📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 শরীয়তের দৃষ্টিতে সুদের চুক্তি লিপিবদ্ধকারী

📄 শরীয়তের দৃষ্টিতে সুদের চুক্তি লিপিবদ্ধকারী


এই বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হাফেয ইবনে হাজ্ব আসকালানী রহ. লিখেছেন, হাদীসে উল্লিখিত 'কাতিবে রিবা' দ্বারা উদ্দেশ্য সেই ব্যক্তি, যে সুদী লেনদেনের চুক্তির সময় সুদ ইত্যাদির হিসাব লিখে উভয় পক্ষের এই চুক্তিতে সহযোগিতা করে। এমন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই অভিশাপের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি সুদী লেনদেনের চুক্তির সময় এসব হিসাব লিখে না; তবে চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পরে বিগত সময়ের সমস্ত হিসাবের অডিট করে, রিপোর্ট ইত্যাদি প্রস্তুত করে, এমন ব্যক্তি এই হুঁশিয়ারির অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ, সে সুদী কারবারের চুক্তিতে সহযোগিতা করেনি। এই বিশ্লেষণ অনুপাতে একাউন্টস ও অডিটের কাজে যারা নিয়োজিত, যাদেরকে বিভিন্ন ফার্ম, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানীর পুরো বছরের হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হয়, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, আবার প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত সুদ ইত্যাদির হিসাবও লিখতে হয়। কিন্তু তাদের এই লেখা একটি বাৎসরিক রিপোর্টের মর্যাদা রাখে – কোম্পানীর সুদী লেনদেনে কোনো সহযোগিতা করে না। এমন ব্যক্তিবর্গ আলোচ্য হুমকির অন্তর্ভুক্ত হবে না। আল্লাহ ভালো জানেন।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 ব্যাংকে চাকুরি করা হারাম কেন?

📄 ব্যাংকে চাকুরি করা হারাম কেন?


প্রশ্ন আসে, ব্যাংকে চাকুরি করা হারাম কেন? যুক্তি দেখানো হয়, আজকাল তো সব জায়গা থেকে অর্থ ব্যাংকেরই মাধ্যমে আসে। কোনো বস্তুই সুদ থেকে মুক্ত নয়। এমতাবস্থায় আমাদের চাকুরিটা হারাম হবে কেন?
এর উত্তর হলো, শরীয়ত প্রতিটি জিনিসের একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, এই সীমা পর্যন্ত জায়েয এবং এর বাইরে গেলে না-জায়েয। ব্যাংকের চাকুরি না-জায়েয হওয়ার কারণ হলো, ব্যাংকের মাধ্যমে সুদী লেনদেন হয়। আর যারা সুদী ব্যাংকে চাকুরি করেন, তারা কোনো-না-কোনো পর্যায়ে সুদী লেনদেনে সহযোগিতা করছেন। আর যে কোনো গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা পবিত্র কুরআনের ভাষ্যমতে হারাম। আল্লাহপাক বলেন :
وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
'তোমরা অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কাজে কেউ কাউকে সহায়তা করো না।' (সূরা মায়েদা, আয়াত ২) এ কারণে ব্যাংকের চাকুরি হারাম।
আর এই যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, সকল অর্থ ব্যাংকেরই মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে, তাই ব্যাংকের চাকুরি হারাম হলে সকল পেশা-ই হারাম হওয়া দরকার। শুধু ব্যাংকের চাকুরি হারাম হবে কেন?
এর উত্তর হলো, ব্যাংকের মাধ্যমে মানুষের হাতে যেসব অর্থ আসছে, সেই অর্থ যদি হালাল উপায়ে অর্জিত হয়ে থাকে, তা হলে এই অর্থ ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি হারাম উপায়ে অর্জিত হয়, তা হলে এই অর্থের ব্যবহারও হারাম হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00