📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 নিজ পিতা বা সন্তান থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করার গুনাহ

📄 নিজ পিতা বা সন্তান থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করার গুনাহ


۱۴۲. সাহল ইবনু মুআয জুহানি (রহিমাহুল্লাহ) তার বাবা মুআয ইবনু আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ لِلَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عِبَادًا، لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ
"আল্লাহ তাআলা তার কিছু বান্দাদের সাথে কিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না। তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না এবং তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করবেন না।"
এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?'
তিনি বললেন,
مُتَبَرِّئُ مِّنْ وَالِدَيْهِ رَاغِبُ عَنْهُمَا، وَ مُتَبَرِّئُ مِّنْ وَلَدِهِ، وَرَجُلٌ أَنْعَمَ عَلَيْهِ قَوْمٌ فَكَفَرَ نِعْمَتَهُمْ، وَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ
۱. বাবা-মা'র প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তাঁদের থেকে সম্পর্ক-ছিন্নকারী সন্তান ۲. সন্তান থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন-ঘোষণাকারী-পিতা এবং ۳. যে-ব্যক্তির প্রতি কোনও গোত্রের লোকেরা অনুগ্রহ করার পরেও সে তাদের অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞা প্রদর্শন করে এবং তাদের থেকে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে।" [۱۴۹]
۱۴۳. আবু হুরায়রা (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন,

টিকাঃ
১৪۸. হুসাইন ইবনু হারব, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ, ۴۵。
۱۴۹. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ۳/۴۴۰; তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ۴۳۸。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 অন্যকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দেওয়ার ভয়াবহতা

📄 অন্যকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দেওয়ার ভয়াবহতা


۱۴۴. আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমার নিকট যে-সহীফাটি রয়েছে ۱۵۱] সেখানে আছে, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيْهِ، أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيْهِ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ، وَالْمَلَائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
"যে-ব্যক্তি নিজ পিতা ব্যতীত অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, কিংবা আপন মনিব ব্যতীত অন্য কারও দিকে নিজেকে সম্বন্ধিত করে, তার ওপর আল্লাহ তাআলা, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের অভিশাপ।"[১৫২]
۱۴۵. আবূ উসমান নাহদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি সা'দ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'আমার এ দুটি কান শুনেছে এবং আমার অন্তর খুব ভালোভাবে স্মরণ রেখেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيْهِ، وَهُوَ يَعْلَمُ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ
"যে-ব্যক্তি জেনে-শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।"

টিকাঃ
۱۵۰. আবূ দাউদ, ۲۲۶۳; নাসাঈ, ۶/۱۷۹-۱۸۰; ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল, ۸۴۰۵; সুমৃতি, আদ-দুররুল মানসূর, ۵/۲۴。
۱۵۱. সহীফা মানে ছোটো গ্রন্থ। অনেক সাহাবিই নবিজির হাদীসকে লিখে রাখতেন। ফলে তাদের কাছে এমন নানান ধরনের পুস্তিকা ছিল, যা সহীফা নামে পরিচিত। (অনুবাদক)
۱۵۲, বুখারি, ۱۸۷۰; মুসলিম, ۱۳۷۰; তিরমিযি, ۲۱۲۷; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ۳۰۳۷。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 নিজের পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া—সবচেয়ে বড়ো কবীরা গুনাহ

📄 নিজের পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া—সবচেয়ে বড়ো কবীরা গুনাহ


১৪৮. আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الكَبَائِرِ أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ
"সবচেয়ে বড়ো কবীরা গুনাহগুলোর একটি হলো, নিজের পিতামাতাকে অভিশাপ দেওয়া।"
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ কীভাবে নিজের পিতামাতাকে অভিশাপ দেয়?'
তিনি বললেন,
يَسُبُّ الرَّجُلُ أَبَا الرَّجُلِ، فَيَسُبُّ أَبَاهُ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ
"এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, ফলে সেই ব্যক্তিও তার পিতাকে গালি দেয়। আবার সে অন্যের মাকে গালি দেয় ফলে সেও তার মাকে গali দেয়। (এভাবে সে যেন নিজের পিতামাতাকেই গali দিল বা অভিশাপ দিল।) "[১৫৬]

টিকাঃ
১৫৩. বুখারি, ২৭৬৬, ২৭৬৭; মুসলিম, ১১১। যদি অনিচ্ছায় কেউ নিজ পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্বন্ধিত হয়ে যায় তবে তার জন্য এই হুকুম প্রযোজ্য নয়। এটি মূলত ওই ব্যক্তির জন্য, যে ইচ্ছা করে এমন করে। যেমন: সাহাবি মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পিতার নাম আমর ইবনু সা'লাবা। কিন্তু তিনি আসওয়াদ নামে এক ব্যক্তির নিকট প্রতিপালিত হওয়ায় সেদিকে সম্বন্ধিত হয়েই পরিচিতি লাভ করেন।-ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ১২/৫৬। (অনুবাদক)
১৫৪. বুখারি, ৩৫০৭; মুসলিম, ১১১। এই কুফুরির হুকুম তখন আসবে, যখন কেউ এই বিষয়টি হারাম জানা সত্ত্বেও তা হালাল ভেবে নিজ পিতা ছাড়া অন্য কাউকে নিজের পিতা হিসেবে পরিচয় দিবে। আর কেউ কেউ বলেছেন, এখানে কুফুরি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, নিয়ামাতকে অস্বীকার করা।-ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৬/৬২৪। (অনুবাদক)
১৫৫. বুখারি, ৬৯৬৮; মুসলিম, ১১১。
১৫৬. বুখারি, ৫৯৭৩; মুসলিম, ১৪৬。

📘 সুন্দর সম্পর্ক বিনিময়ে জান্নাত > 📄 সন্তানকে কিছু দেওয়ার পর পিতার জন্য তা ফেরত নেওয়া বৈধ

📄 সন্তানকে কিছু দেওয়ার পর পিতার জন্য তা ফেরত নেওয়া বৈধ


১৪৯. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَرْجِعَ فِي هِبَتِهِ إِلَّا الْوَالِدَ
"কাউকে উপহার দেওয়ার পর তা ফেরত নেওয়ার বৈধতা নেই। তবে সন্তানকে-দেওয়া-উপহার বাবা ফেরত নিতে পারেন।" [১৫৭]
১৫০. আবদুল্লাহ ইবনু উমর এবং আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণনা করেন যে, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
لا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يُعْطِيَ الْعَطِيَّةَ، فَيَرْجِعَ فِيْهَا، إِلَّا الْوَالِدَ فِيْمَا يُعْطِي وَلَدَهُ
"কোনও ব্যক্তি কাউকে উপহার দেওয়ার পর তা ফেরত নেওয়া বৈধ নয়। তবে পিতা তাঁর সন্তানকে-দেওয়া-উপহার ফেরত নিতে পারেন।"[১৫৮]

টিকাঃ
১৫৭. ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৬/৪৪১。
১৫৮. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১/২৩৭; আবু দাউদ, ৩৫৩৯; তিরমিযি, ২১২৩; নাসাঈ, ৬/২৬৫; ইবনু মাজাহ, ২৩৭৭。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00