📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সুদখুরির মানসিকতা কৃপণতা জন্ম দেয়

📄 সুদখুরির মানসিকতা কৃপণতা জন্ম দেয়


এই কৃপণতার সবচেয়ে বড় উপকরণ হলো সুদ। কারণ, সুদের অর্থ হলো, কাজ কিছুই করবে না, কোনো ঝুঁকি মাথায় নেবে না; কিন্তু পয়সা দিয়ে পয়সা বানাও। এটি কৃপণের কাজ। আর সুদখুরির মানসিকতা যেহেতু মানুষের মধ্যে কৃপণতা সৃষ্টি করে, তাই দুনিয়াতে যত সুদখোর জাতি অতীত হয়েছে, সব চেয়ে বেশি কাঞ্জুসীও তাদেরই মাঝে বিদ্যমান আছে। জগতে সব চেয়ে বড় সুদখোর জাতি হলো ইহুদি। কুরআন ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে:
وَأَخْذِهِمِ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ
'...আর তাদের সুদ গ্রহণ করার কারণে। অথচ তাদেরকে সুদ খেতে বারণ করা হয়েছিল।' (সূরা নিসা, ১৬১ আয়াত)
আজও পৃথিবীর সমস্ত সুদি কারবার সেই ইহুদিদেরই হাতে। আর এরা- ই জগতের সব চেয়ে কাঞ্জুস জাতি। সারা পৃথিবীতে এরা কৃপণ জাতি হিসেবে পরিচিত।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 এক সুদখোর ইহুদির ঘটনা

📄 এক সুদখোর ইহুদির ঘটনা


আপনারা 'শাইলাক'-এর ঘটনা শুনে থাকবেন। এটি রোমের একটি ঘটনা। এক ইহুদি ছিল। তার নাম 'শাইলাক'। এক লোক ঠেকায় পড়ে তার কাছে কিছু টাকা ধার আনতে গিয়েছিল। শাইলাক বলল, আমি সুদ ছাড়া ঋণ দেই না। লোকটি বাধ্য হয়ে সুদের চুক্তিতে ঋণ গ্রহণ করল। শাইলাক তাকে বলে দিল, এত দিনের মধ্যে পারিশোধ করতে হবে আর আমাকে মূল টাকার অতিরিক্ত এত টাকা সুদ দিতে হবে।
মেয়াদ শেষ হয়ে গেল এবং ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত দিনটি এসে পড়ল। শাইলাক ঋণের টাকা উসুল করার জন্য ঋণগ্রহীতার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো। কিন্তু যেহেতু ঋণগ্রহীতা লোকটি গরিব ছিল; তাই সে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলো। বলল, আমার কাছে তো কোনোই টাকা নেই যে, আপনাকে দেব। থাকলে দিয়ে দিতাম। শাইলাক আরেকটি তারিখ ধার্য করে দিয়ে বলল, এই তারিখের মধ্যে দিয়ে দিয়ো আর তোমার সুদ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তখন তোমাকে ডাবল সুদ আদায় করতে হবে।
সেই তারিখটিও এল। শাইলাক তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো। ঋণগ্রহীতা বলল, আপনি তো সুদ ডাবল করে দিয়েছেন; যা আদায় করতে আমি অপারগ। কাজেই সুদের অংশটা বাদ দিয়ে আসল টাকাটা নিয়ে নিন এবং আমাকে এই ঋণের দায় থেকে মুক্তি দিন। শাইলাক বলল, না, তা হবে না-আমাকে পুরোপুরি-ই দিতে হবে। একটি টাকাও আমি তোমাকে মাফ করতে পারব না। তবে এটুকু করতে পারি যে, আমি তোমাকে আরেকটি তারিখ ঠিক করে দিয়ে যাচ্ছি; সেই তারিখে যদি না দাও, তা হলে আমি তোমার শরীর থেকে এক পাউন্ড গোশত কেটে নিয়ে তা চিবিয়ে খাব। আর টাকা তো আলাদা উসুল করবই।
সেই তারিখটিও এসে পড়ল। গরিব ঋণগ্রহীতা বেচারা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলো। শাইলাক তার ঘরে ছুরি নিয়ে হাজির হলো। গরিব বেচারা পেরেশান হয়ে গেল এবং কোনোমতে পালিয়ে রাজদরবারে রাজার কাছে চলে গেল। গিয়ে রাজাকে বলল, মহারাজ! আমি একটি বিপদে পড়েছি; আপনি আমাকে রক্ষা করুন। শাইলাক আমার গায়ের গোশত কেটে নিতে চাচ্ছে।
আদালতে মামলা হলো। ঋণগ্রহীতা লোকটিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলো। বিচারের জন্য এজলাস বসল। শাইলাক আদালতে জোরালো বক্তব্য দিল। তাতে সে বলল, মাননীয় আদালত! আমার সঙ্গে সুবিচার করুন। এই লোকটি এতদিন যাবত আমার সঙ্গে টালবাহানা করছে। আমার থেকে সুদের উপর ঋণ নিয়ে এখন পরিশোধ করছে না। শেষ পর্যন্ত সে নিজেই আমাকে তার গায়ের গোশত কেটে দেবে বলে এখন তাও দিচ্ছে না। আমি আদালতের কাছে এর সুবিচার কামনা করছি। আমি আশা করি, আদালত আমার পক্ষে এই ডিক্রি জারি করবেন, যাতে আমি তার গোশত কেটে নিতে পারি। কারণ, আমার জানামতে এটি-ই ন্যায় বিচারের দাবি।
ঋণগ্রহীতা গরিব লোকটি কারাগারে বন্দী ছিল। তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তার পক্ষে তার স্ত্রী আদালতে এল। সে স্বামীর পক্ষে বক্তব্য দিল। বলল, মহামান্য আদালত! সুদখোর শাইলাক আপনার কাছে সুবিচার দাবি করেছে। তার দাবি অনুসারে সুবিচার হলো, তাকে আমার ঋণগ্রহীতা স্বামীর গায়ের গোশত কেটে নেওয়ার অধিকার প্রদান করা। আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে সুবিচারই করেন, তা হলে আমাদের ঠিকানা কোথায় হবে? এই জগতে সুবিচারই সব কিছু নয়। দয়া বলেও একটি কথা সংসারে আছে। আল্লাহপাক আমাদের উপর দয়া করবেন। আল্লাহর দয়া ছাড়া আমরা মুক্তি পাব না।
বাদশাহ দয়ার ভিত্তিতে লোকটির পক্ষে রায় প্রদান করলেন।
তো আমি বলতে চাচ্ছিলাম, শাইলাক-এর মতো ইহুদি জাতি সারা জগতে কৃপণ হিসেবে প্রসিদ্ধ।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 হিন্দু সুদখোর জাতি

