈ, ৪/৯০; ইবনু মাজাহ, ১/৫০১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৪৪১。
১৭৯. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-মানারাত, ১৯; ইবনুল কাইয়্যিম, আর-রূহ, ১২১。
১৮০. তাঁর মা ছিলেন একজন ইবাদাতগুজারী বান্দী। তাঁকে সবাই 'রাহিবাহ' নামে ডাকত。
১৮১. ইবনু কাসীর, তাফসীর, ৬/৩২৬; বাইহাকি, শুআবুল ঈমান, ৭৫২৮; ইবনু রজব হাম্বালি, আহওয়ালুল কুবুর, ৮৮。