📄 হিন্দু সুদখোর জাতি
ইহুদিদের পর দুনিয়াতে দ্বিতীয় পর্যায়ের বড় সুদখোর জাতি হলো হিন্দু। আপনারা হিন্দু 'বেনিয়া'দের কথা শুনে থাকবেন। ভারতবর্ষে হিন্দু ব্যবসায়ীদেরকে 'মহাজন'ও বলা হয়। এরা সুদখোর সম্প্রদায়। এদের • কৃপণতা কার্পণ্যের উপমা। তারা এক-একটি পাইয়ের হিসাব করে থাকে।
📄 হিন্দী ভাষার একটি প্রবাদ
আমার আব্বাজি মুফতী মুহাম্মাদ শফী' রহ. হিন্দী ভাষার একটি প্রবাদ শোনাতেন।
প্রবাদটি হলো: لالہ جی گئے پاؤنے ، چار دن میں آئے، لالہ جی کے گھر آگئے چار پاؤن نے ، لالہ جی نہ گئے نہ آئے
হিন্দু বেনিয়াদের 'লালাজি' বলা হয়। 'পাওনে' অর্থ অতিথি। তো প্রবাদটির অর্থ হলো, লালাজি এক বাড়িতে মেহমান হয়ে চারদিন থাকলেন। তাতে তার চার দিনের ব্যয় সাশ্রয় হলো। চারদিন পর যখন ফিরে এলেন, তখন চার ব্যক্তি তার বাড়িতে মেহমান হলো। তারা একদিন বেড়াল। চারদিন অন্যের বাড়িতে মেহমান হয়ে তিনি যতটুকু সাশ্রয় করেছিলেন, তা শেষ হয়ে গেল। খরচ তার সমান-সমান হয়ে গেল। ফলে তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, আর যাবও না, কাউকে আসতেও দেব না।
মোটকথা, তারা এভাবে হিসাব করে চলে, যেন একটি পাইও খরচ না হয়। মূলত সুদের মানসিকতা-ই এই কার্পণ্য জন্ম দেয়।
📄 অর্থনৈতিক পাপ কার্পণ্য জন্ম দেয়
মনে রাখবেন, যার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধিবিধানের কোনো তোয়াক্কা নেই, তারই অবস্থা এমন হয় যে, তার কাছে যত অর্থই আসুক-না কেন, সে যত বিত্তেরই অধিকারী হোক-না কেন, লোভ তার ততই বাড়তে থাকে। অর্থ ব্যয় করতে তাদের ততই হৃদয় কাঁপে। গরিব মানুষেরা নির্ভাবনায় ব্যয় করবে। কিন্তু যারা কাড়ি-কাড়ি টাকার মালিক - যারা অর্থের সাপ হয়ে বসে আছে, তারা ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে না। মনে রাখবেন, এই অর্থনৈতিক পাপ কৃপণতা জন্ম দেয়। আর কৃপণতার কারণে সম্পদের মোহ আরও বাড়তে থাকে।
📄 বেশি-বেশি এই দু’আটি করুন
এর থেকে বাঁচার একটিমাত্র পথ আছে। তা হলো, মানুষ নিজেকে শরীয়তের অনুগামী বানাবে, অন্তরে কানা'আত সৃষ্টি করবে এবং বেশি-বেশি করে এই দু'আটি করবে :
اللَّهُمَّ قَنِعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي وَبَارِكْ لِي فِيهِ وَاخْلُفْ عَلَى كُلِّ غَائِبَةٍ لِي مِنْكَ بِخَيْرٍ
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে-সম্পদ দান করেছেন, তার উপর আমাকে কানা'আত দান করুন এবং তাতে আমাকে বরকত দিন। আল্লাহপাক যখন অল্প সম্পদে বরকত দিয়ে দেন, তখন সেই সম্পদ লাখ-কোটি টাকার চেয়েও বেশি উপকার দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর দেওয়া রিযিকে যদি বরকত না থাকে, তা হলে কোটি টাকাও বেকার হয়ে যায়। তার দ্বারা কোনোই উপকার হয় না।
তারপর নবীজি বলেছেন, হে আল্লাহ! যে সম্পদ আমার কাছে মজুদ নেই, তার বদলে আপনি আমাকে সেই জিনিসটি দান করুন, যেটি আপনার দৃষ্টিতে কল্যাণকর। অর্থাৎ- কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ আমি তার কী জানব! আমার জ্ঞান তো সীমিত। আমার চিন্তা সে পর্যন্ত পৌঁছবার ক্ষমতা রাখে না। কাজেই হে আল্লাহ! এই বিষয়টি আমি আপনার উপর ছেড়ে দিলাম যে, যে জিনিস আমার কাছে মজুদ নেই, তার বদলে আপনি আমাকে সেই সম্পদ দান করুন, যেটি আপনার দৃষ্টিতে ভালো ও কল্যাণকর।
(মুসনাদে ইবনে আবি শায়বা, খণ্ড: ৭ পৃষ্ঠা: ১০৩, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৫০৯৪, আল মুসতাদরাক, হাদীস নং ১৮৩১, আল আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭০২)