📄 হিন্দু সুদখোর জাতি


ইহুদিদের পর দুনিয়াতে দ্বিতীয় পর্যায়ের বড় সুদখোর জাতি হলো হিন্দু। আপনারা হিন্দু 'বেনিয়া'দের কথা শুনে থাকবেন। ভারতবর্ষে হিন্দু ব্যবসায়ীদেরকে 'মহাজন'ও বলা হয়। এরা সুদখোর সম্প্রদায়। এদের • কৃপণতা কার্পণ্যের উপমা। তারা এক-একটি পাইয়ের হিসাব করে থাকে।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 হিন্দী ভাষার একটি প্রবাদ

📄 হিন্দী ভাষার একটি প্রবাদ


আমার আব্বাজি মুফতী মুহাম্মাদ শফী' রহ. হিন্দী ভাষার একটি প্রবাদ শোনাতেন।
প্রবাদটি হলো: لالہ جی گئے پاؤنے ، چار دن میں آئے، لالہ جی کے گھر آگئے چار پاؤن نے ، لالہ جی نہ گئے نہ آئے
হিন্দু বেনিয়াদের 'লালাজি' বলা হয়। 'পাওনে' অর্থ অতিথি। তো প্রবাদটির অর্থ হলো, লালাজি এক বাড়িতে মেহমান হয়ে চারদিন থাকলেন। তাতে তার চার দিনের ব্যয় সাশ্রয় হলো। চারদিন পর যখন ফিরে এলেন, তখন চার ব্যক্তি তার বাড়িতে মেহমান হলো। তারা একদিন বেড়াল। চারদিন অন্যের বাড়িতে মেহমান হয়ে তিনি যতটুকু সাশ্রয় করেছিলেন, তা শেষ হয়ে গেল। খরচ তার সমান-সমান হয়ে গেল। ফলে তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, আর যাবও না, কাউকে আসতেও দেব না।
মোটকথা, তারা এভাবে হিসাব করে চলে, যেন একটি পাইও খরচ না হয়। মূলত সুদের মানসিকতা-ই এই কার্পণ্য জন্ম দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00