📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 ডিপোজিটাররা সব সময়ই লোকসানের মধ্যে থাকে

📄 ডিপোজিটাররা সব সময়ই লোকসানের মধ্যে থাকে


যেমন- এক ব্যক্তি এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করল। এই এক কোটি টাকা তার কাছে কোথা থেকে এলো? এই টাকাগুলো কার? বলা বাহুল্য যে, এই টাকাগুলো সে ব্যাংক থেকে নিয়েছে। আর ব্যাংকের এই টাকাগুলো ডিপোজিটারদের। বলা যায়, এই এক কোটি টাকা গোটা জাতির। এখন লোকটি জাতির এই এক কোটি টাকা দ্বারা ব্যবসা শুরু করল এবং এই ব্যবসায় সে একশো ভাগ মুনাফা অর্জন করল। এখন তার সম্পদ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি টাকায়। এখান থেকে সে ১৫ পার্সেন্ট, তথা ১৫ লাখ টাকা ব্যাংককে দিয়ে দিল। ব্যাংক সেখান থেকে তার কমিশন ও যাবতীয় ব্যয় বের করে অবশিষ্ট ৭ কিংবা ১০ ভাগ ডিপোজিটারকে দিল। ফলাফল এই দাঁড়াল যে, যাদের অর্থ এই ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছিল, যার মাধ্যমে এই মুনাফা অর্জিত হয়েছিল, তারা পেল শতকরা মাত্র ১০ টাকা। আর এই বেচারা ডিপোজিটার খুবই আনন্দিত যে, আমার একশো টাকা এখন একশো দশ টাকা হয়ে গেছে। অথচ তার এই তথ্য জানা নেই যে, তার টাকা দ্বারা যে অংকের মুনাফা অর্জন করা হয়েছে, তাতে তার একশো টাকা দুশো টাকায় পরিণত হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু তারপরও আরও যা হচ্ছে, তা হলো, ঋণগ্রহীতা ডিপোজিটারের মুনাফার এই ১০ টাকা পুনরায় তার থেকে উসুল করে নিয়ে নিচ্ছে।

📘 সুদ পরিষ্কার বিদ্রোহ > 📄 সুদের অর্থ উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়

📄 সুদের অর্থ উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়


কীভাবে নিচ্ছে?
এভাবে নিচ্ছে যে, ঋণগ্রহীতা এই ১০ টাকাকে তার পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়। যেমন- সে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা খুলল কিংবা কোনো পণ্য উৎপাদন করল। তো এই উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সুদের সেই ১৫ পার্সেন্টকেও যোগ করে নিল, যা সে ব্যাংককে পরিশোধ করেছিল। ফলে তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ১৫ শতাংশ বেড়ে গেল। যেমন- সে কাপড় প্রস্তুত করেছিল। তো সুদের টাকা যুক্ত হওয়ার কারণে কাপড়টির উৎপাদনব্যয় ১৫ ভাগ বেড়ে গেছে। এমতাবস্থায় ডিপোজিটার ব্যাংকে একশো টাকা জিপোজিট রেখে যে একশো দশ টাকা পেয়েছিল, তিনি যখন বাজার থেকে কাপড়টি ক্রয় করবেন, তখন তাকে এই কাপড়টির মূল্য ১৫ শতাংশ বেশি পরিশোধ করতে হবে।
তা হলে ফলাফল এই বের হলো যে, ডিপোজিটার যে ১০ পার্সেন্ট মুনাফা করেছিল, ঋণগ্রহীতা তার চেয়েও বেশি, ১৫ পার্সেন্ট আদায় করে নিয়ে গেছে। অথচ জিপোজিটার খুবই আনন্দিত, আমি ১০০ টাকা ডিপোজিট করে ১১০ টাকা পেয়েছি! কিন্তু প্রকৃত হিসাবে সে ১০০ টাকার পরিবর্তে পেয়েছে ৯৫ টাকা। কারণ, সেই ১৫ শতাংশ চলে গেছে কাপড়ের উৎপাদনব্যয়ে আর ৮৫ শতাংশ মুনাফা ঢুকে গেছে ঋণগ্রহীতার পকেটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00