📄 এক সওদাগরের বিস্ময়কর ঘটনা
শেখ সা'দী রহ.-এর কবিতার চারটি চরণ আছে : آن شنیده است که در صحرائے غور رخت سالار افتاده اسپ طور گفت چشم تنگ دنیادار را یا قناعت پر کند یا خاک گور
'আমি তোমাকে একটি ঘটনা শোনাচ্ছি। গাওর মরু উপত্যকায় বড় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসাপণ্য খচ্চরের পিঠ থেকে পড়ে গিয়েছিল। মালগুলো ওখানে পতিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তার খচ্চরটিও ওখানে মৃত পড়ে ছিল। সওদাগর নিজেও ওখানে মারা গিয়েছিল। তার মালপত্রগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল। সেগুলো ভাববাচ্যে বলছিল, দুনিয়াদারের সংকীর্ণ দৃষ্টিকে মাত্র দুটি জিনিস ভরতে পারে। একটি হলো কানা'আত (অল্পেতুষ্টি) আর অপরটি কবরের মাটি। তৃতীয় আর কোনো বস্তু তাকে ভরতে পারে না।'
মোটকথা, কৃপণতার বৈশিষ্ট্য হলো, সম্পদ যত বাড়তে থাকবে, লোভও তত বাড়তে থাকবে এবং ব্যয়ের পথে তত বেশি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে থাকবে।
📄 বড় এক পুঁজিপতির উক্তি
করাচিতে বড় মাপের একজন পুঁজিপতি আছেন। পাকিস্তানের নামকরা শীর্ষস্থানীয় দু-চারজন ধনীর একজন। মিলিয়নপতি-বিলিয়নপতি হবেন হয়তো। একদিন তিনি আমার কাছে এলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহ পাক আপনাকে অনেক অর্থ দান করেছেন। আপনার অনেকগুলো মিল- কারখানা আছে। সব কিছুই আপনি করে নিয়েছেন। এবার মুনাফার চিন্তা বাদ দিয়ে কিছু কাজ আল্লাহর জন্য করুন। যেমন- এমন একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করুন, যেটি সুদ ছাড়া চলবে। আপনার কাছে যেহেতু বিপুল অর্থ আছে; তাই আপনি এ কাজটি করতে পারেন।
তিনি বললেন, মাওলানা ছাহেব! সেই ব্যাংকটি কীভাবে চলবে? আমি বললাম, আল্লাহ চাহেন তো চলবে। কিন্তু আপনি এই ব্যাংকটি এই নিয়তে করবেন যে, এখানে যা বিনিয়োগ করলাম, সবই গেছে। বিলিয়ন-মিলিয়ন টাকা যেহেতু আপনার আছে, এমতাবস্থায় কয়েক কোটি গেলে তাতে আপনার এমন কী আর আসবে-যাবে। এখানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তার কথা আপনি ভুলে যাবেন।
তিনি চেহারায় বিস্ময় ফুটিয়ে বললেন, কী বললেন; এই টাকার কথা আমি ভুলে যাব? আমি বললাম, হ্যাঁ, আপনি ভুলে যাবেন যে, আপনার এই টাকাগুলো কোথাও গেছে। তবে আল্লাহপাক চাইলে তাতে মুনাফাও দিতে পারেন। কিন্তু আপনাকে তার কথা ভুলে যেতে হবে। শেষে তিনি বললেন, মাওলানা ছাহেব! কথা তো আপনি ঠিকই বলছেন; কিন্তু হাতের খুজলিকে আমি কী করব?
📄 গরিব ও ধনীর ব্যয়ের পার্থক্য
এ হলো সম্পদ বাড়ানোর খুজলি। হযরত থানভী রহ. বলেন, এই কৃপণতাও পরে ধীরে-ধীরে খুজলির রূপ ধারণ করে। তারপর মানুষের কাছে যত সম্পদই আসুক-না কেন, তার লোভ মিটে না। আমি নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি, গরিব মানুষেরা যতটা মনের খুশিতে দান করে, মসজিদ- মাদরাসায় চাঁদা দেয়, কোটিপতি-মিলিয়নপতি-বিলিয়নপতিরা অতটুকু মনের খুশিতে দান করে না। অথচ ধনী লোকটির কাছে সুযোগ বেশি আছে। গরিবের অতটা সুযোগ নেই। এসবই সম্পদের লোভের কুফল।
📄 সুদখুরির মানসিকতা কৃপণতা জন্ম দেয়
এই কৃপণতার সবচেয়ে বড় উপকরণ হলো সুদ। কারণ, সুদের অর্থ হলো, কাজ কিছুই করবে না, কোনো ঝুঁকি মাথায় নেবে না; কিন্তু পয়সা দিয়ে পয়সা বানাও। এটি কৃপণের কাজ। আর সুদখুরির মানসিকতা যেহেতু মানুষের মধ্যে কৃপণতা সৃষ্টি করে, তাই দুনিয়াতে যত সুদখোর জাতি অতীত হয়েছে, সব চেয়ে বেশি কাঞ্জুসীও তাদেরই মাঝে বিদ্যমান আছে। জগতে সব চেয়ে বড় সুদখোর জাতি হলো ইহুদি। কুরআন ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে:
وَأَخْذِهِمِ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ
'...আর তাদের সুদ গ্রহণ করার কারণে। অথচ তাদেরকে সুদ খেতে বারণ করা হয়েছিল।' (সূরা নিসা, ১৬১ আয়াত)
আজও পৃথিবীর সমস্ত সুদি কারবার সেই ইহুদিদেরই হাতে। আর এরা- ই জগতের সব চেয়ে কাঞ্জুস জাতি। সারা পৃথিবীতে এরা কৃপণ জাতি হিসেবে পরিচিত।